Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (64 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২২-২০১১

জন্মদিন পালন করা ভালো, বাড়াবাড়ি বুমেরাং হতে পারে

আবদুল গাফফার চৌধুরী


জন্মদিন পালন করা ভালো, বাড়াবাড়ি বুমেরাং হতে পারে
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তাঁর ৪৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে। নানা মামলা-মোকদ্দমায় অভিযুক্ত এবং চিকিৎসাধীন আছেন বলা হয়। কামনা করি, তিনি এখন দ্রুত সুস্থ হোন, দেশে ফিরে আসার সাহস দেখান এবং মা ছেলের কাঁধে দল পরিচালনার যে দায়িত্বভার প্রদান করেছেন, সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জন্মদিন পালন করা এক কথা। কিন্তু সেই জন্মদিন পালন নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাড়াবাড়ি করাটা আরেক কথা। তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করে না; বরং তা বুমেরাং হয়। তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সতর্কবাণীটাও তাঁর জন্য উচ্চারণ করছি। কারণ তিনি দেশে নেই। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর দল এই জন্মদিন পালনের নামে যে আতিশয্য শুরু করেছে, তা দেশবাসীর মনে 'বীর পূজার' ভাব সৃষ্টি না করে বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে।

আজ পর্যন্ত বিশ্বের খ্যাত-অখ্যাত কোনো রাজনৈতিক নেতার জন্মদিনের উৎসব ১১ দিন ধরে পালনের কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। তবে কোনো কোনো মহাপুরুষের জন্য পক্ষকাল বা মাসাবধি স্মরণোৎসব চলে। যেমন রবীন্দ্রজয়ন্তী, লালন উৎসব ইত্যাদি। তারেক রহমান মহাপুরুষ নন এবং এখনো একজন প্রাক-রাজনৈতিক নেতার পদবাচ্য হয়েও উঠতে পারেননি। তাঁকে একজন নবিশ রাজনৈতিক নেতা বলা চলে। রাজনৈতিক নেতা হয়ে উঠতে তাঁকে আরো দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে। সেটা তিনি পারবেন কি না, তা ভবিষ্যৎই বলতে পারে।

নিজের যোগ্যতা বা মেধায় তারেক রহমান রাজনীতিতে আসেননি বা নেতা পদবাচ্য হননি। এ যুগে একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যে প্রচলিত শিক্ষা-দীক্ষা ও রাজনৈতিক শিক্ষা দরকার তা তাঁর নেই। মায়ের পর তিনিও যদি বিএনপির 'স্বশিক্ষিত নেতা' হতে চান, তা হবে দলটির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তিনি মায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছেন এবং মা তাঁকে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেছেন। দল তাঁকে নেতা নির্বাচন করেনি, মেনে নিয়েছে মাত্র। ভবিষ্যতে, মায়ের অবর্তমানে, তিনি এই নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন কি? আমাদের মতো দেশে পরিবারতন্ত্রের দৌলতে রাজনৈতিক দলে যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই নেতার পদে বসা যায়। কিন্তু যোগ্যতা অর্জন ছাড়া তা ধরে রাখা শক্ত।

ইন্দিরা গান্ধী তো তাঁর ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর আকস্মিক মৃত্যুর পর বড় ছেলে রাজীব গান্ধীকে কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কংগ্রেসের নেতৃত্বে এনে বসিয়েছিলেন। রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। তাঁর আমলেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হয় এবং ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়। রাজীব স্বয়ং 'বোফোর্স স্ক্যান্ডাল' নামের দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন। তখন কংগ্রেস থেকে এ কথা বলা হয়নি যে এটা রাজীবের এবং কংগ্রেসের শত্রুদের সাজানো মামলা। তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চায়।

রাজীবের পর তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধীকে কংগ্রেস দল, কংগ্রেস সরকারের নেতৃত্বে আনার চেষ্টা চলছে। তাঁরও বয়স চলি্লশের ঊধর্ে্ব। তবে স্বশিক্ষিত নন, সুশিক্ষিত। চট করে মা সোনিয়া গান্ধীর হাত ধরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বর্ণসিংহাসনে বসে পড়েননি। তাঁকে প্রথমে কংগ্রেসের সাধারণ সদস্য হতে হয়েছে। নানা রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে হয়েছে। সেসব বিতর্ক মোকাবিলা করার মতো যোগ্যতা দেখাতে হয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে ভারতের মতো বিশাল দেশটি তাঁকে চষে বেড়াতে হয়েছে। প্রতিপক্ষের সমালোচনা, শত্রুপক্ষের গালমন্দ সহ্য করতে হয়েছে। তারপর দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের সমর্থনে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এখন আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা চলছে; তাও তিনি বলছেন, আমি এই পদে বসার জন্য এখনো প্রস্তুত নই।
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কোনো অভিযোগ নেই। দেশে মামলা-মোকদ্দমার ভয়ে তাঁকে বিদেশে পালিয়ে থাকতে হয়নি। তার পরও কংগ্রেসে তাঁর নেতৃত্ব এবং তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভারতে বিতর্কের অন্ত নেই। এখন কংগ্রেস ও সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং তাতে যোগ্যতা প্রমাণের আগেই তাঁকে যদি মাতামহ জওহরলাল নেহরুর আসনে বসিয়ে ১১ দিনব্যাপী তাঁর জন্মদিন পালন এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শন (কাঁঠালের আমসত্ত্বের মতো) নিয়ে দলীয় বুদ্ধিজীবীরা আলোচনা অনুষ্ঠান ও সেমিনার করা শুরু করেন, তাহলে সারা ভারতের মানুষ, এমনকি কংগ্রেসের সাধারণ নেতা-কর্মীরাও এটাকে একটা হাসির খোরাক 'সার্কাস' মনে করবে এবং কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ স্থায়ীভাবে অন্ধকারে ডুববে।

আর এই অবস্থায় রাহুলের সঙ্গে কোনো রকমেই তুলনীয় নন, এমন একজন তারেক রহমানের জন্মদিন পালন উপলক্ষে তাঁর মা এবং দল বাংলাদেশে ১১ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটা কি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তারেকের উত্থানকে সুগম করবে, না অসম্ভব করে তুলবে_এ কথাটা রাজা ক্যানিউটের সভাসদদের সঙ্গে বেগম জিয়ার সভাসদরা ভেবে দেখেননি। বরং তাঁরা কর্ত্রীরা ইচ্ছায় কীর্তনের সঙ্গে খোল বাজাতে শুরু করেছেন।

তারেক রহমানের জন্মদিনে ৪৭ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে উৎসব করলে বা একটা দিন দলের নেতা-কর্মীরা গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে একটু আমোদ-ফুর্তি করলে কারোই কিছু বলার ছিল না। আমি তারেক রহমানকে এখনো একজন রাজনৈতিক নেতা মনে করি না। ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিয়ে যথেচ্ছাচার করা ছাড়া তাঁর কোনো রাজনীতি আছে বলেও দেখতে পাই না। 'তারেকের রাজনৈতিক দর্শন' কথাটি শুধু হাস্যকর নয়, 'পিতলের সোনার কলস' প্রবাদটির মতো শোনায়।
তথাপি তাঁর জন্মদিনে তাঁর শুভ কামনা করতে, তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আমার দ্বিধা নেই। আমার শুভ কামনা হবে, তিনি সত্য সত্যই নিজেকে সাধারণ ও রাজনৈতিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করুন। হাওয়া ভবনের লেগাসি থেকে মুক্ত হোন। মামুন, বাবরদের মতো দুর্বৃত্ত-সঙ্গ ত্যাগ করুন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মামলাগুলো মোকাবিলা করুন। তাহলেই দেশের মানুষ তাঁকে বীর বলে অভিনন্দিত করবে এবং তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্বীকৃতি পাবে। নইলে সার্কাসের বাঘ সেজে বিদেশে বসে থাকলে এবং তিনি এক দিন বীরের বেশে দেশে ফিরে আসবেন এই দামামা পেটানো হতে থাকলে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীদের অনেকেই মুখ লুকিয়ে হাসবেন; প্রকাশ্যে জান বাঁচাতে বাহবা দেবেন।
তারেক রহমানের মতো এক বিতর্কিত চরিত্রের যুবকের জন্মদিন দেশে তাঁর পরিবার ও দল ১১ দিন ধরে পালনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন (?) আলোচনার নামে সেমিনার হতে পারে, তাকে 'বাংলাদেশের অহংকার' ও 'জননেতা' আখ্যা দিয়ে ঢাকা শহরের সব দেয়াল ভরে ফেলা হতে পারে_এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। আমার এক বন্ধু ঢাকা থেকে টেলিফোন করে বলেছেন, 'তারেক জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে শহরে যে ঘোড়ার গাড়ির মিছিল বের হয়েছিল, তা আপনি দেখেননি। দেখলে সার্কাস দেখার মজা পেতেন। এমনিতেই ঢাকা শহর এখন আর ঘোড়ার গাড়ির শহর নয়। হাতেগোনা যে কয়টি ঘোড়ার গাড়ি আছে, সেগুলোর সহিসরা যেমন বয়সের ভারে ক্লিষ্ট, তেমনি ঘোড়াগুলোও জীর্ণ-শীর্ণ। এই ঘোড়াগুলো যখন মিছিলে কাতর হ্রেসা রব তুলছিল তখন সাধারণ মানুষ মুখে কাপড় গুঁজে হাসছিল।'

আগেই বলেছি, দলের নেতা-কর্মীরা তারেকের জন্মদিন শোভন ও সংযতভাবে এক দিনে পালন করলে কারো কিছুই বলার থাকত না। তাঁর শত্রু-মিত্র সবাই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানাতে পারতেন। কিন্তু ১১ দিন ধরে 'রাসলীলার' মতো এই বাড়াবাড়ি কেন? যে জিয়াউর রহমানকে 'স্বাধীনতার ঘোষক' বলে বিএনপি দাবি করে, তাঁর জন্মদিন তো সাত দিন ধরে পালন করা হয় না। বেগম জিয়ার সরকারি-বেসরকারি জন্মদিবস তিন-চারটি। তার মধ্যে একটি তিনি ঘটা করে পালন করেন, তাও তো এক দিনের বেশি নয়। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আলোচনার নামেও তো দলের বুদ্ধিজীবীরা সেমিনার করেন না। তাহলে সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তির জন্মদিন পালনের এত অস্বাভাবিক বাড়াবাড়ি কেন? এই বাড়াবাড়ি করে তাঁর 'ফুলের মতো পবিত্র চরিত্র' কি ঢেকে রাখা যাবে?
বিএনপির সব কর্মসূচি এখন দল রক্ষার, দেশের মানুষকে রক্ষা করার নয়। মনে হয়, একমাত্র কর্মসূচি তারেক-রক্ষা। ১১ দিন ধরে তাঁর জন্মদিন পালন এই কর্মসূচিরই অংশ মনে হয়। এই কর্মসূচি অনুসরণ করতে গিয়ে বিএনপি যা করছে, তা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে। তাদের প্রচার, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মতো মামলা হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের সাজানো মামলা, মিথ্যা মামলা। অথচ এর অধিকাংশ মামলা হয়েছে এক-এগারোর আমলে। তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছেন সেই আমলে। তারপর তিনি দেশবাসীর কাছে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে এবং রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিদেশে চলে যান। আর এ পর্যন্ত ফিরে এসে মামলা-মোকদ্দমাগুলো মোকাবিলা করার সাহস দেখাননি। তবু ঢাক পেটানো হচ্ছে, তিনি বীরের বেশে দেশে ফিরবেন।

খালেদা জিয়ার দুই ছেলের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অবৈধ মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়েছে আমেরিকায় এবং বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তারেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার সাক্ষী আমেরিকার এফবিআইয়ের অফিসার ঢাকা এলে বিএনপি প্রচার করে আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে ভাড়া করে এনেছে। আমেরিকায় কোর্ট-কাচারি এবং শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কিনে ফেলতে পারে, এমন কথা যারা প্রচার করতে পারে, তাদের পক্ষেই ১১ দিন ধরে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন এবং তাঁর 'রাজনৈতিক দর্শন' আলোচনা করা সম্ভব।

বিএনপি রাজনীতির এই দেউলিয়া দশার মধ্যে সার্কাসের ভাঁড় সেজেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। কপালে বিলাতি শিক্ষার ছাপ থাকলেও তিনি চিরটা কাল রাজনৈতিক ভাঁড়ামি করেই কাটালেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধেও তো ১৯টি দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। তাতে কী হয়েছে? তিনি তা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাতেই বা কী হয়েছে? তিনিও তা থেকে বেরিয়ে আসবেন।'

এটা শুধু ভাঁড়ামি নয়, আত্মপ্রতারণাও, মাত্র দুই দিন আগে মওদুদ আহমদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তুলিত হওয়ার যোগ্য জিয়াউর রহমানও নন। কথাটি বলে দলের হাতে নাজেহাল হয়েছেন। এখন সেই মওদুদ রাত না পোহাতেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তারেক রহমানের তুলনা করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন। এদের সততা ও বিবেক সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা অন্যায় কি?

বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ১৯টি দুর্নীতির মামলা দিয়েছিল পাকিস্তানের আইয়ুব-মোনায়েম সরকার। তার একটিও উচ্চ আদালতের বিচারে টেকেনি। আর সেই মামলা এড়ানোর জন্য বঙ্গবন্ধু বিদেশে চিকিৎসার নাম করে চলে যাননি এবং বিদেশে অবস্থানও করেননি। তিনি প্রতিটি মামলা মোকাবিলা করেছেন এবং বিচারে বেকসুর খালাস পেয়ে বীরের মতো বেরিয়ে এসেছেন। প্রমাণিত হয়েছে, আইয়ুব-মোনায়েমের মামলাগুলো ছিল মিথ্যা এবং সাজানো।

মওদুদের শেষ বয়সের যে নেতাকে কাঁধে তুলতে বাধ্য হতে হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমাগুলো মিথ্যা এবং সাজানো হলে তিনি তা মোকাবিলা না করে বিদেশে অবস্থান করছেন কেন? আর যেখানে তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য মওদুদের মতো শত শত ব্যারিস্টার আইনজীবী রয়েছেন, যেখানে এই আইনজীবীদের হৈচৈয়ে আদালত কক্ষ পর্যন্ত কম্পমান।

বাংলাদেশের মানুষকে বোকা ঠাওরানো উচিত নয়। ১৫ আগস্ট তারিখের জাতীয় শোক দিবসে বেগম জিয়ার ঘটা করে জন্মদিন পালন যেমন তাঁর এবং তাঁর দলের জন্য কোনো সুফল দেয়নি, তেমনি তাঁর ছেলের জন্মদিন ১১ দিন ধরে ঘটা করে পালনও কোনো সুফল দেবে না। বরং দল ও দলের রাজনীতির জন্য বুমেরাং হতে পারে।

তবু তারেক রহমানের ৪৭তম জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাই।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে