Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯ , ৫ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-৩০-২০১৯

এশিয়ার গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ

এশিয়ার গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ

এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এবং গণমাধ্যম নেতারা শুক্রবার চীনের বোয়াও শহরে অনুষ্ঠিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মহাদেশের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

এসব গণমাধ্যম নেতা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ এশিয়া কিন্তু অর্থনৈতিক গুরুত্বের অনুপাতে এই মহাদেশের মানুষের কথা খুব একটা শোনা যায় না।

তাদের মতে, এই অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের জন্য এশিয়ার মানুষের কথা বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও জোরালো এবং শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে হবে। আর এজন্য গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

চীনের উপকূলীয় প্রদেশ হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া’র (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলনের এক ফাঁকে অনুষ্ঠিত এশিয়া মিডিয়া কোঅপারেশন কনফারেন্সে কথা বলার সময় তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর্মেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক এবং ভিয়েতনামের গণমাধ্যম নেতারা এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

তারা একসঙ্গে গণযোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের যুগে গণমাধ্যম সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ থেকে আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ আশিক রহমান এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন তথ্যপ্রযুক্তিগুলোর দ্রুত উন্নয়নের ফলে একসঙ্গে গণযোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং সম্পূর্ণ বাজার দখল করতে পারছে প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো। এর ফলে ধীরে ধীরে গণমাধ্যমের সীমানা ভেঙে যাচ্ছে।

নতুন গণমাধ্যম আসার পর সংবাদ প্রচারের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এবং তা অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে সব মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিনিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসঙ্গে গণযোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের যুগে গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রক্রিয়ার একত্রীকরণ।

স্টেট কাউন্সিল অব চায়না’র ইনফরমেশন অফিসের ভাইস মিনিস্টার গুও উয়েইমিন বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং বলেন যে প্রচলিত ও নতুন গণমাধ্যমগুলো একে অন্যের সম্পূরক এবং উভয়কেই উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিতে হবে।

এই ভাইস মিনিস্টার বলেন, এশিয়ার গণমাধ্যমগুলোকে নতুনত্ব এবং উপকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তির একত্রীকরণে সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঐক্যে পৌঁছাতে সংলাপের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এশিয়ার মানুষের কথাগুলো জোরালো করতে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে এই মহাদেশকে শক্তিশালী করতে এর কোনও বিকল্প নেই।

চায়না পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিডিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট লুও লিনকুয়ান বলেন, এশিয়া মহাদেশের গণমাধ্যমগুলোকে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার সেতু নির্মাণে হাতে হাত রেখে কাজ করা উচিত। এছাড়া এশিয়ার সাংবাদিকদেরকে তাদের মন থেকে সংশয় ও সন্দেহ দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, এশিয়ার সত্য সংবাদ খুঁজতে ও প্রচার করতে তাদেরকে মন থেকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে।

চায়নিজ মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান সিয়াওমিং বলেন, ফাইভজি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মতো আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির উদ্ভাবন বিশ্বশৃঙ্খলার পাশাপাশি বিশ্বকে ব্যাপকভাবে পালটে দিয়েছে। তাই গণমাধ্যমকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিগুলোর সঙ্গে বহুমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

তিনি বলেন, এশিয়ার মানুষের কথা সারাবিশ্বকে শোনাতে এই মহাদেশের অন্যান্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীনা গণমাধ্যমগুলো।

বিশ্বের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের জন্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গণমাধ্যম সহযোগিতা খুব প্রয়োজনীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিপার্টমেন্ট অব মিডিয়া অ্যান্ড কালচার অব দ্য বিএফএ’র প্রধান ঝং হুই বলেন, এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি কিন্তু এখানকার মানুষের কথাগুলো এই অনুপাতে শক্তিশালী নয়।

তিনি বলেন, এশিয়ার মানুষের কথা আরও জোরালো করতে এখানকার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার চর্চা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ঝং বলেন, এশিয়ার গণমাধ্যমগুলোর একই অনুপ্রেরণা ও বিষয়বস্তু আছে, এখন নিজেদের মধ্যে কার্যকরী সহযোগিতার জন্য পারস্পরিক লাভজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গত ২৬ মার্চে শুরু হয়ে ২৯ মার্চ পর্যন্ত চলা বিএফএ’র এই বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের দুই হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞ যোগ দেন।

এই সম্মেলনের থিম ছিল ‘অংশগ্রহণমূলক ভবিষ্যৎ, সম্মিলিত উদ্যোগ, সবার উন্নয়ন’। এতে মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি, জোটবদ্ধতা, উদ্ভাবন চালিত উচ্চমানের উন্নয়ন এবং বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, থিম বিষয়ক আলোচনা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংলাপ এবং গোলটেবিল বৈঠকসহ প্রায় ৫০টি সেশন দিয়ে সাজানো হয় এই সম্মেলন।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের আদলে গঠিত হয়েছে এই বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ)। এর ফিক্সড অ্যাড্রেস বোয়াও শহরে যদিও সেক্রেটারিয়েট বেইজিংয়ে।

‘এশিয়ান দাভোস’ বলে পরিচিত এই ফোরাম আঞ্চলিক অর্থনৈতিক মেলবন্ধন প্রসারে এবং এশিয়ার দেশগুলোকে তাদের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর কাছাকাছি আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সূত্র: আরটিভি 
এইচ/০১:১১/৩০ মার্চ

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে