Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২২-২০১৯

দুর্নীতি, জিরো টলারেন্স ও টোটাল কমিটমেন্ট

ড. মইনুল ইসলাম


দুর্নীতি, জিরো টলারেন্স ও টোটাল কমিটমেন্ট

এ দেশের নির্বাচনী ইশতেহারকে জনগণ খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। কারণ নির্বাচনে জেতার পর বিজয়ী দল বা জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পাঁচ বছর মেয়াদে আর ইশতেহারের ধার ধারে না। এ ব্যাপারে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক রেকর্ড বিএনপির। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব প্রদানকারী তিনটি জোটের অন্যতম সাতদলীয় জোটের নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া 'তিন জোটের রূপরেখা' স্বাক্ষর করেছিলেন; কিন্তু ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে জয়লাভ করার পর তিনি ওই রূপরেখার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করার অঙ্গীকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার অব্যাহত রাখার পক্ষে গোঁ ধরেছিলেন। 

অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন তাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, 'তিন জোটের রূপরেখা' এমন একটি ঐতিহাসিক দলিল, যেটার ওপর তার সরকার প্রতিষ্ঠিত। অতএব, ওই অঙ্গীকার থেকে তিনি পিছু হটবেন না। প্রায় ছয় মাস তাদের ওই টানাপড়েন চলেছিল। অবশেষে খালেদা জিয়াকে হার মানতে হয়েছিল। ফলে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাস করতে বাধ্য হয়েছিল বিএনপি, দেশে ফিরে এসেছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা। আরও গুরুতর হলো, ওই 'তিন জোটের রূপরেখায়' সমঝোতা হয়েছিল যে, পরবর্তী তিনটি সংসদ নির্বাচনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি ওই অঙ্গীকারও বেমালুম ভুলে যাওয়ায় ১৯৯৬ সালে দেশ আবারও বড়সড় বিপদে পড়ে গিয়েছিল।

 ১৯৯৬ সালে আবার গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখীন হয়ে বিএনপিকে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছিল। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনগুলো ওই ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুর্নীতি নিরসনের অঙ্গীকার করেছিল; কিন্তু তাদের কথা ও কাজের যে মোটেও মিল ছিল না, সেটা গত পাঁচ বছরে জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে (তবুও বলতে হবে, ২০১৪-১৯ মেয়াদের শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আওয়ামী লীগের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের বেশিরভাগ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে)।

এতদসত্ত্বেও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় অঙ্গীকার : 'দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।' কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই কোনো রাজনৈতিক দল এত সুনির্দিষ্ট ও কঠিনভাবে নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমনের প্রতিজ্ঞা করল। আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি করে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে বলে চলেছি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৪৮ বছরে কোনো 'দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতাসীন সরকার' দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি; ২০০৭-০৮ সালের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারই একমাত্র ব্যতিক্রম! বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ১৯৭৩ সাল থেকে তার সরকারের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের অভিযোগ উঠেছিল; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ওইসব অভিযোগের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধুর এই অনীহা বা অনাগ্রহের ব্যাপারে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রমাণ রয়েছে। তবুও বঙ্গবন্ধুকে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সক্রিয় করা যায়নি। সমরপ্রভু জিয়াউর রহমানের আমল থেকে ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের অবস্থানে চলে যায়। রহস্যজনক হলো, জিয়া নিজেকে আর্থিক দুর্নীতি থেকে মুক্ত রাখলেও তার আমলেই রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিকে মেনে নেওয়ার প্রবণতা (indulgent attitude) জোরদার হতে শুরু করে। মার্কাস ফ্রান্ডাকে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে জিয়া বলেছিলেন, 'বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশে আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দুর্নীতি অনিবার্য বা অপরিহার্য (inevitable)।' স্বৈরাচারী এরশাদ আমল থেকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক উভয় ধরনের দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন করেছে এবং গত ২৮ বছরের নির্বাচনী গণতন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর সময় অর্থনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বিস্তার লাভ করেছে। ফলে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকতেই বাংলাদেশ বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের 'করাপশান পারসেপশন ইনডেক্স' র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আরও চার বছর দুর্নীতির এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশের কলঙ্কতিলক হিসেবে অক্ষুণ্ণ ছিল। গত ১৪ বছরে ওই কলঙ্কতিলক আর না জুটলেও বাংলাদেশের অবস্থান এখনও একেবারেই নিচের দিকে (মানে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত) রয়ে গেছে। অতএব, আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতাসীন থাকার মেয়াদে যদি শেখ হাসিনা এই নির্বাচনী অঙ্গীকারটি বাস্তবায়নে সত্যি সত্যিই সর্বশক্তি প্রয়োগ করেন, তাহলে এ দেশের ইতিহাসে তিনি নিঃসন্দেহে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এই অঙ্গীকার জনমনে প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে যে, দুদককে অকার্যকর করে রাখার কৌশল থেকে হয়তো প্রধানমন্ত্রী এবার সরে আসছেন। এই আশা যদি সত্য হয়, তাহলে মহান আল্লাহতায়ালাকে অশেষ শোকরিয়া। দেশের অর্থনীতিতে উন্নয়নের সুবাতাস বইছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭.৮৬ শতাংশে পৌঁছে গেছে। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারলে আগামী দুই-তিন বছরেই এই প্রবৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করবে ইনশাল্লাহ। নতুন সরকারের শুরুতেই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিকদের এবং সরকারি প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর 'জিরো টলারেন্স' নীতির ব্যাপারে 'টোটাল কমিটমেন্টের' মেসেজটি যদি পৌঁছে দিয়ে একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করার জন্য উপযুক্ত ক্ষমতা প্রদানের আইনি পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়, তাহলে তার এবারের অঙ্গীকার সম্পর্কে জনমনে বিশ্বাস জন্মাবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর তিনি প্রতিটি বক্তৃতায় এই অঙ্গীকারকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টা উল্লেখ করে চলেছেন। এখন প্রয়োজন যথাযোগ্য 'ফলোআপ অ্যাকশন'। 

এ পর্যায়ে স্মরণ করছি, ২০০৭-০৮ সালের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় লে. জেনারেল হাসান মসউদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন যে প্রবল গতিশীলতা অর্জন করেছিল, সে জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুর্নীতিবাজ ও পুঁজি-লুটেরা রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছিল। দুদকের পাশাপাশি মেজর জেনারেল মতিনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী শক্তিশালী জাতীয় কমিটিও রাজনীতিবিদ ও রাঘববোয়াল ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রবল ত্রাসের সঞ্চার করেছিল ওই সময় ; ডিজিএফআই সেটার তদন্ত পরিচালনা করার কারণে রাঘববোয়ালরা ভয়ে তটস্থ থাকত। ওই দুই বছরে দুই ধরনের দুর্নীতিবাজদের যে প্রবল 'ঝাঁকি দেওয়া' সম্ভব হয়েছিল, সেটা দুদকের পরবর্তী চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ওই সময়টায় দেশে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারকে দুর্নীতি দমনে সত্যিকার নিষ্ঠাবান মনে হয়েছিল আমার কাছে; আমার বেশ কয়েকটি লেখায় আমি নির্দি্বধায় তা স্বীকার করেছি (অবশ্য রহস্যজনকভাবে সামরিক অফিসার এবং উচ্চতর সিভিল আমলাদের দুর্নীতির অভিযোগগুলো ওই সময়ের দুদকের কিংবা মতিন কমিটির যথাযথ মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি।

বিশেষত, ২০০৮ সালে মাঠ পর্যায়ের সামরিক অফিসারদের একাংশ যেভাবে দুর্নীতির মচ্ছবে মেতে উঠেছিল, তার আলামত সারাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে এখনও! ওগুলোর জন্য কোনো দুর্নীতিবাজের শাস্তি হয়েছে কি?)। দুঃখজনক হলো, শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হয়েই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দুদককে অকার্যকর করার যাবতীয় প্রয়াস জোরদার করেছিলেন। প্রথমেই তিনি চরম অসহযোগিতার মাধ্যমে লে. জেনারেল হাসান মসউদ চৌধুরীকে দুদকের চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছিলেন। তারপর ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক জারিকৃত দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশটি যথাসময়ে সংসদে অনুসমর্থনের জন্য উত্থাপন না করায় সেটা তামাদি হয়ে গেল। এরপর বহুদিন অতিবাহিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য যে বিলটি সংসদে উত্থাপন করে আইন হিসেবে পাস করা হলো, সেটা যে ওই পূর্বতন অধ্যাদেশের তুলনায় অতি দুর্বল একটি আইন, সেটা বুঝতে কারও বাকি রইল না।

বোঝা গেল, মহাজোটের শাসনামলে দুদককে তদানীন্তন দুদক চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমানের ভাষায় 'নখদন্তহীন ব্যাঘ্রে'র ভূমিকায় ফিরিয়ে নেওয়া হলো। তিনি অনেক দেনদরবার করেও সংসদের পাস করা ওই দুর্বল আইনটিকে পরিবর্তন করাতে পারেননি। বরং সরকারি প্রশাসনের উচ্চতর পদের আমলাদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরুর আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে বলে বিধানও পাস করা হয়েছিল শাসক জোটের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত আমলাদের প্রবল লবির কারণে। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আমার প্রাক্তন শিক্ষক ড. গোলাম রহমানের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হলে দুদকের ক্ষমতাহীনতা এবং অকার্যকারিতা সম্পর্কে আমি অনুযোগ করেছি বেশ কয়েকবার। স্বল্পবাক এই ব্যক্তিটি নিজের ব্যর্থতায় বেদনাহত হলেও জনসমক্ষে কারও বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। বেশিরভাগ সময় নীরবতা পালনই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। অবশ্য কয়েকটি বিরল মুহূর্তে দুদকের ব্যর্থতার জন্য যে সরকারের 'ইচ্ছাশক্তির অভাব'কে প্রধানত দায়ী করে বিভিন্ন বক্তব্য তিনি মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করেছেন, তাতে তার সততার পরিচয় পাওয়া গেছে। তার পর দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জনাব বদিউজ্জামান। তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন দুদককে কার্যকর করতে। 

তারও অভিযোগ :বিদ্যমান আইনের কারণে দুদক নখদন্তহীন ব্যাঘ্রই থেকে যাবে। বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অত্যন্ত গতিশীল ও দক্ষ আমলা হিসেবে প্রশংসিত ছিলেন (ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে কিছুদিন একটা কমিটিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি। তাই তার নেতৃত্ব সম্পর্কে আমি আস্থাবান। একটা ভালো টিমও পেয়েছেন তিনি)। আমি মনে করি, বর্তমান আইনের পরিবর্তে ২০০৭-০৮ সালের দুদক অধ্যাদেশকে সংসদে বিল আনার মাধ্যমে নতুন দুদক আইনে পরিণত করা গেলে আবার দুদক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে সমর্থ হবে। শুধু দুদকের চেয়ারম্যান কিংবা কমিশনার পরিবর্তন যথেষ্ট হবে না। দুদকের জনবল নিয়োগের স্বাধীনতা এবং আর্থিক স্বাধীনতাও অপরিহার্য মনে করি। প্রধানমন্ত্রী কি ব্যাপারটা ভেবে দেখবেন?

সাম্প্রতিক নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও আগামী পাঁচ বছর শেখ হাসিনাই আবারও দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি দমনে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দেশের অর্থনীতিতে অপ্রতিরোধ্য গতিসঞ্চার করাই তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে- এটাই আমাদের পরম কামনা। ভোটের গণতন্ত্রের নামে দেশে যে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কালচার চালু করা হয়েছে, তা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই গ্লানিকর। গণতন্ত্রের সংগ্রাম এই জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের পথে ঠেলে দিয়েছিল- এটা আশা করি শেখ হাসিনা ভুলে যাননি।

আবার গণতন্ত্রের পথে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যবস্থা বিঘ্নিত করার পরিণতিতেই ১৯৭৫ সালের আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলবরা জাতির পিতাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র হয়তো সফল করতে সমর্থ হয়েছিল, সেটাও অস্বীকার করা উচিত নয়। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই হবে আমাদের। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের অনেক সুকৃতি জনগণের সুবিবেচনা পাবে, যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সত্যিকারের কঠোর অভিযান বিশ্বাসযোগ্যভাবে পরিচালনা করেন। ফলে জনগণের মধ্যে যে  anti-incumbency sentiment গেড়ে বসে রয়েছে, তা ক্রমশ কমে আসবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস। দুদককে সব সাহায্য-সহায়তা দিয়ে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে দুর্নীতি দমনের অভিযানকে গতিশীল করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বারবার বিজয় অর্জন আওয়ামী লীগের পক্ষে খুবই সম্ভব মনে করি। 

ড. মইনুল ইসলাম: একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এমএ/ ০৬:০০/ ২২ জানুয়ারি

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে