Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ , ৯ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০৫-২০১৯

দখলে দখলে সরু খাল হয়ে গেল কালীগঞ্জের চিত্রা নদী

শিপলু জামান


দখলে দখলে সরু খাল হয়ে গেল কালীগঞ্জের চিত্রা নদী

ঝিনাইদহ, ০৫ এপ্রিল- ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চিত্রা নদীর জায়গা দখল চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন দখলবাজদের আবির্ভাব ঘটছে। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ক্ষমতার পালাবদলে দখলবাজদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীর তীরে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। আবার জায়গা দখলে রাখতে কাটা হয়েছে পুকুর। কেউ কেউ নদীর চর দখল করে পরিণত করেছে ফসলি মাঠে। দখলবাদে নদীর মাঝখানে যতটুকু জায়গা আছে দূর থেকে মনে হচ্ছে এ যেন সরু খাল। এখানেও চলছে দূষণ সৃষ্টির পাল্লা। সর্বোপরি খননের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এ নদীটি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে অনেকবার নদী দখলমুক্ত করতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা কাজ করা হলেও অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকার নদীগুলো দখলমুক্ত করে খননের কথা বারবার প্রচার করছেন। স্থানীয় প্রশাসনও নদীর জায়গা সার্ভেও করেছেন। স্থানীয়দের আশা এবারই দখলমুক্ত করে শুরু হবে চিত্রার খনন কাজ। এদিকে দখলমুক্ত করার ঘোষণায় দখলবাজরা রয়েছে আতঙ্কে।

চিত্রা নদী তীরের বাসিন্দা আজিজুল হক জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সংযোগকারী এক সময়ের প্রমত্তা চিত্রা নদী আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অংশের নিমতলা ও মধুগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় নদীর দু-পাশে দেদারছে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। শহরের ড্রেনের মধ্য দিয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে বর্জ্য। ফলে যতটুকু পানি আছে তা দূষিত হয়ে যাচ্ছে। দু’পাড় থেকে জায়গা দখল করে তৈরি করা হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, বড় বড় ভবন। দখলের কারণে ৩৯ মিটার প্রস্থের নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখন যতটকু জায়গা আছে তা মাত্র কয়েকমিটার প্রশস্ত হবে। দিনের পর দিন এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মানুষ নদী দখল করলেও যেন দেখার কেউ নেই। চিত্রা হারিয়ে ফেলেছে তার নাব্য। ফলে বর্ষাকালে কিছুটা পানি থাকলেও শুকনা মৌসুমে পানি চোখে পড়ে না বললেই চলে।

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী চিত্রা নদীর তীর ঘুরে দেখা যায়, চিত্রা নদীর দুই তীর দখল করে মাটি-বালু দিয়ে ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে পাকা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ঘর, রাজনৈতিক দলের অফিস ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। নদীর বুকে চাষাবাদ দেখে মনে হচ্ছে এটা যেন ফসলি ক্ষেত। এখন বর্ষা শুরু হলেও নদীতে পানি নেই। কোনও কোনও স্থানে অল্প পানি থাকলেও পরিমাণটা হাঁটু পানির বেশি নয়। আর যে সকল স্থানে পানি আছে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে নদী দূষণ করা হচ্ছে। ফলে নদীর পানি নষ্ট হয়ে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। এক সময়ের দেশীয় মাছের বিচরণক্ষেত্র ছিল যে নদী আজ তা পানির অভাবে মাছ শূন্য। এতে বেকার হয়ে পড়েছে নদী এলাকার মৎস্যজীবীরা।

কালীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সদরউদ্দীন মিয়া বলেন, নদীর মধ্যে মাটি ও বর্জ্য ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। আজ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালেও নেই পানি। এর ফলে প্রভাব পড়েছে কৃষি জমির সেচ কাজেও।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণারাণী সাহা বলেন, নদীগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ দখলবাজদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের দ্রুতই উচ্ছেদ করা হবে। এর আগে নদীগুলোতে যারা পাটা দিয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নদীগুলোতে দূষণ চলছে এমন অভিযোগ পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় চিত্রাকে বাঁচাতে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা মোতাবেক দখলমুক্ত করা হবে।

তথ্যসূত্র: আরটিভি
এআর/০৫ এপ্রিল

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে