Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১২-২০১৯

উচ্চ আদালতে বাংলায় রায়, এগিয়ে তিন বিচারপতি

এম বদি-উজ-জামান


উচ্চ আদালতে বাংলায় রায়, এগিয়ে তিন বিচারপতি

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি- নদী রক্ষায় ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন একটি রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ। তবে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল মূল রায়টি দেন বাংলায়। আশরাফুল কামাল ছাড়াও বিচারপতি ড. কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনও অবশ্য নিয়মিত বাংলায় রায় ও আদেশ দিয়ে আসছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে মোট ৯৯ জন বিচারপতি আছেন। এর মধ্যে বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই তিনজনই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

সর্বক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে ৩০ বছর আগে আইন হলেও আদালতের বিচারকাজে তা আজও কার্যকর হয়নি। আর আদালতসহ সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে আট বছর আগে আইন কমিশনের করা সুপারিশও কার্যকর করেনি সরকার।

২০১৪ সালে দেশের সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন আইন অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু দেশের আদালতগুলোতে বিশেষ করে উচ্চ আদালতে মামলার শুনানি, আদেশ ও রায় লেখা হয় ইংরেজিতে। তবে আশার কথা হলো, উচ্চ আদালতে বাংলার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাংলায় শুনানির পাশাপাশি রায় ও আদেশ দেওয়ার আগ্রহ আগের চেয়ে এখন বেশি দেখা যায়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিভিন্ন মামলার রায় এখন বাংলায় দেওয়া হচ্ছে। কোনো মামলার রায়ে আবার বাংলা ও ইংরেজির মিশেল থাকছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ করে হাইকোর্ট বিভাগে অধিকাংশ শুনানিই হচ্ছে বাংলায়।

জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চ আদালতে মাতৃভাষায় বিচারকাজ চলে। ওই সব দেশের বিচারপ্রার্থীরা মামলার শুনানি ও রায় সহজেই যাতে বুঝতে পারেন, সে জন্য উচ্চ আদালতের সওয়াল, জবাব, রায় ও আদেশ চলে তাদের মাতৃভাষায়।

বিদেশি মামলার নজির, ইংরেজিতে অধিকাংশ আইনের বই লেখা এবং যথাযথ প্রতিশব্দ না থাকাকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া বিচারপতিদের ডিকটেশন বেঞ্চ কর্মকর্তারা সহজে বাংলায় লিখতে না পারাও একটা কারণ বলে মনে করেন কেউ কেউ।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ করে হাইকোর্টের অনেক বিচারপতি বাংলায় রায় বা আদেশ লিখছেন। এটা দিন দিন বাড়ছেই।’ তিনি বলেন, ‘আইনের বই ইংরেজিতে লেখা। প্রতিনিয়ত বিদেশি আদালতের ঐতিহাসিক রায় নজির হিসেবে দেখাতে হয়। এসব রায় ইংরেজিতে হওয়ায় আইনজীবী ও বিচারপতিদের কাছে ইংরেজি ভাষা সহজতর। এ কারণেই ইংরেজিতে রায় বা আদেশ বেশি লেখা হয়।’

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে মো. আশরাফুল কামাল, ড. কাজী রেজা-উল হক ও শেখ মো. জাকির হোসেন ছাড়া আরো কয়েকজন বাংলায় রায় ও আদেশ দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে এ এফ এম আবদুর রহমান, মো. আবু তারিক, এম. ইনায়েতুর রহীম ও মোস্তফা জামান ইসলাম রয়েছেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বিভিন্ন মামলায় বাংলায় রায় দিয়েছেন। এ বি এম খায়রুল হক হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকার সময় প্রায়ই বাংলায় রায় ও আদেশ লিখতেন। এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতিদের মধ্যে এম আমীরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী এবাদুল হক কিছু মামলায় বাংলায় রায় দিয়েছিলেন।

এমএ/ ০৫:৩৩/ ১২ ফেব্রুয়ারি

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে