Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৯

আবরার আর অর্ণব: কষ্টে একাকার

অ্যাডভোকেট তারানা হালিম


আবরার আর অর্ণব: কষ্টে একাকার

বুকের ভেতরে এক অসম্ভব চাপা কষ্ট। ডাক্তাররা বলেন, আনন্দ-বেদনার অনুভূতি বুকের ভেতরে সৃষ্টি হয় না, হয় মস্তিষ্কে। আমি এতকিছু বুঝতে চাই না, শুধু বুঝি হৃদয়ে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যতবার দুর্ঘটনায় ঘাতক চালকের কারণে রক্তে সয়লাব হচ্ছে রাস্তা, ততবার রক্তক্ষরণ হচ্ছে আমার হৃদয়ে।

আমার বড় বোনের ছোট ছেলে অর্ণব। কি অসম্ভব সুন্দর দেখতে, কি প্রচণ্ড হাসি-খুশি, বন্ধু বৎসল, চোখের মণি দুটো স্থির থাকে না কখনো। আমি এখনো স্পষ্ট দেখতে পাই ওর হাসি, ওর চঞ্চলতা, ওর দুষ্টামি।

দুঃখিত, আমি অর্ণবের বিষয়ে ‘ছিল’, ‘করতো’ এমন Past tense ব্যবহার করতে পারব না। আমার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর, আমার বড় বোন আমার অজান্তেই ‘মা’ হয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মা-সম বড় বোনকে আমি নির্বাক হতে দেখেছি, পাথর হয়ে যেতে দেখেছি, অসুস্থ হতে দেখেছি, বিলাপ করতে দেখেছি, ষোল-সতের বছর বয়সের ছেলেদের দেখার জন্য, ফাস্ট ফুডের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে দেখেছি। আমার বড় বোন সড়ক দুর্ঘটনায় আকাশের ঠিকানায় চলে যাওয়া তার ছেলেটিকে কত ছেলের চেহারায় যে খুঁজেছে!

কত দিন, কত মাস, কত বছর- আমরা সাইফ আহমেদ অর্ণবকে হারিয়েছি জানি না। হিসাব রাখিনি। কারণ, প্রতিটি দিনই সেই দিন, যেদিন অর্ণবকে হারিয়েছি। আমি খালা, আমি বলতে পারি- একদিনও কাটেনি এমন, যেদিন অর্ণবকে অন্তত একবার মনে পড়েনি। অর্ণবের বড় ভাইয়ের, আমার দু’টো ছেলের চোখে অর্ণবের জন্য শূন্যতা দেখতে দেখতে বছরের পর বছর কাটছে আমাদের।

বাবা আবরার, আমি কখনো তোমাকে দেখিনি কিন্তু তোমার যে রক্ত বয়ে গেছে জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর, তোমার রক্তে ভেজা ID CARD সব চেনা আমার। বড় চেনা। বড় আপন। পথচারীরা নিয়ম মেনে চললেও জীবন যায় বেপরোয়া চালকের হাতে- জেব্রা ক্রসিংয়ে পড়ে থাকা তোমার মৃতদেহই লাগলো তা প্রমাণ করতে?

শুধু পথচারীর নিয়ম মানলেই চলবে না, চালকেরও মানতে হবে। বাস-ট্রাক মালিকদেরও মানতে হবে। সাধারণ মানুষ নিয়ম মানবে, আর তারা নিয়ম মানবেন না- এমন সিস্টেম প্রহসন। যে সিস্টেমের অংশ আমি, আমরা- সবাই।

আবরার, ঠিক জেব্রা ক্রসিংয়ে তোমার মৃতদেহ যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ‘আমি নিয়ম মেনেছি, দেখুন সকলে আমি জেব্রা ক্রসিং দিয়েই চলেছি।’ এ যেন বড় এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন। বড় এক লজ্জা দিয়ে গেল সিস্টেমকে। আমার কাছে অচেনা আবরার আর চেনা অর্ণব, কষ্টে রক্তে একাকার হয়ে গেল। প্রচণ্ড কষ্ট নিয়ে সড়কে হত্যার জন্য দায়ী কয়েকজন ঘাতক চালকের দ্রুত বিচার দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

লেখক: সাবেক প্রতিমন্ত্রী

এমএ/ ০৯:২২/ ২৩ মার্চ

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে