Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯ , ১১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১১-২০১৯

একজন আম্বিয়া বেগম অন্তরার গল্প

কাজী সোহাগ


একজন আম্বিয়া বেগম অন্তরার গল্প

নিউইয়র্ক, ১১ মার্চ- সংগ্রামী জীবনে তৃপ্তির স্বাদ আছে বলেই সংগ্রাম করি-এই মূলমন্ত্রে উদ্দীপ্ত আম্বিয়া অন্তরা। নিজের ফেসবুক ওয়ালে এই বাক্যটি তুলে ধরেছেন সবার উপরে। কারণ তার জীবনের বড় একটি অংশই সংগ্রামে মোড়ানো। ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক নানা বাধা ডিঙ্গিয়ে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এখন লড়াই করছেন অন্যদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম করতে। তাইতো সূদুর আমেরিকায় গড়ে তুলেছেন অভিবাসীবান্ধব নন প্রফিট অর্গানাইজেশন এম্পাওয়ারিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ইডিপি)।

আম্বিয়া বেগম অন্তরা যখন প্রথম আমেরিকায় যান তখন মুখোমুখি হন নানারকম প্রতিকূলতার। তার সেই বৈরী অভিজ্ঞতার আলোকে, সমাজসেবার মনোবৃত্তি নিয়ে অন্যদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অভিপ্রায়েই নিউ ইয়র্ক স্টেটের আইন মেনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিষ্ঠানটি।

এর পেছনেও রয়েছে প্রতিকূলতা আর সংগ্রামের হাজারো চিহ্ন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মানুষের সেবা করবো এই মনোভাব নিয়ে কাজ শুরু করি ৪ বছর আগে। কারো কাছ থেকে কোন আর্থিক সহযোগিতা না নিয়ে, সম্পূর্ণ নিজের চাকরির পয়সায় এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলি। মানব সেবামূলক এই কাজে আমাকে যারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সমাজের বঞ্চিত নারী পুরুষদের জন্য আমরা কাজ করছি।

ইমিগ্রান্টদের জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের উদ্দেশ্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে দক্ষ ও সচেতন জনবল গড়ে তোলা। যা চলমান থাকবে। মেহেরপুরের মেয়ে আম্বিয়া বেগম অন্তরা বলেন, ইডিপি একটি অভিবাসীবান্ধব প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ই.এস.এল ট্রেনিং প্রদান, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত পরামর্শ, নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষগন কার্যক্রম, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ এবং বাংলা সংস্কৃতিকে প্রবাসের মাটিতে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরো সুদৃঢ়ভাবে সম্প্রসারণের লক্ষ্য বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল/ মেলা আয়োজনের উদ্যোগ।

তিনি আরো বলেন যে ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য জব প্লেসমেন্ট বিষয়ক পরামর্শ সেবা দেয়া হবে। সম্প্রতি আমেরিকার জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ বর্ষ পূর্তি। আমেরিকান সরকার, সিটি ও চীফ এ্যাটর্নী জেনারেল থেকে বৈধ অনুমোদন ও স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের বর্ষপূর্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন- জাতিসংঘ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি, নিউইয়র্কের সিটি মেয়র, আমেরিকাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুল জেনারেল, বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল সহ আমেরিকার গুনী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর আশিকুর রহমান আশিক বলেন, ৪ বছর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সদয় আগত এবং বসবাসরত অভিবাসীদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করেন তার মাতা মিসেস আম্বিয়া বেগম।

ইডিপি'র প্রতিষ্ঠাতা এবং সেক্রেটারি মিসেস আম্বিয়া বেগম একজন এন.জি.ও. ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  এন.জি.ও. সেক্টরে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। প্রতিষ্ঠানটি প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, একজন বাংলাদেশী মেয়ের এমন সাফল্য আজ অনেকের কাছে ঈর্ষার, অনেকের কাছে আবার অনুপ্রেরণার।ইডিপিকে তার গন্তব্যে যেতে হলে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় বারবার দিতে হবে। আমি আশা করি ইডিপি সেই গন্তব্যে পৌছুতে বদ্ধপরিকর।

ডেমোক্রেট  রাজনৈতিক দলের নেতা মোর্শেদ আলম ইডিপি’র কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, আমেরিকাতে একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ স্বীকৃতি পাওয়া অনেক কঠিন ও অসম্ভব কাজ। আম্বিয়া বেগম সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। একজন মানুষের এমন সাফল্য সত্যিই অবাক করার মত। সমাজসেবা একটি ভাল উদ্যোগ তবে কঠিন কাজ যা শুরু করেছেন এর প্রতিষ্ঠাতা।

বিশিষ্ট আইনজীবি এম এন মজুমদার আম্বিয়া বেগমকে এদেশের মাদার তেরেসা উল্লেখ করে বলেন, ইডিপি শুরু হয়েছে কঠিন ত্যাগের বিনিময়ে। আমি তা খুর কাছ থেকে দেখিছি। অত্যন্ত পরিশ্রম করার ফসল ইডিপি। ইডিপি সত্যি সত্যি একদিন তার গন্তব্যে পৌঁছাবে তা এখন স্পষ্ট। সমাজ বদলে দেয়ার জন্য একজন মানুষের অদম্য ইচ্ছাই যথেষ্ট সেটা আম্বিয়া বেগম আজ প্রমান করে দেখালেন। নেন্সি পার্নাল বলেন, আমি ইডিপির প্রতিটি কাজকে অনুসরণ করি। অনেক নারী এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আজ আত্বনির্ভশীলতার পথ খুঁজে পেয়েছে।

অনেক পরিশ্রমের পর প্রতিষ্ঠানটির এই সাফল্য দেখে আমি আবেগআপ্লুত। আমি আরো সাফল্য কামনা করছি। আমেরিকায় চিকিৎসা বিজ্ঞানে আলোচিত ব্যাক্তিত্ব নীলা জেরিন বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে এখান থেকে। ইডিপি যে ইতিবাচক কাজ হাতে নিয়েছে তাতে আমি সত্যিই সত্যিই মুগ্ধ।

ইডিপি মানুষকে বৈধভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। একটা সুন্দর সমাজ গঠনে এটাই সবচেয়ে বড় কাজ। ইডিপির সভাপতি এমএস আলম বলেন, আম্বিয়া বেগমের হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে আজ নিজেকে খুব সার্থক মনে করছি। আমরা দেশে সফল নই, সার্থক মানুষ চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ইডিপি। অনেক কষ্টের পর সাফল্য, তারপর সার্থকতা আসে। ইডিপি তারই প্রমাণ। আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবে ও সততার সঙ্গে কাজ করে প্রতিষ্টানটিকে এগিয়ে নিতে চাই। কারণ আমাদের বহুদূর যেতে হবে।

আর/০৮:১৪/১১ মার্চ

যূক্তরাষ্ট্র

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে