Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ , ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০১-২০১৯

বইমেলায় মানসম্পন্ন বই ১,১৫১টি

বইমেলায় মানসম্পন্ন বই ১,১৫১টি

ঢাকা, ০১ মার্চ- অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় দু’দিন বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবারের মেলায় এ পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার) নতুন বই এসেছে এসেছে ৪,৬৮৫টি। এর মধ্যে ১,১৫১টি গ্রন্থকে মানসম্পন্ন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এবারের মেলা থেকে বাংলা একাডেমি আয় করেছে দুই কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা ড.  জালাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি আনুমানিক দুই কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে। স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আজকের (বৃহস্পতিবারের) সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায় যে, এবার বইমেলায় গতবারের তুলনায় শতকরা দশ ভাগ বেশি বিক্রি হয়েছে (গতবারের গ্রন্থমেলায় বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭০ কোটি ৫০ লাখ)। মেলায় প্রকাশিত (ফেব্রুয়ারি ১ থেকে ২৮ পর্যন্ত) ৪,৬৮৫টি বইয়ের মধ্যে মানসম্পন্ন বইয়ের সংখ্যা ১,১৫১টি। মেলায় বৃহস্পতিবার নতুন বই এসেছে ১৫৩টি।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মানুষের মাঝে বই নিয়ে যে আগ্রহ দেখা গেছে তাতে প্রমাণ হয়, প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশেও মুদ্রিত বইয়ের গুরুত্ব কিছুমাত্র হ্রাস পায়নি।’

শুভেচ্ছা বক্তব্যে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘গ্রন্থমেলা উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য দেশবাসীর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ২০১৯-এর গ্রন্থমেলা অতীতের যেকোনও বারের তুলনায় ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য। প্রথমবারের মতো গ্রন্থমেলার আয়োজনে এবার যুক্ত ছিল– লেখক বলছি মঞ্চ, কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, বাচিকশিল্পীদের পরিবেশনা এবং নান্দনিক সমাপনী আয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে মেলার শেষ মুহূর্তে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকাশকদের যে ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি করেছে সেজন্য আমরা সমবেদনা ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এই দুর্যোগ আবারও প্রমাণ করেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজনের জন্য স্থায়ী মেলা মাঠ বরাদ্দের কোনও বিকল্প নেই, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে।’

এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি বলেন, ‘একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এই মেলা সারা দেশের জ্ঞান-জগতে যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে তা অবিস্মরণীয়। এটি শুধু বিকিকিনির মেলা নয় বরং একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।’

একাডেমির পরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি বলেন, ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এক বিশাল জ্ঞানোৎসব। এবারের  মেলা দেশ-বিদেশের জ্ঞানপিপাসু মানুষের মনে যে সাড়া জাগিয়েছে তা প্রমাণ করে এদেশের মানুষ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

নির্মলেন্দু গুণ পেলেন ‘কবি জসীম উদদীন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’

অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যেকোনও শাখায় সার্বিক অবদানের জন্য কবি নির্মলেন্দু গুণকে ‘কবি জসীম উদদীন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ দেওয়া হয়। এ পুরস্কারের অর্থমূল্য দুই লাখ টাকা।

‘গুণিজন স্মৃতি পুরস্কার’ ঘোষণা

২০১৮ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিকসংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘কথাপ্রকাশ’কে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯’ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে গোলাম মুরশিদের ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত : নজরুল-জীবনী’ গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে, মইনুদ্দীন খালেদের ‘মনোরথে শিল্পের পথে’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স এবং মারুফুল ইসলামের ‘মুঠোর ভেতর রোদ’ গ্রন্থের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯’ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯’ এবং ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘মধ্যমা’ (এক ইউনিট), ‘বাতিঘর’ (বহু ইউনিট) ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে (প্যাভেলিয়ন) ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯’ দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল প্রকাশককে ২৫ হাজার টাকার চেক, সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন–  সলিমুল্লাহ খান, সাগুফতা শারমিন তানিয়া, সুমন রহমান, মিছিল খন্দকার ও নাহিদা আশরাফী।    

মেলার মূল মঞ্চে সাংস্কৃতিক আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন– শিল্পী ফরিদা পারভীন, আকরামুল ইসলাম, মহিউজ্জামান চৌধুরী এবং ইয়াসমিন মুশতারী। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন– দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), দৌলতুর রহমান ও এসএম রেজা বাবু (বাংলা ঢোল) এবং শেখ জালালউদ্দিন  (দোতারা)।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে সমাপনী সাংস্কৃতিক আয়োজন

মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর সমাপনী আয়োজনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে স্বাধীনতাস্তম্ভ সংলগ্ন মঞ্চে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কবিতাপাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। সাংস্কৃতিক পর্বে রয়েছে শিল্পী লিলি ইসলামের পরিচালনায় ‘উত্তরায়ণ’-এর পরিবেশনা। সবশেষে ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘বিজয় : ১৯৫২ থেকে ১৯৭১, নবপর্যায়’কে ভিত্তি করে লেজার শো প্রদর্শন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এমএ/ ০২:১১/ ০১ মার্চ

সাহিত্য সংবাদ

আরও সাহিত্য সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে