Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.9/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২৬-২০১১

যে কারণে টিকে গেলেন মরক্কোর বাদশা

যে কারণে টিকে গেলেন মরক্কোর বাদশা
সংস্কারের দাবিতে চলতি বছরের গোড়ার দিকে আরব বিশ্বে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ এখনো চলছে। ?আরব বসন্ত? হিসেবে পরিচিত ওই বিক্ষোভের ঢেউ মরক্কোতেও আছড়ে পড়ে। কিন্তু দেশটির বাদশা ষষ্ঠ মোহাম্মদ আপাতত টিকে গেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের আওতায় প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের দাবিতে মরক্কোতে গত ফেব্রুয়ারিতে বিক্ষোভ হয়। এ সময় বাদশা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। বিক্ষোভকারীরা তাতে তখনকার মতো শান্ত হয়।
গত জুলাইয়ে গণভোটে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়নে পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা আরও বাড়ে। এখন থেকে পার্লামেন্টের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন বিজয়ী দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন বাদশাহ। কিন্তু এর আগে তিনি নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করতেন।
তবে শুধু সংস্কারের জন্যই যে বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ খারাপ পরিণতি এড়াতে পারছেন, তা নয়। দেশে তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। তাঁর সরকার এখন পর্যন্ত প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে তুলনামূলক নমনীয়তা দেখিয়ে আসছে।
আলাওয়ি বংশ ১৬৬৪ সাল থেকে মরক্কো শাসন করে আসছে। এই শাসকেরা নিজেদের ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) -এর উত্তরপুরুষ বলে দাবি করেন। এ কারণেও ষষ্ঠ মোহাম্মদকে বিশেষ সমীহ করা হয়।
মোহাম্মদ দাদাওয়ি নামের এক লেখক মরক্কোর রাজতন্ত্র ও ক্ষমতাসীন এলিটদের ওপর সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন। দাদাওয়ি বলেন, বাদশার রয়েছে ব্যাপক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতা।
সারা মরক্কোর রাস্তায় ও দোকানে দোকানে বাদশার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালানো হয়। ঘটা করে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করায়ও তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
দাদাওয়ি বিবিসিকে বলেন, মরক্কোর নাগরিকদের অনেকেই গরিব ও অশিক্ষিত। তারা প্রত্যন্ত এলাকায় বাস করে। সাধারণ নাগরিকেরা বিশ্বাস করে, বাদশাহর সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। বাদশাহ তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এর বাইরে বর্তমান বাদশাহ দেশের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন।
বাদশা ষষ্ঠ মোহাম্মদের বাবা দ্বিতীয় হাসান ১৯৬১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কঠোর হাতে দেশ শাসন করেন। এ সময়ে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল মোহাম্মদ ওউফকির ক্যাসাব্লাঙ্কা শহরে এক বিক্ষোভ চলাকালে হেলিকপ্টার থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর মন্ত্রী নিজে মেশিনগান থেকে গুলি ছুড়েছিলেন।
তবে বাদশাহ হাসানের শাসনামলের শেষ দিক থেকে সংস্কারকাজ শুরু হয়। এরপর তাঁর ছেলে ষষ্ঠ মোহাম্মদ এ কাজ আরও এগিয়ে নেন। তিনি পারিবারিক আইন পাস করেন। এতে নারী অধিকারের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাদশা দ্বিতীয় হাসানের শাসনামলের নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে একটি ট্রুথ কমিশন গঠন করা হয়।
রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মাতি মোনজিব বলেছেন, মরক্কোতে এই প্রথম প্রকাশ্যে বাদশাহর সমালোচনা করা যাচ্ছে, অথচ সমালোচনাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হচ্ছে না।
হয়তো এসব কারণেই গণবিক্ষোভের মাধ্যমে তিউনিসিয়া ও মিসরের শাসকেরা উৎখাত হলেও ষষ্ঠ মোহাম্মদ আপাতত টিকে যাচ্ছেন। বিবিসি।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে