Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১৩-২০১৯

ফেসবুকের সহজ পাঠ

নজরুল মিন্টো


ফেসবুকের সহজ পাঠ

সোশ্যাল মিডিয়া কি, এর প্রয়োজনীয়তা, এর প্রভাব সম্পর্কে কমবেশি সকলেই অবগত রয়েছেন। আমরা সোশ্যাল মিডিয়া বলতে শুধু ফেসবুক এবং টুইটার বুঝি। অবশ্যই এ দু'টি মিডিয়া বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়; তারপরও কিছু কিছু সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে যেগুলো প্রফেশোনাল কাজে, ব্যবসায়িক কাজে অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। যেমন লিঙ্কডইন, পিন্টারেষ্ট, উইচ্যাট, ইনষ্টাগ্রাম ইত্যাদি। অনেকে মনে করেন ইউটিউব একটি বিনোদন মাধ্যম; কিন্তু না, এটাও একটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফেসবুকের পরপরই ইউটিউবের জনপ্রিয়তা। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ এবং ম্যাসেঞ্জারও এখন তালিকার শীর্ষ দশে রয়েছে। এদিকে নির্দিষ্ট কিছু ভৌগলিক এলাকায় রয়েছে তাদের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া। যেমন রাশিয়াসহ বেশ কিছু ইউরোপিয়ান দেশে 'ভিকে' নামেের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারির সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে, চীনাদের মধ্যে 'কিউকিউ' নামের সোশ্যাল মিডিয়া খুব বেশি জনপ্রিয়। দক্ষিণ কোরিয়া, এবং জাপানেও তাদের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া আছে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন আর নিছক বিনোদন নয়; শিক্ষা, গবেষণায়, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কাজে এখন সোশ্যাল মিডিয়া বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে। 

কানাডার বিভিন্ন কলেজে ইতিমধ্যে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হিসেবে 'সোশ্যাল মিডিয়া' অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। বছর চারেক আগে টরন্টোর অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেনেকা কলেজ 'সোশ্যাল মিডিয়া'র ওপর একটি সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম চালু করে। এরকম কিছু একটার অপেক্ষায় ছিলাম। আমি মনে করি, যে যত বড় এক্সপার্টই হোন না কেন, প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকল্প নেই। ভর্তি হওয়ার জন্য যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করলাম। কিন্তু প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আমার অভিজ্ঞতা, ভাষার দক্ষতা, 'মিডিয়া ফাইন্ডেশন' এর সার্টিফিকেট সহ প্রি-রিকুজিটের একটি তালিকা চেয়ে সরাসরি আমার ইন্টারভিউ নিতে চাইলেন। এমনভাবে ইন্টারভিউর তারিখ দিলেন যখন এ প্রোগ্রামে আর কোন সিট অবশিষ্ট নেই। তাই সকল প্রস্তুতি থাকা সত্বেও ঐ বছর আর ভর্তি হতে পারলাম না। পরের বছর আর দেরি করলাম না; সব কাগজপত্র জমা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনের কাজ আগেভাগেই সম্পন্ন করলাম। উল্লেখ করা প্রয়োজন, এর আগে আমি সেন্টানিয়াল কলেজ থেকে 'ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল মিডিয়া'য় অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা এবং হাম্বার কলেজ থেকে ওয়েব ডিজাইন এবং গ্রাফিক্স এর ওপর কিছু জ্ঞান অর্জন করি। আমি একজন সার্টিফাইড ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল মিডিয়া (আই.ডি.এম) এক্সপার্ট। বিশেষ করে ফেসবুকসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন প্লাটফর্মে কাজ করে থাকি। 

আজকের এ নিবন্ধে কিছু টিপস দিচ্ছি যেগুলো আপনার কাজে লাগতে পারে।
আপনি জানেন কারা কারা আপনার ফ্রেন্ড লিষ্ট আছেন এবং কিভাবে তারা ফ্রেন্ড হয়েছেন। এ তালিকায় আপনার সহপাঠি যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন আপনার সহকর্মী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের বন্ধু, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সেলিব্রেটিরাও। এদের কাউকে আপনি ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠিয়েছেন, আবার কেউ আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠিয়েছেন। এই বন্ধুদের মধ্যে রয়েছেন নানান বয়সী, নানান পেশার, নানান মতবাদের লোকজন। আপনি নিশ্চয় চান না আপনার ষ্ট্যাটাস বা মন্তব্যের কারণে কেউ আপনার ওপর বিরক্ত হোক। 

কি ধরনের ষ্ট্যাটাসে বন্ধুরা বিরক্ত হতে পারেন:
ক) পলিটিক্যাল পোষ্ট, যা একঘেয়েমিপূর্ণ। 
খ) ব্যক্তিগত পোষ্ট যেটা 'আমি আমি' আর আমিত্বে ভরা। কি রাঁধলেন, কি খেলেন, মন খারাপ এসব অনর্থক বিষয়।
গ) ধর্মীয় উগ্রতা তথা সাম্প্রদায়িকতা; বিদ্বেষমূলক পোষ্ট।
ঘ) অসামাজিক পোষ্ট।
ঙ) কারো মর্যাদাহানি করার লক্ষ্যে পোষ্ট।
চ) ঘন্টায় ঘন্টায় যা তা বিষয়ে পোষ্ট।
ছ) নিজেকে সবজান্তা মনে করে পোষ্ট।
জ) শুধু শুধু একটা বিতর্ক তৈরি করার লক্ষ্যে পোষ্ট।
ঝ) অযথা ট্যাগ করা। 
ঞ) ইনবক্সে শুভেচ্ছা/অভিনন্দন জানানো।
ট) বিভ্রান্তমূলক, অসত্য (যাচাই না করে) কিছু শেয়ার করা। 

উল্লিখিত কারণে ফেসবুক অনেকেরই যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কতিপয় ব্যবহারকারী আছেন যাদেরকে ফেসবুক ইউজার না বলে ফেসবুক অ্যাবিউজার বলা চলে। তাদের অবিবেচনাপ্রসুত স্ট্যাটাস, কান্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য, তাদের ভাষার দক্ষতা, জ্ঞানের পরিধি এতই যন্ত্রণাদায়ক যে, অনেকেই এদেরকে আনফলো, কেউ কেউ আনফ্রেন্ড করে দিতেও বাধ্য হন। মনে রাখবেন, আপনার অসতর্কতার কারণে সুন্দর একটি প্লাটফর্মে আপনার সম্পর্কে আপনার বন্ধুদের মাঝে একটা বাজে ধারণা তৈরি হতে পারে।

পরামর্শ হলো:
১) আত্মপ্রচার থেকে বিরত থাকুন, সবাই আপনাকে সম্মান করবে। 
২) তথ্যমূলক পোষ্ট দিন, সবাই আপনাকে পছন্দ করবেন।
৩) অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন, সবাই আপনাকে ভালবাসবে। 
৪) বন্ধুদের ষ্ট্যাটাসে কোন ভুল কিছু দেখলে ইনবক্সে সতর্ক করুন। 

প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকের পাতা খুললেই কিছু বিভ্রান্তিমূলক ষ্ট্যাটাস চোখে পড়ে। অনেকে না বুঝেই এসব ষ্ট্যাটাস শেয়ার করেন। যার বেশিরভাগই মিথ্যা ও বানোয়াট। বিভিন্ন ধরনের পোর্টালের মালিক লাইক পাওয়ার জন্য, কিংবা নিজস্ব মতবাদ প্রচারের জন্য এসব কাজ করে থাকে। এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। লক্ষ্য করবেন, অনেকে ফটোশপ করা কোন ছবিকে বর্তমান কোন ইস্যুর সাথে জুড়ে দিয়ে আপনাকে ধোঁকা দিতে পারে। আপনি যদি এসব ভূয়া ষ্ট্যাটাস শেয়ার করেন তাহলে আপনার বিপদ অবশ্যাম্ভাবি। প্রথমতঃ রিপোর্ট করলে আপনার একাউন্টটি কর্তৃপক্ষ ব্লক করে দিতে পারে; এছাড়া আপনি আইনি ঝামেলায়ও পড়তে পারেন। অনেকে নানান ধরনের ভিডিও এডিট করে জোড়া-তালি দিয়ে, ভয়েস ওভার করেও মিথ্যা তথ্য প্রচার করে। এদের থেকেও সাবধান থাকতে হবে। মাঝে মধ্যে দেখবেন আপনার বন্ধুদের কেউ কেউ ইনবক্সে ধর্মীয় কিছু পাঠিয়ে বলবে এটা আরও দশজনকে ইনবক্স না করলে আপনার ক্ষতি হবে। কেউ কেউ মানবিক কোন বিষয়কে পূঁজি করেও স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। আপনি সচেতন থাকলে কেউ আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। আপনাকে দেখতে হবে, ম্যাসেজটির সূত্র কোথায়, কোন পোর্টাল থেকে নিউজটি এসেছে, কোন চ্যানেল থেকে ভিডিওটি এসেছে। এগুলো যাচাই করে দেখা কঠিন কিছু নয়; আপনি গুগলের সাহায্য নিয়ে আদ্যপান্ত দেখে নিতে পারেন। একেবারে সহজ হচ্ছে টিক চিহ্ন দেখে যাচাই করে নিন ফেসবুক/ইউটিউব একাউন্টটি ভ্যারিফাইড কি না! 

আপনার কোন ফেসবুক বন্ধুর ছবিসহ 'এওয়ার্ড লাভ' এর পোষ্ট আপনার চোখে পড়েছে কি? অথবা বিশাল সংবর্ধনা? কি কারনে, কোন যোগ্যতায়, কোন মাপকাঠিতে তিনি এওয়ার্ড পেলেন বা সংবর্ধনা পেলেন এটা উল্লেখ না করলে বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। আবার এওয়ার্ড বা সংবর্ধনা প্রদানকারী সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না সেটাও বিবেচ্য বিষয়। দেখা গেছে, বড় বড় মনীষীদের নামে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ভূয়া এওয়ার্ড অথবা সংবর্ধনা চাহিদা মাত্র পাওয়া যায়। আজকাল সকলেই এ বিষয়ে কমবেশি জ্ঞান রাখেন। অতএব নিজের সম্মান বজায় রাখুন। সস্তা পাবলিসিটি থেকে বিরত থাকুন। ভাববেন না আপনার বন্ধুদের তালিকায় যারা রয়েছে তারা সব আবাল। 'গুগল' করলে সব বেরিয়ে পড়বে।

আপনি হয়তো জানেন, আপনার ষ্ট্যাটাসটি আপনি 'কেবলমাত্র বন্ধুদের জন্য', 'সকলের (পাবলিক) জন্য', অথবা 'অনলি মি' (যা ভবিষ্যতে আপনার পছন্দের সময়ে পোষ্ট করার জন্য) করে রাখতে পারেন। 'কেবলমাত্র বন্ধুদের জন্য' এ ষ্ট্যাটাসটি কোন বন্ধুর ওয়াল থেকে আপনি কপি করে পাবলিকলি দিতে যাবেন না; দেয়া উচিত নয়। আরেকটা কথা মনে রাখবেন, আপনি ষ্ট্যাটাস দিলেই আপনার সব বন্ধুদের কাছে সেটা নাও পৌঁছুতে পারে। ফেসবুক আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে ফিল্টারিং করে থাকে। 

অর্থ উপার্জনের সূর্বণ সুযোগ:
আপনি ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। সৃজনশীলতার মূল্য পৃথিবীর সর্বত্র। আপনার এ গুণ কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। সম্প্রতি ফেসবুক 'অ্যাডব্রেকস' নামে ব্যবহারকারীদের একটি সুবিধা দিয়েছে। ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে আপনি ভাল আয় করতে পারবেন। তবে ভিডিওটি হতে হবে আপনার নিজস্ব। একইভাবে ইউটিউবে আপনি একটি চ্যানেল খুলে হাজার হাজার ডলার উপার্জন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উভয় প্লাটফর্মে আপনাকে ফলোয়ার বাড়াতে হবে। (এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্য কোন নিবন্ধে করার ইচ্ছে রইলো)। 

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ১.৫ বিলিয়ন ব্যবহারকারি ফেসবুকে লগ-ইন করে থাকেন। অনলাইনে পণ্যের কেনাবেচার জন্য এখন বড় বড় কোম্পানীগুলো যেমন ফেসবুকের দিকে ঝুকছে, তেমনি রোজগারের সুযোগও করে দিয়েছে ফেসবুক। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো ফেসবুক গুছিয়ে রাখবেন। নিজ নামে আইডি খুলুন। আপনার প্রোফাইলটি সুন্দর করে লিখুন। ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করলে আপনার পরিচয়পত্রের সাথে আপনার নাম ঠিকানার মিল থাকতে হবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপনার একাউন্টটি নিরাপদ রাখবেন। আর নিরাপত্তার জন্য টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ফিচারটি ব্যবহার করুন। হ্যাক হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। 

প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে। অ্যাপসগুলোর আপডেট ভার্সন ডাউনলোড করুন; নিজেকে সবসময় আপ-টু-ডেট রাখুন। 

নজরুল মিন্টো
লেখক, সাংবাদিক
সার্টিফাইড ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল মিডিয়া (আইডিএম) বিশেষজ্ঞ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে