Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৭-২৫-২০১৩

‘‌‌‌‌ছায়া’ এমপি‌দের কর্মকাণ্ডে ময়মনসিংহ আ’লীগে অসন্তোষ


	‘‌‌‌‌ছায়া’ এমপি‌দের কর্মকাণ্ডে ময়মনসিংহ আ’লীগে অসন্তোষ

ময়মনসিংহ, ২৪ জুলাই-  ময়মনসিংহের ৫ টি সংসদীয় আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের ছত্রছায়ায় দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বনে গেছেন শাসক দলের ৫ স্থানীয় নেতা।

ক্ষমতার পুরোটা সময়জুড়ে এই নেতাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণেই জনপ্রিয়তার দিক থেকে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন ওই সব আসনের ক্ষমতাসীন দলীয় সংসদ সদস্যরা।

দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন এসব নেতারাই সংসদ সদস্যদের জন্য ‘বিষফোঁড়া’। অবশ্য বেশিরভাগ সংসদ সদস্য এমন দাবি মানতে নারাজ।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে টানা দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন।

দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন, ৪ বার আ’লীগের টিকিটে এ আসনে সংসদ নির্বাচন করে ৩ বার বিজয়ী এ নেতা এখন দলের ভেতরে-বাইরে সামান্য পরিমাণে হলেও বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। আর এ বিতর্কের জন্য মূলত দায়ী স্থানীয় আ’লীগ নেতা ও ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন সেলিম মৃধা ওরফে পাহাড়ি সেলিম।

দলটির মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিমন্ত্রীকে ‘আব্বা’ সম্বোধন করে পাহাড়ি সেলিম তার মাঠ নষ্ট করছেন। দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের কাছে মন্ত্রীর দূরত্বের নেপথ্যে আছেন নানা কারণে বিতর্কিত ও সমালোচিত এ নেতা।

এ বিষয়ে কথা বলতে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

ফুরকান উদ্দিন সেলিম মৃধা বলেন, “আমি উপজেলা চেয়ারম্যান। আর প্রতিমন্ত্রী এলাকার সাংসদ। তিনি আমাকে স্নেহ করেন। আমাকে নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই।”

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে গত সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হায়াতুর রহমান বেলাল। কিন্তু দলীয় সাধারণ সম্পাদক কুতুব চৌধুরী এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে হয়ে যান ‘অঘোষিত এমপি।’

স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, ক্ষমতার পুরোটা সময়ে টি.আর, কাবিখাসহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ভাগ ভাটোয়ারা, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি করে কুতুব চৌধুরী রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনসহ সব জায়গাতেই কুতুব চৌধুরী’র একচ্ছত্র দাপট।

‘মূলত কুতুবের কারণেই জীবনের শেষ বেলায় সাংসদ হায়াতুর রহমানের সাদা জামায় কালো দাগ লেগেছে ও জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে’ বলে মন্তব্য করেন ফুলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি ও প্রবীণ আ’লীগ নেতা আব্দুল হেকিম। একই রকম মন্তব্য করেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য হায়াতুর রহমান বেলালের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে কুতুব চৌধুরী বলেন, “উপজেলা আ’লীগের সেক্রেটারি হিসেবে আমাকে অনেক দায়িত্বই পালন করতে হয়। এসব অপপ্রচার আমার বিরুদ্ধচারীরা করেন।”

কুমিল্লার কসবার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রেজা আলী ব্যবসায়িক সূত্রে ত্রিশাল এসে ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে নৌকা মার্কার টিকেটে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এ সুযোগটিই লুফে নিয়ে ত্রিশালে ‘সেকেন্ড এমপি’ হিসেবে আবির্ভূত হন স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি এ.বি.এম.আনিসুজ্জামান।

রেজা আলীর আশীর্বাদে ত্রিশালের বিভিন্ন জায়গায় বেপরোয়া ভূমি বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে নেন তিনি।

স্থানীয় আ’লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন, দলীয় হাইকমান্ডের একটি জরিপে এই আসনে আবারও মনোনয়ন পেতে বর্তমান সংসদ সদস্যের ঝুঁকির মূল কারণ আনিস।

এ ব্যাপারে এমপি রেজা আলীর সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, “আনিসের বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না।”

এ.বি.এম.আনিসুজ্জামান বলেন, “আমরা না থাকলে রেজা আলী এমপি হতে পারতেন না। আমি পৌরসভার মেয়র হবার পর দলে যারা আমাকে পছন্দ করেন না তারা আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিতই হয়ে এসব কথাবার্তা প্রচার করে।”

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কাজী খালিদ বাবু’র জনবিচ্ছিন্নতার অনুঘটক হিসেবে নেতাকর্মীরা দায়ী করছেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনকে।

মুক্তাগাছা উপজেলা আ’লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের সরকার ছানা মিয়া বলেন, “দলীয় প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সাথে সংসদ সদস্য বাবু’র দূরত্ব ও জনবিচ্ছিন্নতার জন্য দায়ী বিল্লাল। তার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণেই দলের ভাবমূর্তিতে চিড় ধরেছে।”

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য কাজী খালিদ বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিল্লাল খুব ভালো মানুষ। ও আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এটা ঠিক নয়।”

এ বিষয়ে বিল্লাল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন ধরেননি।


এদিকে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদের জনপ্রিয়তার পারদ নিম্নমুখী হবার মূল কারণ হিসেব দায়ী করা হচ্ছে গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মীর আবু তালেব খোকাকে। জানা গেছে, এলাকায় এমপি গিয়াসের হয়ে সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

‘এমপি গিয়াসের উন্নয়নের নামে নিজের পকেট ভারী, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগের দায় তার (খোকা) উপরও বর্তায়’, এমন মন্তব্য উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক রিয়েলের।

এ ব্যাপারে ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমি সবাইকে নিয়েই আমার কাজ করছি। কে কী বলছে তা আমার দেখার বিষয় নয়।”

মীর আবু তালেব খোকা বলেন, “আমি যতদিন এমপির সাথে ছিলাম ততোদিন তিনি জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন না। আমি নেতিবাচক কোন কাজ করিনি। সুতরাং এমপির কোন নেতিবাচক কাজের দায়ভারও আমি নেব না।”

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে