Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১২-২০১৯

যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসালেন সুন্দরী শবনম!

যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসালেন সুন্দরী শবনম!

নরসিংদী, ১২ জানুয়ারি- নরসিংদীর মাধবদীতে অভিনব কৌশলে এক যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে দেনমোহর দাবি করছেন এক সুন্দরী নারী। ওই নারীর ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে যুবকের মা ঘুরছেন বিচারকদের দ্বারে দ্বারে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই নারী যশোরের কোতায়ালী থানার চুড়ামনকাঠা এলাকার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সুর্বণা নাহার সাথী ওরফে শবনম। প্রায় চার মাসে আগে অভিনব কায়দায় প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেন মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলাম সানি নামে এক যুবককে।

সানি মাধবদী থানাধীন নওপাড়া গ্রামের সামসুল হকের ছোট ছেলে। সাথী ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার এফ ব্লকের ১৪ নম্বর রোডের ৬৪ নং বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

সানির মা সেলিনা জানান, ছেলে প্রেম করে বিয়ে করেছে, তার বাবা মেনে নিয়েই বাড়িতে জায়গা দিয়েছিল। কিন্তু সাথী যে বিয়ের নামে প্রতারণা করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় তা আগে জানা ছিল না। এ মেয়ে নাকি ঢাকায় বিভিন্ন জনের সঙ্গের সম্পর্কে জড়িত রয়েছে।

শুক্রবার পারিবারিকভাবে সাংবাদিকদের ডেকে তিনি অভিযোগ করেন, সানিকে অনেকভাবে নির্যাতন করে সে অনেক টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে তাদের কাছ থেকে। সাথী মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে তার ছেলেকে।

সেলিনা আরো জানান, সাথীর সাজানো মামলার জালে বন্দি তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রমাণ করতে না পারায় আদালত সানি ও তাদের পরিবারকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে।

তারপরও সে মাধবদীতে এসে সানির সাথে ঘর-সংসার করার কৌশল অবলম্বন করে তাদের বাড়িতে আসে। এ খবর জানাজানি হলে এলাকার উৎসুক জনতা তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। পরে সাথীর বাবা-মাকে নিয়ে আসতে বলেন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু সে তা না করে উল্টো আরেকটি নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণের ঘটনা সাজিয়ে তার চাকরিজীবী বড় ছেলেসহ মোট চারজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করে, বলেন সানির মা।

তিনি বলেন, মামলার ভয়ে তার ছেলেরা এখন বাড়ি ছাড়া রয়েছেন। প্রতারণাকারী এ নারী নিঃস্ব করে দিচ্ছে তাদের সংসার। যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের বিপদে ফেলে দিতে পারে বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে প্রশাসনের নিকট সঠিক তদন্ত করে এর বিচারের দাবি জানায় সানির পরিবার।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, সানির পরিবার সাথীর বিয়টি গত ১৬ ডিসেস্বর অবগত করলে স্থানীয়দের নিয়ে বসা হয়। তাতে সাথীর বাবা-মাকে এনে এর মীমাংসা করার জন্য বলা হয় সাথীকে। তার দুই দিন পর জানতে পারি, ওই মেয়ে নাকি সানিসহ চারজনের নামে একটি গণধর্ষণ মামলা করেছে।

সানির বড় ভাই ব্রাক ব্যাংক কর্মকর্তা সেলিম বলেন, রাজধানীর বসুন্ধরার তিনশ ফিট এলাকায় সাথীর বিভিন্ন সঙ্গ রয়েছে। সে বাইকার গ্রুপের সদস্য। সানি মোটরসাইকেলে চড়ে তাদের ব্যবসায়ীক কাজে ওই এলাকা দিয়ে যেত। প্রায় বছর খানেক আগে একটি দোকানে পরিচয় ও ফোন নম্বর আদান-প্রদান হলে তার পাতানো জালে ফেঁসে যায় সানি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান জানান, সুর্বণা নাহার সাথী নিজেই বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন সানির পরিবারের বিরুদ্ধে। একটিতে শারীরিক নির্যাতন এবং অপরটিতে তাকে গণধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ্য করা হয়েছে, তার স্বামী সানি ও তার ভাসুরসহ চারজন তাকে গণধর্ষণ করে।

মামলা দুটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সানির সাথে বিয়ে হয়েছে তার কাবিনামায় সাথী নিজেকে কুমারী দাবি করলেও ২০১৬ সালে রাজধানীতে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলস্ ম্যানেজার মহিবুল ইসলাম শাওন নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে করেন সুর্বণা নাহার সাথী। বিয়ের পর মোহাম্মদপুরে বসবাস করার কয়েক মাস পর বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার এক প্রতিবেদনে চলে আসে এই সুন্দরী নারীর আসল কাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর থেকে এসএসসি পাস করে চাকরি খোঁজার জন্য ঢাকায় আসেন সুর্বণা নাহার সাথী পরে তার মাঝে একটি শপিং মলে পরিচয় হয় শাওনের সাথে। তার মোবাইল নম্বরে কয়েক দিন কথা বলার পর হঠাৎ ১০ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করেন দুজনে। কিন্তু ভুক্তভোগী শাওন ওই প্রতিবেদনে বলেন, এ নারী তাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন, তার কথা ও কাজের সাথে কোন মিল পাওয়া যায়নি। সাথী তার চক্রের মাধ্যমে কাবিনের টাকা দাবি করেন। তার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

শাওন বলেন, বিয়ের আগে সাথীর সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানতেন না। এখন তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন, সাথী যে নিজের ঠিকানা দিয়েছিলেন, সেটাও জালি। যশোরের চূড়ামনকাটিতে গিয়ে জানতে পারেন সিরাজুল ইসলাম নামে কেউ সেখানে থাকেন না। এই সিরাজুল ইসলামকে তার বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এলাকার মানুষজন জানান, তারা সাথী নামে কাউকে চেনেন না।

প্রতিবেদনের আরো বলা হয়, সাথীর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া ছিল উচ্চ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও মডেল। এছাড়া জনপ্রিয় অভিনেতাদের সাথে ছবিও দেওয়া ছিল তার প্রোফাইলে। কিন্তু সবই প্রতারণার কৌশল।

এসব বিষয়ে সুর্বণা নাহার সাথী ওরফে শবনম জানান, সানীর বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা আদালত দেখবে। তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান সাথী।

এমএ/ ০৬:০০/ ১২ জানুয়ারি

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে