Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৭-২০১৩

এই ঝুমা সেই ঝুমা

হায়দার আলী



	এই ঝুমা সেই ঝুমা

ক্ষুদে গানরাজ ঝুমার মা আমাকে ফোন দিয়ে কিছুক্ষন কাদঁলেন। আমি বললাম, আপনি যেমন লোভী, আপনার মেয়ে ঝুমা এর চেয়ে বেশী লোভী। এই সেই ক্ষুদে গানরাজ ঝুমা। যার পরিবারে তিন বেলা খাবার জুটত না। দু'বেলা খেলে এক বেলা খাবার না খেয়ে কেটে যেতো সময়। সেই পরিবারের ছোট্ট ঝুমা গান শিখতে যেত বলে আগুনে পুড়িয়েও মারতে চেয়েছিলো ওর নিষ্ঠুর বাবা। এক পর্যায়ে ঝুমার বাবা ওদের তিন বোনসহ মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। ঠাই হয় নরসিংদীর শিবপুর মামার বাড়িতে। সেই মামার বাড়িটির অন্দর মহলে নয় ঠাই হয় রান্না ঘরে। সেই ছোট্ট খুপরি ঘরেই কাটতো ঝুমাদের দিন।

মেয়েটির গানের প্রতিভার কথা শুনেওই দু:সময়ে ছুটে যান গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার গানের শিক্ষক কেসব স্যার। সেই তিনি ঝুমাকে পালিত মেয়ে হিসাবে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেই কেসব স্যারের সহযোগীতায় চ্যানেল আইয়ের ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগীতায় ঝুমার অংশ নেয়া। সেই প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে অনেক দুর আগায়। মাঝখানে ২০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ডেঞ্জার জোনে স্থানে পড়ে যায়।ওই সময় প্রতিযোগীতা থেকে ঝুমার বাদ হওয়ার উপক্রম হয়, কারণ বিচারকদের কাছ থেকে ভালো নম্বর পেলেও সে খুব বেশী এসএমএস পাচ্ছিলো না।
ওই অবস্থায় ২০০৮ সালে শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা (আমার একজন খুবই কাছের মানুষ) তিনি একদিন আমাকে ফোন করে বলেন, হায়দার ভাই আপনিতো অনেক মানুষকে নিয়েই রিপোর্ট করেন, আমার এলাকার একটি অসহায় মেয়েকে নিয়ে একটি রিপোর্ট করে দেন। অসহায় পরিবারের মেয়ে এখন ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছে। মেয়েটির পরিবারের কথা শুনে একদিন ছুটে যাই শিবপুরে।( এখানে বলে রাখি, সেই সময় আমি প্রথম আলো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করি) সেখান থেকে ফিরে একটি প্রতিবেদন লিখে পাঠাই প্রথম আলোর বর্তমান ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমিন সুমি আপার কাছে। প্রতিবেদনটি পাঠানোর দুদিনের মধ্যেই নারীমঞ্চ পাতায় সম্ভবত-গান গাইতো বলে ঝুমাকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলো বাবা" এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। তখন ঝুমার এসএমএস এর অভাব ছিলো না, এমনকি প্রতিযোগীতায় বিচারকরাও ছিলো ঝুমার প্রতি দুর্বল, সবাই পছন্দ করতো। সেই প্রতিযোগীতার ডেঞ্জার জোন থেকে ধীরে ধীরে প্রথম রানার আপ হয় ঝুমা।
শিবপুরের মামার বাড়ির ভাঙ্গা রান্না ঘর থেকেই ঠাই হয় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দালানে। বদলে যেতে থাকে পুরো পরিবারের আথির্ক অবস্থা। আমেরিকা, লন্ডনসহ অনেক দেশেই চ্যানেল আইয়ের কল্যানে ঘুরে বেড়িয়েছে ঝুমা। ঝুমাকে নিয়ে লেখা সরাসরি ঝুমার সঙ্গে দেখা হয়নি আমার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একিদিন বিকালে ফোন দিয়ে বলে, আংকেল আমি ঝুমা, আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই, কতোইতো ঝুমা নামের মেয়ে আছে, তুমি আবার কোন ঝুমা সেটা বলা হয়নি, কারণ ওর কণ্ঠ শুনেই বুঝেছি এটা সেই ক্ষুদে গানরাজ ঝুমা। হাতের কাজটি শেষ করেই রিশিপশনে এসে নিজের পরিচয় দিতেই পা ধরে সালাম করলো, গায়ে দামী পোশাক, কথাবার্তায় খুবই স্মার্টলি বলছে। ভাব সেই ছোট্ট ঝুমা অনেক বড় হয়ে গেছে।
এক পর্যায়ে ঝুমা বললো আংকেল মিডিয়ার সঙ্গ আমাদেরতো ভালো যোগাযোগ নেই, যদি আপনি একটু সহযোগীতা করেন, সেই সময় ফোন দেই আমার এক প্রিয় ছোট ভাই এবং তরুণ জনপ্রিয় গীতিকার ও সাংবাদিক রবিউল ইসলাম জীবনকে। জীবনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললাম, ঝুমাকে প্লিজ আপনি একটু হেল্প করুন, ওদের পরিবারে ওর মা ছাড়া দেখার কেউ নেই। এর পর ঝুমাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় কালের কণ্ঠ পত্রিকায়। জীবনের লেখা নিয়ে এ্যালবাম বের হওয়ার কথাও চলছিল। এর মধ্যে ঝুমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই কয়েক মাস হলো। হঠাৎ গতকাল রবিবার শুনি ঝুমাকে অপহরণ করা হয়েছে, এমন খবর শুনে কিছুটা মন খারাপ করেই ফোন দেই সেই চেয়ারম্যান আরিফ মৃধার কাছে তিনিও এই অপহরনের বিষয়িট জানেন না।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে খবরটি চলে আসছে। এর অনেক পর ঝুমার মা জেসমিন আক্তার ফোন দিয়ে কান্নাজতিড় কণ্ঠে বললো দাদা আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে, সাভারের আশুলিয়ার এক জুট ব্যবসায়ী ঝুমাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে, মামলাও করেছেন আদালতে। আমি বললাম, অপহরণ নাকি পালিয়ে গেছে? কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে, দাদা ওরে ফুসলাইয়া নিয়ে গেছে। সোনা-হীরার অলংকার, দামী জামা কাপড়সহ নানা ধরনের উপহার দিয়ে ওকে ভুলিয়ে নিয়ে গেছে বলেই কাদঁতে থাকেন। ওই সময় আমি উনাকে একটু ধমকের সুরেই বললাম, মেয়েকে দিয়ে শুধুই টাকা উপার্জন করেছেন, কিন্তু মেয়েকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন নি, আপনার লোভের কারণেই আজ এমনটি হয়েছে। আপনি যেমন লোভী, আর আপনার মেয়ে আরো বড় লোভী বলেই লাইনটি কেটে দেই।
পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম ঝুমা যার সঙ্গে ঘর বাধার স্বপ্ন নিয়ে পালিয়েছে, সেই আশুলিয়ার জুট ব্যবসায়ী ব্যক্তিটি দুই সন্তানের জনক। এলাকায় জুট ব্যবসা কারা করেন তা আমরা মোটামুটি জানি। বুঝে উঠতে পারছিলাম না এমন একটি মেয়ের কপালে ভবিষৎতে কি লেখা আছে? কয়েক মাস ঘর সংসার কিংবা কয়েক বছর। আনন্দ ফুর্তি হইচই, তারপর বিচ্ছেদ কিংবা অন্যকিছু। ভাবলাম, মাটির তারা আবার মাটিতেই নেমে যাবে, ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে