Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৬-২০১৯

কোনও বিজ্ঞাপনই দেখাতে পারবে না বিদেশি চ্যানেল- এটাই সরকারি নীতিমালা

কোনও বিজ্ঞাপনই দেখাতে পারবে না বিদেশি চ্যানেল- এটাই সরকারি নীতিমালা

ঢাকা, ১৬ মার্চ- ডাউনলিংক করে বাংলাদেশে প্রচারিত বিদেশি চ্যানেলে শুধু দেশি বিজ্ঞাপন নয়, বিদেশি বিজ্ঞাপনও দেখানো যাবে না। এই নির্দেশনা না মানলে ডিস্ট্রিবিউশন লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। এমনকি দায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির জেল-জরিমানাও হতে পারে।

ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনে এমনটিই বলা হয়েছে। আইনের ২০০৬ এর ধারা ৯ -এর ১৩ নং উপধারায় বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 
সরকারের পরিষ্কার উল্লেখ করা এই নীতি ২০০৬ ও পরে ২০১০ সালে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
যেখানে স্পষ্ট বলা হয়, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
দাবির মুখে বেশকিছু বার সরকারের তরফ থেকে এই নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরও একটি স্বার্থন্বেষী মহল এ আইন বাস্তবায়নের মুখে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সরকারের নির্দেশনাকে কর্ণপাত করছে না।

আবার অনেক ক্ষেত্রে আইনটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যাও দেয়া হচ্ছে। শুধু এক তরফাভাবে দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধের কথা বলা হচ্ছে। যা এই আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আবার এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। অ্যাটকোর সঙ্গে এক বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ স্পষ্ট বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আগামী ১ এপ্রিলের পর থেকে কেউ যদি এই আইন ভঙ্গ করে, তবে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

আইন অনুযায়ী,যদি কোনও ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনও অপরাধ করেন, তবে তিনি অনধিক ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা কিন্তু অন্যূন ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
পুনরায় একই অপরাধ করলে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা কিন্তু অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।  
অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় পাঁচ কোটি টিভি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারের আদায় হয়; যার একটি বড় অংশ বিদেশি চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে আসার কথা। কিন্তু সরকার তা পায় না।
অভিযোগ আছে, বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে দেশের টাকা ‘অবৈধভাবে’ বিদেশে ‘পাচার’ হয়।

এ অবস্থায় সরকার বাংলাদেশে ডাউনলিংকপূর্বক সম্প্রচারিত সব বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না- এটা দুই বছর আগের পরিপত্র। এই নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য সম্প্রতি আবারও বলা হয়েছে। মূলত এখানে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। আইনে ডাউনলিংকপূর্বক বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের বিষয় উল্লেখ থাকলেও শুধু দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধের কথা প্রচার করা হচ্ছে। আর এটা যদি হয়, তবে বাংলাদেশের সম্প্রচার খাত খুব বেশি লাভবান হবে না।

‘বাংলাদেশে ডাউনলিংক ওয়েতে যেসব বিদেশি চ্যানেল দেখানো হচ্ছে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। কিছু বহুজাতিক কোম্পানি যদি এখন বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় বা অন্য দেশের বিজ্ঞাপন চালু করে দেয়, তবে বাংলাদেশের মিডিয়াতে তারা যে বিজ্ঞাপন দিতো সেটা আর দিবে না। কারণ, বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে তো তারা ভোক্তা পেয়েই যাচ্ছে। ফলে সরকারের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে এ খাত তেমন লাভবান হতে পারছে না বা পারবে না। বরং বলা যায়, যে লাউ সেই কদু অবস্থা।’

তারা আরও বলছেন, বাংলাদেশের দর্শকরা ফি দিয়ে বিদেশি চ্যানেল দেখুক, সেখানে কোনও বাধা নেই। কিন্তু তারা বিজ্ঞাপনহীন (ক্লিনফিড) দেখুক। এটাই আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে।
কিন্তু কয়েক বছর আগে জারি করা পরিপত্র কেন এখনও বাস্তবায়ন হচ্ছে না? বা কার স্বার্থে; কিভাবে এতদিন ধরে চলে আসছে?

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েশন-ইমা’র নেতারা বলছেন, টেলিভিশন মিডিয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান বিজ্ঞাপনের বাজার এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার। সরকার যদি এখন ক্লিনফিড চ্যানেল দেখার বন্দোবস্ত করে দেয় অর্থাৎ বিজ্ঞাপন ছাড়াই বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য বিদেশি চ্যানেল দেখার সুযোগ করে দেয়, তবে এই বাজারে আরও ৫০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাড়বে। যা সরকারের রাজস্ব বাড়াতেও সাহায্য করবে।
‘কিন্তু আইনের প্রয়োগের অভাবেই সেটা হচ্ছে না। সরকার তথা বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের যা যা দেখভাল করার কথা, সেটাও হচ্ছে না। সরকারের সংশ্লিষ্টরা এক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এতে আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়ছে, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।’

তথ্যসূত্র: আরটিভি 
আরএস/ ১৬ মার্চ

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে