Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ , ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-০৯-২০১৯

বর্ণমালা না চেনায় প্রথম শ্রেণির শিশুকে শিক্ষকের মারধর!

বর্ণমালা না চেনায় প্রথম শ্রেণির শিশুকে শিক্ষকের মারধর!

ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি- অ আ বর্ণ চিনতে না পারায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে ক্লাসে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পাটুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপালী রাণী সরকার ডলি’র বিরুদ্ধে । আহত ছাত্রের নাম কাশেম (৫)। প্রধান শিক্ষকের বেতের আঘাতে কাশেমের ডান হাতের কব্জি ফুলে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষকের দাবি, সেদিন ওই ক্লাসেই তিনি যাননি।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাটুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় কাশেমের বাবা সেদিনই ওই প্রধান শিক্ষকের কাছে এবং আজ  শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

আহত কাশেমের বাড়ি বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাটুরিয়া গ্রামে।

শিশু কাশেমের বাবা কালাম খন্দকার জানান, ‘এ বছরের জানুয়ারি মাসে ওই স্কুলে তার ছেলে কাশেমকে ভর্তি করান। তার ছেলে এখনও বর্ণ চিনে উঠতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার সকালে কাশেম স্কুলে যায়। ছেলের কাছে শুনেছেন, প্রধান শিক্ষক দিপালী রাণী সরকার ডলি এদিন তাদের বাংলা ক্লাস নেন। তিনি ক্লাসের আর সবার মতো কাশেমকেও অ আ দেখিয়ে বর্ণগুলো চেনে কিনা তা জিজ্ঞাসা করেন। কাশেম বর্ণ না চেনায় পড়া বলতে পারেনি। এজন্য তিনি কাশেমকে বেত দিয়ে মার দিলে সেটি তার ডান হাতের কব্জিতে লাগে। কাশেমের প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। তার সহপাঠী ও আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী কাশেমকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছেলেকে মধুখালী হাসপাতালে নিয়ে যাই। কব্জি ফুলে যাওয়ায় চিকিৎসক তার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন।’

কালাম খন্দকার আরও বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাশেমকে কেন মারধর করলেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা ডলি ঘটনাটি অস্বীকার করেন। তিনি আমাকে বলেন, তোমার ছেলেকে নিয়ে গিয়ে অন্য স্কুলে পড়াও, এ স্কুলে আর পড়ানো হবে না। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাটুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিপালী রাণী সরকার ডলি বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন ঐ ক্লাসেই যাইনি। কোনও শিক্ষার্থীকে মারধরও করিনি।’ তাহলে কাশেমকে মারধর করলো কে এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে স্কুলের অন্য কোনও শিক্ষক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন,আমি বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে ঐ বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা জানান,বিষয়টা আমাদের নলেজে এসেছে। তবে এখনও লিখিত কোনও অভিযোগ পাইনি। তারপরও আমরা বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রাথমিক তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ক্লাসে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ২০১১ সালে বেত্রাঘাতসহ আট ধরনের শাস্তি নিষিদ্ধ করে সরকার। কোনও শিক্ষক বা স্কুল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এমএ/ ৯:০০/ ০৯ ফেব্রুয়ারি

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে