Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৮-২০১৯

এমপির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কথা রাখেনি

ফেরদৌস সিদ্দিকী


এমপির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কথা রাখেনি

রাজশাহী, ২৮ জানুয়ারি- কথা ছিলো নির্মাণ শুরুর তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে রাজশাহীর ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণকাজ। কিন্তু শেষ হতে সময় লাগছে এক দশক। ১৬তলা এই ভবনটি রাজশাহীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে, এই আশায় বিপুল অর্থলগ্নিও করেছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় এখন তারা বিপাকে।

রাসিক জানিয়েছে, ২০০৯ সালে নগরীর সোনাদীঘি মোড়ে সিটি করপোরেশনের পুরোনো ভবনের জায়গায় সিটি সেন্টার নির্মাণকাজ শুরু করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনা প্রোপার্টিজ। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় এই ভবন নির্মাণ করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করে রাসিক। এরপর দফায় দফায় সময় বাড়ালেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

নগর কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সিটি সেন্টারের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই সময় একমাত্র দরপত্র জমা দেয়ায় কার্যাদেশ পায় রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের মালিকানাধীন এনা প্রোপার্টিজ। চুক্তি অনুযায়ী পুরো প্যাকেজের ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশের মালিকানা রাসিকের। আর বাকিটা থাকবে এনা প্রোপার্টিজের।

সিটি সেন্টার নির্মাণ ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় একটি মসজিদ, তথ্যপ্রযুক্তি পাঠাগার, এমফি থিয়েটার, হাঁটার পথ, ল্যান্ডস্কেপিং, দিঘির এক পাশে গ্যালারি, সাবস্টেশন, জেনারেটর ও পাম্পহাউস, দিঘির দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ের উপভাড়াটেদের পুনর্বাসন, পয়োনিষ্কাশন, ভেতরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সীমানা প্রাচীরসহ আরও কিছু নির্মাণকাজ এনা প্রোপার্টিজের নিজ খরচে করে দেয়ার কথা। কিন্তু এখনো সেসব কাজে হাতই দেয়নি এনা প্রোপার্টিজ।

দখল-দূষণে জেরবার সোনাদীঘি। কথা ছিলো, এই দীঘি সংস্কার করে নীল পানির লেকে পরিণত করা হবে। লেকে থাকবে মিনি প্যাডেল বোট। আর দীঘির চারদিকে থাকবে হাঁটার পথ। মাঝখানে থাকবে সুদৃশ্য কৃত্রিম আইল্যান্ড। থাকবে পাখির রাজ্য। দীঘিতে শাপলা-পদ্মফুল ফোটানোর ব্যবস্থাও থাকবে। তাতে নগরবাসী অন্যরকম সৌন্দর্য উপভোগ করবে।


কিন্তু ২০১৭ সালের শুরুতেই এনা প্রোপার্টিজ সোনাদীঘি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরে তাতে বাধা দেয় নগরবাসী। ওই সময় অবৈধ দখল সরেজমিন পরিদর্শন করে যান স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিরা। এরপর থেকেই থমকে যায় বাকি কাজ। তবে এ নির্মাণকাজকে তাদের পরিকল্পনার অংশ বলে দাবি করেছেন এনা প্রোপার্টিজ। বিষয়টি স্বীকারও করেছে রাসিক।

জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী সিটি সেন্টারের পাশে অবস্থিত সোনাদীঘি সংস্কার ও উন্নয়নকাজ (কমন ফ্যাসিলিটিজ) নির্ধারিত ওই ৩৬ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাসিকের প্রাপ্য প্রায় ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ ভবনের প্রতি বর্গফুটের জন্য মাসে চার টাকা হারে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। সেই হিসাবে ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে এনা প্রোপার্টিজের ক্ষতিপূরণের হিসাব শুরুর কথা।

এ বিষয়ে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, শনিবার (২৬ জানুয়ারি) বিষয়টি নিয়ে রাসিক ও এনা প্রোপার্টিজের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে এনা প্রোপার্টিজের স্বত্ত্বাধিকারী এনামুল হককে তাগাদা দেন। এ বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সময়মতো কাজ শেষ না করতে পারায় জরিমানা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের টাকায় এসব ভবন নির্মাণ করছে। নগর কর্তৃপক্ষের কোনো অর্থ খরচ হচ্ছে না। ফলে জরিমানার বিষয়টিতে ছাড় দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে এনা প্রোপার্টিজের স্বত্ত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই আমরা সিটি সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ করতে চাই। রাসিকের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেলে আশা করছি এই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

অন্যদিকে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাতে আমরা আশ্বস্ত হলাম। আশা করছি এই বছরের মধ্যে সিটি সেন্টারের নির্মাণ কাজ শেষ করবে তারা।

কেবল সিটি সেন্টারই নয়, একইসঙ্গে আটতলা ‘স্বপ্নচূড়া প্লাজা’ ও আটতলা ‘দারুচিনি প্লাজা’ নির্মাণকাজ শুরু করেছিল রাসিক। কাজ শুরুর ৩৬ মাসের মধ্যে এগুলোর কাজ শেষ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

একই ধরনের চুক্তিতে নগরের নিউমার্কেট এলাকার পুরোনো কাঁচাবাজারের স্থলে দারুচিনি প্লাজা এবং নগর ভবনের পশ্চিম পাশে স্বপ্নচূড়া ভবন নির্মাণ হচ্ছে। স্বপ্নচূড়া ভবন নির্মাণ শেষ পর্যায়ে থাকলেও দারুচিনি প্লাজা নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে ধীর গতিতে। দ্রুত কাজ শেষ করতে এ দুই ভবন নির্মাণকারীদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/২৭ জানুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে