Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২২-২০১৯

অগ্নিময় বাকু

সঞ্জয় দে


অগ্নিময় বাকু

ফেলুদার গল্পের সোনার কেল্লার মতোই ইশেরি শেহের পাতালরেলস্টেশন থেকে মিনিট দশেক দূরত্বে এক সোনার কেল্লার সন্ধান পাই আমি। বিকেলের পড়ন্ত রোদ কেল্লার দেয়ালে পড়ে ধাতব মুদ্রার মতো ঝিকমিক করে ওঠে। আর অদূরের কাস্পিয়ান সাগর থেকে ছুটে আসা দামাল হাওয়ায় কেল্লার মাথায় টানিয়ে রাখা পতাকা যেন সবকিছু ছিঁড়েছুড়ে ভেসে যেতে চায় অজানার পানে। কেল্লার ওই পতাকাটিকে অজান্তে নিশানা করে হাঁটলেও আমার গন্তব্য কিন্তু এই কেল্লা নয়। আমি খুঁজছি আমার হোটেল। রেলস্টেশন থেকে এক আইসক্রিমওয়ালার নির্দেশিত পথ ধরে চলতে গিয়ে চলে এসেছি এ পথে। এখানে দুর্গের প্রাকার আছে, সংলগ্ন উদ্যান আছে, আছে প্রাকার উপচে সড়কের দিকে মুখ করে চেয়ে থাকা ডালিমগাছের কুঁড়ি। কিন্তু হোটেল কোথায়? ভুল পথে হাঁটছি কি না, সে সন্দেহ বদ্ধমূল হয় ধীরে ধীরে। পথচলতি আরও দু-একজনকে জিজ্ঞেস করলে তারাও তাড়াহুড়োয় ওই একই পথ নির্দেশ করে; যে পথ গিয়ে মিশেছে দুর্গের ফটকে। আচ্ছা বিপদে পড়া গেল দেখছি!

ব্যাপক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে অবশেষে নিজের ট্রলি ব্যাগটি ঠেলে সদর ফটক ধরে ভেতরে প্রবেশ করি। আর তখনই বুঝতে পারি ঘটনাটি কী। এখানে কেল্লার চৌহদ্দির মধ্যে গড়ে উঠেছে রীতিমতো এক ক্ষুদ্র শহর। বেলেপাথরে গড়া গায়ে গা লাগানো বাড়িঘর। মাঝ দিয়ে চলে গেছে কোবলস্টোনে মোড়া এবড়োখেবড়ো সড়ক। এক বাড়ির উঠোন হয়তো গিয়ে মিশেছে আরেক বাড়ির অন্দরমহলে। পথ হারালে তাই সর্বনাশ। আবারও হয়তো ফিরে আসতে হবে পূর্বের পথপ্রান্তে, কিংবা কাপড় শুকাতে দেওয়া নির্জন গৃহকোণে। নিজের ট্রলি স্যুটকেসটি নিয়ে আমি তাই কিছুটা বিপাকে পড়ি। খুব বুঝতে পারছি, এখানকার কোনো বাড়িই হয়তো আমার হোটেল। কিন্তু এই গোলকধাঁধার পথ মাড়িয়ে সেখানে পৌঁছাব কী করে?

কাচের জানালার ওপাশে রাখা বেশ কিছু আদিকালের বাহারি টেবিলবাতি। বাতির শেডে হাতে আঁকা কারুকাজ। আর জানালার নিচে দড়িতে টানিয়ে রাখা পাঁচ বাই দশ ফুটের কার্পেট। আশপাশে আরও দু-একটি কার্পেট লটকে রাখা।

আমাদের দেশে যেমন ফুটপাত আটকে পুরোনো কাপড় বিক্রি হয়, অনেকটা যেন তেমন করেই ফুটপাতে টুকরো কার্পেট বিক্রির বন্দোবস্ত। যে বাড়ির রোয়াকে এই ব্যবস্থা, সে বাড়ির সিঁড়িতে বসে আছে দুই যুবক। এদের একজন আমার বিপন্ন অবস্থা আঁচ করে এগিয়ে আসে। তবে হোটেল চিনিয়ে সাহায্য করার বিনিময়ে ছেলেটি আরেক নিবেদন পেশ করে। সে নাকি এখানকার এক ট্যুর এজেন্সির দালাল। হোটেলে নেওয়ার পথে আমাকে সেই এজেন্সির অফিসে একপাক ঘুরিয়ে আনতে চায়। যতই তাকে বলি, দেখুন, আমি বড্ড ক্লান্ত, ততই সে নাছোড়বান্দার মতো বলে, ‘এক্কেবারে ভাববেন না।

আমাদের অফিসটি আপনার হোটেলের পথেই, একটিবার এসেই দেখুন।’ একপর্যায়ে আমার স্যুটকেস নিজ হাতে তুলে নিয়ে সামনে ছুট দেয়। এবার তাই তাকে অনুসরণ করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকে না।

সরু পাথুরে রাস্তা ধরে একটি ট্যাক্সি আমাদের গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। সেটি থেকে উঁকি দেয় কয়েকজন বোরকাবৃত নারীর মুখ। দেখেই বুঝি, এরা স্থানীয় নয়। নিশ্চয়ই দুবাই কিংবা সৌদি পার্টি। ওদের সেই ট্যাক্সিটি বিলেতের হেকনি ক্যারেজ গাড়ি। লন্ডনের বাইরে একমাত্র এই বাকু ছাড়া অমন ঢাউস ট্যাক্সি আর কোথাও চলে কি না, সন্দেহ। গাড়িটি পেরিয়ে গেলে আমরা দুই পাশে দুটি আঙুরগাছকে পাহারাদার বানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বিতল বাড়ির সম্মুখে এসে দাঁড়াই। 

দরজার ওপরের দিকটায় ঝুলে রয়েছে কালচে রঙের টসটসে আঙুরের থোকা। আমাকে ভেতরে যাওয়ার জন্য ইঙ্গিত দিয়ে যুবকটি অমায়িক হাসিতে মুখ ভরিয়ে দেয়। ভেতরে ঢুকে উল্টো দিকের টেবিলে উপবিষ্ট ছিপছিপে এক ভদ্রলোকের দেখা পাই। লম্বাটে মুখটিতে খাঁটি আরবের ন্যায় সযত্নে ছাঁটা দাড়ি, পরনে গলফ টি-শার্ট। নানা রকমের ট্যুর প্যাকেজের প্রস্তাবদানের পাশাপাশি তিনি এক ফাঁকে টুক করে আমার ফোন নম্বরটি টুকে রাখেন মলাট দেওয়া ডায়েরিতে। ঠিক যেন বিমার দালাল। তবে নম্বর টুকতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গিয়ে বলেন, ‘আরে, আপনি কি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন?’ ভদ্রলোককে তো জ্যোতিষী বলে মনে হয় না! তাহলে তিনি সত্যি কথাটি জানলেন কী করে? চটুল স্বরে জানালেন, ইংরেজি শেখার একটা কোর্সে পড়তে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসেছেন বেশ কয়েক বছর। এমনকি থেকেছেন আমার শহরেই। আর সে জন্যই ফোনের এরিয়া কোড দেখেই ধরে ফেলেছেন আমার প্রকৃত নিবাস। 

পাকা দালাল যেমন আসল কথায় যাওয়ার আগে শুরু করে নানা খেজুরে আলাপ, তেমনি করে লোকটি এবারে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়ার নানা স্মৃতিকাহিনি। 

সেই থেকে জানতে পারি, এই-সেই করে এক বছরের কোর্স পাঁচ বছরে সমাপ্ত করে শেষ অবধি আমেরিকায় টিকতে না পেরে সে ফিরে আসে নিজ শহর বাকুতে। খুলে বসে পর্যটন ব্যবসা। এখন যদি আমার মতো পশ্চিমা পর্যটকেরা তার কাছ থেকে প্যাকেজ না কেনে, তাহলে দেশে ফিরেই-বা তার লাভটা কী হলো? বেচারা এমন করুণ ভঙ্গিতে কথাগুলো বলে যে কিছু আগাম টাকা হস্তান্তর করে একটি ট্যুর প্যাকেজ আমাকে কিনতেই হয়।

হাঙ্গেরিয়ান কনস্যুলেটের এক কোণে লুকিয়ে থাকা হোটেলটিতে ঢুকে চারধারে কারোর দেখা পাই না। রিসেপশন ফাঁকা। দেয়ালের হুকে ঝুলছে বেশ কিছু ঘরের চাবি। পাশের একটি ছোট ঘর থেকে ভেসে আসছে রেডিওতে বাজা তুর্কি গানের ছন্দ। কিন্তু কোথাও কেউ নেই। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে গলাখাঁকারি দিয়ে ম্যানেজারকে ডাকাডাকি করতে হয়। গায়ে সাদা শার্ট আর সেই সঙ্গে ষাটের দশকের পুরুষদের মতো ঠোঁটের ওপর পাতলা লাইনের গোঁফওয়ালা ম্যানেজার উদয় হন হাতে কিছু আপেল আর কলার সম্ভারসহ। আন্দাজ করি, তিনি আগামীকালের প্রাতরাশে সরবরাহ করার জন্য এগুলো হয়তো কিনে এনেছেন আশপাশের কোনো ফলওয়ালার কাছ থেকে। বিন্দুমাত্র দুঃখপ্রকাশ না করে তিনি সেই ফলারির দিকে চক্ষু নির্দেশ করে বলেন, ‘আরেকটু সবুর করুন। এগুলোকে যথা স্থানে রেখে তবেই আপনাকে চাবি বুঝিয়ে দিচ্ছি।’

ততক্ষণে বিকেল পেরিয়ে সূর্য প্রায় অস্তাচলে। হোটেলে ব্যাগ রেখে আমি লাইট হাউসের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা ময়দান স্তম্ভের দিকে হাঁটি। পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে আসা গাছের কাণ্ড যেমন অনেক সময় আটকে যায় ভাটিতে থাকা পাথরখণ্ডে, তেমনি আমিও সবেগে চলতে গিয়ে আটকে যাই পথপাশের জটলায়। সেখানে হ্যাজাক বাতির তলে তুর্কি আইসক্রিম বিক্রেতা ছলনা করছেন এক বালকের সঙ্গে। বালকটি যতবারই আইসক্রিম ধরতে চায়, লোহার শিকের আগায় আটকে থাকা আইসক্রিমটিকে সেই বিক্রেতা ভোজবাজির মতো হাওয়া করে দেন। এই দৃশ্য দেখে মজা পায় আশপাশে গোল হয়ে দাঁড়ানো বাকি লোকজন। এর পাশে এক বৃদ্ধা রুটি সেঁকে বেচছেন। রুটির স্তরের মধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া পালংশাক আর মাখনের মিশ্রণ। তবে আমাকে কিন্তু আকর্ষণ করে এই রুটি নয়, বরং এ রাস্তার শেষ মাথার রেস্তোরাঁটি। ওটির ভেতরের উনুন থেকে ভুড়ভুড়িয়ে ভেসে আসছে তাজা মাংস পোড়ানোর গন্ধ। 

আজেরিরা খুব গর্ব করে বলে, আমাদের দেশে লোক আসে তিনটি জিনিসের স্বাদ পেতে—সংস্কৃতি, ইতিহাস আর আমাদের খাবার। শেষোক্তটি পরখ করে দেখার একটা জুতসই মওকা তৈরি হওয়ায় আমি সুড়ুৎ করে সেই রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়ি।

রেস্তোরাঁর সামনের উঠোনে পেতে রাখা কিছু গোল টেবিল। ওখানে বসে বহুদূরে দীপ্যমান ফ্লেম টাওয়ারকে একেবারে আরাম করে দেখা যায়। আজারবাইজানের ইতিহাসের সঙ্গে একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে জরথুস্তিয়ান ধর্ম আর অগ্নিমন্দির। সেই অগ্নির রূপকল্প হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে গ্লাস প্যানেল দিয়ে গড়া ওই ভবন তিনটি। ভবনের গায়ে লাগিয়ে রাখা হাজারো লেড বাতি যখন জ্বলে ওঠে, তখন মনে হয় বাকু শহরে যেন জ্বালানো হয়েছে মহাযজ্ঞের অগ্নিশিখা। আমি সেই শিখার দিকে তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকায় কখন যে নিঃশব্দ সঞ্চারে পেছনে এসে বেয়ারা দাঁড়িয়ে গেছে টের পাইনি। 

টের না পাওয়ার আরও কারণ ছিল। উল্টো দিকের বাড়ির বারান্দায় এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক বাজাচ্ছিলেন আজেরি বাদ্যযন্ত্র ‘তান’। এর সুর সেতারের কাছাকাছি। তবে বেশ ছন্দময়। আমার শ্রবণেন্দ্রিয় পুরোপুরি মজে ছিল সেই সুরগঙ্গায়। তবে তাই বলে তো আর বেয়ারাকে অনন্তকাল দাঁড় করিয়ে রাখা যায় না। লেবুজল জারিত মুরগির ভাজা ঠ্যাঙের অর্ডার দিয়ে তাকে বলি, ‘আগে আমাকে এক কাপ চায়ে দাও।’ বিকেলটা একটু চা-সহযোগে চাঙা হোক।

পরদিন সকালে ঘুম ভাঙে কাচের সার্সিতে বাতাসের জোরালো গোঙানির শব্দে। পর্দা সরিয়ে দেখি, দূরের কাস্পিয়ান সাগর থেকে বয়ে আসা দুরন্ত সাগরবায়ু উড়িয়ে নিতে চাইছে জানালাটিকে। হোটেলটি বেশ পুরোনো বিধায় জানালার পাল্লার শক্তিমত্তা নিয়ে মনে কিছুটা সংশয় জাগে। এ তল্লাটে কিছুকাল আগে স্থাপন করা হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ফ্ল্যাগ পোল। কিন্তু সাগরের শক্তিমান হাওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই নয়তলার সমান উঁচু সেই পোল গেল বেঁকে।

অবশেষে আশপাশের বাড়িতে ভেঙে পড়ার ভয়ে গত বছর সেই পোলটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দুই শ বিশ টনের পোলকে যে হাওয়া নড়িয়ে দিতে পারে, সেই হাওয়ার কাছে তো এই নড়বড়ে জানালা নস্যি। তবে এই জানালা নিয়ে পড়ে থাকলে তো পুরো দিনটাই মাটি। আজ আবার সকাল ঠিক দশটায় সেই ট্যুর এজেন্সির সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার রফা।

লোকটির নাম সামির। ওপরের পাটির দুটো দাঁত ইতিমধ্যে খুইয়েছে। এককালে কাজ করত বাকুর এক তেল উত্তোলন কোম্পানিতে। অবসরের পর এখন ট্যুর গাইডের কাজ করছে। নিজের গাড়িতে চড়িয়ে প্রথমেই বলল, আগে না হয় তোমাদের আমার কর্মস্থলের একটা চিত্র দেখিয়ে নিয়ে আসি। গাড়ি ছুটে চলল মেরিন ড্রাইভের সুপ্রশস্ত সড়ক ধরে। বাঁ ধারে দূর সাগরে শত শত ডেরিক। গুবরেপোকার শুঁড়ের মতো অবিরাম উঠছে-নামছে তাদের তেলকলের লিভার। এই যে তেল, এই কালো সোনাকে ভিত্তি করেই কিন্তু গড়েই উঠেছিল গত শতকের বাকু, যেটিকে একসময় ডাকা হতো ককেশাসের প্যারিস বলে। আজকের বাকু নগরীর যে জৌলুশ, সেটিও ওই তেলের কল্যাণেই। তবে গত কয়েক বছরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় বাকুতে মানুষের মনে বেশ হাহুতাশ। তাদের কথা হলো, বছর দশেক আগে তেলের দাম যখন আকাশচুম্বী হয়েছিল, তখন সেই টাকায় আমাদের বেশ কিছু উন্নয়ন হয়েছিল। আবার যে কবে আসবে সেই সুদিন! 

এই তেলসম্পদ নিয়ে আলাপকালে সামির জানাল এক চমকপ্রদ কাহিনি। আজারবাইজান তখন রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলে বাণিজ্য আকৃষ্ট করার জন্য রুশ দেশের জার বিদেশিদের জন্য স্বল্পমূল্যে জমি আর আয়করে ব্যবসা করার সুযোগ দিলেন। সেই সুযোগে সুদূর সুইডেন থেকে এখানে এসে বসত গড়লেন পাকা ব্যবসায়ী নোবেল ভাইয়েরা। তাঁরা এর আগে পেট্রোলিয়াম আর রিফাইনারি নিয়ে ব্যবসা করে বেশ টাকা কামিয়েছেন আমেরিকায়। 

এবার আবারও ভাগ্যপরীক্ষার জন্য এলেন বাকুতে। বাকুতে কিন্তু তারও আগে থেকেই তেলশিল্প স্বল্প আকারে ছিল। এককালে তো অবস্থা এমন ছিল যে লোকে কুয়ো খুঁড়লেও জলের পরিবর্তে তেল পেত। তো নোবেল ভাইয়েরা এখানে নিয়ে এলেন তেল শোধনের আধুনিক পন্থা আর সরঞ্জাম। সেই দিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই রাশিয়া আর এশিয়ার বাদবাকি অঞ্চলে বাকুর তেল সাপ্লাই করে তারা রীতিমতো কোটিপতি বনে গেলেন। পরবর্তীকালে আলফ্রেড নোবেল যে নোবেল পুরস্কারের প্রচলন করেন, সেই পুরস্কারের অর্থের বড় অংশই ছিল বাকুর তেলশিল্প থেকে তাঁর উপার্জিত অর্থ।

আজকের পৃথিবীতে তেল উৎপাদক হিসেবে বাকুর ভূমিকা কমে গেলেও এককালে, বিশেষ করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেই ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সে সময় গোটা পৃথিবীর ত্রিশ ভাগ, আর সোভিয়েত ইউনিয়নের সত্তর ভাগ তেলের জোগানদার ছিল বাকু। যুদ্ধ শুরু হলে সে কারণে বাকুর ওপর নজর পড়ে মিত্রবাহিনী ও হিটলার—উভয়েরই। স্তালিনগ্রাদ অভিমুখী নাৎসি বাহিনীর যে অগ্রযাত্রা, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাকু দখল করা। যুদ্ধধমনির প্রাণদ রক্ত পেট্রলের জন্য হিটলার তখন মরিয়া। রুমানিয়া আর অস্ট্রিয়া থেকে পাওয়া তেলেও তখন জার্মান ট্যাংকগুলোকে সচল রাখা কঠিন। 

স্তালিন নির্দেশ দিলেন, হিটলার বাকু এসে পৌঁছাবার আগেই যেন সব তেলশিল্প ধ্বংস করে ফেলা হয়। ভারী যন্ত্রপাতিগুলো অবশ্য তার আগেই সরিয়ে নেওয়া হলো পূর্বে। বাকুর সৌভাগ্য। নাৎসি বাহিনী চেচনিয়ার গ্রোজনি অবধি এসে আর দক্ষিণে এগোতে পারল না। স্তালিনগ্রাদে পরাজয়ের ফলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হলো। এভাবেই অনেকটা দৈববশে হিটলারের বোমাবর্ষণ কিংবা স্তালিনের স্ব-ধ্বংস, উভয়ের হাত থেকেই বেঁচে গেল শহরটি।

বাকু পেছনে ফেলে আসার পর সুরম্য অট্টালিকা আর চোখে পড়ে না। তার পরিবর্তে ভেসে ওঠে বালিয়াড়ি আর রুক্ষ জমিন। হাইওয়ের সমান্তরালে সেই জমিন ভেদ করে চলে গেছে বিশাল সাইজের দুটি পাইপ। একটি হলুদ, আরেকটি সাদা। হলুদটিতে পরিবাহিত হয় গ্যাস আর সাদাটিতে পানীয় জল। এই দ্বিতীয়োক্ত বস্তুটি এ অঞ্চলের অন্যতম দামি পদার্থ। কারণ, একদিকে সাগর, অন্যধারে মরুভূমি—এর মধ্যে মিঠেজল মিলবে কোথায়? তাই সেই সুদূর উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি ঝরনা থেকে জল সংগ্রহ করে সেটিকে পাইপের মাধ্যমে টেনে আনা হয় শত মাইল দূরের রাজধানী শহরে। ছোট এক সাঁকোর তলে সেই পাইপ দুটোকে রেখে আমাদের ল্যান্ডরোভার গাড়িটি এবার চাকা ফেলে খড়খড়ে বিরান মাঠে। দূরে কিছু টিলা। ট্রাম্পোলিনে চড়ে লাফানোর মতো করে প্রচণ্ড রকম দুলে দুলে গাড়িটি সেই টিলা পেরিয়ে চলে যায় উল্টো দিকে। সেখানে কিছুটা পথ সমতল পাওয়ার পর আবার পেরোতে হয় আরেকটি টিলা। আলগা নুড়ির সঙ্গে টায়ারের ঘর্ষণে ভীতিপ্রদ কিছু মুহূর্ত তৈরি হয় ক্ষণে ক্ষণে। একেবারে নখদর্পণে না থাকলে এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় গাড়ি চালিয়ে যাওয়াটা দুঃসাধ্য। তবে সেই কর্মটি বেশ ভালোভাবেই সম্পাদন করে সামির গাড়ি এনে থামায় ছোট এক পুকুরের সামনে।

পুকুরটি বেশ অদ্ভুত। আয়তনে বড় নয়। তবে পুকুর বলতে যেমন টলটলে জলের ছবি ভেসে ওঠে, এটি তেমন নয় মোটেও। বরং এর জল কালচে। আর পাড়ের কাছটায় মাটি যেন পুড়ে যাওয়া কয়লা। ভাতের হাঁড়ির বলকের মতোই ওখানে জলের ভেতর থেকে ক্রমাগত উঠছে বুদ্‌বুদ। তাতে পুকুরের কাদামাটি ছড়িয়ে যায় আশপাশের বাকি স্থানে। খুব কাছে গেলে বিপদ। এ যেন ছোটখাটো এক আগ্নেয়গিরি। শুধু কিন্তু এই পুকুরই নয়, কাছেপিঠে আরও কিছু টিলার মাথায় আছে এমন কাদামাটির কবোষ্ণ আগ্নেয়গিরি। সামির বলে, এই কাদামাটি গায়ে মাখলে নাকি ত্বকের যত্ন হয়, আরাম বোধ হয়। তবে এই কাদা-থেরাপি নেওয়ার পর নিকটস্থলে ধুয়ে ফেলার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামিরের কথাটি পরখ করে নেওয়ার মতো সাহস হলো না।

সেই স্থান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে সামির এবার নিয়ে আসে এক পাথরের বনে। চারদিকে বিশাল সব বোল্ডার। একটির ওপর এমনভাবে চড়ে বসে আছে যে মনে হয় একটু হাওয়া পেলেই বুঝি হুড়মুড়িয়ে নিচে নেমে আসবে। অথচ পাথরগুলো ওভাবেই আছে অন্তত দশ হাজার বছর ধরে। সামির কি তবে এমন আদিম পাথর দেখাতে নিয়ে এল এখানে? সেই ভেবে আমি কিছুটা বিরক্ত বোধ করি। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভ্রম কেটে যায়। বুঝি, সামির আসলে পাথর নয়, বরং দেখাতে এনেছে গুহাচিত্র।

সময়টা তখন পাথরযুগ কিংবা অরিগনেসন যুগ। আমাদের গাঙ্গেয় বদ্বীপ হয়তো তখন সাগরের তলে। এমনকি গেবুস্তান নামক যে পাথরের বনে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিও তখন সাগরের জলে নিমজ্জিত। কীভাবে বুঝলাম? সেটি আন্দাজ করা কঠিন নয়। আমার থেকেও দুই মাথা ওপরের পাথরে দেখা যায় প্রবালদ্বীপের ফোকরের মতো সাগরের ঢেউসৃষ্ট গহ্বর। এমনকি শত শত বছর ধরে সাগরের জলসীমা যখন ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসেছে, স্পষ্টত রেখে গেছে তার নিশানা পাথরের বুকে খাঁজ কেটে। যেন পাহাড়ের ভ্রুকুঞ্চিত ললাট। কী অদ্ভুত ঘটনা! তার মানে আমার দাঁড়ানোর স্থানটি হাজার বছর আগে হয়তো ছিল উত্তাল সাগরের তলে। এই পাথরের খেরোখাতায় কিন্তু শুধু সাগরই তার স্মৃতি রেখে যায়নি, স্মৃতি রেখে গেছে আদিম গুহাবাসী মানুষও।

সেই মানুষেরা ছবি আঁকতেন। আর আঁকার কাজে ব্যবহার করতেন সুচালো পাথর কিংবা পশুর হাড়ের সরু মাথা। খেয়াল করলে দেখা যায়, তাঁদের আঁকা নানা বিষয়বস্তুর মধ্যে একটি বিষয় ঘুরেফিরে আসে। সেটি হলো অতিকায় জীবজন্তু। নিজেদের কিছু ছবিও তাঁরা এঁকেছেন, তবে সেই দৃশ্যের মধ্যে যেন ফুটে ওঠে ছন্দায়িত গতিময়তা। গেবুস্তানের পাথরের গায়ে সেই আদিম মানুষেরা যে চিত্রগুলো এঁকে গেছেন, সেখানেও এই দৃশ্যকল্পগুলোই প্রস্ফুটিত।

বিশাল আকারের বাইসন তেড়ে যাচ্ছে আরেকটি বাইসনের দিকে, হাত-ধরাধরি করে নৃত্যরত মানব-মানবীর দল, মুখ উঁচিয়ে থাকা হর্ন ডিয়ার কিংবা বিশাল ডিঙিনৌকায় নৌকাবাইচের মাঝিদের মতো একের পর একজন বসে পাড়ি দিচ্ছেন জলভাগ—এমন নানা ছবি হাজার বছরের কালসমুদ্রে হারিয়ে যায়নি; বরং বেঁচে আছে হলদে পাথরের পৃষ্ঠদেশকে আঁকড়ে ধরে। তবে খুব সতর্ক চোখে না তাকালে হুট করে সেই সব অঙ্কনচিত্রকে পাথরের অমসৃণ গাত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। পাশে দাঁড়িয়ে সামির সেই খুঁজে পাওয়ার কাজটিতেই সহায়তা করছিল। হঠাৎ সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ও তাকায় ঠিক পেছনের দিকে থাকা সমুদ্রের পানে। কম করে হলেও দু-তিন মাইল দূরে সেই সমুদ্রের তটরেখা। অর্থাৎ সমুদ্র ধীরে ধীরে এই পাথরের অরণ্য থেকে জমিন ছেড়ে পিছু হটেছে। ওখানে ঠিক সমুদ্রের পাশটায় ধূসর বর্ণের বিশাল এক ভবন। সামিরের দৃষ্টি আসলে ওই ভবনটির দিকেই, সমুদ্রের দিকে নয়। 

ভদ্রলোকের স্বভাব হলো, কথা বলেন ঝড়ের গতিতে আর সেই ঝড়ের মাঝেই হঠাৎ থেমে থেমে নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। লোকে তাঁর কথা মন দিয়ে শুনছে কি না, সেটি পরখ করে নিতে চান। তবে এবারে ঠিক তেমন প্রশ্ন নয়, বরং যেন কৌন বনেগা ক্রোড়পতির প্রশ্নকর্তা অমিতাভ বচ্চনের ঢঙে বলে ওঠেন, ‘ইউরোপের কোন দেশে এখনো মৃত্যুদণ্ড প্রচলিত আছে, বলো তো? চারটে দেশের নাম বলছি। এর মধ্য থেকে সঠিকটি বেছে নাও—সার্বিয়া, তুরস্ক, বেলারুশ, আর্মেনিয়া।’ দূরের ওই ভবনটির সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের কী সম্পর্ক, সেটি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। 

তবে আন্দাজে ঢিল ছোড়ার মতো করে আমি বলি তুরস্কের কথা, যদিও বলেই জিব কাটি। কারণ, তখনই মনে পড়ে কিছুদিন হলো তুরস্ক বরং মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে হুমকি দিচ্ছে। তাহলে সঠিক উত্তর কোনটি? বিশাল এক গুমর ফাঁস করার মতো করে সামির জানায়, দেশটি হলো বেলারুশ। ইউরোপে একমাত্র বেলারুশেই এই দণ্ডপ্রথা এখনো বিদ্যমান। পাথরের খাঁজে সাবধানে পা ফেলে নিচে নামার সময় আবারও থেমে কিছুটা কুণ্ঠাসহযোগে সামির যোগ করে, ‘সাগরের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ভবনটি হলো আমাদের সবচেয়ে কুখ্যাত জেল। লোকে বলে, ওখানে একবার কেউ ঢুকলে আর জীবন্ত ফিরে আসে না। আমাদের দেশে মৃত্যুদণ্ড নেই, কিন্তু আবার প্রকারান্তরে আছেও। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না, বাকিটা বুঝে নাও।’

দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় সামির আমাদের নিয়ে ঢোকায় সস্তায় পেট পুরে খাওয়ার মতো এক রেস্তোরাঁয়। এটি বাকুর কাছেই। যত খুশি তত খাও-মার্কা এই রেস্তোরাঁয় খেতে গুনতে হয় মাত্র দশ মানাত। ভেতরের অঙ্গসজ্জা তেমন আহামরি নয়। ডান দিকে বাঁশ আর কাঠ দিয়ে গড়া টেবিলে থরে থরে মাংসজাত খাবার সাজানো। ওপরে জ্বলছে উজ্জ্বল আলোর বাল্ব। নেহরু ক্যাপের মতো সাদা টুপি পরে কয়েকজন পরিবেশনকারী তার পেছনে দাঁড়িয়ে। হ্যাঁ, নিজের প্লেটে নিজে নিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা এখানে নেই। যেটি খেতে চাই, সেটি দেখিয়ে দিলে রোবটের মতো মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভদ্রজনেরা সেটি প্লেটে তুলে দেয়। আমি খাবারের সারিতে চোখ বুলিয়ে দেখি, সেখানে চিকেনের পদই আছে পাঁচ-ছটি। এর পরের প্রাধিক্য ভেড়ার মাংসের। খাবারের সামনে কোনোটিরই নাম লেখা নেই। সামির তাই প্রতিটি খাবার কী দিয়ে তৈরি, সেটির একটি ঝোড়ো তালিকা দিয়ে প্রস্থান করে। ও নাকি এখন বাইরের উঠোনে যাবে সিগারেট টানতে।

এত খাবারের সম্ভার দেখে আমি প্রথমে কিছুটা ভড়কে যাই। ঠিক কোনটি যে পাতে তুলে নেব, সে নিয়ে মনস্থির করতে পারি না। ঠিক তখনই দেখি স্মিতহাস্যময়ী এক নারী বিশাল এক হাঁড়ির মাঝে কী যেন ঘুঁটছেন। কাছে গিয়ে পরখ করে বুঝি, সেটি খুব সম্ভবত ডালের স্যুপ। এমন এক দেশি খাবার দিয়ে ভোজন পর্ব শুরু করলে হয়তো মন্দ হয় না। মহিলা আমাকে বিশাল এক বাটি ভর্তি করে ডালের স্যুপ দেন। সন্তুষ্টচিত্তে সেটি এনে চামচে করে মুখে দিতেই আন্দাজ করি, আজেরি মুলুকে এরা হয়তো ডালে নুন খায় না। কিন্তু ভেতো বাঙালের মুখে কি আর নুন ছাড়া ডাল রোচে? আমি তাই ডাল ফেলে ছুটি সেই প্রাণিজাত আমিষময় খাবারের টেবিলের সামনে।

ওদিকে পিটার কিন্তু সে ভুল করেনি। ও প্রথমেই নিয়ে এসেছে এক থাল নানা পদের ভাজা মাংস। এই ছেলেটির সঙ্গে পরিচয় এই আজই। আমার মতোই সামিরের দলে ঘুরতে বেরিয়েছে। আমেরিকান। ভার্জিনিয়ায় বাড়ি। কিন্তু এখন থাকে আম্মানে। আম্মানে ওর বর্তমান অবস্থান কিসের নিমিত্তে, সে নিয়ে খেতে খেতে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক এক কাহিনি শুনলাম। কলেজের পাট চুকিয়ে পিটারের শখ হয় আরবি শিখবে। ব্যস, কয়েক দিনের সিদ্ধান্তে ও চলে আসে জর্ডানে। সেখানে প্রায় দুই বছর আরবি শেখে। এখন ও আরবিতে বেশ পারদর্শী। তো আরবি শেখা শেষ হওয়ার পর আম্মানের এক ইংরেজি শেখানোর স্কুলে চাকরি পেয়ে যায়। সেখানেই কাজ করছে দুই বছর ধরে। সব মিলিয়ে প্রায় চার বছর জর্ডানে থাকায় আম্মানের স্থানীয় সুশীল ও বনেদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে ওর একটা সম্পর্ক-সেতু তৈরি হয়েছে। বলা চলে তাদের মধ্যেই মিশে গেছে পিটার। বেগুন দিয়ে ভেজে রাখা মুরগির বিশাল ঠ্যাং চিবুতে চিবুতে আমি পিটারকে বলি, ‘কিন্তু জর্ডানের মতো আরব রক্ষণশীল দেশে পড়ে থাকতে কোনো অসুবিধে হয় না তোমার? ইউ নো, হোয়াট আই মিন। ওখানে নিশ্চয়ই পান-টান করারও কোনো সুযোগ নেই?’ ফর্ক দিয়ে ভেড়ার মাংস ছাড়ানোর মুহূর্তে পিটার হাসে। তারপর বলে, ‘আরব দেশ সম্পর্কে তোমার ধারণা হয়তো বেশ কম।

ওখানে সবকিছুই চলে, তবে আড়ালে-আবডালে। কখনো আবার প্রকাশ্যে। এই যেমন ধরো, আমি আম্মানের বারে গিয়ে প্রতি শনিবার বিয়ার গিলি। আর আমাকে সঙ্গ দেয় জর্ডানের বান্ধবীরা।’ আমি বিস্ময়সূচক শব্দ প্রকাশ করার পর ও যোগ করে, ‘প্রতিটি সমাজের নানা স্তর থাকে। নানা বিন্যাস থাকে। 

তোমাকে আগে বুঝে নিতে হবে তাদের মধ্যে কোন স্তরের সঙ্গে তুমি ওঠবস করবে এবং তাদের নাগাল পাবে কীভাবে।’ পিটার আমাকে আম্মানে এসে স্বচক্ষে সবকিছু দেখে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। পিটারের সঙ্গে জর্ডানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু আলাপকালে ও দেশে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গও স্থান পায়। সে নিয়ে ওর অভিমত হলো, জর্ডানে ফিলিস্তিনিদের দেখা হয় দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে; যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই জর্ডানে আছে ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে। সাধারণ জর্ডানিরা মনে করে, ফিলিস্তিনিরাই তাদের দেশের অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা সমস্যার কারণ। 

জর্ডান নিয়ে নানা বিষয় আলাপকালে এমন কথাও আমার মধ্যে উঁকি দেয়, এই যে পিটার আরবি শেখার জন্য ও দেশে গিয়ে এতকাল আছে, এ কি শুধুই ওর খেয়ালি ভাবনার কারণে? নাকি ও আসলে কাজ করে বিদেশি কোনো গুপ্তচর সংস্থার হয়ে? সে নিয়ে প্রশ্ন করে ওকে বিব্রত করি না আর।

‘শোনো, একটা কথা বলতে ভুলে গেছি।’ খানাদানার একেবারে শেষ পর্যায়ে সামির হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলে। তারপর দূর থেকে একটি চেয়ার টেনে আমাদের টেবিলে জুতে দিয়ে যোগ করে, ‘এখানকার আইসক্রিম না খেয়ে কিন্তু যেয়ো না। এরা খুব ভালো আইসক্রিম বানায়।’ অবশেষে খাওয়া হলো কিছুটা যেন মিষ্টি দইয়ের স্বাদের আইসক্রিম। এবার কোথায়? সামির সে কথার সরাসরি জবাব না দিয়ে বলে, ‘জেমস বন্ডের সেই সিনেমাটি দেখেছিলে, “ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ”? ওটা যদি দেখে থাকো, তবে এখন যেখানে নিয়ে যাব, সেই স্থানটি আগেই সিনেমার পর্দায় দেখেছ।’

জায়গাটির নাম আতেসগাহ। আতেশ মানে অগ্নি, গাহ শব্দটির সঙ্গে তো আমরা বাঙালিরা আগেই পরিচিত। যার মানে হলো স্থান বা গ্রাম। কাজেই আতেসগাহের মানে খুব সম্ভবত দাঁড়ায় অগ্নিস্থান। দুর্গের মতো চৌহদ্দিঘেরা বিশাল এক মন্দির প্রাঙ্গণ। বাকুর দুর্গের মতোই এটিও বেলেপাথরে গড়া। ভেতরের উঠোনে ঢুকলে দেখা যায় মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে কার্বন পাথরের চাকলা। যেন মাটির তলে লুকিয়ে আছে আরও অজানা কিছু, শুধু তাদের খনন করে উন্মোচন করাটাই বাকি। সামির এই প্রাঙ্গণে ঢুকে মন্দিরটিকে পরিচয় করিয়ে দেয় জরথুস্তিয়ানদের অগ্নিমন্দির হিসেবে। জরথুস্তিয়ান কারা? সহজ করে বললে ভারতীয় উপমহাদেশে যাদের আমরা পারসি হিসেবে জানি, তারাই এই ধর্মের অনুসারী।

আজকের উজবেকিস্তান দেশটিতে অবস্থিত আরাল-সাগর নামক বিশাল সাগরসম হ্রদের ধারের এক গ্রামে বেশ কয়েক হাজার বছর আগে জন্মেছিলেন জরথুস্তিয়ায়। তিনিই এই ধর্মের প্রবর্তনকারী। সৎ কথা বলা, সৎ কর্ম করা আর সৎ চিন্তা করা—এই তিন হলো ধর্মটির মূল স্তম্ভ। ওরা ঈশ্বরকে বলে আহুরা মাজদা। আহুরা মানে ঈশ্বর, আর মাজদা মানে সর্বজ্ঞ। আর এই ঈশ্বরকে তারা খুঁজে পেতে চায় বিশুদ্ধতা আর পবিত্রতার মধ্যে। সে জন্যই তাঁরা অগ্নি-উপাসক। কারণ, অগ্নিকে বিশুদ্ধতার প্রতীকরূপে গণ্য করা হয়। অগ্নি ছাড়াও মাটি আর বায়ুও তাদের কাছে পবিত্রতম। এ কারণেই এই ধর্মে মৃত ব্যক্তির সৎকারে বিশেষ নিয়ম আছে। আত্মাহীন শরীরকে মাটির অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে মাটিকে অপবিত্র করার চেয়ে ওটিকে রেখে আসা হয় পাহাড়ের চুড়োয়। সেখানে শকুন এসে ভক্ষণ করে সেই নিষ্প্রাণ দেহ। তবে আধুনিক কালে তো আর সেই প্রথা মানা সম্ভব নয়। নগর সম্প্রসারণের স্রোতে পাহাড় আর শকুন—দুই-ই উধাও। আধুনিক কালে তাই পারসিরা কংক্রিটের কফিনে মৃত ব্যক্তিকে সমাহিত করে। তাতে করে মাটির সঙ্গে সেই মৃত শরীরের সংস্পর্শ ঘুচল।

এই অগ্নিমন্দিরের ঠিক কবে যে পত্তন হয়েছিল, তার কোনো সঠিক ইতিহাস নেই। খুব সম্ভবত সেটি সাতের দশকের আগে হবে। কারণ, সাতের দশকে এ অঞ্চলে ইসলামের আগমনের পর জরথুস্তিয়ানরা কোণঠাসা হয়ে ভারতে পাড়ি জমায়। তবে আজারবাইজান থেকে বিলুপ্ত হলেও ইরানে কিন্তু কিছুকাল আগ পর্যন্ত এ ধর্মের কিছু মানুষ টিকে ছিল। খোমেনির শাসনামলে সেখানেও এদের সংখ্যা কমেছে। সারা বিশ্বে এখন হয়তো এ ধর্মের সবচেয়ে বেশি অনুসারী আছে ভারতেই—মূলত গুজরাট আর বোম্বেতে যাদের নিবাস।

অগ্নিমন্দিরের চারধারে যে অন্ধকার খুপরিঘর, সেখানে ঢুকতে হয় মাথা নিচু করে। অনুমান করা যায়, এ অঞ্চলের মানুষ সেই হাজার বছর আগে হয়তো কিছুটা খর্বকায়া ছিল। ঘরগুলোর প্রতিটিতে নানা আবহ সৃষ্টি করে দেখানো হয়েছে জরথুস্তিয়ানদের জীবনাচরণ। যেমন একটি ঘরে ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একজন বণিক কর্তৃক পুরোহিতকে অর্থ প্রদানের দৃশ্য। এর মধ্যে বেশ কিছু তাৎপর্য আছে। প্রথমত এই ধর্মটি বলে, পরকালে ধনপ্রাপ্তি নয়, বরং ইহকালেই ধনপ্রাপ্তির চেষ্টায় নিয়োজিত থাকো। হয়তো সেই শিক্ষার কারণেই দেখা যায়, পারসি সম্প্রদায় বেশ ধনী। ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি টাটা, গোদরেজ—এরা ছিলেন পারসি। অন্যদিকে এ ধর্মে আবার দান-ধ্যানকেও সমভাবে উৎসাহিত করা হয়। তাহলে কি বণিক পুরোহিতকে স্বর্ণমুদ্রাসহ যে থলেটি দিচ্ছেন, সেটিও একপ্রকার দান? সামিরের ভাষ্যমতে, না, সেটি দান নয়; বরং সেটি একপ্রকার লেনদেন, যে লেনদেনে পাপ নেই। বণিক পুরোহিতকে অর্থ দিয়ে বলছে, বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ততার কারণে আমার সময়াভাব। তাই অনুগ্রহ করে আপনি আমার হয়ে প্রার্থনা করুণ। বিনিময়ে আমি আপনাকে ধন দিচ্ছি। বণিকের পাশে রাখা রেকাবে আপেল, আঙুর আর ডালিম। তিনটি ফলই পবিত্র। এখানে যে পুরোহিতকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তিনি শীর্ণকায়া হলেও এই খাদ্য গ্রহণ আর স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভে উপোস করা নিয়ে পারসি ধর্মে আছে ব্যতিক্রমী এক নিয়ম। ওরা বলে, খাবার গ্রহণ ছাড়া তো পুরো জীবনবৃত্তই থেমে যাবে। তাই উপাসনার সময় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই।

সবকিছু ছাপিয়ে একটি ব্যাপার আমাকে বেশ অবাক করল। চতুষ্কোণ এই প্রাঙ্গণের একদিকের দেয়ালে সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় লেখা দুটি ফলক। দুটি ফলকেই সপ্তদশ শতাব্দীর একটি তারিখ। দুটোতেই লেখা, ‘গণপতি দেবের প্রতি আমার প্রণতি নিবেদন করি।’ ফলকের নিচে অবস্থিত দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে শোনা যায় ‘ওম, গণপতেয়া নামাহা’ স্তোত্রপাঠ। অন্ধকার প্রকোষ্ঠে শয্যাশায়ী সাধক, এক ধারে টিমটিমে আগুন জ্বলছে, আর শিয়রের ধারে ভূমিতে উপবিষ্ট আরেক সাধু যেন পাঠ করছেন সেই স্তোত্র। বাস্তবে লুকানো কোনো স্পিকার থেকে বাজানো হচ্ছে নিশ্চয়ই। তবে প্রশ্ন হলো, সংস্কৃত ভাষায় লেখা ফলক কিংবা এই গণেশবন্দনার সঙ্গে পারসিদের যোগসূত্র কোথায়? এটি কি তবে আদৌ কোনো পারসি মন্দির? নাকি হিন্দু মন্দির বা শিখ গুরুদুয়ারা? 

বিস্তর গবেষণার পর দেখা যায়, ওই সপ্তদশ শতাব্দীতে মুলতানের কিছু হিন্দু আর শিখ ব্যবসায়ী এ অঞ্চলে আসতেন ব্যবসা করতে। এমন একটি পরিত্যক্ত মন্দিরে অনির্বাণ অগ্নিশিখা আবিষ্কার করে তাঁরা হয়তো ক্রমান্বয়ে একে পরিণত করেন নিজ ধর্মের ভজনালয়ে। কারণ, পারসিদের মতোই হিন্দু ও শিখ—দুই ধর্মেই অগ্নি উপাস্য বস্তু। তবে যেই অগ্নিশিখা এই মন্দির প্রাঙ্গণে যুগে যুগে টেনে এনেছিল নানা ধর্মের মানুষকে, সোভিয়েত সময়ে সেই শিখা কিন্তু ক্রমশ নিস্তেজ হতে থাকে। ভূগর্ভস্থ যে গ্যাস প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে মন্দিরের মূল বেদিতে জ্বলতে থাকা আগুনকে প্রজ্বলিত রেখেছিল, সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে কূপ খনন করে গ্যাস আহরণ করায় নিভে আসে সেই আগুন। এখন অবশ্য সেই বেদিতে আবারও আগুন জ্বলছে, তবে সেটি পাইপলাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের সাহায্যে।

সামিরকে কিছুটা ক্লান্ত দেখায়। বয়স তো আর কম হয়নি। এ বয়সে সারাটি দিন রোদে পুড়ে আমাদের নিয়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে, ক্লান্ত তো হবেই। রুমাল দিয়ে চাঁদিতে থাকা স্বেদবিন্দুগুলো মুছে আমাদের দিকে ফিরে বলে, ‘এখান থেকে শহরে যাওয়ার পথে আমি তোমাদের হায়দার আলিয়েভ সেন্টারে নামিয়ে দিতে পারি। অবশ্য সেটা একান্তই তোমাদের ইচ্ছা। নতুবা আমি তোমাদের পুরোনো শহরে ছেড়ে আসব।’ পিটার আর আমি—দুজনেরই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা। হোটেলে ফেরার তেমন কোনো তাড়া নেই। তাই সামির নিয়ে চলল সেই সেন্টারের পানে।

পৃথিবীর অনেক শহরেই এমন কিছু স্থাপত্য থাকে, যেগুলো একসময় হয়ে ওঠে সেই শহরের পরিচয়বাহী প্রতীক। এই যেমন নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি, সিডনির অপেরা হাউস কিংবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ার। তেমনিভাবে বাকু শহরের প্রতীক হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছে বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুবিশাল এই সেন্টার। সামনের মাঠে কার্পেটের মতো বিছানো সবুজ ঘাসের আবরণ। সেখান থেকে ভবনটিকে দেখায় সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের মতো। 

সামির বহু দূরে গাড়ি পার্ক করলে পিটার নেমে সেই ঢেউয়ের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সামিরের চলে যাওয়ার কথা থাকলেও কী মনে করে ও দাঁড়িয়ে যায়। 

হয়তো আরেকটা সিগারেট ধরানোর ফাঁক খুঁজছে। সেই সুযোগে আমি সামিরের কাছে এই ভবনের ইতিবৃত্ত সম্পর্কে কিছু জানার চেষ্টা করি। পিটার বেশ তফাতে চলে গেছে, সেটি বুঝে নিয়ে এবার সামির কিছুটা নিচু স্বরে বলে, ‘কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে বিশাল এই ভবন যে ঠিক কোন মহৎ উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে, আমরা কেউই তা সঠিক জানি না।’ তারপর কিঞ্চিৎ থেমে মাথা দুলিয়ে বিড়বিড় করে বলতে থাকে, ‘অর্থের অপচয়! চূড়ান্ত অর্থের অপচয়!’ 

ওইটুকু কথা যে সামির বলেছে, তাতেই আমি চমকে গেছি। কারণ, আজারবাইজানে কেউই সচরাচর সরকারের বিন্দুমাত্র সমালোচনাও করে না। ভয়ে। 

দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন হায়দার আলিয়েভ। তিনি সোভিয়েত সময়ে এই আজারবাইজান রিপাবলিকে পার্টির প্রধান ছিলেন। সেই থেকেই তাঁর উত্থান।

লৌহকঠিন হাতে সরকার সামলেছেন। সরকারের সমালোচক যারা ছিল, তাদের সব্বাইকে হয় খুন করেছেন, নয়তো জেলে পাঠিয়েছেন। ২০০৩ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নিলে ক্ষমতা নেন তাঁর পুত্র। আর সেভাবেই আজারবাইজানের সর্বময় ক্ষমতা এই আলিয়েভ পরিবারের হাতে কুক্ষিগত। লোকে তাঁদের নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ইতস্তত করে, অজানা আতঙ্কে চুপ মেরে যায়।

এই সেন্টারের ভেতর মাঝেসাজে সম্মেলন হয়, আর আছে একটি ছোট্ট জাদুঘর। তবে সেসব দেখার সৌভাগ্য হলো না। মিনিট দশেক আগেই সদর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভাগ্যহত হয়ে আমি অলিন্দ থেকে ফোকাস করে বাকু শহরের কিছু ছবি তোলার চেষ্টা করি। সে সময় দেখি, ঠিক উল্টো দিকে এসে থামে ঝকঝকে কালো কয়েকটি মার্সিডিজ গাড়ি। সেসবের একটি থেকে নামে স্যুট পরিহিত সুদর্শন এক যুবক, আর তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। মেয়েটির পরনে সাদা ঝালরের লম্বা গাউন, হাতে এক গোছা গ্লাডিওলাস ফুল। সঙ্গে আসা মেয়েদের পরনে সিল্কের স্লিভলেস লম্বা ঝুল গাউন। গাউনের নিম্নাংশ সামলে চলতে গিয়ে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। আজারবাইজান মুসলিমপ্রধান দেশ হলেও আরব দেশগুলোর রক্ষণশীলতা এখনো এ অঞ্চলকে সেভাবে গ্রাস করেনি। 

সকালে এ নিয়ে সামিরের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ওর সোজাসাপটা বক্তব্য হলো, ‘আমাদের দেশে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ শিয়া, পঁচিশ শতাংশ সুন্নি। এখানে প্রকাশ্যে কোনো ধর্মীয় সভা-সমাবেশ কিংবা প্রচারণা নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রের কথা হলো, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ধর্ম পালন করো, কিন্তু রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে এনো না। এর কারণও আছে। ম্যাপের দিকে যদি তাকাও, দেখতে পাবে, আমরা চেচনিয়া, ইরাক, ইরান, সিরিয়ার খুব কাছে। ওসব দেশে শিয়া-সুন্নি বিভেদে কী পরিমাণ রক্ত ঝরছে, সে তো জানোই বোধ হয়। আমরাও তেমন ধরনের বিভেদে জড়িয়ে নতুন কোনো অশান্তি ডেকে আনতে চাই না। যেভাবে আছি, সেভাবেই ভালো আছি।’

সেই বর-কনে দলের মধ্যে আমিও একসময় মিশে যাই। তাদের কিছু ছবি তুলতে চাইলে সানন্দে রাজি হয়ে বর আমাকে বলে, ‘তুমিও আমাদের সঙ্গে এসো না। এক ফ্রেমে জুড়ে যাই আমরা সবাই।’ অবশেষে বাকুর শহরতলিকে সাক্ষী রেখে নববিবাহিত দম্পতিকে সঙ্গে নিয়ে একটি মুহূর্তকে বন্দী করতেই হলো, ক্যামেরার স্মৃতিকোষে।

এমএ/ ০৩:২২/ ২২ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে