Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (47 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৭-২০১৩

নির্মাণকাজ ফেলে ঠিকাদার পলাতক


	নির্মাণকাজ ফেলে ঠিকাদার পলাতক

রাজবাড়ী, ১৮ আগস্ট- রাজবাড়ী আধুনিক সদর হাসপাতালের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে পালিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টিইপিএল-আইবিজেভি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (এইচইডি) প্রধান কার্যালয় রাজবাড়ী জেলা সদরের এ হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজের জন্য ঢাকার মিরপুরের বেগম রোকেয়া সরণির ৫৬৭, পূর্ব কাজীপাড়ার (৪র্থ তলা) এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়। চারদলীয় জোট সরকারের সময় শুরু হওয়া এ কাজ সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে উল্লেখিত ঠিকাদারকে এ কাজ দেয়া হয়। ওই সময় বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ থাকায় তা বাতিল করা হয়। সে সময় প্রায় ৫ কোটি টাকার কার্যাদেশের অর্ধেক কাজ সমাপ্ত করার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ফরিদপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দৃষ্টে দেখা যায়, ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট কার্যাদেশ দেয়ার পর ২০ সেপ্টেম্বর লে-আউট প্রদান করা হয়। ৫ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকার এ কাজ ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারের সঙ্গে প্রকৌশল বিভাগের পত্র চালাচালিতে সীমাবদ্ধ থাকায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিশেষ জেলার প্রভাবশালী দলীয় ঠিকাদার হওয়ায় কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না। ইতিমধ্যে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে নির্মাণকাজ বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়। এ সময় ওই বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ঠিকাদার মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু না হলেও প্রকৌশলীদের যোগসাজশে ৯০ ভাগ কাজ শেষ করার সনদ প্রদানের মাধ্যমে ৫ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা উত্তোলন করে পালিয়েছে ঠিকাদার। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ সামগ্রী ও কাজের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে সিভিল সার্জনের। হাসপাতাল নির্মাণকাজের সিডিউল ও ড্রয়িং দেখতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুস সালাম জানান, ‘আগের নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি হওয়ায় সিডিউল ও ড্রয়িং পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যতদূর মনে পড়ে, কাজের ড্রয়িংয়ের মধ্যে যেসব কাজ প্রধান, তা হল জুনিয়র কন্সালটেন্টদের আবাসিক কোয়ার্টার, সুপারিনটেন্ডেন্টের কোয়ার্টার, মর্গ (মরদেহ রাখার আধুনিক ভবন), বিদ্যুতের সাবস্টেশন ভবন, ইমার্জেন্সি ভবনের রিমডেলিং, প্রশাসনিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী (ভার্টিকেল) সম্প্রসারণ, মূল ভবনের তিনতলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, দ্বিতীয় তলায় অতিরিক্ত আরেকটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার নির্মাণ, হাসপাতালে অবস্থিত সব ভবন সংস্কার, হাসপাতলের অভ্যন্তরে সড়ক নির্মাণসহ নতুন কন্সল তার দিয়ে বৈদ্যুতিক ইলেকট্রিফিকেশন ইত্যাদি। সিভিল সার্জন ডা. নূরুল আমিন জানান, কোনো একটি কাজও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেনি ঠিকাদার। লেবার ওর্য়াড, ডায়রিয়া ওয়ার্ড, দ্বিতীয় তলার ওটির কাজ শুরুই করেনি। মূল ভবনের অর্ধেক কাজ পড়ে আছে। বেশিরভাগ ভবনের পলেস্তারা করা হয়নি। জানালায় গ্রিল না লাগানোয় অনেক রোগীর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা রীতিমতো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতদসংক্রান্ত বিষয়ে ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদপত্র দেয়ার পরও কোনো কাজে আসেনি। সর্বশেষ গত ২৭ মে নির্বাহী প্রকৌশলী চূড়ান্ত পত্র দিয়ে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ কেন বাতিল করা হবে না মর্মে পত্র দিয়ে সতর্ক করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী এফএ মোঃ মুরশিদ যুগান্তরকে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সিভিল সার্জনের দফতর থেকে কাজ শেষ করার জন্য এ পর্যন্ত ১৬টি চিঠি দেয়া হয়েছে। কোনো চিঠির তোয়াক্কা করেনি ঠিকাদার। তবে ৫০-৬০ ভাগ কাজ করে ৯০ ভাগ কাজ শেষ দেখিয়ে ৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিল প্রস্তুতের মাধ্যমে ঠিকাদারকে সহায়তার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি এ প্রকৌশলী। এদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ ঠিকাদারের কাছে অসহায়ত্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন এ প্রকৌশলী। ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে ২৩ জুন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীর সভাপতিত্বে এ সভায় নির্মাণকাজ চলার সময় পুরাতন প্লেয়িং বেডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। নবনির্মিত তৃতীয় তলার বিমের নিচে ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ওই সভায় নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সিভিল সার্জনকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের একটি সাবকমিটি করা হয়। তাদের ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য বলা হয়। এ রিপোর্ট আলোর মুখ না দেখলেও ‘গুরু পাপে লঘুদণ্ডের’ একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওই সভাতেই। সিদ্ধান্তে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে জামানতের টাকা দিয়ে কাজটি শেষ করার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানানো হয়। তবে এটি প্রকারান্তরে ঠিকাদারকে বাঁচিয়ে দেয়ার এক সূক্ষ্ম চেষ্টা মাত্র।

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে