Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৯-২০১৩

দাও ফিরে সে অরণ্য, লও হে নগর

জাহিদ নেওয়াজ খান



	দাও ফিরে সে অরণ্য, লও হে নগর

প্রেমের পরীক্ষায় প্রেমিকা চেয়েছিলো প্রেমিকের মায়ের হৃদযন্ত্র। ছেলে এসে মাকে বলার পর সন্তানের সুখময় মুখটির কথা ভেবে মা এক কথাতেই রাজি। ছেলের আর তর সইছিলো না। মায়ের হৃদয় কেটে কখন প্রেমিকার বাড়ি পৌঁছাতে পারবে সেই চিন্তায় দৌড়ে যাচ্ছিলো সে। পথে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর ছেলে ব্যাথা পেয়েছে তাই মায়ের বিচ্ছিন্ন হৃদযন্ত্রটিই ছেলের জন্য কেঁদে বলে উঠলো, ওহ! খোকা।

মৃত্যুর পর যে জীবন, ওই জীবন থেকে ঐশীকে দেখে, থানা হাজতে ঐশীর যে কষ্ট হচ্ছে সেই কষ্ট অনুভব করে, এখন তারা মা-বাবার হৃদয়ও নিশ্চয়ই এভাবে কেঁদে উঠছে। মেয়ের সামান্য কষ্টও হতে পারে এমন কিছু তারা কখনও কল্পনাও করতে পারেননি। সন্তানের সুখের জন্য ঠিক-বেঠিক সব পথেই ছুটেছেন ঐশীর বাবা। অন্য যে কোনো মা-বাবার মতোই সাধ্যমতো সবচেয়ে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করেছেন, গত ঈদেও নিশ্চয়ই বাজারের সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি কিনে দিয়েছেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সেরা স্কুলগুলোর একটিতে ঐশীকে পাঠিয়েছেন, হয়তো মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য প্লট-ফ্ল্যাটও কিনে রেখেছেন তারা।
 
আর বৈষয়িক কোনো কিছু না করে থাকতে পারলেও তাদের ভালোবাসার সবটুকু তারা দিয়েছেন ঐশী আর তার ছোটভাই ঐহীকে। সেই ভালোবাসার এক সন্তান আজ তাদের হন্তারক! কতোটা দুর্ভাগ্যের হলে এমন হতে পারে মানুষের জীবন! যে কোনো মা-বাবার মতোই সন্তানের ভালোবাসায় অন্ধ ঐশীর মা-বাবা পরপারে চলে গেলেও এখনও তাদের চিন্তায় নিশ্চয়ই শুধুই ঐশী।
 
একজন মা হিসেবে ঐশীর মা হয়েই যেনো বন্ধু শারমিন রিনভী তার ফেইসবুকে লিখেছেন: ‘বাবা-মা হত্যার জন্য ঐশীকে হয়তো সবাই ঘৃণা করছে, আমার কিন্তু ওর জন্য কষ্ট হচ্ছে, মায়া হচ্ছে।……. আমার কষ্ট হচ্ছে এই বাচ্চাটার কথা ভেবে যে, তার হয়তো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে, হয়তো কিশোর অপরাধী কেন্দ্রে যাবে, কতো ধরনের এবিউজের শিকার হবে সুন্দর এই মেয়েটা, জেলের হিসাবে যাবজ্জীবন হলে ১৫ বছর পর বের হবে ঐশী, তখন তার বয়স হবে বড়জোর ৩৫ বছর… কিভাবে বাঁচবে মেয়েটা? আত্মীয়-স্বজনরা কেউ তাকে গ্রহণ করবে না। নিজের ভাইও তাকে ঘৃণা করবে। তাই স্বাভাবিক। মেয়েটার জীবনটা কেমনে কাটবে?’
 
‘এতো বড় শাস্তিÍ কেনো সে পেতে যাচ্ছে, আল্লাহ্ কেনো এ শাস্তি তাকে দিলো?’ এমনভাবে একজন মা হিসেবে ভালোবাসার সবটুকু উজাড় করে দিলেও রিনভী অবশ্য এই প্রশ্নও তুলেছেন: ‘তাই ভাবছি সারাটাক্ষণ… আমরা বাবা-মায়েরা কী শিক্ষা নেবো এই ঘটনা থেকে? এতো কষ্ট করে একটা সন্তান জন্ম দেয়ার পর, ভালোবাসায়-আদরে বড় করার পর কেনো এমন প্রাপ্তি হবে মা-বাবার… আসলেই কি চিন্তার কথা নয়???
 
সেই চিন্তার উত্তরও রিনভী এভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন: ‘অনেকে দায়ী করছে ইংরেজী মিডিয়ামে পড়ানোর ফলে উচ্ছন্নে যাওয়াকে, ড্রাগকে। কিন্তু এ ঘটনার জন্য শুধুই কী এই মেয়েটাই দায়ী? পুলিশের যে কর্মকর্তা তার বাবা ছিলেন তিনি কোন্ স্কেলে চাকরি করতেন? এ বেতন দিয়ে কিভাবে তিনি তার কন্যাকে ইংরেজী মিডিয়ামে পড়াতেন? অর্থাৎ গোড়ায়ই গলদ রয়েছে। পাপের পয়সায় যার চলাফেরা সেতো উচ্ছন্নে যাবেই। এই দায় কী তার পিতা-মাতার নেই?
 
এরপর আসি, টিন এইজ একটা মেয়ে পালনের বিষয়ে। এই বয়সী একটা মেয়ে প্রেম করবে, ভুল করবে। তাকে শুধরাতে হবে বাবা-মাকেই। কিন্তু তাকে যেভাবে শাসন করা হচ্ছিলো তা প্রপার ওয়ে ছিলো বলে আমার মনে হয়নি (পত্রপত্রিকা পড়ে যতোটুকু জেনেছি)। ঐশী ড্রাগ এডিক্ট ছিলো, কেউ কেউ বলেছে। এডিক্ট হওয়ার আগে বাবা মা কেনো দেখেনি? এডিক্টদের চিকিৎসা আছে। তাকে কি তা করা হয়েছিলো? তাকে চোখে চোখে রাখবেন মা, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু দারোয়ানদের দিয়ে যেভাবে তাকে অপমান করানো হয়েছে, তা কি সঠিক ছিলো? বরং আমার মনে হয়েছে এমন ভয়াবহ কাজ করতে তাকে উৎসাহিতই করা হয়েছে। অনেকে হয়তো ভাবছেন আমি কেনো ঐশীর পক্ষ নিচ্ছি? আসলে পক্ষ নিচ্ছি না। বিষয়টা হচ্ছে, আমরা বাবা- মায়েরা টিন এইজের বাচ্চাদের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, বাচ্চা পালন করা এতো সহজ না।’
 
ঐশী তার মা-বাবাকে খুনের মতো চরমতম অপরাধ করে ফেলার কারণে এখন ঐশীর নাম আসছে বারবার। কিন্তু ঐশীর মতো মানসিক সমস্যায় পড়া মেয়ে এবং ছেলে এখন ঘরে ঘরে। চরমতম ঘটনাটি হয়তো ঘটছে না, কিন্তু কাছাকাছি সমস্যায় আছে অনেক পরিবার। কিন্তু কেনো এই অবস্থা?
 
একজন বাবা হিসেবে কিছু প্রশ্ন রেখেই এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন কানাডাপ্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর। তিনি তার ফেইসবুকে লিখেছেন: ‘ঐশী নামের মেয়েটির একমাত্র পরিচয় এখন ‘সে খুনী’। পৃথিবীর তাবৎ চোখ এখন কেবলই ঘৃণা নিয়ে তাকে দেখবে। আমার খুবই জানতে ইচ্ছে করে, ঘরের ভেতর, পরিবারের মধ্যে মেয়েটার জন্য কি এক চিলতে কোনো জানালা ছিলো? যেখানে সে আকাশ খুঁজবে! যেখানে সে বুক ভরে মুক্ত বায়ু নি:শ্বাস নেবে। মা কিংবা বাবা কি মেয়েটির বন্ধু হতে পেরেছিলেন? কতোটা সময়ইবা তাদের ছিলো মেয়েটির জন্য? এগুলো মৌলিক প্রশ্ন, কেবল ঐশীর জন্যই নয়, আমার আপনার সবার জন্য। প্রতিটি বাবাকে বলি, প্রতিটি মাকে বলি, নিজেকে করুন না প্রশ্নগুলো।’
 
ঠিক একইরকম কথা বলেছেন প্রিয় লেখক মইনুল আহসান সাবের। ফেইসবুকে তিনি লিখেছেন: ‘ঐশীর ঘটনায় অনেকে অনেক কিছু বলছেন এদিক-ওদিক। টক শোতেও নানা কথা। নানা কারণ দেখানো। কিন্তু কেউ বলছেন না, একটি সব অর্থে জবাবদিহিহীন সমাজে এরকম অস্বাভাবিক ঘটনা একসময় ঘটতেই পারে।’
 
ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থেকে সমাজ… সমাজকে জবাবদিহিহীন করেছে সবাই। এর সঙ্গে গলিত রাজনীতিতে এক আধা-খেঁচড়া পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো আমরা গড়ে তুলেছি যেখানে সন্তানদের এমনভাবে বড় করছি যাতে তাদের মধ্যে ব্যক্তি ভোগবাদটাই মুখ্য হয়ে উঠছে। স্কুল-বাসা আর বাসায় কম্পিউটার-ইন্টারনেট-ভিডিও গেইমস-টেলিভিশন ছাড়া জীবনের প্রকৃত অর্থের আর কোনো দরজা-জানালাই আমরা খুলে দিতে পারছি না, যেখানে প্রথম সুযোগেই তাদের কাছে নতুন জানালায় জীবনের মানে হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ইয়াবা কিংবা কোনো ড্রাগস, অথবা জীবন দর্শনের অনুপস্থিতিতে জঙ্গিবাদ।
 
পত্রপত্রিকা, অনলাইন আর টেলিভিশনের সংবাদে যতোটা বোঝা গেলো তাতে মনে হচ্ছে শুরুর সেই গল্পের মেয়েটির জন্য ছেলেটির ভালোবাসার মতো ঐশীর সামনে ভালোবাসা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলো ইয়াবা এবং তার ইয়াবা-আসক্ত বন্ধুগোষ্ঠি। প্রেমিকার ভালোবাসা পেতে ছেলেটি মায়ের হৃদপিণ্ড ছিন্ন করে নিয়েছিলো, আর এখানে ঐশী তার মা-বাবার। স্কুল-কোচিং-প্রাইভেটের জীবনে হয়তো ঐশী জীবনের প্রথম আনন্দ পেয়েছিলো ইয়াবাতেই। সেখান থেকে ঐশীকে আর ফেরানো যায়নি।
 
তবে জীবনের প্রকৃত অর্থ আর আনন্দ থেকে বঞ্চিত ঐশীদের সংখ্যা অনেক। ঘরে ঘরে আছে এমন অনেক ঐশী। কেউ মেয়ে ঐশী, কেউ ছেলে; কেউ ড্রাগ অ্যাডিক্ট, কেউ ড্রাগস ছাড়াই মানসিক নানা সমস্যায় আক্রান্ত। একজনকে চিনতাম, ক্লাস এইটে পড়ার সময় যার কাছে খেলাধূলা মানে ছিলো কম্পিউটার গেইমস। অসাধারণ মেধাবী ছেলেটি তার নি:সঙ্গতা আর মা-বাবার স্থায়ী কোন্দলের কারণে একসময় বাসার সবকিছু ভাংচুরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ভাংচুরের পর সে নিজের জীবন ভাংচুর করে ফেলা থেকে রক্ষা পেয়েছে লন্ডনে চলে যেতে পারার কারণে। আরেকজনকে জানি বছরের পর বছর যার স্থায়ী বসবাস পুনর্বাসন কেন্দ্রে। এখানে তার উচ্ছন্নে যাওয়ার পেছনে কাজ করেছে মা-বাবার স্থায়ী কোন্দলময় সম্পর্কের সঙ্গে অর্থবিলাস।
 
আমরা আমাদের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য, বৈধ-অবৈধ যেভাবে পারি শুধু ব্যাংক ব্যালান্সের স্বাস্থ্য বড় করার চেষ্টা করছি, ছেলে-মেয়েরা যেনো সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে সেজন্য নামে-বেনামে প্লট-ফ্ল্যাটের মালিক হচ্ছি, কথিত ভালো মা-বাবা হওয়ার চেষ্টা হিসেবে সন্তানদের শুধু ভালো রেজাল্টের জন্য স্কুল থেকে কোচিং, কোচিং থেকে প্রাইভেট আর প্রাইভেট থেকে পড়ার টেবিলে বস্তা বস্তা বই-খাতা দিয়ে তাদের মাথা ভারী করে দিচ্ছি। কিন্তু যে ভালোবাসার যক্ষের ধনের জন্য এতোকিছু তার মনের খবর রাখছি না, তার মানসিক শান্তি, স্বস্তি আর বিকাশের জন্য একটুও ভাবার চেষ্টা করছি না।
 
ফল হিসেবে একটু বড় হয়ে, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে স্বাধীনতার প্রথম সুযোগেই কেউ ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে, কেউ ফেন্সিডিল অথবা হেরোইন কিংবা অন্য কোনো ড্রাগসে। আবার শূন্যতার এ জীবনে কেউ কেউ জীবনের মানে খুঁজে পাচ্ছে জঙ্গিবাদী আহ্বানে সাড়া দিয়ে জঙ্গি হয়ে অথবা জঙ্গিবাদি চেতনাকে ধারণ করে মানসিক রোগী হয়ে। ছোটবেলায় তারা এমন জীবন দর্শন পাচ্ছে না যে দর্শন তাকে বোঝাবে পরকালের ভয় কিংবা লোভে নয়, নৈতিক আদর্শে জীবন গঠন জীবনেরই দায়।
 
এক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তাঁর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দিয়ে মানসিক উৎকর্ষ কার্যক্রম চালিয়ে কতোজনকে আলোকিত করবেন! কোথায় আমাদের ছোটবেলার খেলাঘর, কোথায় কচিকাঁচার আসর, কোথায় চাঁদের হাট, কোথায় মুকুল ফৌজ! কোথায় আমাদের ছোটবেলার মতো মহল্লায় মহল্লায় ক্লাব-লাইব্রেরি! কোথায় আমাদের শাহীন ভাই-কাজী ভাইয়ের মতো সামাজিক বড় ভাই, যাদের হাত ধরে পরিবারের বাইরে জীবনের প্রথম সহজ পাঠ!
 
যেদিন থেকে এই সামাজিক বড় ভাইরা হারিয়ে যেতে শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই আমাদের শিশুদের জীবন শুধু বাসা-বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বড়জোর বাড়ির ছাদ কিংবা পার্কিংয়ের সামান্য খোলা জায়গা। এ সামাজিক ভাইদের রাজনৈতিক বড় ভাইরা হটিয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে কোনো মহল্লার এখন পরিচিত বড় ভাই মানে মহল্লার সবচেয়ে খারাপ ছেলেটি, যার রাজনৈতিক পরিচয় আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি। এরা সকল অনাচারের সঙ্গে মহল্লায় মহল্লায় ড্রাগস নিয়ে এসেছে, একেকজন ড্রাগস লর্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, নিজেদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠায় হয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে দিয়েছে অথবা সেগুলোর দখল নিয়েছে। তাদের এরকম দাপটে হারিয়ে গেছেন সেই বড় ভাই যারা ঐশীর মতো লাখো ছেলেমেয়েকে জীবনের আলোর সন্ধান দিতে পারতেন।
 
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের এমন প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষায় রাজনৈতিক শক্তির মাথা-ব্যাথা থাকার কথা নয়, কিন্তু সামাজিক শক্তিগুলোরও কোনো সাহস নেই। আবার আগে যেমন ইত্তেফাকের মাধ্যমে কচিকাঁচা আর সংবাদের মাধ্যমে খেলাঘর তার কার্যক্রম চালাতো, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সেই দায়িত্ব নেয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু এরকম সুস্থ চিন্তা করার মতো সময় কই তাদের! ভারতীয় চ্যানেলগুলোর অন্ধ এবং ব্যর্থ অনুকরণে তারা তো ব্যস্ত নিজেদের পকেট ভারী করে কতো দ্রুত একটি ভবিষ্যত প্রতিভাকে নাচে-গানে ঝলমলে দুনিয়ার হাতছানিতে নষ্ট করে ফেলা যায় সেই মহান মিশনে। তবে শুধু টেলিভিশনেই নয়, আধা-খেঁচড়া পুঁজিবাদী জীবন ব্যবস্থায় কোথাও এখন আর সমষ্টি নিয়ে ভাবার সময় নেই, সবাই দুয়েকজন কথিত স্টার খোঁজার মিশনে ব্যস্ত, ভবিষ্যত প্রজন্ম নিয়ে ভাবার সময় রাষ্ট্র এবং সমাজ কারোই নেই।
 
তবে ঐশীর ঘটনায় সময়টা এখন শুধু ব্যক্তিক আর বৃহত্তর জীবনে দোষারোপের জন্য নয়। শারমিন রিনভীর পোস্টে যেমন আরেক মা শাহনাজ নাসরিন তার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। এমন মৃত্যুর ঘটনায় তার মতোই প্রতিটি মা-বাবা যেমন শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তেমনই ঐশীর প্রজন্মেরও সবাই। তবে ব্যক্তিক, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রিয় জীবনে অস্থিরতার কারণে নতুন প্রজন্মের যে এক ধরনের স্থায়ী কষ্ট, সেই কষ্ট দূর করতে না পারলে নতুন প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য গঠন সম্ভব হবে না। আর তাহলে আরও নেতিবাচক সমাজ গড়ে উঠবে এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রে।
 
ইট-কাঠ-কংক্রিটের শহরে আমাদের মনও রড-সিমেন্ট দিয়ে গড়ে উঠছে, যেখানে মাঠ না থাকার মতো সবুজও অনুপস্থিত। আমরা কি আমাদের হৃদয় হারাতেই থাকবো, নাকি ঐশীদের রক্ষায় নতুন বিনির্মাণের কথাও ভাববো, সে কথা ভাবার সময় এসেছে? ঐশীর ঘটনা কি ওয়েক আপ কল হবে?
 
জাহিদ নেওয়াজ খান
বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল আই

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে