Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ , ৪ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২০-২০১৯

বেঁচে ফেরা শিক্ষকের মুখে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা

বেঁচে ফেরা শিক্ষকের মুখে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা

রাঙামাটি, ২০ মার্চ- দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির দশটি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয় গত সোমবার। সারাদিন শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ হয়। গণনা শেষে ফেরার পথে বাঘাইছড়ির নয়কিলো এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারান নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত সাতজন। সেখান থেকে বেঁচে ফেরা অনেকেই এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি।

দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে বিবাদমান পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে হানাহানি আর হত্যা নতুন কোনও ঘটনা নয়। কিন্তু রাস্তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের এভাবে হত্যার ঘটনা নজিরবিহীন।

সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল- তার একটি বর্ণনা পাওয়া যায় বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের কথায়। নিজে প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলেও চোখের সামনে সহকর্মীদের খুন হতে দেখার পর স্বাভাবিক হতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়েই ভোট শুরু হয়। পুরোটা সময় বেশ ভালোভাবেই সব হচ্ছিল। ভোটাররা এসে ভোট দেন, শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল ভোটগ্রহণ। কোনও ঝামেলা ছাড়াই বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর আমরা গণনাও শেষ করলাম।

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা এ শিক্ষক বলেন, আমি বাঘাইহাট সেন্টারে ছিলাম আর যারা নিহত বা যাদের ওপর হামলা হয়েছে তারা সকলে কংলাক ও মাচালং কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন। তাদের জন্য আমরা অপেক্ষা করি এবং এক সঙ্গে রওনা দেই। আমাদের গাড়ি বিজিবির গাড়ির পেছনে ছিল। গুলিগুলো আমাদের পরের গাড়িতেই হচ্ছিল। গুলির আওয়াজ শুনে আমাদের গাড়ি আরও জোরে চালানো শুরু করলো ড্রাইভার।

নুরুল ইসলাম বলেন, ফল ঘোষণার পর ওই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা প্রায় ২৫ জন গাদাগাদি করে একটি চাঁদের গাড়িতে উঠে রওনা হন বাঘাইছড়ির উদ্দেশে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ছাড়াও পুলিশ এবং ভিডিপি সদস্যরা ছিলেন ওই গাড়িতে। তাদের গাড়ি যখন বাঘাইহাট পৌঁছায়, তখন সেখানে অপেক্ষা করছিল আরও দুটো চাঁদের গাড়ি। সাজেক ইউনিয়নের কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শেষে ভোট গ্রহণকর্মীরা ওই দুটি গাড়িতে করে তাদের সরঞ্জাম নিয়ে ফিরছিলেন। আমাদের তিনটি গাড়ি তখন একসঙ্গে বাঘাইছড়ির দিকে রওনা করে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে ছিল বিজিবির একটা টহল গাড়ি। চারটি গাড়ির বহর, সবার সামনে বিজিবির গাড়ি। তার পেছনেই ছিল আমাদের গাড়িটা।

তিনি বলেন, গাড়িগুলো নয়মাইল এলাকায় পৌঁছামাত্র পাশের উঁচু পাহাড় থেকে পেছনের তিনটি গাড়ি লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি শুরু হয়। কিন্তু আমাদের গাড়িগুলো থামেনি। গুলি উপেক্ষা করে চালকরা গাড়ি চালিয়ে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। এ এক বীভৎস অভিজ্ঞতা। কান্না, চিৎকার, রক্ত...। রক্তাক্ত চাঁদের গাড়ি থেকে নামানোর পর একে একে ছয়জনের মৃত্যু হয়। রাতে চট্টগ্রামের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরো একজন। আমরা সামনে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরলাম।

একটু সামলে নিয়ে কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বলতে শুরু করেন, এটা একটা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা। আমার সহকর্মী আমির হোসেন, তৈয়ব আলী মারা গেছে। আমার বান্ধবী কাঞ্চি, বড় ভাই বদিউজ্জামান, ওরা গুরুতর আহত। হতাহত সবাই তো আমার কমবেশি চেনা। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেন তাদের মরতে হলো?

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাঙামাটির সীমান্তবর্তী এলাকা কংলাক, মাচালং ও বাঘাইছড়ি কেন্দ্র থেকে ভোট গ্রহণ শেষে ফিরছিলেন নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পথে নয়কিলো এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাতজন নিহত হন। এই ঘটনায় পাহাড়ে চার আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে তিন সংগঠন একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। কেউ এর দায় স্বীকার করছে না। এই ঘটনায় সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এমএ/ ০৯:৩৩/ ২০ মার্চ

রাঙ্গামাটি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে