Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (54 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৮-১৬-২০১৩

ভোট না দেওয়া হতচ্ছাড়ারা!


	ভোট না দেওয়া হতচ্ছাড়ারা!

লক্ষ্মীপুর, ১৫ আগষ্ট- পুরো দেশে নৌকার জোয়ার। মানুষ দলে দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এসেছেন। লক্ষ্মীপুরের হতচ্ছাড়া ভোটাররা জোয়ারেও ওঠেননি নৌকার পাটাতনে! ধানের শীষে ব্যালট! এবার বোঝো ভোট না দেওয়ার মজা।
 
২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার মজাটা বেশ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরবাসী। উপকূলীয় এ জেলার ৪টি আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন চার দলীয় জোটের প্রার্থীরা। আর এ কারণে গত ৪ বছর ৮ মাসে এ জেলার উন্নয়নে কোথাও পড়েনি একটি ইট-সুঁড়কিও।
 
লক্ষ্মীপুরের ১৪ লাখ ৯ হাজার ৩৭১ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য ফেরানোর প্রয়োজন ছিল না, ভাগ্য ছিল। নব্বইয়ের পর থেকে দু’দফায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বেশ উন্নয়নের ছোয়া লেগেছিল এ অঞ্চলে। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের এ জেলার ভোটারদের বড় অংশের দূর্বলতা রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পত্নী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি। সেই দৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরের অনেক ভোটার খালেদা জিয়াকে সম্বোধন করেন, ‘আনঁগো মাইয়া’ (আমাদের মেয়ে)।
 
রায়পুর ও সদরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনে দু’বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে খালেদা জিয়া এ অঞ্চলের মানুষের আরো কাছে পৌঁছে গিয়েছেন।
 
তবে বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বেশ এগিয়ে রয়েছে লক্ষ্মীপুর। সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক জিয়া গত বিএনপি জোট সরকারের সময় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এ সময় পুরো জেলাতেই সড়ক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়। লক্ষ্মীপুরে এখন কাঁচা রাস্তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
 
জেলার প্রত্যন্ত প্রান্তে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। খুব কম বাড়িই পাওয়া যাবে, যেখানে বিদ্যুতের সংযোগ নেই।
 
নব্বইয়ের পর থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সরকার, এ ধরনের পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুরবাসীকে পড়তে হয়েছে মোট দু’বার।
 
দু’বারের অভিজ্ঞতাই আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। দল ক্ষমতায় নেই, তাই এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলে দায় সেরে নিজেদের নিরাপদে রাখছেন এ জেলার নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। কিন্তু আওয়ামী লীগের যারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন, তারাও জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন না এ ভোটারদের কাছে।
 
সরকার দলীয় এমপি নির্বাচন না করতে পারায় আওয়ামী লীগ আমলে বেশ এতিমের মতো অবস্থা হয়ে যায় লক্ষ্মীপুরবাসীর।
 
রামগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি দূর্গ ভাঙতে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহানকে। বিএনপির ১৮ বছরের পুরোনো প্রার্থী জিয়াউল হক ওয়ান ইলেভেনে পালিয়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো প্রার্থী হন নাজিম উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেননি শাহজাহান। বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন নৌকা মার্কা নিয়ে।
 
আগামী জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনায় এগিয়ে আছেন শাহজাহান। কিন্তু আগামী নির্বাচনে ভোট চাইতে গেলে জনগণতো তার কাছে জানতে চাইবে, ‘আনঁদা নাইলে বিম্পিরে ভোট দি ভুল কইরছি, আমোলীগ আনঁগরে কি দিছে?’ (আমরা না হয় বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছি, কিন্তু আওয়ামী লীগ আমাদের কি দিল?)। এ প্রশ্নের জবাব কি দেবেন ঠিকাদার শাহজাহান!
 
গত সাড়ে ৪ বছরে এলাকায় সরকারি কাজগুলোতে ঠিকাদারি পেয়েছেন তিনি এবং তার দলের কর্মীরা। কিন্তু ৭ বছরে পরিচর্যার অবহেলায় এলাকার রাস্তাগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে ভরে যায় রাস্তায় গর্ত।
 
সারা দেশে ধানের শীষের ভরাডুবি হলেও লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়ার কাছে বিপুল ব্যবধানে নৌকা নিয়ে ডুবেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুনুর রশীদ। আগামী নির্বাচনে যে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো আশা নেই এই প্রার্থীর, তা রায়পুর থেকে পানপাড়ার ৬ কিলোমিটার রাস্তা দেখলেই বোঝা যায়। এ সড়কে যানবাহনের চেয়ে পায়ে হেঁটে চলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন এলাকাবাসী।
 
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পাশে দাঁড়াতেই পারেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ হাশেম। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের চেয়ে নিজের ব্যবসার উন্নতির দিকেই বেশি খেয়াল হাসেমের। নদী ভাঙনের হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে এ সরকারের কোনো পদক্ষেপের কথাও বলতে পারবেন না তিনি।
 
রামগতি আর কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের আব্দুর রব চৌধুরীর বিপক্ষে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন বিএনপির এবিএম আশরাফউদ্দিন নিজান। রব চৌধুরী এলাকার উন্নয়নে কিছু করতে না পারলেও দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজি চলেছে ঠিকই। যা কিনা আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ডোবাতে যথেষ্ট।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপি আমলে এ জেলায় সড়ক যোগাযোগে বেশ উন্নয়ন হলেও আওয়ামী লীগ আমলে সব থমকে আছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, বিএনপিতে ভোট দিয়েছো, আওয়ামী লীগ দেবে কেন? তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজিতে ঠিকই এগিয়ে আছেন।
 
জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডও এমন কিছু নির্দেশ করে না, যে আগামীতে তারা এ আসনগুলোতে জয় চান।
 
বিএনপির চেয়ে বেশি কিছু দিয়ে আগামীতে লক্ষ্মীপুরবাসীর ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছে না আওয়ামী লীগ। বরং তার চেয়ে গত নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
 
এক বৃদ্ধ ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এইন্না কইরলে কি আমোলীগরে মাইনষে ভোট দিবনি? (এরকম করলে কি মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে!)’

লক্ষীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে