Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০৩-২০১৯

সেই সুলতান এই সুলতান যোগ দিন সংসদে

নঈম নিজাম


সেই সুলতান এই সুলতান যোগ দিন সংসদে

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ কি জাতীয় সংসদে যোগ দেবেন? সুলতান ভাইয়ের অবস্থান সংসদে যোগদানের পক্ষে। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষও তাকে সংসদে দেখতে চান। গণফোরামের আরও একজন এমপি রয়েছেন। তার নাম মোকাব্বির। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জের এমপি। একসময় এই আসনের এমপি ছিলেন বিএনপির ইলিয়াস আলী। ভীষণ জনপ্রিয়তা ছিল তার। কিন্তু রাজনীতির মারপ্যাঁচে ইলিয়াস নিখোঁজ। তার পরও সাধারণ মানুষ আজও তাকে ভুলতে পারছে না। আর সে কারণেই বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জে জয়ী গণফোরামের উদীয়মান সূর্য। মোকাব্বিরের আলাদা কোনো ক্যারিশমা ছিল না।

ভোটের আগে ইলিয়াস আলীর পুত্র মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। আর ইলিয়াসপত্নী ভোট করতে পারেননি আদালতের আদেশে। সঙ্গে সঙ্গে ভাগ্য খুলে যায় মোকাব্বিরের। লন্ডন থেকে এসে শখের বশে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। গণফোরাম থেকে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ চেয়ে পাননি। দাঁড়ালেন উদীয়মান সূর্য নিয়ে। ভোটের শখ বলে কথা। বাস্তবতা বুঝে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন। গিয়েছিলেনও ডিসি অফিসে।

কিন্তু একটু বিলম্বে যাওয়ার কারণে প্রত্যাহার করা হলো না। সময় ফুরিয়ে গিয়েছিল। উপায় না থেকে উদীয়মান সূর্য নিয়ে মাঠে নামেন মোকাব্বির। ইলিয়াসপত্নীর সমর্থনে জয়ীও হন। আর গণফোরাম এই প্রথমবারের মতো তাদের প্রতীকে আসন পেল সংসদে। এরই নাম কপাল! তার পরও সেই মোকাব্বিরকে নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না গণফোরাম।

ড. কামাল হোসেন বলছেন, তার দল সংসদে যাবে না। মোস্তফা মহসীন মন্টুরও একই সুর। এ অবস্থায় এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। সুলতানের সামনে দুই পথ খোলা- এক সংসদে যাওয়া। আরেকটা সংসদে না যাওয়া। দেশবাসী তাকিয়ে আছে সুলতানের দিকে। ব্যক্তিগতভাবে সুলতান ভাইকে দীর্ঘ সময় থেকে জানি। ছাত্রলীগের সভাপতি থাকার সময় থেকে এই সম্পর্কের বন্ধন। অনেকের মাঝে সুভাষ সিংহ রায় ও আমাকে তিনি স্নেহ করতেন। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বলতেন রিকশায় ওঠো। তিনি পালাতে যেতেন নয়াপল্টনের একটি হোটেলে। সঙ্গী-সাথী আমরা দু-এক জন। অনেক সময় খবর পাঠাতেন খুব ভোরে ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে যাওয়ার জন্য। সেখানে থাকতেন তিনি। যেতাম। আমার সঙ্গে কথা বলতেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তারপর বের হতাম একসঙ্গে। সেই সুলতান ভাইয়ের সঙ্গে আজকাল কথা কম হয়। তার কথা বলার ধরন সব সময় একরকম। তাই টেলিফোন রেকর্ডের এই যুগে যত কথা কম তত ভালো। তবে মানুষটার জন্য শুভ কামনা সব সময়। তাকে নিয়ে অনেকের সমালোচনা দেখি। তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। এই লম্বা সময়ের রাজনীতিতে এমন সৎ, নিষ্ঠাবান মানুষ খুব কম দেখেছি।।

দীর্ঘ সময় রাজনীতি করছেন, অথচ একটি গাড়িও নেই তার। এই শহরে পারিবারিক টাকায় কেনা ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মগবাজারে। মেয়ের বিয়ের সময়ও দেখেছি আর্থিক টান। সুলতানের সততা তিনি ভিতরে-বাইরে এক। জটিলতায় জড়িয়ে নিজেকে আড়াল করতে পারেন না। কুটিলতা তাকে স্পর্শ করে না। অনেকে ভিতরে এক বাইরে আরেক। সুলতান ভাই তা নন। রাজনীতিটাই করেন গভীর মমতা দিয়ে। চেষ্টা করেন টিকে থাকার জন্য। আর টিকে থাকতেই সুলতান গণফোরামে। তার পরও সুলতানের হাতে ধানের শীষ আমারও ভালো লাগেনি। কথাটা তাকে ভোটের আগে বলেও ছিলাম।

আমাদের অনেক বন্ধু আমাকে বলেছেন, সুলতান ভাই কাজটা কী করলেন? জবাব দিয়েছিলাম, তিনি তো বিএনপিতে যাননি। গণফোরামে গেছেন। ড. কামাল হোসেন তো বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। সুলতান ভোটের জোটে গেছেন। চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। মন তার পড়ে আছে বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ায়। নিয়মিত কুলাউড়ার ভোটের খবর নিতাম। স্থানীয় আওয়ামী লীগাররা গোপনে সুলতান মনসুরের পক্ষে- খবর পেতাম। আর স্থানীয় বিএনপি গোপনে এম এম শাহীনের পক্ষে। বাস্তবতা সুলতানও বুঝতেন। তাই মুজিবকোট পরেই ভোটের প্রচারণায় অংশ নিতেন। জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করতেন। এক মুহূর্তের জন্যও মনের আবেগ থেকে সরতে পারেননি। আদর্শিক চিন্তা থেকে সরেননি। এ নিয়েও সমালোচনার ঝড় ছিল। সামাজিক গণমাধ্যমে ধোলাই ছিল। সিলেটে হামলার শিকার হন। কেউ কেউ তার মুজিবকোট ছিঁড়ে ফেলারও চেষ্টা করেন। সব দেখেও সুলতান এক মুহূর্তের জন্য মুজিবকোট খোলেননি। সমালোচকদের জবাব দিয়েই সুলতান জয়ী হয়েছেন। মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের সময়ও। তার পরও প্রশ্ন উঠেছে- সুলতান সংসদে যাবেন কিনা?

এমএ/ ০৩ ফেব্রুয়ারি

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে