Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯ , ৪ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০২-২০১৯

ক্রাইস্টচার্চ হামলা যেভাবে প্রভাবিত করেছে অস্ট্রেলীয় মুসলিমদের

ক্রাইস্টচার্চ হামলা যেভাবে প্রভাবিত করেছে অস্ট্রেলীয় মুসলিমদের

ক্যানবেরা, ০২ এপ্রিল- নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত ব্রেন্টন টারান্ট ধরা পড়েছেন।

২৮ বছর বয়সী ব্রেন্টন টারান্ট একজন অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন এই ঘটনাকে 'নিউ জিল্যান্ডের কালো দিনগুলোর একটি' উল্লেখ করেছেন। তার সরকার দ্রুত সে দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করবে বলেও জানান তিনি।

ওই ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনার আগাম তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে কিনা- তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

তবে, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমদের যথেষ্ট প্রভাবিত করেছে। কেননা, বন্দুকধারী ওই দেশেরই নাগরিক। অনেকে মনে করছেন দেশটির ক্রমবর্ধমান অসংগতিপূর্ণ রাজনৈতিক আবহাওয়াও এই ধরনের ঘটনায় উৎসাহ যুগিয়েছে। তারা মনে করছেন, সেখানকার মুসলিমরা আক্রমণাত্মক, সন্দেহজনক এবং অসহিষ্ণু এক অস্ট্রেলিয়ায় বাস করছেন।

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা কীভাবে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমদের প্রভাবিত করেছেন- তা নিয়ে কথা বলেছেন চার অস্ট্রেলীয় মুসলিম : 

তরিক হোচার
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত একটি হিজাব হাউসের প্রতিষ্ঠাতা তরিক হোচার। মুসলিম নারীদের পোশাক তৈরি করছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।

তরিক বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক সপ্তাহ চলে গেছে। এখনো আমার কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ে আছি আমি। দৃশ্যত মুসলিমরাই হিজাব পরে। যদি তারা সত্যি সত্যি ধর্মপ্রাণ নাও হয়, তবু তাদেরকে এখনো আমরা সহযোগিতা করছি এবং তারা এখনো সুরক্ষিত নয়।

তরিক আরো বলেন, একটি অপ্রত্যাশিত ব্যাপার হলো, আমি গ্রাহক এবং আশপাশের হিজাব পরা মুসলিম নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। মনে হয়েছে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের পর কিছুটা শ্বাস নিতে পারছে। আমি মনে করি, এর কারণ হলো, হিজাব পরিহিত নারীরা ধর্মের মুখোচ্ছবি। অনেকে তাদেরকে প্রায়ই ইসলাম নিয়ে বিতর্কের ভেতর ঠেলে দেয়। আলোচনার বিষয় হিসেবে  সাধারণত থাকে তাদের পোশাক, জীবনধারা এবং তাদের আচরণ।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হত্যাকাণ্ডের পর তারা মনে করছেন যেহেতু মুসলিমদের ওপরও হামলা হয় এবং এ ঘটনার পর তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ এনে দিয়েছে। এই ট্রাজেডির মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের পরিচয় নিয়ে কথা বলতে পারছে, প্রমাণ করতে পারছে তাদেরকে এখন আর সন্দেহের চোখে দেখা যাচ্ছে না।

স্যাম
নন-প্রাক্টিসিং মুসলিম স্যাম (আসল নাম নয়) ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগঠন অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট গ্রুপ অ্যান্টিফা'র সঙ্গে যুক্ত।

স্যাম বলেন, আমি জানতাম এ রকম কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু কবে, কোথায়, কখন- তা জানতাম না। আমি অ্যান্টিফা'র সঙ্গে আছি। আমরা শ্বেতাঙ্গ চরমপন্থি এবং বিভিন্ন বয়সী নব্য নাৎসিদের ওপর নজর রাখছিলাম। এখন মানুষ 'অ্যান্টিফা' শব্দটি শুনতে পাচ্ছে। বিষয়টি এমন নয় যে তারা শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের দেওয়া বাড়তি সুবিধা এবং নব্য নাৎসিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। কিন্তু মানুষ সত্য ঘটনা উপলব্ধি করছে। তারা এখন কথা বলছে,  কেননা তারা ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সংঘটিত ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে।

সুমাইয়া কডোমি
একটি ইসলামী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমাইয়া কডোমি। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলার খবর শোনার পর নিজেকে অবসহায় বোধ করছিলাম। ঘটনাটি থেকে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, মুসলিমরা যে ইসলাম বিদ্বেষের মুখোমুখি তা অত্যন্ত বাস্তব। 

সুমাইয়া বলেন, আমি জানি, ঘটনার পর অনেক স্কুল তাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছে। আমি মনে করি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা তখনই নিজেদের নিরাপদ বোধ করবে, যখন তারা মানুষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবে। তারা বলতে পারবে যে মুসলিমদের সম্পর্কে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ যা ভাবে তা সঠিক নয়।

সুমাইয়া আরো বলেন, আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের শেখানোর চেষ্টা করি, যদি একই ঘটনা এই স্কুলে ঘটে তবে কী করতে হবে। অস্ট্রেলীয় সমাজে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তাঁদের সঙ্গেও আমরা মতবিনিময়ের চেষ্টা করি। তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আমাদের ভেতর এই পরিবর্তন এনে দিয়েছে যে, আমরা এখন ক্লাসরুমেই এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারছি।

ইমাম শামিম রহমান
ইমাম শামিম একজন পাকিস্তানি অস্ট্রেলিয়ান। দেশটির সিডনিতে অবস্থিত একটি মসজিদের ইমাম তিনি।

ইমাম শামিম বলেন, হামলার সময় আমরা এই মসজিদে ছিলাম প্রায় এক হাজার মানুষ। পুলিশ আমাকে ফোন করে জানতে চায় আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে কিনা।

ইমাম শামিম আরো বলেন, পুলিশ এবং গির্জা থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এখানে এসেছিলেন। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আমি কোনো অসুবিধা বোধ করছি কিনা। আমি বলেছি, না, আমি এখানে ইমামতি করি। এখানে একজন নাগরিকের বৈধ সবকিছুই আমি করতে পারি। আমার ছেলে একটি স্কুলে পড়তো। সেখানে তার নামাজ পড়ার জন্য আলাদা একটি রুম ছিল। এখানকার সমাজ আমাদের সঙ্গে আছে। তবে আমি জানি, এ ধরনের ঘটনা যে কোনো জায়গায় ঘটতে পারে। 

'পৃথিবীতে ভালো-মন্দ দুই রকমই আছে' উল্লেখ করে ইমাম শামিম বলেন, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আমাদেরকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমরা আমাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ করবো।

সূত্র : ভাইস চ্যানেলস 
এমএ/ ০৭:০০/ ০২ এপ্রিল

অস্ট্রেলিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে