Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৮-২০১৯

পবিত্র স্থানগুলোতে ধর্মীয় যত মিলনমেলা

পবিত্র স্থানগুলোতে ধর্মীয় যত মিলনমেলা

সব পাপ মুছে ফেলে পবিত্র হয়ে যেতে কতকিছুই তো করে মানুষ। দলবেঁধে নিজ নিজ ধর্মের পবিত্র স্থানগুলোতে হাজির হয়ে স্রষ্টার কাছে পাপমুক্তির প্রার্থনা করে। অনেকে আবার সম্মিলিতভাবে স্রষ্টার দরবারে হাত তুলতে ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেয়।

পবিত্র হজ এবং বিশ্ব ইজতেমা যেমন মুসলিমদের বড় দুটি মহাসম্মেলন, তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষই পূণ্য পেতে দলে দলে যোগ দেয় তীর্থযাত্রায়। চলুন জেনে নিই বিশ্বের কয়েকটি ধর্মীয় মিলনমেলার কথা।

হজ

হজ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় মিলনমেলা, এটা তো আমরা সবাই জানি। ২০১৮ সালে হজে যোগ দিতে পবিত্র নগরী মক্কায় আগমন ঘটেছিল প্রায় ২০ লাখ মুসলিমের। সারা বিশ্বের ১৯৩টি দেশ থেকে প্রতিবছর হজ পালনে সৌদি আরব যায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

কুম্ভমেলা

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় মিলনমেলা হলো হিন্দুদের কুম্ভমেলা। এই মেলায় তীর্থযাত্রীরা গঙ্গায় পুণ্যস্নান করেন। তাদের বিশ্বাস এই স্নানের ফলে সব পাপ ধুয়ে যায়। প্রতি বারো বছর পর পর ভারতের প্রয়াগ, হরিদ্বার, উজ্জ্বয়িনী ও নাসিকে পূর্ণকুম্ভ আয়োজিত হয়। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি তিন বছর অন্তর এই চার জায়গার কোথাও না কোথাও কুম্ভমেলা বসছে, তা সে পূর্ণই হোক বা অর্ধ। কথিত আছে, দেবতারা সমুদ্র মন্থন করে অমৃতের হাঁড়ি নিয়ে পালানোর সময় সেখান থেকে কয়েক ফোঁটা অমৃত চার জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই জায়গাগুলোতেই বসে কুম্ভমেলা। কুম্ভমেলায় প্রায় ১২ কোটি মানুষ অংশ নেয়। এতো বিপুল পরিমান মানুষ অংশ নেওয়ায় পদপিষ্ট হয়ে বহু মানুষের মৃত্যুও হয়।

ইজতেমা

বাংলাদেশের তুরাগের তীরে প্রতিবছরের শুরুর দিকে বসে বিশ্ব ইজতেমা। দুইটি পর্বে ভাগ হয়ে এখানে যোগ দেয় প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মুসলিম। হজের পর এটাই মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিলনমেলা। বিশ্বের ৫৫ থেকে ৬০টি দেশের মুসলিমরা টঙ্গীর তুরাগ তীরে সমবেত হয়ে স্রষ্টার দরবারে হাত তোলেন। 

সান্তিয়াগো ডি কম্পোসটেলা তীর্থযাত্রা

স্পেনের গ্যালিসিয়ার সান্তিয়াগো ডি কম্পোসটেলায় প্রতিবছর বসে এই ধর্মীয় মহাসম্মেলন। এখানে যীশুখৃষ্টের বাণী প্রচারের জন্য মনোনীত বারোজনের একজন, সেইন্ট জেমস দ্য গ্রেটের সমাধিক্ষেত্রকে ঘিরে এই মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই তীর্থ যাত্রার নিয়ম হলো পুন্যার্থীদের ঘুরে ঘুরে প্রায় ৪২ হাজার কিলোমিটারের মতো পথ পাড়ি দিতে হয়। 

ডিয়া ডি লা ভারজিন ডি গুয়াডালুপ

প্রতিবছর ডিসেম্বরে মেক্সিকো সিটিতে বসে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের এই মিলনমেলা। ছয় থেকে আট মিলিয়ন মানুষ এই তীর্থযাত্রায় অংশ নেয়। তিন দিনের এই যাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্যারেড এমনকি নাচ গানেরও আয়োজন থাকে।

শিকোকু যাত্রা

জাপানের শিকোকু দ্বীপের এই তীর্থযাত্রার বিশেষত্ব হলো, এখানে সবাই সাদা পোশাক পরে থাকে। পূন্যার্থীরা দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একের পর এক মন্দির পরিদর্শন করেন। তাদের হাতে থাকে ছোট একটা বই। সেই বইয়ের সব নির্দেশনা অনুসরণ করেন তারা।

তৌবা

সেনেগালের শেখ আমাদু বাম্বার দরগা এবং মসজিদে বসে এই মহাসম্মেলন। মুলত মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই এতে অংশ নেয়। আমাদের দেশে যেমন বিশ্ব ইজতেমায় তুরাগের তীরে মুসল্লীরা জড়ো হয়, তৌবাতেও ঠিক তেমনটাই ঘটে। সম্মিলনের এলাকায় কোনো হোটেল বা থাকার ভালো জায়গা নেই। মুসল্লিরা খোলা আকাশের নিচেই তাঁবু খাটিয়ে থাকেন। তাদের জন্য অবশ্য স্বেচ্ছাসেবীর ব্যবস্থা থাকে, যারা সবসময়ই পুন্যার্থীদের সেবায় নিয়োজিত থাকে। 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

এমএ/ ০৫:০০/ ১৮ ফেব্রুয়ারি

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে