Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০৪-২০১৯

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তদবির পেতে মরিয়া আ’লীগের ৬ নেতা

শিমুল বারী


সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তদবির পেতে মরিয়া আ’লীগের ৬ নেতা

ময়মনসিংহ, ০৪ এপ্রিল- ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পাঁচ মাস পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৫ মে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, মেয়র ও কাউন্সিলর পদে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নত্র জমার শেষ সময় ৮ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ১০ এপ্রিল ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ এপ্রিল।

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের তদবির পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে। ক্ষমতাসীন দলের সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী বিজয়ী হলে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনকে তিলোত্তমা শহর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছেন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬ প্রার্থী হলেন- ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. ইকরামুল হক, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাদেক খান (মিল্কি টজু), জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন ও ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ফারমার্জ আল নূর রাজীব।

মনোনয়ন প্রত্যাশী এই ৬ প্রার্থীই তাকিয়ে আছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। তিনিই নির্ধারণ করবেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

মনোনয়ন প্রত্যাশার ব্যাপারে আশাবাদী ৬ প্রার্থী তাদের স্ব স্ব অবস্থান তুলে ধরেছেন এই প্রতিবেদকের কাছে। তারা প্রত্যাশা করেণ দল তার বিগত দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করবেন। তবে একথাও দৃঢ় ভাবে বলেছেন, সকলেই যোগ্য। তবে সকলকে মনোনয়ন দেয়া সম্ভব নয়। তাই যে অধিকতর যোগ্য এবং যার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাকেই দল মনোনয়ন দিবে। সে ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত সকলেই মেনে নেবে।

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, আমি সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে, যে পরিমাণ নির্যাতিত ও নিপীড়নের শিকার হয়েছি তার ধারে কাছেও নেই অন্য প্রার্থীরা। আমি জিয়ার আমলে কারা ভোগ করেছি এবং
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আমার যে সম্পৃক্ততা তা ময়মনসিংহ শহরের কয়জন নেতার মাঝে আছে, তা জানতে চাই? আমি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। আমি শতভাগ আশাবাদী দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে।

মোহিত উর রহমান শান্ত তার নিজের অবস্থানের কথা সুস্পষ্ট ভাবে না বললেও তার পিতার কথা জানান দিয়েছেন জোরালো ভাবে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ প্রিন্সিপাল মতিউর রহমানের সন্তান আমি। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সিনিয়র নেতাদের সাথে কাজ করেছি। আমার যা কিছু অর্জন তা দলের নেতাদের। আমি যেহেতু তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি এবং দলের প্রতি যথেষ্ট আবেগ আছে। ১/১১ সময় রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি, তাই আমি প্রত্যাশা করি মনোনয় পাওয়ার। আমি যদি মনোনয় পাই, তবে বিজয় আমার নিশ্চিত। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশকে বাংলাদেশের মাঝে শ্রেষ্ট করতে সক্ষম হব।

ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, আমি কারও বিষয়ে কোন কিছু বলতে চাই না, আমি শুধু বলতে পারি নিজের কথা। ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি দল আমাকে মূল্যায় করবে, পৌরসভার কাজ কর্মের খতিয়ান দেখেই। আমি ময়মনসিংহ পৌরসভাকে বাংলাদেশের মাঝে শ্রেষ্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা যা করণীয় তা করেছি। আপনারা আসলে দেখতে পারবেন। আরও কাজ বাকি আছে, আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দিলে, জয়ী হয়ে আমার অসমাপ্ত কাজগুলো পূর্ণ করতে পারব। মেয়র হিসেব সফল না ব্যর্থ তা নিরুপণ করবে ভোটাররা, তবে আমি নিজেকে সফল বলে দাবি করছি।

এদিকে আর এক হেভিওয়েট প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান (মিল্কি টুজ) যিনি নিজের জীবন যৌবন সব কিছু দলের পিছনে ডেলে দিয়েছেন বলে দাবি করছেন। তিনি বলেন, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে এটাই আমার চাওয়া। যাদেরকে নেতা বানিয়েছি, আজ তাদের কাছেই লাঞ্চিত হতে হচ্ছে। সত্যিই খুব কষ্ট হয়। আমি ৪১ বছর ধরে রাজনীতি করেছি। কত দুঃসহ সময় অতিক্রম করেছি, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, কেউ কখনও বলেতে পারবে না কারও কিছু লুটে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্যদের মূল্যায় করবে যা ইতোমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে দেখতে পেয়েছি। আমি ঢাকায় কোন তদবির করতে যাব না, কারণ সেই ক্ষমতাও আমার নেই। এখন বলতে খুব কষ্ট হয় কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্র। যা আগে ছিল না। আমার ময়মনসিংহ পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড গঠনে ভূমিকা ছিল। যা অনেকেই হয়তো জানে না। আমি তাকিয়ে আছি প্রধানমন্ত্রীর দিকে, যিনি যোগ্যদের মূল্যায়ন ঠিকই করেন।

আরেক প্রার্থী হলেন, এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন শাহীন আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি এবং প্রয়াত নেতা সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের পিএস ছিলেন, তিনি সৎ ও ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, আমি দলের তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি এবং রাজনীতিতে আমার কমদিনের পথ চলা নয়। আশরাফ ভাইয়ের কাছ থেকে রাজনীতি শিখেছি, আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিজয়ী হব এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সকল সেবা মানুষের কাছে পৌছে দিব।

অন্য আরেক এক প্রার্থী ফারমার্জ আল নূন রাজীব যার পিতা ছিলেন ময়মনসিংহ শহর আওয়ামী লীগের প্রাণ পুরুষ এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র ছিলেন। যার কল্যাণে ময়মনসিংহ পৌরসভায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, আমি যদি মনোনয়ন পাই, তবে শতভাগ আশাবাদী জয়ী হব এবং আমার প্রয়াত পিতার স্বপ্ন ছিল ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনের আদলে সাজানোর, সেই ময়মনসিংহ আজ সিটি করপোরেশন হল। আর আমি প্রার্থী হতে চাই। আর আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, তবে বাংলাদেশের ময়মনসিংহকে শ্রেষ্ঠ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে পারব ইনশাল্লাহ।

তথ্যসূত্র: বিডি২৪লাইভ
এআর/০৪ এপ্রিল

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে