Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৯-২০১৯

প্রাচীন গ্রিক কবি স্যাফোর দুটি প্রেমের কবিতা

আফসার আহমদ


প্রাচীন গ্রিক কবি স্যাফোর দুটি প্রেমের কবিতা

স্যাফো প্রাচীন গ্রিক অ্যাওলিয়ান কাব্যধারার দুই শ্রেষ্ঠ কবির মধ্যে একজন। আরেকজন কবি হলেন আলকেওস। খ্রিষ্টপূর্ব সাত শতকের শেষপাদে [৬৩০ থেকে ৬১২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী কোনো সময়ে] গ্রিসের মাইটেলেনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন স্যাফো। আবার অনেকেই মতপ্রকাশ করেছেন যে তার জন্মস্থান গ্রিসের লেসবস দ্বীপের এরেসস নামক স্থানে। তার পিতার নাম স্কামানদ্রোনিমাস। পিতার খুব আদরের কন্যা ছিলেন স্যাফো। তার বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন পিতা মারা যান। তার তিন ভাই ছিল। স্যাফো একটি কবিতায় বড় ভাই ক্যারাঙ্কাসকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন।

কারণ, সে মিসরীয় এক বারাঙ্গনার প্রতি এমন অনুরক্ত ছিল যে যেন সেই বারাঙ্গনা তাকে প্রচুর মুক্তিপণ দিয়ে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিল। কেউ কেউ অনুমান করেন যে স্যাফো কেইস নামের এক সুন্দরী মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। এই ধারণাটি এসেছে তার কবিতা থেকে। কিন্তু স্যাফো বিয়ে করেছিলেন এবং তার একটি সন্তান ছিল। তিনি একজন কবি হিসেবে কবিতায় নানা চরিত্রের, বিষয়ের বর্ণনা করেছেন। নিজের বাস্তব জীবনের তথ্য তুলে ধরেননি। স্যাফো সেই সময়ের বিখ্যাত গ্রিক কবি আলকেওস, স্টেসিকোরাস এবং পিথাকাসের সমসাময়িক ছিলেন। শুধু সমসাময়িক ছিলেন না, আলকেওসের সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্বের কথা উভয়ের কবিতার মধ্যে পাওয়া যায়। তার জীবন সম্পর্কে খুব সামান্য তথ্য লভ্য। পারিয়ান মার্বেল থেকে জানা যায় যে সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিনি লেসবস থেকে সিসিলি গমন করেন। প্রচলিত গল্পে আছে যে তিনি ফাওনের প্রেমে পড়েন। প্রচলিত কিংবদন্তি অনুযায়ী ধারণা করা হয় যে ফাওন আফ্রোদিতির প্রেমে পড়েছিল। সেই প্রসঙ্গ নিয়ে লেখা তার কিছু কবিতা ফাওনের সঙ্গে তার প্রেমের বিভ্রান্তিকর তথ্যের উৎস। মাইটেলিনে স্যাফো একটি মহিলা সাহিত্য সংঘ গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে অধিকাংশই ছিল তার অনুরক্ত কাব্যভক্ত। সেই সময়ের আথেনীয় সমাজ নারীদের এই স্বাধীনতাকে অনুমোদন দেয়নি। নারীদের নিয়ে স্যাফোর এই উৎসাহকে সমাজের নিয়ন্ত্রকরা বাড়াবাড়ি মনে করেছে। তার কবিতায় এই সকল অনুরাগিণী নারীর উল্লেখ থেকে পরবর্তীকালে তার চরিত্র নিয়ে এই ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয় যে তিনি নারীর প্রতি আসক্ত ছিলেন। নারীদের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে এই রটনা পল্লবিত হতে হতে তাকে নারী সমকামী কবি হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। এমনকি লেসবিয়ান শব্দটির উৎস ধরা হয় স্যাফোর বাসস্থান লেসবস দ্বীপের নামানুসারে। 

এগুলোর সূচনা হয়েছিল কমেডি নাট্যকারদের হাতে। স্যাফোর সমসাময়িক কবিরা তার কাব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কবিতার আঙ্গিক ও বিষয়ের বিচারে তিনি নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তার সমকালের বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক সোলন তার একটি কবিতা আবৃতি শুনে মন্তব্য করেছিলেন যে এই কবিতাটি যেন মৃত্যুর পূর্বে তিনি পাঠ করে যেতে পারেন। স্যাফোর নয়টি কাব্যগ্রন্থের কথা জানা যায়। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র কয়েকটি খণ্ডাংশ কালের সীমা পেরিয়ে একালে এসে পৌঁছেছে। তার সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সুন্দর কবিতাটি দেবী আফ্রোদিতির প্রশস্তিমূলক। অনেকেই মনে করে থাকেন যে স্যাফো খাড়া উঁচু ল্যাকাডিয়ান পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।


১.

হে প্রিয়তম, তোমার ত্বক কী শুভ্র সমুজ্জ্বল
ঠিক যেন খাঁটি শ্বেতস্বচ্ছ স্ম্ফটিকের মতো
যেন এক সাদা লিলি তনু সুকোমল
কেবলি খুলে দেয় রাতে পাপড়ি তার যত।

২.
কাছে আসো, প্রিয় হে আমার
এই রাতে পার হও লিলি ফুলে ভরা প্রান্তর
কত না নক্ষত্র জ্বলে মাথার ওপর
দু'চোখ ভ'রে দেখে আমাদের প্রেম
আকাশটা উজ্জ্বল নিকষিত হেম।

৩.
হায়, হৃদয় চেয়েছে তা-ই যা ছিল বাসনা,
কল্পনায় দুটি মন মানিকজোড়া।
অথচ, তা অসম্ভব, না হলো মিলন
গতকাল হারিয়েছে হৃদয়ের ধন।
অতএব, কল্পনায় খোঁজো নব মনের মানুষ
যদিও জাগিছে বুকে অজানা তরাস।
যা নেই তার জন্য আর কেন ব্যথিত হুতাশ,
নেইটাকে বদলে দিয়ে আছিটাতে করো বসবাস।
নিঃসঙ্গ ক্রন্দন
শোকাতুর পায়রার শুনিবে না আর কোনোদিন শোকের স্বনন!

৪.
কিন্তু জেনো যে হৃদয় চায় ভালোবাসিবারে
একটি নতুন প্রেম পুষ্পিত সম্ভারে
ভরিবে শূন্যেরে তার মধুরিম আনন্দ সঞ্চারে।

৫.
লিলিফুল ভরা মাঠ-প্রান্তর পেরিয়ে
নিঃশ্বাসের কাছে আসো, আরও কাছে, হে আমার প্রেম 
আবার হবে সবকিছু নব আভাময়, নিকষিত হেম।


যখন মনে হয় ভালোবাসা শূন্যে হারিয়েছে 

ভালোবাসা পারে কি ছাড়িয়ে যেতে অদৃশ্য বাঁধন
ভালোবেসেছিল যে সে মরেছে যখন?
চলে গেছে বৈকি, একেবারে গেছে।
অবশ্যই! এত সেই আত্মা যা ভালোবাসার ভার বহিয়াছে
শরীর নয়
ভালোবাসা করি অনুভব অন্য এক অবিনশ্বরতায়।
যখন আমি ছিলাম এই দুনিয়ায়,
হারিয়েছিলাম আমার ভালোবাসা নিরীশ্বরতায়,
অবাক এই আমি যখন তাহারে আবার ফিরে পেতে চাই
বারবার পুনর্বার তার কাছেই ভালোবাসা যাচি।
চলে যাওয়ার পর
আমি শিখেছিলাম তা শুদ্ধ হওয়ার জন্য যা করেছি আশা।
তোমার সাথে শূন্যে গেছে উড়ে সেই গাঢ় ভালোবাসা,
যেমন গিয়েছে ছেড়ে তোমার আত্মা নশ্বর শরীরের বাসা
পাখা মেলে স্বর্গ পানে
সেখানে প্রতীক্ষারত তোমার ভালোবাসা তোমাকেই টানে।

এমএ/ ০৩:২২/ ১৯ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে