Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৩ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৮-২০১৯

বিষিয়ে উঠছে ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ

বিষিয়ে উঠছে ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ

শুধু অবসর বিনোদনের জন্যই নয়; স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছেও ধানমন্ডি লেকের রয়েছে বিশেষ কদর। এই লেক সন্নিবেশিত পার্কে রয়েছে নানা প্রজাতির বেশুমার বৃক্ষরাজি। ফলে খুব ভোরেই এখানে জড়ো হন স্বাস্থ্য সচেতন নারী-পুরুষ। দিনভর লেকের নিস্তরঙ্গ জলে ছিপ ফেলে প্রহর গুণতে দেখা যায় সৌখিন মৎস্য শিকারিদের। তবে ক্রমেই বদলে যাচ্ছে ধানমন্ডি লেকের চিরাচরিত মনোরম পরিবেশ।

দখল-দূষণের কবলে পড়েছে লেকটি। জিগাতলা থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক পর্যন্ত ময়লা-আর্বজনার ছড়াছড়ি। অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুরের জটলা, হকারদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন প্রবেশ পথে দেখা যায় মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের সারি। ফলে বিচরণকারী মানুষকে পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ভোগে।

লেক এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতাও। বিশেষ করে লেকের ভেতরে সন্ধ্যার দিকে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। প্রায়ই তাদের অশোভন কর্মকাণ্ডে বিব্রত হতে হয়। একইসাথে শতশত তরুণ-তরুণী বাদাম-ফুচকাসহ নানা ধরনের খাবার খেয়ে যত্রতত্র প্যাকেট, পানির বোতল ফেলে লেকের পানিতে। এতে লেকের পানি ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে বিশেষত সকালে এবং বিকালে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের পদচারণা বেশ চোখে পড়ে। এছাড়াও সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌছাতে অনেক পথচারী এই লেকের পাড় ব্যবহার করেন। পয়লা বৈশাখসহ অন্যান্য উৎসবের দিনগুলোতে লেকে লোক সমাগম বেশি হয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রায়ই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এই লেকের তীরে।

লেকের মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বটগাছ, রেইন্ট্রি, আম,কাঁঠাল গাছ, নিমগাছ, বকুল গাছ, কদম গাছসহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে। ভেতরে খাবার ব্যবস্থাও আছে। নোংরা পরিবেশের সৃষ্টিও সেখান থেকেই।

দেখা গেছে লেকটির প্রবেশমুখে কিছু অস্থায়ী দোকান এবং ভেতরেও ফেরিওয়ালারা চা, কফি, বাদাম, ঝালমুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করছে। সৌখিন মৎস্য শিকারিদের জন্য অর্থের বিনিময়ে মাছ শিকারেরও সুযোগ রয়েছে এ লেকে।

রাজধানী ঢাকার একটি দর্শনীয় স্থান হলেও এলাকায় দর্শণার্থীদের সচেতনতার অভাবে লেকটি প্রতিনিয়ত নোংরা হচ্ছে। ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও সুস্থ ব্যবস্থাপনার ওপর সম্প্রতি ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা করদাতা সমিতির এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা লেক দূষণ ও দখলমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার অক্সিজেন ভাণ্ডোর এ লেক অতিমাত্রায় দূষণের শিকার। পানিও দিন দিন বিষাক্ত হচ্ছে। লেকের ভেতরের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা না গেলে এটি বুড়িগঙ্গার চেয়েও খারাপ অবস্থায় পড়ছে।

সচেতন এলাকাবাসীর বক্তব্য, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকাসহ আশপাশের এলাকার ড্রেনের পানি লেকের মধ্যে পড়া বন্ধ করতে হবে। ড্রেন দিয়ে যেসব ময়লা-আর্বজনা লেকের পানিতে আসে তাতে দেখা গেছে বিষাক্ত নর্দমার পানিও পড়ে।

ওই মতবিনিময় সভায় রিসার্চ ইভালুয়েশন এসোসিয়েটস ফর ডেভেলপমেন্ট লি. (রিড) এর এমডি ড. সৈয়দ জাহাঙ্গীর হায়দার, হাক্কানী পাবলিশার্সের কর্ণধার গোলাম মোস্তফা, রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

১৯৯৫ সালে সংস্কার করে লেকটিকে নতুন রূপ দেয়া হয়েছিল। ১৯৫০ এর দশকে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকারি উদ্যোগে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় বৃটিশ আমলে চাষাবাদ হতো। তবে সেইসময় ধানমন্ডিতে কিছু বসতিও ছিল। সেই এলাকায় ধান উৎপন্ন হতো বলেই নামকরণ ধানমন্ডি হয়নি।


এলাকাটিতে ধানের এবং অন্যান্য শস্যের বীজের হাট বসতো। হাট বাজারকে ফার্সি ও উর্দু ভাষায় মন্ডি বলা হয়। সেখান থেকেই এলাকাটির নাম ধানমন্ডি হয়। ২৪০ দশমিক ৭৪ হেক্টর জমি নিয়ে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে। যার ১৬ ভাগ জায়গা এখন হয়ে উঠেছে ধানমন্ডি লেক।

জিগাতলা থেকে শুর হয়ে লেকটি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে গিয়ে শেষ হয়েছে। মাঝে দুটি সুন্দর মসজিদ রয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন লেকটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও মৎস্য অধিদপ্তর।

এছাড়াও বর্তমানে বেশকিছু সেবামূলক সংস্থা লেকটির সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। তবে সিটি করপোরেশেনের পরিচ্ছন্নতা কর্মির সংখ্যা কম থাকায় লেক পরিচ্ছন্নতায় ব্যাঘাত ঘটছে।

হাজারিবাগ, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, মিরপুর রোড ও শুক্রাবাদের মধ্যবর্তী স্থানে ধানমন্ডি লেকের বিশাল অবস্থান। প্রত্যেকটি এলাকার সাথে ধানমন্ডি লেকের যোগাযোগের পথ আছে। ধানমন্ডিতে বেশ বড় এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। উত্তর-পূর্ব দিকে মিরপুর রোডের অবস্থান। দক্ষিণে ধানমন্ডিক্লাব এবং আবাসিক এলাকার অবস্থান। আর উত্তরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর।

আয়তনের দিক থেকে লেকটি বিশালাকৃতির হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে এটি বিভিন্ন নামে বিভক্ত হয়েছে।

এরমধ্যে রয়েছে মেডিনোভা চত্বর, স্যুটিং পয়েন্ট, জাহাজবাড়ি পয়েন্ট, দ্বীপ চত্বর (ডায়নামিক ফুড কোর্ট), লেক ভিউ সাইড, রবীন্দ্র সরোবর (মুক্তমঞ্চ), ডিঙ্গি বোধ ক্লাব অ্যান্ড ক্যাফে চত্বর, সুরধনী চত্বর, ব্যাচেলর পয়েন্ট, দ্বীপ চত্বর (বজরা রেস্টুরেন্ট), শতায়ু অঙ্গন, লেকপাড় গোল চত্বর, বঙ্গবন্ধু চত্বর, শেখ রাসেল চত্বর, শিকার দ্বীপ প্রভৃতি।

তবে আশার কথা, আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে এবং ধানমন্ডির লেকটির সৌন্দর্য বাড়াতে লেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। লেকের ভেতরের পরিবেশ দূষণমুক্ত করতে খাবারের দোকানের সংখ্যা কমানো হচ্ছে।

আর/০৮:১৪/২৮ মার্চ

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে