Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৬-২০১৯

সামাজিক মাধ্যমে ব্যবসা প্রসারে ৭ টি গুরুত্বপূর্ন বিষয়

ইউসুফ পারভেজ


সামাজিক মাধ্যমে ব্যবসা প্রসারে ৭ টি গুরুত্বপূর্ন বিষয়

আমরা যতই সামনে এগুচ্ছি ততোই প্রযুক্তি পুরো দুনিয়াকে গ্রাস করছে। ঠিক এ জায়গায় দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যবসা প্রসার ও বিপণনের ধারনাটি দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, লিঙ্কডিনের মত সোশ্যাল সাইটের গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সাথে অর্থপূর্ন সম্পর্ক তৈরি করতে পারছেনা। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকে অবহেলা করার কারনে প্রতিযোগিতার বাজারে অনেক ব্যবসাই হারিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক গণমাধ্যম নির্ভর ৩০টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সফলতার উপর Fundera একটি গবেষণা করে। তারা জানায়, সোশ্যাল মিডিয়াতে গ্রাহক তার পছন্দের কোম্পানির সাথে ফলপ্রসূ আলাপচারিতায় অংশ নিতে পারছে, এতে কোম্পানি ও পণ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসছে। এভাবেই সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক জায়গায় উঠে আসতে সক্ষম হচ্ছে।

নিচে ৭ টি গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে যা পড়ে আপনি বুঝতে পারবেন সামাজিক মাধ্যম কীভাবে আপনার ব্যবসায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

১. ব্যবসার প্রসার ঘটাতে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুনঃ বর্তমানে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও লিঙ্কডিন এর মত গুরুত্বপূর্ন কিছু সামাজিক মাধ্যম আছে যেগুলো ব্যবসা প্রসারে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনি কি ধরনের ব্যবসা করছেন সেটার উপর নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করবেন। ব্যবসা ভেদে আপনি স্ন্যাপচ্যাট ও পিন্টারেস্টও ব্যবহার করতে পারেন।
প্রথম দিকে আপনাকে এই সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে একটু স্টাডি করে নিতে হবে। কেননা ব্যবসা শুরুর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার পলিসি ও টার্গেট অডিয়েন্স এর কাছে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগবে এ বিষয়গুলো জেনে নিবেন। এজন্য ব্যবসাবান্ধব সব গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলাটা জরুরি। পাশাপাশি এ বিষয়টি মনে রাখবেন যদি কোন সাইট তাদের অ্যালগরিদম ও পলিসিতে পরিবর্তন আনে তাহলে তা আপনার ব্যবসাভিওিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

২. নির্দিষ্ট ১ বা ২ টি সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করতে পারেনঃ আপনি যদি মনে করেন একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ আপনার জন্য কঠিন ও কষ্টসাধ্য তাহলে চিন্তার কারন নেই। ১টি অথবা ২টি সাইট আপনি টার্গেট করতে পারেন। যেমন মনে করলেন ভালো কন্টেন্ট পোস্ট করলে লিঙ্কডিনে অনেক সাড়া পাওয়া যায় আবার টার্গেট অডিয়েন্সের কথা ভাবলে স্ন্যাপচ্যাটও খারাপনা। উবারের কথা চিন্তা করুন। বর্তমানে তাদের শুধু ফেসবুকেই ২৪ মিলিয়নের উপর ফলোয়ার আছে। ফেসবুক বাদে কোথাও তাদের এত বেশি ফলোয়ার নাই।

এরপর টেসলার কথা উদাহরন হিসেবে বলা যায়। ফেসবুকে তাদের খুব বেশি ফলোয়ার নাই কিন্তু টুইটারে তাদের ৩ মিলিয়ন ফলোয়ার আছে আর ইন্সটাগ্রামে ৫ মিলিয়ন। কাজেই সব ধরনের সোশ্যাল সাইটের সাথেই যুক্ত থাকলে ব্যবসার প্রসার ঘটানো যাবে এ ধারনা ভুল। নির্দিষ্ট কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমকে সিরিয়াসলি টার্গেট করে এগুতে পারেন।

৩. সব ধরনের ব্যবসাই সামাজিক মাধ্যমে নিয়ে আসা উচিতঃ আল্টিমেটার গ্রুপের প্রধান বিশ্লেষক ব্রেন সলিস বলেন, “ ব্যবসার বিষয়টি যতটা প্রযুক্তিনির্ভর তার থেকে বেশি সামাজিক ও মনস্তাও্বিক ব্যাপার।” শুধুমাত্র মার্কেটিং ভালো হয়নি বলে অনেক ব্যবসা আলোর মুখ দেখেনি এরকম উদাহরনও আছে। তারা সামাজিক মাধ্যমকে সিরিয়াসলি নিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারতো। ইউপিএস এর ব্যবসা থেকে শুরু করে গাড়ির ব্যবসা পর্যন্ট সবকিছুর মার্কেটিং সামাজিক মাধ্যমকে ঘিরে হওয়া উচিত যেমনটা ব্রেন সলিস বলেছেন। শূন্য থেকে শুরু করা লন্ডনের রিও টিন্টো (খনি উত্তোলন কোম্পানি) কোম্পানির আজ সামাজিক মাধ্যমে মিলিয়নের উপর ফলোয়ার আছে। ব্যবসার দ্রুত প্রসারে সোশ্যাল মিডিয়া তাদের অনেক সহায়তা করেছে।

৪. কী ধরনের ব্যবসা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত প্রসার হয়ঃ আপনি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন? পাশাপাশি তা দ্রুত জনপ্রিয় হোক সেটাও চাচ্ছেন? তাহলে পণ্যভিত্তিক ব্যবসা থেকে সরে এসে সার্ভিসভিত্তিক ব্যবসায় বেশি মনোনিবেশ করতে পারেন। যেমন প্রযুক্তিনির্ভর সার্ভিস হলে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এর উপর গুরুত্ব দিতে পারেন। পণ্যভিত্তিক ব্যবসা করলেও এমন পণ্য নির্বাচন করুন যা ভোক্তার সামনা সামনি দেখে নেওয়ার কিছু নাই।
আপনি ইউপিএস বা সুগন্ধি জাতীয় পণ্যের ব্যবসা করলে ভোক্তার তা সামনা সামনি দাঁড়িয়ে চেক করার কিছু নেই, আপনি অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন ও সোশ্যাল সাইটে তার প্রসার ঘটাতে পারেন। আমেরিকার “Lyft” কোম্পানির উদাহরন দিতে পারি যেটি ট্যাক্সি ক্যাবের ব্যবসা করছে এবং এটি ৮০ শতাংশই অনলাইন ও সোশ্যাল সাইট নির্ভর। একটা প্ল্যাটফর্ম খুবই প্রয়োজনীয় যেখানে আপনার প্রতিষ্ঠান ও সকল কাস্টোমার এক জায়গায় এসে মিলবে। কাস্টোমার তাদের ইতিবাচক-নেতিবাচক সব কথা বলবে ও আপনি তাদের কথার উত্তর দিবেন। পণ্যভিত্তিক ব্যবসা হোক বা সার্ভিসভিত্তিক আপনি অনলাইনে আকর্ষনীয়ভাবে তুলে ধরতে পারলে আপনার ব্যবসাকে এটি অনেক দূর নিয়ে যাবে।

৫. শুধু ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে কার্যকারিতা বুঝায়নাঃ আপনার চেষ্টা থাকলে ব্যবসার শুরুর দিকে আপনি ফলোয়ার পেতে শুরু করবেন। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে শুধু ফলোয়ার যেনতেনভাবে বাড়ালেই চলবেনা। কাস্টোমার আপনার কন্টেন্ট অথবা আপনার পোস্টের সাথে কার্যকরভাবে যুক্ত আছে কিনা অথবা নিয়মিত আপনার ব্যবসায়িক হালনাগাদের তথ্যগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে কিনা এটা খেয়াল রাখতে হবে।
মার্কিন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ Liana Evans বলেন, “Content Doesn’t Win. Optimized Content Wins”
ইন্সটাগ্রামের কথাই দরুন। এখানে আপনার দেওয়া তথ্য তখনই ইন্সটাগ্রাম সবার উপরের দিকে রাখবে যখন আপনার পোস্টে মানুষ কার্যকরভাবে সংযুক্ত থাকবে। কাজেই আপনার টার্গেট থাকবে এমনভাবে আপনার সাইটের পেজ অথবা অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা ও আকর্ষনীয়ভাবে কন্টেন্ট পাবলিশ করা যাতে বড় অংশের একটা মানুষ এতে কার্যকরভাবে সংযুক্ত থাকে ও নিয়মিত রেসপন্স করে।

৬. ব্যবসার প্রসার ঘটাতে আপনার ব্যক্তিগত কৌশল অবলম্বনঃ শুধু আপনার বিজনেস পেজ অথবা অ্যাকাউন্টের এর উপর নির্ভর করলে চলবেনা। আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আপনার বিজনেস সম্পর্কে আকর্ষনীয় কন্টেন্ট লিখে পোস্ট করুন। আমার বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন অথবা অফিসের কর্মচারী ও তাদের পরিবার-বন্ধু সবাইকে সরাসরি যুক্ত করুন। এভাবে টিমওয়ার্ক করতে পারলে দ্রুতই আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

৭. কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলের গুরুত্বঃ শুধুমাত্র অভিনব অনলাইন বিপণন কৌশল কীভাবে একটি ব্যবসাকে সাফল্যের দরজা পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মার্কিন পিৎজা কোম্পানি ডোমিনো (Domino).
ডোমিনো যখন শুরু করেছিলো তখন তাদের কেউ চিনতোনা, খুব বেশি পিৎজা বিক্রিও হতোনা। তারা একটি অভিনব বিপণন কৌশল নির্ধারন করেছিলো। সোশ্যাল সাইট থেকে যাতে ভোক্তারা পিৎজা অর্ডার করতে পারে তার ব্যবস্থা করেছে ডোমিনো। মেসেঞ্জার আপ অথবা টুইটার হ্যাশট্যাগ থেকে অর্ডার করা, কোন বিষয় নিয়ে কথা বলা, তাৎক্ষনিক উত্তর দেওয়া এই সুবিধাগুলো ডোমিনো তাদের কাস্টোমারকে দিয়েছিলো। এই কৌশলগুলো তাদের ব্যবসাকে দ্রুত প্রসার করতে সহায়তা করেছিলো ও তাড়াতাড়ি কাস্টোমারের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলো।

কাজেই আপনি এমন কৌশল অবলম্বন করতে পারেন যা অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা হবে ও কাস্টোমারদের বাড়তি সুবিধা দিবে যেমনটা ডোমিনো কোম্পানি ভালোভাবেই করেছে। এ ধরনের কোশল ডিজিটাল জায়গা থেকে আপনার রাজস্ব অনেক গুনে বৃদ্ধি করবে। আজ বড় বড় কোম্পানির দিকে তাকেলেই বুঝা যায় তারা সোশ্যাল সাইটকে ব্যবহার করে কাস্টোমারের সাথে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করছে যা তাদের ব্যবসাকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করছে। কাজেই উপরিউল্লিখিত ৭ টি মৌলিক বিষয় বাস্তবায়ন করলে নির্দিষ্ট সময় পর আপনি ইতিবাচক ফল পাবেন বলে আশা করা যায়।

এআর/০৬:২৭/২৬ মার্চ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে