Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (183 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-১৭-২০১১

অপরাধ: কানাডিয়ান ষ্টাইল

নজরুল মিন্টো


প্রিয় পাঠক, আপনি জানেন কি, কানাডার অন্যতম নগরী টরন্টাতে কতজন গৃহহীন নর-নারী বাইরে রাত কাটায়? অবাক হলেও সত্য যে প্রায় ৪ হাজার ৭শত লোক এ শহরে গৃহহীন। গৃহহীনদের সেন্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে এখন আর জায়গা হয় না। প্রায় পাঁচশত লোক নগরীর খোলা পার্কে, দোকানের বারান্দায়, ফুটপাতে নিদ্রা যায়। এ দৃশ্য স্বচক্ষে দেখতে চাইলে খুব ভোরে ডাউন টাউনে চলে আসুন। পার্কের বেঞ্চে, অলিতে গলিতে, নদীর পাড়ে আপনার চোখে পড়বে আজব এ দৃশ্য। জাতিসংঘের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত বিশ্বের প্রথম সারির ধনী দেশটির অন্যতম নগরীর এ অবস্থা দেখলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও আপনি চিন্তিত হবেন। 

অপরাধ: কানাডিয়ান ষ্টাইল

প্রিয় পাঠক, আপনি জানেন কি, কানাডার অন্যতম নগরী টরন্টাতে কতজন গৃহহীন নর-নারী বাইরে রাত কাটায়? অবাক হলেও সত্য যে প্রায় ৪ হাজার ৭শত লোক এ শহরে গৃহহীন। গৃহহীনদের সেন্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে এখন আর জায়গা হয় না। প্রায় পাঁচশত লোক নগরীর খোলা পার্কে, দোকানের বারান্দায়, ফুটপাতে নিদ্রা যায়। এ দৃশ্য স্বচক্ষে দেখতে চাইলে খুব ভোরে ডাউন টাউনে চলে আসুন। পার্কের বেঞ্চে, অলিতে গলিতে, নদীর পাড়ে আপনার চোখে পড়বে আজব এ দৃশ্য। জাতিসংঘের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত বিশ্বের প্রথম সারির ধনী দেশটির অন্যতম নগরীর এ অবস্থা দেখলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও আপনি চিন্তিত হবেন। 

কিছুদিন আগে চার্চের পাশে একটি পরিবার কাঠের একটি ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করলে পুলিশ তাদের উচ্ছেদ করে। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হলেও প্রাদেশিক সরকার এ বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। অভিযোগ রয়েছে গৃহহীনদের বিষয়ে সরকারের কোন মাথাব্যথা বা পরিকল্পনা নেই। শহরে দিনদিন এখন গৃহহীনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু এ শহরই নয়; ক্যালগেরি, ম্যানিটোবা এবং ভ্যাঙ্কুভার শহরেরও একই অবস্থা।

কানাডা-আমেরিকায় বসবাসকারী আমাদের অনেকে মনে করেন বাংলাদেশ হলো একটা অপরাধের আখড়া। পত্রিকা খুললেই চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপের খবর। তারা মনে করেন এসব দেশে এগুলো হয় না। তবে এসব দেশে যে আমাদের চাইতে আরও বেশি অপরাধ সংঘটিত হয় সে সব খবর তারা রাখেন না। হয়তো বলবেন খবরের কাগজে তো দেখা যায় না। হ্যাঁ ঠিকই, এগুলো খবরের কাগজে বা টিভিতে আসে না। না আসার কারণও আছে। আর কারণটি হলো সামাজিক অঙ্গীকার। কানাডার প্রধান প্রধান গণমাধ্যমগুলো একটি অলিখিত নীতি মেনে চলে। আর তা হচ্ছে অপরাধ প্রবণতা রোধে সামাজিক দায়িত্ব পালন। কানাডার গণমাধ্যমসেবীরা লিখিত রীতি-নীতির বাইরেও বেশ কিছু অলিখিত নীতিমালা অনুসরণ করে থাকেন। এর একটি হচ্ছে সমাজকে অস্থির করে তুলে এমন ধরনের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ না করা। কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি। দেখা গেলো একটি লোক উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ধর্মীয় কোন প্রতিষ্ঠানের ভিতর গার্বেজ নিক্ষেপ করে চলে গেছে। হতে পারে সে ইহুদি কিংবা খৃস্টান অথবা মুসলমান। এ সংবাদ পরিবেশন করলে লাভের লাভ কিছুই হবে না; কিন্তু দুই সম্প্রদায়ের ভেতর একটি দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা থাকতে পারে বিধায় এ ধরনের সংবাদ ছাপানো কানাডিয়ান সংবাদপত্রসেবীরা উচিত মনে করেন না। এ ক্ষেত্রে পুলিশের সাহায্য চাওয়া যেতে পারে কিংবা রিপোর্ট লেখানো যেতে পারে বলে তারা মনে করেন। 

আত্মহত্যার ঘটনা কমবেশি প্রত্যেক দেশে আছে। কানাডাতেও আছে। টরন্টো এবং মনট্রিয়লের দুটো ব্রিজের নামই হয়ে গেছে সুইসাইড ব্রিজ। এগুলো থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিন্তু পত্রিকার পাতায় সংবাদ হয়ে এ ঘটনাগুলো আসে না। আসে না এজন্যে যে, সাংবাদিকরা মনে করেন এ ধরনের সংবাদ ছাপা হলে সমাজে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাবে। হতাশাগ্রস্ত যে কোন লোক মুক্তির সহজ পথের নির্দেশনা পেয়ে আত্মহত্যার জন্য উৎসাহী হয়ে উঠতে পারে। 

টরন্টোর ডাউন টাউনের ব্রডভিউ এবং ক্যাসেল ফ্র্যাঙ্কের মাঝমাঝি স্থানে অবস্থিত যে ব্রীজ আছে এখান থেকে প্রতি বছর লাফিয়ে আত্মহত্যার একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সম্প্রতি ব্রীজের দুই দিকে নেট লাগিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। 
আমার জীবনে এমনি একটি ঘটনার কালিমা লেগে আছে। যে ঘটনা মনে হলে আমি খুব পীড়িত হই। মানসিক কষ্টে ভুগি। আজ যখন প্রসঙ্গটা সামনে এলো তখন বুকটা একটু হালকা করে নিতে চাচ্ছি। পুরনো অনেকেরই মনে আছে নিশ্চয় টরন্টো নগরীতে দু'দুজন বাঙালি তরুণ সাবওয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। প্রথম আত্মহত্যা করেছিল ফারুক আহমেদ নামে এক তরুন। এরপর আত্মহত্যা করলো বিভাস। বিভাসের স্ত্রী হেলেন একদিন কথায় কথায় আমাকে বললো, যেদিন পত্রিকায় ফারুকের সংবাদ ছাপা হয় সেদিন বিভাস পত্রিকাটি কিনে নিয়ে ঘরে এসে তাকে বলে, 'একটা সহজ উপায় পাওয়া গেলো'। সেদিন থেকেই নাকি বিভাস সাবওয়ে ট্রেনের নীচে আত্মহত্যা করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। কথাটি শুনে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হতে লাগলো। কেন ছাপালাম এ সংবাদ? খবরটি ছাপানো কি জরুরী ছিল? না ছাপলে কি হতো ইত্যাদি ধরনের শত প্রশ্ন আমার মনে উদয় হতে লাগলো। তখনই আমি উপলদ্ধি করতে পারলাম কেন কানাডার প্রধান সংবাদপত্রগুলোতে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয় না।

শুরুতেই বলেছি এসব দেশেও ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, পকেটমার, চুরি, ডাকাতি, ব্যাংক লুটের অজস্র ঘটনা ঘটছে। এমনসব ঘটনা ঘটে যে, ছোটখাটো অপরাধগুলোকে অপরাধ বলেই মনে হয় না। ব্যাংক ডাকাতির কথাই বলি। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন কানাডার মতো দেশে, টরন্টোর মতো এত সুন্দর একটি শহরে বছরে ২৫/৩০টি ব্যাংক ডাকাতি সংঘটিত হয়। সিকিউরিটি আছে, গোপন ক্যামেরা আছে তারপরও ডাকাতি। সত্যিই অবাক লাগার বিষয়! আরও অবাক লাগার বিষয় হলো পুলিশ এদের কাউকে ধরতে পারে না। সংবাদপত্রে ব্যাংক ডাকাতির মতো ঘটনার কোন সংবাদ ছাপা হয় না। এখানেও সাংবাদিকেরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সাংবাদিকরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা প্রকাশিত হলে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। ব্যাংকে যেতে ভয় পাবে। ফলে, দেশের অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। 

টরন্টো পুলিশের চৌকষ গোয়েন্দা বিভাগ ডাকাতির সাথে সংশ্লিষ্ট মাত্র তিনটি গ্যাং-এর খবর পেয়েছে। এই তিনটি প্রধান ডাকাত দল শহরময় ব্যাংক ডাকাতি করে বেড়ায়। তারা নিজেদের এলাকা ভাগ করে নিয়ে তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাষ্ট্রো নামের গ্যাংটির এলাকা হচ্ছে স্কারবোরো, ভ্যান নামের গ্যাংটির এলাকা হচ্ছে শহরের উত্তর পশ্চিম এবং কারজ্যাক নামের গ্যাংটি শহরের মূলকেন্দ্রে। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতরা ব্যাংকে ঢুকে নিমিষেই তাদের পুরো কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলে। তারা কৃত্রিম চেহারা বা মুখোশ পরে এবং তাদের  হাতে থাকে শর্টগান এবং আধুনিক অটোমোটিক সব অস্ত্রসস্ত্র। পুলিশের কাছ থেকে আরও জানা গেছে যে, ডাকাতরা তেমন কোন অঘটন বা মারধর করে না। যেটুকু কিল-থাপ্পড় মারে তা সামান্যই। তবে ভবিষ্যতে যে গুলি করে মেরে ফেলবে না এর কোন নিশ্চয়তা নেই। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী ডাকাতদের বয়স ২০ থেকে ২২ বছর। ডাকাতির সময় লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে এ সময় ব্যাংকের বাইরে প্রচুর ভিড় দেখা যায়।

গ্যাংগুলোর নামকরণের কাহিনী বেশ মজার। ভ্যান গ্যাং ডাকাতির সময় গেটে তাদের ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখে এজন্যে তাদের গ্যাং এর নাম ভ্যান। অ্যাষ্ট্রো অথবা সাফারী ভ্যান এজন্যে তাদের নাম অ্যাষ্ট্রো; এবং কারজ্যাক গ্যাং ডাকাতি শেষে যে গাড়ি তাদের সামনে পড়ে সে গাড়ির লোককে নামিয়ে দিয়ে ঐ গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় সে জন্যে তাদের নাম কারজ্যাক। 'কার হাইজ্যাক' এর সংক্ষিপ্ত রূপ কারজ্যাক।

ব্ল্যাক মার্কেট বা চোরাকারবার শুধু বাংলাদেশে নয়। কানাডার মতো দেশেও আছে। ফাঁকিবাজি শুধু বাংলাদেশে নয়, কানাডাতেও আছে। টাউট প্রকৃতির লোকজন শুধু বাংলাদেশেই সাধারণ লোকদের সাথে প্রতারণা করে না, কানাডাতেও করে । এখানে চোরাপথে অনেক জিনিষ আসে। চোরেরা দামী দামী জিনিষ বিক্রি করে অতি সস্তায়। একবার দিনে দুপুরে রাস্তায় হঠাৎ করে আমার গাড়ির সামনে একটি পিকআপ ভ্যান ব্রেক কষলো। নেমে এলো দু' যুবক। বললো তাদের কাছে কয়েকটি নতুন এম্পলিফায়ার স্পীকার আছে। একেকটি একশত ডলার। যার বাজার মূল্য হাজার ডলার সেটা একশত ডলার শুনে আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না, বললাম আমার কাছে পয়সা নেই। তারা চলে গেলো।

আরেকবার ব্যাংক থেকে বেরিয়েছি। দরজার সমানেই এক কালো যুবক ভারী একখান স্বর্ণের চেইন দেখিয়ে বললো মাত্র ৫০ ডলার। নিজেকে চোর বলে পরিচয় দিতেও তার মুখে একটু বাঁধলো না। আমার অবস্থা ঠিক সেদিনের মতো হয়ে গেলো। বললাম পয়সা নেই। 

ক্রিসমাসের দুই দিন পরের ঘটনা। সকালবেলা অফিসে বসে আছি এমন সময় এক সাদা যুবক ও তার গার্ল ফ্রেন্ড বিরাট একটি বাক্স কাঁধে নিয়ে ঢুকলো। কি চাই জিজ্ঞেস করলে জানায়, তারা অন্য শহর থেকে এসেছে এখন ফিরে যাবার পয়সা নেই। তাই তাদের ভিডিও ক্যামেরাটি বিক্রি করবে। দাম চাইলো না। বললো যা দেবো তাই নেবে। বাক্স খুলতে চাইলে বাধা দিল। এর কিছুদিন আগে খবরের কাগজে পড়েছিলাম নতুন বাক্সে ইট পাথর ভরে এনে এরা মানুষকে ধোকা দেয়। আমি পুলিশের ভয় দেখালে তারা দ্রুত কেটে পড়ে।

এতো গেলো চোর, প্রতারকদের কাহিনী। গাড়ির দোকানে, রিয়েল এষ্টেট ব্যবসায় এক শ্রেণীর টাউট লোক বসে আছে; এদের পাল্লায় পড়লে নিশ্চিত লোকসান! কথা বার্তায় তারা এতই কেতাদুরস্ত যে কথা শুনলে মনে হবে অতি আপনজন। তাদের মিষ্টি কথায় তুষ্ট হয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

কানাডাতে খেলার টিকেট, বড় বড় অনুষ্ঠানের টিকেট বিক্রি করে ব্ল্যাকাররা। ব্ল্যাকারদের এখানে স্কালপার বলা হয়ে থাকে। কানাডায় এটা নিষিদ্ধ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টরন্টোতে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩০ জন স্কালপারকে ধরা হয়ে থাকে। তারপরও এটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্কালপাররা কিশোর-কিশোরী, গৃহহীন লোকজন, এবং আনএম্পলয়মেন্ট সেন্টার থেকে লোক ভাড়া করে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী স্কালপারদের ধরা পুলিশের লিষ্টে ছয় নম্বর স্থানে। কারণ সমাজে এর চাইতে বড় বড় অপরাধ দমনে তারা ব্যস্ত থাকে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে তবুও তো ভাল যে, স্কালপারদের কাছ থেকে টিকেট পাওয়া যাচ্ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পুলিশও নাকি মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের টিকেট স্কালপারদের কাছ থেকে কিনে। 

প্রধান সম্পাদক

  •  1 2 > 
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে