Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (42 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৫-২০১৩

লুন্ঠিত সমাজের পাশে দাঁড়িয়ে

ফকির ইলিয়াস



	লুন্ঠিত সমাজের পাশে দাঁড়িয়ে

হঠাৎ করেই গোলাম মাওলা রনি এমপি কে গ্রেফতার করা হয়ে হয়েছে। খবর বেরিয়েছিল, তিনি জামিন নিয়েছেন। সরকার দলীয় একজন এম পি এমনভাবে গ্রেফতার হওয়া বড় খবর তো বটেই !

সালমান এফ রহমান ও গোলাম মাওলা রনি দুজনেই আওয়ামী লীগ নেতা। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। রনির অভিযোগ, সালমান শেয়ার বাজার কেলেংকারীর মূল হোতা। আর সালমান রহমানের ' ইনডিপেনডেন্ট টিভি'র বক্তব্য হচ্ছে - রনি একজন চরম দুর্নীতিবাজ। ' তালাশ' করতে গিয়ে গোল বেঁধেছে। রনি হাত তুলেছেন সাংবাদিকদের উপর। যা একান্তই একটি গর্হিত কাজ। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই মারামারির ঘটনায় গোটা দেশ যখন উন্মাতাল তখন আওয়ামী লীগের কেউ কেউ রেফারির ভূমিকা নিয়েছেন। সাংবাদিক নির্যাতনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, এজন্য সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে সংসদ ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি বলেছেন-রনির ঘটনা দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
রনির বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- জানতে চাইলে হানিফ বলেন, রনি দলের কোনো পর্যায়ের নেতা না, আওয়ামী লীগ মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য। তার বিরুদ্ধে সংসদ ব্যবস্থা নিতে পারে। একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা দরকার। এই গোলাম মাওলা রনি, বিভিন্ন টকশো-তে আওয়ামী লীগের সমালোচনায় মুখর ছিলেন। যে সমালোচনাকে অনেক সময় বাঘা বাঘা সাংবাদিকরাও প্রশংসা করেছেন। রনি, তার বক্তব্যে মাওলানা সাঈদির পক্ষেও কথা বলেছেন । এমন লেখালেখিও ব্লগ, ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, আওয়ামী লীগের ভুল নীতির প্রতিবাদ করে রনি কিন্তু তার এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। যা সচরাচর উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের এম পি -রা করেন।
রনি একতরফা ভাবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব সহ নীতি, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল, নগর নির্বাচনে হার, শেয়ার বাজার বিভিন্ন বিষয়ের কঠোর সমালোচনা করেই যাচ্ছেন। এই যে সমালোচনা তিনি করছেন, তা কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর দেখে না ? অথবা অন্যভাবে বলা যায়, এসবের প্রতিবাদে রনি কেন পদত্যাগ করে নি ?
রনি একটা ওয়েবপোর্টালের সম্পাদক। তিনি ' ডিফারেন্টনিউজবিডি ডট কম ' নামে একটি ওয়েব দৈনিকের কর্ণধার হিসেবে সেখানে নিয়মিত কলাম লিখেন। এই মারামারির ঘটনার সময় তিনি তার ওয়েবপোর্টালে লিখেছেন- '' দরবেশের সঙ্গে আমার কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বানিজ্য নেই। রাজনৈতিক বা পারিবারিক দ্বন্দ ও নেই। কেবলমাত্র আদর্শ ও নীতিবোধ থেকে তার কিছু কাজের আমি কঠোর সমালোচক সেই প্রথম দিন থেকেই।  এরই ধারাবাহিকতায় টেলিভিশন টক শো এবং পত্র পত্রিকায় তার কর্মকান্ড নিয়ে কিছু বক্তব্য দিয়েছি। 
মনে হচ্ছে হুজুরের আতে ঘা লেগেছে। তিনি বেসামাল হয়ে পড়েছেন এবং সম্ভবত আমার বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করছেন। তার ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে যে, কোন নির্মম হত্যাকান্ড ঘটাতেও তার হাত কাঁপবে না।
মৃত্যুকে আমি ভয় পাইনা এবং তা যদি দুর্নীতিবাজ কাপুরুষ কর্তৃক হয় তবে তো শহীদি মর্যাদা পাবো। আমার বক্তব্য বা আচরণে যে কেউ সংক্ষুব্ধ  হতে পারেন। 
পারেন আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। কিংবা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আমার মত বক্তৃতা, বিবৃতি বা লিখার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আমার বক্তব্যের প্রতিবাদও জানতে পারেন। অথবা আলোচনার মাধ্যমে আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন।''
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা সালমান রহমান ও গোলাম মাওলা রনির এই স্নায়ুযুদ্ধে কি ভূমিকা রেখেছিলেন ? সমস্যা এখন
অনেক আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে। এসব সিনিয়র নেতারা নির্বাচন সামনে রেখে এসব বিষয়ের ফয়সালা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেন ?
আমার কাছে একটি বিষয় খুব খটকা লাগে গোলাম মাওলা যা বলেন তার সবকিছু কি তিনি বুঝে বলেন ? একটা উদাহরণ দেয়া যাক। 
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদন্ডের রায় ঘোষণার পর অন্য আসামীদের রায়ের ব্যাপারেও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তরুণ সাংসদ গোলাম মাওলা রনি।
জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের রায়ের পর ফেসবুকের ওয়ালে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। ফেসবুকের ওয়ালে দেয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল।
 
''আমরা ৭০ এর দশক থেকেই গোলাম আজমের ফাঁসির দাবি শুনে আসছি আর তখন দেশবাসী সাঈদী বা কাদের মোল্লার নামও জানতো না। এই রায়ের পর নিশ্চিন্তে বলা যায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কী হবে কারণ সাফাই সাক্ষী দেবেন সালমান এফ. রহমান। এই লোকটিকে যখন বড় বড় জায়গায় আমাদের মাথার ওপর দেখি তখন আর যুদ্ধ অপরাধীর বিচার চাওয়ার নৈতিক মনবল থাকে না। শেয়ারবাজার ব্যাংক কেলেঙ্কারিসহ নানা ঘটনায় সরকারকে বিব্রতকারী যদি সরকারের কলিজার ওপর দাপায় বেড়ায় তখন বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে একাই স্বাভাবিক।
আজ বাঙালি জাতির কতিপয় দূর্বৃত্তদের জুলুম, অবিচার ও না ফরমানী দেখে স্বয়ং ইবলিশ শয়তান এদেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে আর যাবার সময় অবাক বিস্ময়ে বলে গেছে- হায় আল্লাহ! ওরা এসব শয়তানী শিখালো কি করে? এদেশে থাকলে আমাদের শয়তানী চরিত্র কলুষিত হয়ে পড়বে এবং আল্লাহ্র ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে পড়বে…
হে আমাদের প্রিয় আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদি আপনার কাছে মাফ চাই। আপনাকে আসলেই চাঁদে দেখা গিয়েছিল। আমরা বুঝতে পারিনি। সরি… ''
কথা হচ্ছে, নির্বাচনী সনদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার ওয়াদা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। সেই নির্বাচনের এম পি গোলাম মাওলা রনি। তিনি এমন কথা বললেন কেন- যা প্রকারান্তরে ঘাতক-দালাল-রাজাকরদেরকেই সমর্থন যোগায়। 
অন্যদিকে খবর বেরিয়েছে, সালমান এফ রহমান সাফাই সাক্ষ্য দেবেন একাত্তরের নরঘাতক হোতা সা কা চৌধুরীর পক্ষে ! তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়াচ্ছে ? তথাকথিত ব্যক্তিস্বাধীনতা তো কোনো ' ওয়াতন' প্রতিষ্ঠার নামে একাত্তরে গণহত্যা গ্রাহ্য করেনি। তাহলে আজ কোন যুক্তিতে আওয়ামী লীগের নেতা রনি কিংবা সালমান এমন ভূমিকা নিচ্ছেন ?
আমরা দেখেছি, টিভির টকশোতে রনি যা বলেছেন- তা সরকারের সমালোচনা হলেই বিএনপি-জামাতের নেতারা বাহবা দিয়েছেন। সেই রনির এখন হাত উঠেছে সাংবাদিকের উপর। এমন জঘন্য মানসিকতা নিয়েই আমাদের জনপ্রতিনিধি ! কী আজব একটা জংলি পরিবেশে বাস করতে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে।
খবর বেরিয়েছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভেতর  এক শিক্ষককে পিটিয়েছেন এমপি গোলাম রেজা। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রেজার হাতে লাঞ্ছিত ওই শিক্ষকের নাম রবিউল ইসলাম। ওই শিক্ষক উপজেলার গাবুরার ইউনিয়নের ৬৮ নং খলিসাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। এ সময় পালিয়ে বেঁচেছেন ধনঞ্জয় নামের আরেক শিক্ষক। এ কেমন সমাজে বাস করছে বাংলাদেশের মানুষ !
গেল সাড়ে চারবছরে ক্ষমতাসীন এম পি-দের কেউ কেউ কত জঘন্য অপকর্ম করেছেন তার ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ। আর কয়েকমাস পরই তাদেরকে এর মাশুল দিতে হবে। সামনেই নির্বাচন। আমার মনে হয় না, রনি আবার তার আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। হাঁ, তিনি স্বতন্ত্র দাঁড়াতেই পারেন।অন্যদিকে আত্মীয়তার সূত্রে
কেউ যদি চিহ্নিত ঘাতক রাজাকারকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন- বাংলার মানুষ তাকেও ক্ষমা করবে না। যব মিলিয়ে পাঁচ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেরে যাবার পর দলটি এখন চরম স্নায়ুচাপেই আছে। এই মুহুর্তে , আওয়ামী লীগ যদি আভ্যন্তরিন কোন্দলে বার বার সংবাদ শিরোনাম হয়- তাহলে নির্বাচনে তাদের অবস্থান আরও নাজুক হতে পারে। মূলতঃ দেশে ক্ষমতাসীন অথবা ক্ষমতা প্রত্যাশী রাজনীতিকদের লুটেরা শ্রেনীর যে প্রতিযোগিতা চলছে, এর বলির শিকার দেশের সাধারণ মানুষ। মানুষ এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। রাজনীতিকরা সতর্ক না হলে, মানুষ নিজেই তাদের পথ করে নেবে। এই প্রজন্ম ভুল করেনি, করবেও না। লুন্ঠিত এই সমাজচিত্র দেখে তা স্পষ্ট করে বলে দেয়া যায়।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে