Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৯

মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকার মূল্যায়ন হোক

ড. এম শা হ্ নওয়াজ আলি


মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকার মূল্যায়ন হোক

অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের বজ্রকণ্ঠ ভাষণের মাধ্যমে এ দেশের আপামর জনতা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সময় এ দেশের শত শত নারীর স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বাঙালি জাতিকে করেছে গৌরবান্বিত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সার্থক ফসল আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশ, যার নাম বাংলাদেশ।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ হতে শুরু করে এ অঞ্চলে তথা অবিভক্ত বাংলায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ দেশের নারী সমাজের ভূমিকা অনন্য। কৃষক বিদ্রোহ, প্রজা বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, নাচোল বিদ্রোহ; এমনকি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও নারী সমাজ পিছিয়ে থাকেনি। সে কারণেই দেবী চৌধুরানী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নবাব ফওজুন্নেসা এবং ইলা মিত্রের মতো অসংখ্য মহীয়সী নারী কিংবদন্তির মহানায়িকা হিসেবে আজও ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে আছেন।

এক কথায় বলা যায় আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন কিংবা সমাজজীবনেও নারীর ভূমিকা কোনোভাবেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তাই তো বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের সময়োচিত এবং সাহসী উচ্চারণ- ‘কোন কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি, সাহস দিয়েছে, প্রেরণা দিয়েছে বিজয়া লক্ষ্মী নারী।’ সৃষ্টির পর থেকে আজকের সমাজ, সংস্কৃতি তথা বিশ্বসভ্যতার প্রতিটি স্তরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারীর অবদান অনস্বীকার্য।

যদিও পৃথিবীতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর অসংখ্য অবদান মাটিচাপা পড়ে যায়। সে রকম একটি কীর্তিগাথা ’৭১-এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের শহর বন্দর গ্রামের শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও নিরক্ষর অসংখ্য নারীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করে যা স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যদিও আজকে ইতিহাস বিকৃতির জোয়ারে প্রকৃত সত্য পাল্টে যাচ্ছে। ’৭১-এ মুক্তিসংগ্রামে স্বাধীনতার মহানায়কের অবদানকেই পুরোপুরি মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে এদেশে। এ প্রেক্ষাপটে মুক্তি সংগ্রামে অকুতোভয় সেসব বীরাঙ্গনা নারীর অবদানকে অস্বীকার করা তো স্বাভাবিক একটি বিষয় মাত্র।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হওয়ার পর বাঙালি জাতির ওপর নেমে আসে আরেকটি নব্য উপনিবেশবাদ। দীর্ঘ ২৩ বছর এ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের শেষ প্রহরে অগ্নিঝরা মার্চ। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ১০ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক সমাবেশে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এরপর আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয় ২৬ মার্চ। পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের কাছে এদেশের মুক্তিকামী বাঙালিরা লাঠি, ফলা, তীর-ধনুকসহ হালকা ধরনের অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ে। তবে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল মনোবল। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পাক-হানাদারদের বিতাড়িত করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ’৪৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে যে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেখানে এ দেশের নারীদের ভূমিকা উল্লেখ করার মতো। এ দেশের লাখ লাখ গৃহবধূ, মা-বোন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করেছে, খাদ্য দিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, প্রেরণা দিয়েছে; সেই সঙ্গে পাক-হানাদার ও দোসরদের সন্ধান দিয়েছেন। এ সবকিছুই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

’৭১ সালের প্রথম দিক থেকেই পূর্ববাংলার সংগ্রামী নারীরা সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং ও সামরিক ট্রেনিং নিতে শুরু করেন বিভিন্ন অঞ্চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন অনেক নারী। সে সময়ের জনপ্রিয় নেত্রী আয়েশা খানম, কাজী রোকেয়া সুলতানা, মনিরা আক্তার, হোসনে আরাসহ আরও অনেক ছাত্রী-নেত্রী স্বাধীনতা সংগ্রামকে সফল করে তোলার জন্য নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যান। তৎকালীন সংসদ সদস্য রাফিয়া আক্তার ডলি, সাজেদা চৌধুরী ও মমতাজ বেগমের উদ্যোগে এবং সহযোগিতায় গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রুপ গড়ে ওঠে।

১১ নম্বর সেক্টরে দেশের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের নিরক্ষর মহিলা তারামন বিবি রাইফেল হাতে যুদ্ধ করেছেন। ৯ নম্বর সেক্টরে অনেক মহিলা গেরিলা ট্রেনিং নিয়েছিলেন। দেশের পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লার শিরিন বানু ছেলেদের পোশাক পরে থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে দুঃসাহসিকভাবে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন।

শিরিন বানুর মতো এ রকম আরও একজন বীর মহিলার নাম বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য, তিনি হলেন কাকন বিবি (মুক্তিবেটি)। সময়ের প্রবাহে নাম না জানা আরও অনেক নারী আমদের স্মৃতির পাতা থেকে মুছে গেছেন। হয়তোবা আর কোনোদিন তাদের নাম-ঠিকানা খুঁজে বের করা সম্ভব হবে না। যে তারামন বিবি ১১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকে ৯ মাস অকুতোভয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনে অবদান রাখেন; দীর্ঘ ২৫ বছর তিনি আমাদের কাছ থেকে আড়ালে ছিলেন। এমন একটি সময় গেছে, তার অবদানের স্বীকৃতিটুকু দেয়া হয়নি। তিনি নিজেও জানতেন না, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার তাকে বিশেষ খেতাবে ভূষিত করেছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর অনেক চেষ্টা ও খোঁজাখুঁজি করে তারামন বিবি বীরপ্রতীকের সন্ধান পাওয়া যায়। নারী যোদ্ধাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন সুফিয়া কামাল। বিভিন্ন রণাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলতে সানজীদা খাতুনের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বেতারের মহিলা শিল্পীদের অবদান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থায় যেসব মহিলা শিল্পীর কথা বাঙালি জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন উমা খান, নমিতা ঘোষ, শেফালী ঘোষ, স্বপ্না রায়, মালা খুররম, রূপা ফরহাদ, ডালিয়া নওশীন, রমা ভৌমিক, দীপা ব্যানার্জী, আরতি ধর, লীনা দাস, অনিতা বসু, চায়না নিয়োগী, কবিতা দাস, ইতি বিশ্বাস, সাহানা চৌধুরী প্রমুখ। ভাষা আন্দোলন থেকে ’৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমির কাহিনী সংবলিত ‘একটি সূর্যের জন্ম’ শীর্ষক গীতি আলেখ্যর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কলকাতার রবীন্দ্রসদন, ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ পশ্চিম বাংলার বর্ধমান, বনগাঁ, মেদিনীপুরের বিভিন্ন স্থানে জনমত গঠন করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন এসব মহিলা শিল্পী।

এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আর্থিক সাহায্য করার জন্য শিল্পী বারীন মজুমদারের নেতৃত্বে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেখানেও অংশগ্রহণ করেছিল অসংখ্য বাঙালি নারী। ড. মযহারুল ইসলাম, ড. এ আর মল্লিক প্রমুখ বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে যে কমিটি হয়েছিল, সেখানেও ছিলেন অনেক নারী লেখক ও বুদ্ধিজীবী। তাদের মধ্যে উম্মে কুলসুম, আইভি রহমান, নূরজাহান মযহার, আক্তার ডলি, মুশতারি শফি, কুলসুম আসাদ প্রমুখ অগ্রগণ্য।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাইরে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, (মোজাফ্ফর), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মণি সিংহ) প্রভৃতি রাজনৈতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে সীমান্তবর্তী জেলা ও মহকুমাগুলোতে বেশকিছু যুবশিবির ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এসব যুবশিবির ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে অসংখ্য নারী মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিংপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা লালমনিরহাট, ফুলবাড়ী, মোগলহাট, কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন।

ফুলবাড়ীর নাওডাঙ্গা হাইস্কুলে আহতদের চিকিৎসার জন্য একটি ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়। এ সময় বেশ ক’জন নারী মুক্তিযোদ্ধা এ হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; তারা হলেন আকলিমা খন্দকার, মাহমুদা ইয়াসমিন বিউটি, কনক প্রভা সরকার, জাহানারা বেগম, শামিমা আক্তার গিনি, পিয়ারী মমতাজ পারভীন প্রমুখ।

’৭১-এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাসের এ মুক্তিসংগ্রামে দেশের লাখ লাখ গৃহবধূ, মা-বোন সবাই মুক্তিসংগ্রামে অংশ না নিলেও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা অবদান রেখেছেন। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা, জনসংযোগ, অর্থ সংগ্রহ, তথ্য আদান-প্রদান, খাবার সরবরাহ, অনেক সময় নিজে না খেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে খাবার বিতরণ ও গুপ্তচরবৃত্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও নারী যোদ্ধাদের অবদান কম নয়। গুপ্তচরবৃত্তির মতো দুঃসাহসিক কাজেও নারীদের অংশগ্রহণ স্বাধীনতার ইতিহাসে গৌরব ও সাফল্য বয়ে এনেছে।

যুদ্ধের ৯ মাস গণসংযোগের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার দুরূহ দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডা. ফৌজিয়া মোসলেম। এ ক্ষেত্রে মালেকা বেগম ও নিবেদিতা দাশ পুরকায়স্থও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

২ নম্বর সেক্টরের আওতাধীনে খড় ও বাঁশ দিয়ে স্থাপন করা হয়েছিল ৪০০ শয্যার একটি হাসপাতাল। ড. ফৌজিয়া মোসলেম, ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম, সাইদা কামাল, সুলতানা কামালের মতো আরও অনেকেই ছিলেন এ হাসপাতালের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তারা রাতদিন প্রাণান্ত পরিশ্রম করে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাবার রান্না করে পাঠানো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য আহত যোদ্ধাকে নিজগৃহে সেবা-যত্নের ব্যবস্থা করেছেন অনেক মা-বোন।

মহিলা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বেগম বদরুন্নেছার নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি বিভিন্ন ক্যাম্পের আগ্রহী মেয়েদের হাসপাতালে নার্সিং ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। স্বল্প সময়ের ট্রেনিং নিয়ে মহিলারা ছুটে গেছেন এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে আহতদের সেবা করার জন্য।

এ মার্চেই বাঙালি জাতি উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করতে যাচ্ছে স্বাধীনতার ৪৮তম বার্ষিকী। অনেক ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে যেতে পারলেও নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা ও নারী শিক্ষায় পিছিয়ে আছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতির মাধ্যমে আমরা আবারও নতুন করে শপথ নেব- ‘এ বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’

প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি : সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন

এমএ/ ১০:৩৩/ ২৩ মার্চ

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে