Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯ , ৩ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-৩০-২০১৯

দখলে বিলীন খুলনার ডুমুরিয়ার হামকুড়া নদী

সামছুজ্জামান শাহীন


দখলে বিলীন খুলনার ডুমুরিয়ার হামকুড়া নদী

খুলনা, ৩০ মার্চ- দুই দশক আগেও খুলনার ডুমুরিয়ার হামকুড়া নদীতে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ছিল। এখন জোয়ার-ভাটা দূরের কথা, নদীরই কোনো অস্তিত্ব নেই। পলি পড়ে ভরাট হয়ে নদীর বুক উঁচু জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তা দখল করে যে যার মতো বসতবাড়ি, দোকানপাট, মাছের ঘেরসহ চাষাবাদে ব্যবহার করছে।

স্থানীয় টিপনা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আশির দশকেও হামকুড়া নদীতে বড় বড় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলেছে। ১৯৮৪ সালে নদীতে ব্রিজ হওয়ার আগে দুটি ফেরি চলত। মানুষ পারাপারের জন্য পাঁচটি ঘাট করা হয়েছিল। সে সময় নদীতে ৩৮-৪০ হাতের মতো পানি ছিল। এখন নদীর কোনো অস্তিত্ব নেই। চারপাশে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ দেখে বোঝার উপায় নেই, একসময় এই নদী ছিল স্রোতস্বিনী।’ জানা যায়, খুলনার বিল ডাকাতিয়া উৎসমুখ থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার মাঝ দিয়ে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ হামকুড়া নদী।

গবেষকদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে অপরিকল্পিতভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে এই নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। হামকুড়া নদী খনন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সেলিম আকতার স্বপন বলেন, ‘১৯৯৩-৯৪ সালে বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পুনর্বাসন প্রকল্প কেজিডিআরপি (খুলনা-যশোর ড্রেনেজ রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট) বাস্তবায়ন করা হয়। আমরা তখন বলেছিলাম জোয়ার-ভাটাভিত্তিক প্রকল্প করতে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ রেগুলেটরভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় বিল ডাকাতিয়া সংগ্রাম পরিষদের কেটে দেওয়া সন্ধ্যা খাল ও আমভিটার যে অংশ দিয়ে জোয়ার-ভাটা হতো সেই অঞ্চল বেঁধে দেয়। এর তিন মাসের মধ্যে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে নদীবক্ষে পলি জমে ভরাট হয় হামকুড়া। পরে ভরাট হওয়া জায়গায় কয়েকটি ইটের ভাটা হয়।

সরকারের উদ্যোগে নদীর ভিতরই একটা গুচ্ছগ্রাম করা হয়, যে কারণে নদীর দুই পাড়ের লোকজন নদী দখল করে ফেলেছে।’ এদিকে হামকুড়ার মতো খুলনার দক্ষিণাঞ্চলের ভদ্রা, শিবসা, সালতা, জয়খালী, ঘ্যাংরাইলসহ সাতটি নদী এখন মৃতপ্রায়। প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখল আর নাব্যতা সংকটে অস্তিত্ব হারাচ্ছে এসব নদী। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ ব্যাপক জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় রয়েছেন নয়টি উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। পানি গবেষক ও খুলনার চুকনগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক হাশেম আলী ফকির বলেন, যেসব নদীতে এখনো জোয়ার-ভাটার প্রবাহ আছে সেগুলো পলি জমে ও অবৈধ দখলে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

ষাটের দশকে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিকে লবণপানি থেকে রক্ষায় এখানকার নদীর পাড়ে উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পোল্ডার করা হয়। এতে মূল নদীর সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য শাখানদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। একই সময় পদ্মার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেসব পলিমাটি একসময় নিচু ভূমি ও কৃষিজমিতে জমা হতো বা সমুদ্রের পানিতে মিশত, এখন তা নদীগর্ভে জমা হয়। সেই সঙ্গে রয়েছে অবৈধভাবে নদী দখল। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) খুলনার সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, নদী মরে যাওয়ার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে। পানি ও মাটির লবণাক্ততা এবং এর পরিধিও বাড়ছে। মিষ্টিপানির আধারগুলো লবণপানি দখল করে নিচ্ছে। ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সংকট বাড়ছে।

জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে নদী খনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, নদীকে টিকিয়ে রাখতে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে। নদী ও খাল খননের জন্য সারা দেশে ২৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খুলনার ১২টি নদী ও খাল রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে।


সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আর/০৮:১৪/৩০ মার্চ

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে