Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১২-২০১৯

২০১৯ সালের মধ্যেই উৎপাদনে আসছে পায়রা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র

ইয়ামিন সাজিদ


২০১৯ সালের মধ্যেই উৎপাদনে আসছে পায়রা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র

পটুয়াখালী, ১২ জানুয়ারি- পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হয়েছে ৬০ শতাংশ। প্রথম ইউনিটটিতে স্থাপন করা হয়েছে টারবাইন, ট্রান্সফরমার, জেনারেটরসহ প্রধান যন্ত্রপাতিগুলো। চিমনি নির্মাণসহ প্রস্তুতি চলছে কয়লা আমদানির। অবশিষ্ট কাজ শেষ করে আগামী আগস্টের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি উৎপাদনে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কয়লাভিত্তিক বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসছে।

পটুয়াখালী জেলার পায়রার আন্ধারমানিক নদীর তীরে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল)। বাংলাদেশের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) একটি যৌথ কোম্পানি এটি।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রধান যন্ত্রপাতিগুলো এরই মধ্যে বসানো হয়েছে। নির্মাণ করা হচ্ছে ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি। এরই মধ্যে চিমনির প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রকল্পটিতে কর্মরত রয়েছেন দেশী-বিদেশী প্রায় তিন হাজার কর্মী।

সব কাজ শেষ করে এ বছরের মাঝামাঝি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। এজন্য চলছে কয়লা আমদানির প্রস্তুতি। পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রটিতে কয়লা প্রয়োজন হবে দৈনিক ১৩ হাজার টন। এ হিসেবে বার্ষিক চাহিদা দাঁড়াবে ৪২ লাখ থেকে ৪৬ লাখ টন। প্রাথমিকভাবে ইন্দোনেশিয়া, চীন ও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। আমদানিকৃত কয়লা খালাস করার জন্য আগুনমুখা নদীতে নির্মাণ করা হচ্ছে ৩৮৫ মিটার জেটি। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ জেটিরও ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক শাহ আব্দুল মাওলা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা আগামী আগস্টের মধ্যে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং করতে চাই। এরই মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তথা কয়লা আমদানির জন্য আমরা একটি খসড়া তৈরি করেছি। মতামতের জন্য খসড়াটি প্রকল্পে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামত পেলেই ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি করা হবে।

জানা যায়, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বহন করছে বাংলাদেশ-চীন যৌথ কোম্পানি। বাকি ৭০ শতাংশ চীনের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি এবং জয়েন্ট ভেঞ্চারে নির্মিতব্য ২০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ২০১৭ সালের শেষদিকে নির্মাণকাজ শুরু করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে পায়রা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। বাকি ১৯টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ২০১২ সালে শুরু হয়েছে এমন অনেক প্রকল্প এখন পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ কিংবা ভূমি উন্নয়ন কাজও শেষ করতে পারেনি।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠনের আপত্তির মুখে ২০১৩ সালে মোংলার রামপালে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্রহণ করে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কোম্পানি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি। ২০১৯ সালের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ২৮ শতাংশের মতো। ধীরগতির কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল দুই বছর বাড়িয়ে ২০২১ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে ৫২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে ২০১২ সালের জুনে চুক্তি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন পাওয়ার। প্রকল্পটির আরসিওডি ছিল ২০১৬ সালের মার্চ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় বাড়ানো হয়েছে ২০২১ সাল পর্যন্ত।

রামপাল, মাতারবাড়ীসহ বাকি ১৭টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেরও প্রায় একই অবস্থা। অনেকগুলোর নির্ধারিত সময় এরই মধ্যে পার হয়েছে। যেগুলোর নির্ধারিত সময় এখনো পার হয়নি, সেগুলোর অগ্রগতিও উল্লেখ করার মতো নয়।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ প্রতিবেদককে জানান, জয়েন্ট ভেঞ্চারের মধ্যে রামপাল ও পায়রার অগ্রগতি প্রথমদিকে ধীরগতির হলেও এখন বেশ ভালো। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো বিনিয়োগ হওয়ার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ফিন্যান্সিয়াল ক্লোজিং ও ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে বেশ সমস্যায় রয়েছে। আমরা তাদের তাগাদা দিচ্ছি। আশা করা যায়, দ্রুত এগুলোর কাজ এগিয়ে নেয়া যাবে।

বিপিডিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আইপিপি) সংখ্যা সরকারি কেন্দ্রের প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়াও রয়েছে ২৫টির বেশি রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিপিডিবিকে আরো তিন থেকে পাঁচ বছর বিদ্যুৎ কিনতে হবে। পায়রা ও মাতারবাড়ীর মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে রেন্টাল কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের প্রয়োজন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে যে হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে দুয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে বাংলাদেশে কখনই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ হবে না।

এদিকে পায়রা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ আছে পরিবেশবাদীদের। ইলিশের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, পটুয়াখালী উপকূলের পায়রা, আন্ধারমানিক ও বামনাবাদ নদীতে ইলিশের অবস্থান বেশ লক্ষণীয়। পায়রায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে কয়লা পরিবহনে ওই পথে জাহাজ চলাচল বেড়ে যাবে। এতে ওই অঞ্চলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ হুমকিতে পড়বে।

আর/১১:১৪/১২ জানুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে