Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (71 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৭-১৯-২০১৩

কলম জাদুকরের প্রথম প্রয়াণ দিবস


	কলম জাদুকরের প্রথম প্রয়াণ দিবস

ঢাকা, ১৮ জুলাই- একবছর আগে ঠিক এ দিনে শোকে মূহ্যমান ছিল বাংলাদেশ। নিউইয়র্কের নীল আকাশও কেঁদেছিল! কেঁদেছে বাংলাদেশ। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া জুড়ে যেন স্বজন হারানোর বেদনা। একটি মানুষের মৃত্যু শোকাবহ করে তুলেছিল পুরো বাংলাদেশকে।

১৯ জুলাই। দেশের নন্দিত কথা সাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার, নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে দীর্ঘ ১০ মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হন বাংলা সাহিত্যের নন্দিত ৬৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তিত্ব। বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাপরবর্তী শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় লেখক হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। পাঠকদের লেখার মাধ্যমে ধরে রাখার কারণে তাকে কলম জাদুকরও বলা হয়।

বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অতুলনীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি অন্তরালবর্তী জীবন-যাপন এবং লেখালেখি ও চিত্রনির্মাণের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন।

উপন্যাস, ছোটগল্প, সায়েন্স ফিকশন, টিভি নাটক, চলচ্চিত্রের মতো বহু ক্ষেত্রে বিস্তৃত জাদুকরী লেখক হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুর গ্রামে। ডাকনাম ছিল কাজল। ছিলেন পাঁচ ভাই ও বোনের মধ্যে সবার বড়। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুরে এসডিপিও হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি শহীদ হন। মা আয়েশা ফয়েজ।

১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাস দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর আত্মপ্রকাশ। সবাই তখনই বুঝে নেন বাংলা সাহিত্যের জগতে অনন্য সাধারণ এক লেখকের আবির্ভাব ঘটে গেছে।

ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এই পরীক্ষাতে তিনি মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে।

১৯৭২ সালে রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে তিনি একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অধ্যাপক জোসেফ এডওয়ার্ড গ্লাসের তত্ত্বাবধানে পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি নেন হুমায়ূন আহমেদ।

লেখালেখি ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত সময় দেওয়ার জন্য একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে দেন। ১৯৮১ সালে ভূষিত হন বাংলা একাডেমী পুরস্কারে।

প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ সালে। এই দম্পতির বিপাশা, নোভা ও শীলা নামে তিন মেয়ে ও নুহাশ নামে এক ছেলে রয়েছে। ২০০৫ সালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে তাঁর। ওই বছর তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওনকে। এ ঘরে জন্ম নেয় দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত হুমায়ূন।

সাহিত্যজীবনে নন্দিত নরকের পর একে একে শঙ্খনীল কারাগার, গৌরীপুর জংশন, অয়োময়, দূরে কোথাও, ফেরা, অমানুষ, অপেক্ষা, জোছনা ও জননীর গল্প, কোথাও কেউ নেই, আয়নাঘর, শ্যামল ছায়া, আমার আছে জল, অচিনপুর, ময়ূরাক্ষী, হিমু, আমিই মিসির আলী, দেয়ালসহ দুই শতাধিক উপন্যাসের স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ।

চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি ছিলেন এক সুদক্ষ কারিগর। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ হিসেবে আটটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছিল।

হুমায়ূনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরেকটি চলচ্চিত্র ‘শ্যামল ছায়া’ বিদেশি ভাষার ছবি ক্যাটাগরিতে অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। এ কারিগরের অন্য কীর্তি ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারি’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা‘ প্রভৃতি চলচ্চিত্র।

টিভি নাট্যকার হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের ছিল ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। আশির দশকের মাঝামাঝি তাঁর প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাঁকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। তাঁর লেখা ‘বহুব্রীহি’ ও ‘অয়োময়’ বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন। ‘কোথাও কেউ নেই’-এর চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে।

শিল্পের আরেকটি শাখা চিত্রকলাতেও তিনি তাঁর হাতের স্পর্শ রেখেছেন। তাঁর চিত্রকর্ম টাঙানো রয়েছে নিজ বাড়ির দেয়ালে।

হুমায়ূনের সৃষ্টি হিমু, মিসির আলী কিংবা নাটকের বাকের ভাইয়ের মতো চরিত্ররা আজও চিরায়ত।

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার নুহাশ পল্লীতে কোরআন পাঠ, কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, বাদ জুমা আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা কোরআন পাঠ করবেন। পরে তারা কবর জিয়ারত করে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিষাদ, নিনিত ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ ভক্ত-বন্ধুগণও এই দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত ও ইফতারে অংশগ্রহণ করবেন। এ জন্য প্রায় পাঁচ থেকে ৬শ’ মানুষের ইফতারের আয়োজন রাখা হয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে