Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ , ২৮ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৪-২০১৯

পাক হত্যাযজ্ঞের কথা জানত না আরব দুনিয়া: আল-আরিশি

হক ফারুক আহমেদ


পাক হত্যাযজ্ঞের কথা জানত না আরব দুনিয়া: আল-আরিশি

মিসরের কথা যদি বলি তাহলে সেখানকার পাকিস্তান দূতাবাস স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বেশ সখ্য বজায় রাখে। শুধু মিসরই নয়, বিভিন্ন আরব দেশগুলোর মিডিয়াতেই পাকিস্তানের নানা কার্যক্রম ছড়িয়ে আছে। যে কারণে পাকিস্তান সম্পর্কে সেখানকার নাগরিক সমাজের নানা পর্যায়ে ধারণাটা বেশ উচ্চ। কিন্তু আমার বইটি প্রকাশ হওয়ার পর মিসর তো বটেই, আরব দুনিয়ায় এ ভাবনাটা পাল্টাতে শুরু করে।

পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ হয়েও ১৯৭১ সালে আরেকটি মুসলিম দেশ বাংলাদেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে- এটা আরব দুনিয়া জানত না। আরব দুনিয়া আরও বিস্মিত হয়েছে এটা জেনে যে, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাকে আল কায়দা বা মৌলবাদী গোষ্ঠীরা যত মানুষকে হত্যা করেছে পাকিস্তানিরা ১৯৭১ সালে তার চাইতে অনেক বেশি বাঙালিকে হত্যা করেছে।

কথাগুলো বলছিলেন আরব বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম দৈনিক ‘দ্য ইজিপশিয়ান গেজেট’ এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও লেখক মিসরের সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি। তার রচিত ‘হাসিনা : হাকাইক ওয়া আসাতির’ গ্রন্থটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ইতিহাসভিত্তিক আরবি ভাষার প্রথম গ্রন্থ যা এখন ইংরেজি ও বাংলায় অনূদিত হয়েছে। বইটির বাংলা অনুবাদ ‘শেখ হাসিনা : যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়া হয়। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বইটির বাংলা অনুবাদ করেন ইসফানদিয়র আরিওন।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলাদেশের আমন্ত্রণে এসেছেন মোহসেন আল-আরিশি। রোববার ঢাকার একটি অভিজাত ক্লাবে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানিদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, বর্তমান বাংলাদেশ, তার পরবর্তী বই নিয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন।

তার লেখা বইয়ের ৫৩টি ভাগে অতি প্রাঞ্জল ভাষায় বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অংশ উঠে এসেছে। বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আরবি ভাষায় গ্রন্থ প্রকাশের আগ্রহ কেন হল জানতে চাইলে মোহসেন আল-আরিশি বলেন, সত্যি কথা বলতে মিসর তো বটেই, আরব দুনিয়া বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছুই জানত না। যতটুকু জানত তা নেতিবাচক। বাংলাদেশ প্রাকৃতির দুর্যোগের দেশ, গরিব দেশ- এমনটাই ধারণা। এমনকি সেটা আমারও। এ বাংলাদেশকে নিয়েই আমার পত্রিকায় বেশ কিছু প্রতিবেদন হয়।

তখন মিসরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন মিজানুর রহমান। তিনি একদিন আমাকে বললেন, তুমি না জেনে আমার দেশকে কেন পত্রিকায় উপস্থাপন করছ। বাংলাদেশ এক অতি সমৃদ্ধশালী দেশ, যা এগিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তখন আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। তারপর তিনি মিসরের একদল সাংবাদিক নিয়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান। এটা আরও ৬-৭ বছর আগের কথা বলছি। তখন আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে শুরু করলাম।

বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে গেলাম। পুরো ইতিহাস জানলাম এবং এ ইতিহাস নিয়ে আরবি ভাষায় লেখার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। মিজানুর রহমান আমাকে অনুপ্রাণিত করলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নানা সহযোগিতা পেলাম। তারপর মিসরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে এলেন ওয়াহিদুর রহমান। তিনি আমাকে বইটি আরব দুনিয়ার নানা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বললেন। এরপর আরও কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছি বই লেখার তথ্য-উপাত্তের জন্য। এরপর মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাসে কাউন্সেলর ও সিডিএ (বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক) হয়ে এলেন শফিকুর রহমান। তিনি সার্বক্ষণিক তথ্য-উপাত্তসহ নানা সহযোগিতা করলেন এবং বইটি প্রকাশ হল।

২০১৭ সালের মার্চে আরবি ভাষায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে ইতিহাসভিত্তিক ‘হাসিনা : হাকাইক ওয়া আসাতির’ বইটি প্রকাশ হল। মোহসেন আল-আরিশি বলেন, অনেক অজানা সত্য আরব দুনিয়ার মানুষের চোখের সামনে এলো। পাকিস্তানিদের আসল চেহারা ফুটে উঠল। আর একটি প্রায় ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্র কিভাবে একজন মুসলিম নারী রাষ্ট্রপ্রধানের হাত ধরে উন্নয়নের যাত্রায় ছুটে চলছে সেটা ফুটে উঠল। আমার বইয়ে আমি জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করেছি। সেজন্য আমার নিজ দেশেও আমাকে কিছু মানুষের দ্বারা হেনস্তা হতে হয়েছে।

এটি একটি ইতিহাস নির্ভর বই, আপনি কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করলেন- জানতে চাইলে মোহসেন আল-আরিশি বলেন, যেহেতু আমি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছি তাই সেখান থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছি। আর ওয়াহিদুর রহমান নিজেও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি কায়রোতে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধের অনেক সত্য গল্প আমাকে বলেছেন। যেগুলো আমি আমার ভাষায় উপস্থাপন করেছি। এটি অনেকটা একটা ঐতিহাসিক উপন্যাসের মতো।

বইটি প্রকাশের পর মিসর তথা আরব দুনিয়ার সাধারণ মানুষের কি ধরনের মন্তব্য পেয়েছেন- উত্তরে লেখক বলেন, প্রথমত, পাকিস্তানের ভূমিকা স্পষ্ট হল। অনেক সাধারণ মানুষও বলল, আজকে আরব দুনিয়ায় জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীকে দমনের জন্য আন্তর্জাতিক মিলিটারি অ্যালায়েন্স কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে একা লড়তে হয়েছে। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের অন্যতম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশ নারী উন্নয়নসহ সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে- এটা সবাইকে বিস্মিত করেছে। আপনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বইটি নিয়ে কি বলেছেন জানতে চাইলে মোহসেন আল-আরিশি বলেন, এত বিশাল পরিসরে আরবি ভাষায় বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস তুলে ধরার জন্য তিনি আমাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু কথা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ওনার কাছে জানতে চাইলাম, আন্তর্জাতিক নানা সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকির সতর্কবার্তা দেয়া হলেও কেন আপনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে এলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বললেন, ‘আমার বাবাকে হত্যার ট্র্যাজেডি আমাদের ৩২ নম্বরের বাড়ির দরজাতেই শেষ হয়নি। প্রতিটি বাঙালির দুয়ারে এটা কড়া নেড়েছে। আমাকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমার জীবন তাদের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়।’

মোহসেন আল-আরিশিকে তার লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে বলেন, আমি বাংলাদেশকে নিয়ে আরেকটি বই লিখতে যাচ্ছি। ’৭১-এর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশ কিভাবে তাদের আজকের অবস্থানে উঠে এসেছে সেটি বিশদভাবে আসবে। এ বইটি ইংরেজিতে লিখব। শিরোনাম হবে ‘রাইজিং ফ্রম দ্য এশেজ’। তবে এটি আরবিতেও অনূদিত হবে।

এমএ/ ০৪ ফেব্রুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে