Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১৭-২০১৯

ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউস এখন জাদুঘর

ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউস এখন জাদুঘর

১৯৫২ সালে বর্ধমান হাউস ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিনের বাসভবন। একুশে ফেব্রুয়ারি বিকেলে সেখান থেকেই নির্দেশ আসে ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের। পরবর্তী সময়ে এখানে জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপন করা হয় বাংলা ভাষা গবেষণাগার- বাংলা একাডেমি। ভাষাশহীদদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান। বর্ধমান হাউসে দাপ্তরিক কাজ না হলেও বাংলা একাডেমির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে দুটি জাদুঘর; ভাষা আন্দোলন জাদুঘর ও লেখক জাদুঘর।

কাজ চলছে আরও একটি জাদুঘরের।

একুশের অন্যতম স্মারক বর্ধমান হাউস। পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন হওয়ায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রতিটি অধ্যায়ে এ ভবনটি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা মিছিল সহকারে এ ভবনে এসে মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের সময় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পেশ করেন। ১৯৪৮ সালের ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বর্ধমান হাউসে প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের নেতারা সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি এবং ভাষা আন্দোলন কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করা। ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ সম্পাদিত রাষ্ট্রভাষা চুক্তির আগে এখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে তৎকালীন গভর্নর খাজা নাজিমুদ্দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

১৬ মার্চ চুক্তি বাতিলের দাবিতে বর্ধমান হাউস অভিমুখে মিছিল বের হয়। এদিন পুলিশি নির্যাতনে ছাত্ররা আহত হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নূরুল আমিন এই ভবনেই বাস করতেন। এই ভবন থেকেই গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বর্ধমান হাউস জনতার রোষের মুখে পড়ে।

রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারির পরপরই বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষাচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার দাবি ওঠে। এটি আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার দাবিতে। যাতে বলা হয়, 'যুক্তফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী বর্ধমান হাউসের বদলে অপেক্ষাকৃত কম-বিলাসের বাড়িতে বাসস্থান নির্দিষ্ট করিবেন এবং বর্ধমান হাউসকে আপাতত ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা হইবে।'

এ দাবি পূরণ হয় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর। বর্ধমান হাউসে বাংলা একাডেমির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার। গবেষণা-প্রকাশনার মননশীল চর্চার পাশাপাশি বাংলা একাডেমি একুশের চেতনাকে প্রবাহিত রেখেছে। প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসে ভাষাশহীদদের স্মৃতিতে আয়োজন করে আসছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর। ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন জাদুঘর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই জাদুঘরে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, সংবাদপত্র, স্মারকপত্র, ব্যঙ্গচিত্র, চিঠি, প্রচারপত্র, পান্ডুলিপি, পুস্তক-পুস্তিকার প্রচ্ছদ এবং ভাষাশহীদদের স্মারকচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বর্ধমান হাউসের নিচতলায় রয়েছে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ছয়টি কক্ষ নিয়ে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে।

বর্ধমান হাউসের তৃতীয় তলায় শেষ পর্যায়ের নির্মাণ কাজ চলছে লোকঐতিহ্য জাদুঘরের। সেইসঙ্গে তৃতীয় তলায় আরও রয়েছে বাংলা একাডেমির আর্কাইভস।

জাদুঘর দুটির দায়িত্বপালনরত বাংলা একাডেমির ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগের সহকারী পরিচালক সায়েরা হাবীব এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিদিনই এখানে প্রচুর মানুষ আসেন ভাষা আন্দোলনের স্মারক দেখতে। জাদুঘর তিনটি নিয়ে আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিকল্পনা আছে।

তাদের জন্য রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্র ও শনিবার জাদুঘর দুটি বন্ধ থাকে। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা ও বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ও বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর দুটি উন্মুক্ত থাকে।

আর/১০:১৪/১৫ ফেব্রুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে