Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৩-২০১৩

অভিবাসী নারী কর্মীদের কথা

ইয়াসমীন রীমা



	অভিবাসী নারী কর্মীদের কথা

গ্রামের এক সহজ-সরল মেয়ে। কারখানার স্বল্প আয়ের এক শ্রমিকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। সংসারে অভাব পিছু ছাড়ে না। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হয়। এ কাজের জন্য স্বামী তাকে ব্যবহার করে। জীবনের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যায়। বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিদেশে যেতে চান। মা-বাবাও তাতে সম্মতি দেন। উচ্চহারে সুদের টাকা নিয়ে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে গৃহপরিচারিকার কাজে বাহরাইন যান। নিয়তি সেখানেও বাদ সাধে। শুরু হয় স্বপ্নভঙ্গের আরেক অধ্যায়। বাহরাইনের এক পরিবারে কাজ পান তিনি। প্রতিদিন তাকে ভয়ানক সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। সামান্য ভুলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার, এমনকি গৃহকর্তার যৌন নিপীড়নের হাত থেকেও রেহাই পান না তিনি। নিজের অসহায়ত্বের কথা ভেবে সব মেনে নেন। কেননা ধারের টাকা শোধ না করে তো দেশেও ফিরতে পারবেন না। এ বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় এক বাংলাদেশী নারীশ্রমিকের সঙ্গে দেখা হয় তার। তাকে নতুন কাজের আশ্বাস দেয় সে। মেয়েটি তার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিন পর বুঝতে পারেন ওই মহিলা তাকে দালালের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। পরে নানা নির্যাতন ও ঘটনার পর এক গাড়িচালকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন। 

ওপরের ঘটনাটি কোন বানানো গল্প নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) ‘এইচআইভি ভালনারেবিলিটিস অব মাইগ্র্যান্ট উইমেন ফ্রম এশিয়া টু দ্য আরব স্টেটস’ তথ্য সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, এমনই এক বাংলাদেশী নারীশ্রমিকের প্রতারিত হওয়ার সত্যি গল্প।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষ জনশক্তির রফতানি কমলেও বেড়েছে অভিবাসী নারীকর্মীর সংখ্যা। সরকারী হিসাব অনুযায়ী গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মোট চার হাজার ৮৬৫ নারীকর্মী বিভিন্ন দেশে গেছেন। গত বছরের প্রথম দুই মাসে এই সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৫৭০ জন। আর গত ২০ বছরে বিদেশে গেছেন দেড় লাখ নারীকর্মী। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, পুরুষের পাশাপাশি নারীকর্মীরা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে অবদান রাখছেন জাতীয় অর্থনীতিতে। তবে নারী অভিবাসন সংগঠনগুলো সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত মোট দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯১৩ নারীকর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সরকারী জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে নারীকর্মীদের মাত্র ১০ হাজার টাকায় জর্দানে পাঠানো হচ্ছে। সৌদি আরবে প্রতিমাসে আমাদের দেশের দশ হাজার নারী শ্রমিক পাঠানো হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, এতে খুশি হবার কোন কারণ তো নেই-ই বরং আঁতকে ওঠারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমাদের দেশের মা-বোনরা অতীতে বিভিন্ন দেশে গৃহপরিচারিকার কাজে গিয়ে যে চরম নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন ও হচ্ছেন, পদে পদে হয়েছেন লাঞ্ছিত, অপদস্থ; পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ কিংবা পঙ্গু হয়ে অনেকেই পালিয়ে দেশে এসে বর্ণনা করেছেন নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা। ভিটা-মাটি বিক্রি করে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত পেটপুরে খাবার ও একটু স্বচ্ছলতার আশায় সেখানে গিয়ে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সতীত্ব রক্ষা করতে না পেরে চরমভাবে নাজেহাল হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে সেখানে কাটাচ্ছেন বন্দীজীবন এবং প্রতিদিনই পাশবিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তারা। খবরাখবর আমরা সংবাদপত্রের পাতা ওল্টালেই পাচ্ছি অহরহ। যে দেশে একাধিক বিয়ে করা তাদের অধিকাংশের নেশা ও পেশা এমনকি নাতনির বয়সী মেয়েদের বিয়ে করতে তাদের বিবেকে একটুও বাধে না, তাদেরই গৃহপরিচারিকা হিসেবে আমাদের মা-বোনদের সেখানে পাঠানো কতটুকু নিরাপদ তা সরকারের একটু ভাবা উচিত, নয় কি?
সম্প্রতি লেবাননে অবস্থানরত নারীশ্রমিক সাথী আক্তারের স্বামী আবদুল মোতালেব বিএমইটি ও পুলিশের ভিকটিম সাপোর্র্ট সেন্টারে ইস্ট-ওয়েস্ট ট্রেড লিংকার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয় পুুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। ডিবি পুলিশ ইস্ট-ওয়েস্টে নারীশ্রমিক সরবরাহকারী কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে এ্যালবাম উদ্ধার করে। ডিবি সূত্র জানায়, ইস্ট-ওয়েস্ট আগে সে দেশীয় এজেন্টের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার কাছে নারীশ্রমিকদের ছবি পাঠায়। ছবি দেখে নিয়োগকর্তা যাকে পছন্দ করেন তাকেই পাঠানো হয়। আবদুল মোতালেব মুঠোফোনে জানান, সাথীর ওপর লেবাননে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছেÑ ইস্ট-ওয়েস্টকে এ কথা জানালে তারা বলে, আমাদের কাজ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো, ফিরিয়ে আনা নয়। আপনি পারলে সাথীকে ফিরিয়ে আনেন।
একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে মৃত রাবিয়া আক্তারের ভাই সোহরাব মিয়া। গত বছর রাবিয়া আক্তার দুবাই যাওয়ার পর প্রায় সাত মাস নিখোঁজ ছিলেন। একদিন দালালের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার বোন আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। রাবিয়ার লাশ আনার ব্যাপারেও ইস্ট-ওয়েস্ট কোন সহযোগিতা করতে চায়নি। পরে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সহযোগিতায় রাবিয়ার লাশ আনা হয়। ইস্ট-ওয়েস্ট ট্রেড লিংকার্সের স্বত্বাধিকারী ইমরোজ হায়দার বলেন, তারা এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ছবি পাঠানো হয় নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বোঝানোর জন্য যে, তাদের বয়স ২৫ বছরের বেশি। মাধ্যপ্রাচ্য ফেরত নারীশ্রমিক দুই সন্তানের জননী নার্গিস বেগম জানান, ২০০৯ সালের ১৩ মে সৌদি আরব যাওয়ার পর অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। নির্যাতনের শিকার হওয়ার কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে তার বাসস্থান থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে হাসান ইন্টারন্যাশনালের সে দেশীয় ব্যবসায়িক অংশীদার ও তার সহযোগীরা মারধর করেন। নার্গিস বলেন, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদলিয়া আমলনামা নামের একট্ িকারাগারে আশ্রয় নেন, পরে সেখান থেকে তিনি দেশে ফেরেন। ওই কারাগারে আরও বাংলাদেশী নারীশ্রমিক রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাসান ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশিদুল হাসান বলেন, রাস্তায় ৫০টি গাড়ি চললে দু-একটা তো খানাখন্দে পড়তেই পারে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি সবাই যেন ভাল থাকে। 
জানতে চাইলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে ১৪ শ্রম কর্মকর্তা আছেন। এঁদের মধ্যে মাত্র একজন নারী। নাসরিন জাহান নামের ওই কর্মকর্তা দুবাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব (শ্রম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নাসরিন জাহান বলেন, নারীদের যদি একটু দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করা যায়, তাহলে তারা আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
আমরা সকলেই অবগত, অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েই একটু সচ্ছল জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পা বাড়ান। যদিও তারা সঠিক পদ্ধতিতে যায়, তবুও তার বেতন কাঠামোতে তারতম্য থাকেই। যদি প্রতারণার শিকার হয় তাহলে তো আর কোথাও দাঁড়ানোর অবস্থা থাকে না। এভাবে পদে পদে প্রতারিত হয়ে সে যখন দেশে ফেরে তখন সংসারটিও টিকে থাকে না। বিদেশে কর্মরত নারীশ্রমিকের একটি নির্ভরযোগ্য সংখ্যা বের করার উদ্দেশ্যে দৃষ্টি রিসার্চ সেন্টারের তেরেস বঁশে, হান্নান বিশ্বাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. আব্দুর রাজ্জাক যৌথাভাবে একটি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করেন। এই গবেষণা পদ্ধতি ও ফলাফল ‘ডকুমেন্টারী, দি অনডকুমেন্টেড, ফিমেল মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ফ্রম বাংলাদেশ’ শীর্ষক বইতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই গবেষণায় প্রতীয়মান হয়, নারীশ্রমিকদের বিদেশে কাজ করার প্রবণতা বাংলাদেশের বিশেষ কয়েকটি স্থানে মাত্রায় বেশি, যা অন্য সব অঞ্চলের গড় প্রবণতা থেকে ব্যাপকভাবে আলাদা। এই গবেষণায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, যশোর, মানিকগঞ্জ, নড়াইল ও মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে নারীশ্রমিকদের বিদেশ গমনের সর্বোচ্চ প্রবণতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও ১৬টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে যথেষ্টসংখ্যক নারীশ্রমিক বিদেশে কর্মরত। ৬০ শতাংশ ভারতে কর্মরত। ভারতে ভ্রমণকারী নারীশ্রমিকের বেশিরভাগই বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর অধিবাসী। বিদেশ গমনে নারীশ্রমিকদের ব্যাপকতা করে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী দূতাবাসসমূহ এবং জনশক্তি রফতানি ব্যবস্থাপনাকে আরও অধিকমাত্রায় জেন্ডার সংবেদনশীল করার জন্য এ গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালীন বাংলাদেশী শ্রমিকদের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের নারীশ্রমিকদের বিদেশে কাজ করার সুযোগ, ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জসমূহের ওপর তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যাতে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক নারীরা সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ তথ্য কাজে লাগিয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকতর দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারলে শ্রমিকদের স্বার্থের সুরক্ষা ও দেশের কল্যাণ উভয়ই নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যায়। বিদেশে কর্মরত নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারটি এবং সেই সঙ্গে বিদেশ থেকে ফিরে আসা নারীশ্রমিকদের প্রয়োজনমতো চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সহায়তা কিভাবে দেয়া যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখার জন্য গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে। 
নারী পাচার ও অবৈধ কার্যক্রম রোধকল্পে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাফায়েত হোসেন বলেন, সকল নারীকর্মী সরকারের তালিকাভুক্ত হয়েই দেশ ছাড়বে। যে কোম্পানিতে কাজ নিয়ে যাবে সেই কোম্পানিকে সরকারী তালিকায় নথিভুক্ত করে রাখা হবে। কোন কর্মী যদি প্রতারিত হয় এবং আমরা যদি সেই খবর পাই তাহলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বর্তমানে কেউ যদি প্রবাসে কোন সমস্যায় থাকে তাহলে আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ৭দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি।
দশ বছর ধরে স্বামী পরিত্যক্ত জয়নাব খাতুন তিন সন্তানকে নিয়ে জীবন সংগ্রাম করছেন। অভাব আর পারিবারিক সমস্যার কারণেই বড় মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে দিতে হয়েছে। ছেলেটি নবম শ্রেণীতে পড়ছে। জয়নাবই প্রথম প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ পেয়ে ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। মাসে তার বেতন ১১ হাজার ৭৯২ টাকা। বাংলাদেশ-কোরিয়ান ট্রেনিং সেন্টারে ২১ দিনের হাউসকিপার ট্্েরনিং নিয়েছেন তিনি। এ কারণেই তার আত্মবিশ্বাস একটু বেশি। সেখানে কোন বিপদে পড়লে তাকে কয়েকজনের ফোন নম্বরও দেয়া হয়েছে বলে জানান জয়নাব। বিষয়টি এতটা সহজ নয় বলে মনে করেন এ্যাডভোকেট সালমা আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের এ সকল বাস্তবমুখী পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। যদি সব ব্যবস্থা ও আইন সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় তাহলে আশা করি, অভিবাসী নারীদের বিদ্যমান এই সকল সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং যে উদ্দেশ্যে তারা বিদেশে যাচ্ছে তা পূরণ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সর্বস্ব হারিয়ে একজন নারী অধিকাংশ সময় বিদেশে গিয়ে পাসপোর্টটা পর্যন্ত হাতে পায় না। আমি লেবাননে এ রকম ৪০ নারীকে দেখেছি। তারা বিপদের চরম মুহূর্তে কারো কাছে থেকে কোন সাহায্য পায়নি, এমনকি সে দেশের দূতাবাস থেকেও নয়। আমরা একটির পর একটি মামলা করেই চলেছি। তাই আমাদের একটাই আশা, প্রধানমন্ত্রী যে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের যে উদ্দেশ্য তা পালন করা হোক এবং প্রবাসীদের দুর্দশা লাঘব করা হোক।’ 
বাংলাদেশ মহিলা অভিবাসী শ্রমিক সংস্থার পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, অন্য দেশগুলোতে মোটামুটি ভাল অবস্থা থাকলেও লেবাননে কর্মরত নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন। বিষয়টি আরও ভালভাবে নজরদারি করা দরকার। লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে পাড়ি জমানো নারীশ্রমিকরা প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে এসব নারী কখনও কখনও কারাগারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার জীবিকার কারণে বিদেশে প্রাণ দেয়ার পরও তাদের লাশ দেশে আনার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বিদেশে যে ১০টি জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান গৃহকর্মীদের পাঠায় তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে।
বিএমইটি ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বিএমইটি ভবনে নারী অভিবাসী তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সির খোঁজ, ভিসা পরীক্ষা এবং অন্য যে কোন তথ্যের জন্য নারীকর্মীরা এখানে যোগাযোগ করতে পারেন। বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী দাবি করেন, বিএমইটি তথ্যকেন্দ্র চালুর পর বিদেশে বাংলাদেশী নারীশ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা অনেক কমে এসেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, নারীশ্রমিকরা যাতে বিদেশে গিয়ে বিপদে না পড়েন সে ব্যাপারে সরকার সজাগ রয়েছে।

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে