Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (107 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৮-২০১৩

নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের শেষ রাত


	নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের শেষ রাত

মাত্র কুড়ি দিনের জন্য চিকিৎসা বিরতির ছুটি পেয়ে হুমায়ূন আহমেদ এসেছিলেন দেশে ১১ মে ২০১২ । বিমানবন্দর থেকে নেমেই প্রিয় নুহাশপল্লীতে চলে গিয়েছিলেন। ঢাকা ফিরলেন ১৪ মে। আবার ২২ মে চলে গেলেন নুহাশপল্লী। আরো ২-৩ দিন থেকে ২৫ মে ফিরে আসবেন ঢাকায়। ২৯ মে পর্যন্ত থাকবেন দখিন হাওয়ার ফ্লাটে। বাকি থাকে দু’রাত। সে দু’রাত একেবারেই একান্তে কাটানোর জন্য, বিশেষ করে গুণগ্রাহী ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য থাকবেন গুলশানে শ্বশুর বাড়িতে। তারপর অপারেশনের জন্য আমেরিকা যাত্রা।

১৪মে থেকে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের দেখা হয়েছে। কখনো দিনে একবার, কখনো দু’বার। প্রায় প্রতিরাতেই রাতের খাবার খেতে হতো দখিন হাওয়ায়, কখনো কখনো দিনের বেলাও। যে ক’দিন দেশে ছিলেন, তাঁদের নিজের চুলায় হাড়ি বসাতে হয়নি। বন্ধু, বান্ধব, স্বজনরা রুটিন করে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন বাসায়। খাবারের পরিমান— এলাহী কাণ্ড। দশ পদের নিচে কেউ খাবার পাঠান না। বেশির ভাগই নিজের হাতে রেঁধে, কেউ কেউ নামি দামি হোটেলের খাবারও পাঠিয়েছেন। কেবল নুহাশপল্লীতে যে ক’দিন ছিলেন, সে ক’দিন তাঁর বাবুর্চি রেঁধেছে। গুরুর মাংশ, মুরগীর মাংশের বাইরেও তাঁর প্রিয় জিয়ল মাছের একটা তরকারিও সব সময় থাকতো।
 
দখিন হাওয়ার সময়টা তিনি দিনের বেলা একান্তে কাটাতে পারতেন। এ সময় বারান্দায় বসে বসে বই পড়তেন, কিংবা ছবি আঁকতেন। এর মধ্যে একটা টেলিফিল্মের চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং দেশ ছাড়ার দু’দিন আগে প্রযোজক ও পরিচালককে সেটা পড়িয়েও শুনিয়েছেন। তাঁর শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ নিয়ে আদালতে একটা মামলা ঠুকে যায়। ‘প্রথম আলো’তে এর দু’টো অধ্যায় ছাপা হয়েছিল মাত্র। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে একটা বিশাল আকৃতির বই পাঠানো হয়। ১৫ আগস্টের সাক্ষীদের জবানবন্দি পাঠিয়ে তাঁকে অনুরোধ করা হয় এ নথিটি অনুসরণ করার জন্য। শেখ রাসেলকে হত্যা করার আগে সে ভাবীর কাছে লুকিয়ে ছিল না কাজের বুয়ার কাছে লুকিয়ে ছিল এটা নিয়ে ইতিহাস বিকৃতি ঘটেছে। তাঁর কাছে যে দু’টো বই আছে সেখানে লেখা ভাবীর কাছে, সরকারি নথিতে আছে কাজের মেয়ের কাছে। এসব নিয়ে প্রতিদিনই বেশ কিছু লোক তাঁকে নানা রকম পরামর্শ দিতেন। আর মাঝে মাঝে ছবি আঁকতেন। নিউইয়র্কে বসে বেশ ক’টি ছবি আঁকা হয়েছিল তাঁর— এগুলো নিয়ে একটা প্রদর্শনী হবে জুন মাসের ২৯ তারিখে নিউইয়র্কে। প্রদর্শনীর ক্যাটালগ তৈরি, নতুন ছবি আঁকা, নিউইয়র্কের ডাক্তার কখন কী বললো, সে সবের কাহিনী শোনানো— এমন করেই তার দিনরাত্রি কেটে যাচ্ছিল।
 
তিনি নুহাশপল্লী বা দখিন হাওয়া, যেখানেই থাকুন না কেনো, তাঁর সঙ্গে ছিলেন তার মা আর বোন, শেফু আপা। মা’র একটা গল্প প্রায়ই শোনাতেন। আমেরিকায় তিনি যখন চিকিৎসাধীন, তখন মা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাঁচ হাজার ডলার পাঠিয়ে দিয়েছেন ছেলের চিকিৎসার জন্য। মা’র এ টাকা পাঠানোর বিয়য়টিই মূলত তাঁকে অনেক বেশি আবেগাপ্লুত করে। সিদ্ধান্ত নেন, দেশে যে ক’টি দিন থাকবেন, মাকে সঙ্গে নিয়েই থাকবেন। 
 
২৪ মে আমি আর আলমগীর ভাই এক সাথে রওয়ানা দেই নুহাশপল্লীতে। মাজহার-কমল সস্ত্রীক চলে গেছে আগেই। তাদের সাথে আলমগীর ভাইয়ের স্ত্রী ঝর্ণা ভাবীও আছেন। আলমগীর ভাই তাঁর নিজের বিছানা ছাড়া রাতে ঘুমাতে পারেন না, আর রাতে কখনো একা চলতে পারেন না। একারণে তাঁর যাওয়া হয়নি। আজ ভোরেই রওয়ানা দেবেন আমাকে নিয়ে। আমি রাতে থাকবো না, ঢাকা ফেরত আসবো। তাঁর অনেক খুশি, রাতে তিনি আমার সাথে ফিরবেন। 
 
আমরা দুপুর বেলা পৌঁছাই। বেশ নিরিবিলি পরিবেশ। সাংবাদিক নাই, ক্যামেরা নাই। কোনো একটা নাটকের শুটিং ছিল আজ, সে নাটকের শুটিংও শেষ হয়েছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। আকাশে চাঁদ, কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। এক সময় বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে গেলো অনেকগুণ। হুমায়ূন আহমেদের বেড রুমেই আমরা সবাই বসে। আলমগীর ভাই উশখুস শুরু করেন। এখনই না বেরোলে দেরি হয়ে যাবে। অন্তত তিনঘণ্টা সময় লাগে ঢাকা যেতে। তিনি আমাকে নিয়েই যেতে চান— ড্রাইভার এসে খবর দিয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ ড্রাইভারকে জানালেন, শাকুর যেতে চাচ্ছে না, তাঁকেও থাকতে বলছে।
 
এরপর তাঁর কোনো খবর নাই। আমরা বৃষ্টি দেখি, জোৎস্না দেখি, চাঁদ দেখি, মেঘ দেখি। বৃষ্টি ও জোৎস্না এক সাথে দেখা যায় না। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো, এই জোৎস্না ও বৃষ্টিবিলাসীর জন্যই আজ এ দু’য়ের একত্র সঙ্গম ঘটছে। ঘটনাটা অন্য রকম। বেশ জোরে বৃষ্টি হচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদ তার বেডরুমের দরজা খুলে রেখেছেন। দরজার পরেই বারান্দা। সেই বারান্দার পরে চল্লিশ ফুট দূরে একটা লাইটপোস্ট। সেই লাইটপোস্টের বাতি জ্বলছে। বৃষ্টিও অন্ধকারের জন্য ঐ বাতিটুকু ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ঘরটির সামনে বেশ বড়সড় গাছ, সেই গাছের চিকন চিরল পাতার ফাঁক দিয়ে যেটুকু আলোর কিরণ চোখে এসে লাগছে তাকে জোৎস্নাস্নাত বৃষ্টির রাত বলেই মনে হচ্ছে। এরমধ্যে মাঝেমাঝেই শাওন গাইছে হুমায়ূনের মন ভালো করানো গান। 
 
আমরা সবাই আলমগীর ভাইয়ের কথা ভুলে যাই। বৃষ্টি থামলে আলমগীর ভাইকে ফোনে পাওয়া যায়। তিনি তখন গাজিপুর চৌরাস্তা পার হয়ে গেছেন। বৃষ্টি থেমে গেছে খানিক আগে। আকাশে চাঁদ। আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি। 
 
জোৎস্নাবিলাসী এ মানুষটির জোৎস্নাপ্রীতির খবর কারো কাছে নতুন নয়। তাঁর সেই প্রথম উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’ থেকে শুরু করে শেষ জীবনের যেকোনো লেখাতেই জোৎস্নার কথা বলা থাকবেই। জোৎস্না নিয়ে অনেকগুলো গানও আছে তাঁর। তাঁর নিজের লেখা মরণগীতিতেও তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন, যাতে চন্দ্রালোকিত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। চন্দ্রালোকিত রাতকে তিনি বলতেন ‘চান্নিপশর’ রাইত। ‘চান্নিপশর’ খাস নেত্রকোণার শব্দ। আমাদের সিলেটের সাথে মিল আছে। আমরা বলি ‘চান্নি রাইত’। এই ‘চান্নিপশর’ তাঁকে দেখিয়েছিল মামা বাড়ির এক লোক। বলছিলো, ভাইগনা ‘চান্নি’ দেখতে অইলে আও আমার লগে। নেত্রকোণার বিশাল খোলা মাঠে ভরা পূর্ণিমা রাতে মামা বাড়ির লোক তাঁকে যা দেখিয়েছিল, তা বাকি জীবনে তিনি ভুলতে পারেন নি। আর সে কারণেই, হাছন রাজা যেমন আউলা হতেন ভরা পূর্ণিমায় দেখার হাওড়ে, হুমায়ূনকেও আউলা করতো জোৎস্নার চাঁদ।
 
তাঁর জোৎস্নাভোগের অনেক কাহিনী শুনেছি, কিছু তাঁর অনেক লেখাতেও পড়েছি। কিন্তু একসাথে দেখা হয়নি তেমন। একবার ২০০৮ সালে ৫ দিনের সুন্দরবন সফরে আমরা একসাথে ছিলাম। অন্ধকার রাতে বঙ্গোপসাগরের প্রান্ত ঘেঁষে একটা চাঁদ উদয় হবার দৃশ্য দেখানোর জন্য আমাকে আমার কেবিন থেকে ডেকে এনে ছবি তুলতে বলেছিলেন। আমি আমার মতো ছবি তুলেছি, তিনি তাঁর মতো ঝিম মেরে বসে থাকলেন। এই আমাদের একত্রে চাঁদ দেখা। 
 
নুহাশপল্লীতেও এক রাতে আমরা সবাই মিলে বসেছিলাম তাঁর ঘরের সামনের জাপানি বটের নিচে। হঠাৎ দেখা গেলো আকাশে চাঁদ। আমি একটা বেঞ্চির উপর শুয়ে পড়লাম। শুয়ে না পড়লে চাঁদ দেখা যায় না। ঘাড় বাঁকা করে চাঁদ দেখা বড়ই বিরক্তিকর। বিষয়টি দেখে তিনি মোস্তাফাকে ডাকেন । বলেন— ঐ কার্পেটটা এখানে বিছাও।  সাথে সাথে নুহাশপল্লীর ঘাসের উপর বিছানো হলো বিশাল কার্পেট। চলে এলো বালিশও। আমাকে আরাম করে চাঁদ দেখানোর জন্য তার এই আয়োজন। 
 
নুহাশপল্লীর স্টাফদের অনেক গুণ। শুধুই মালি-বাবুর্চি-দারোয়ান নয়। প্রত্যেকে যে এতদিনে পাকা অভিনেতা হয়ে গিয়েছে তা তার নাটকগুলো দেখেই জেনেছি। কিন্তু তারা যে গানও গাইতে পারে এটা জানতাম না। চন্দ্রালোকিত রাতে তারা হারমোনিয়াম, তবলা, ঢোল, বাঁশি নিয়ে বসে পড়ে। স্যারকে গান শোনায়। তার বেশ কিছু স্যারের লেখা, বাকিগুলা স্যারের পছন্দের গান। কোনোটা হাসনরাজা, উকীল মুন্সি, রাধারমন বা আবদুল করিমের। 
 
আজকের রাতটিও অনেকটা সে রকম। কিন্তু এখন স্যারের শরীর খারাপ। তাঁর স্টাফদের মধ্যে সেই প্রাণ চাঞ্চল্য নাই। সবাই মুখ বেজার করে আছে, কিসে স্যারকে তুষ্ট রাখা যায়, সেই চিন্তায়। 
 
রাত প্রায় বারোটা হবে। আমাদের ৭-৮ জনের একটা দল রাতের বেলা নুহাশপল্লীতে হাঁটাহাঁটি করছি। সবার লক্ষ্য হুমায়ূন আহমেদ। তিনি যে দিকে হাঁটছেন, সবাই পিছু পিছু। এই দলে হুমায়ূন আহমেদ, মাজহার আর কমল সস্ত্রীক। আমি আর ঝর্ণা ভাবী সিঙ্গেল। আমাদের দু’জনের স্ত্রী-স্বামী ঢাকায়। আমার স্ত্রী কেন আমার সাথে এখানে নেই— এটা সবাই জানেন, কেউ এখন আর এ নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করে না। 
 
আমরা হুমায়ূন আহমেদকে অনুরসণ করে করে চলে আসি একেবারে দিঘি বরাবর। এখানে নতুন দুইটা কটেজ বানানো হয়েছে স্থপতি মেহের আফরোজ শাওনের ডিজাইনে। নাম দেয়া হয়েছে ‘ভুত বিলাস’। যারা ভুত দেখতে নুহাশপল্লীতে আসবেন, তাদের জন্য এখানে থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ভুত যদি থেকেই থাকে, তাহলে তো দেখবেনই, আর যদি না থাকে— তবে পয়দা করা হবে। নুহাশপল্লীতে ভুত পয়দা করার কারখানা তৈরি হবে।
 
দিঘির পূর্বপাশে একনাগাড়ে ৫-৬টি কটেজ হবে। আমরা তার একটির ভেতর প্রবেশ করি। এখানে কোনো ফর্নিচার বসেনি এখনো, ফার্নিচার ছাড়া সবকিছুর কাজ শেষ। ফিটিংস বসানো আছে। ঘরের ওপাশে দিঘির ওপর কেন্ডিলিভার করে প্রশস্থ বারান্দা। এ বারান্দায় আমরা ৮জনই বসে পড়ি। হুমায়ূন আহমেদ একের পর এক চুটকি শোনাতে থাকেন, শাওনকে গান গাইতে বলন। শাওনও গান গায়। সবই গীতিকার হুমায়ূন আহমেদের গান।
 
রাত প্রায় দুটো বাজে। হুমায়ূন আহমেদ এক সময় সিগারেটের জন্য মরিয়া ছিলেন। তাঁর সবচেয়ে পছন্দের উপকরণের একটা ছিল এই সিগারেট। অথচ এখন একবারের জন্যও সিগারেট নিয়ে উসখুস করছেন না। আমেরিকা যাবার পরপরই তিনি সিগারেট ছেড়েছেন। আমাদের দলে সবাই [আলমগীর ভাই সদ্য দলছাড়া হয়েছেন] চেইন স্মোকার। এ দলে নেতৃস্থানীয় ছিলেন হুমায়ূন। এখন তিনিও ‘আধুনিক’ এর সদস্য। সিগারেট খাচ্ছেন না। সামনে খেলে যদি তাঁর কষ্ট বাড়ে, এ আশঙ্কায় আমরাও খাচ্ছি না। এটা দেখে তিনি অবাক হচ্ছেন। বারবার বলছেন— তোমাদের কী হলো, তোমরা খাচ্ছো না কেন? খাও খাও, আমার সমস্যা হচ্ছে না এখন। সিগারেটের নেশা আমার মাথা থেকে চলে গেছে। এটা যেমন বলছেন, আবার এও বলছেন যে, সিগারেটে আসলে কোনো লাভ নাই। কিন্তু মানুষ যে কেন এটা খায়! নিশ্চয় কারণ আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ এই জিনিসটার প্রতি আসক্ত। তাদের সবাই জানে যে এটা কাজের কাজ কিছুই করে না, কোনো লাভ নেই তার মধ্যে, তারপরও এটা পোড়াতে মানুষের এতো আনন্দ। রাত অনেক হয়ে গেছে। ‘ভুত বিলাস’ নিয়ে আরো কিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়। ঠিক হয়, সামনের ১২ তারিখের অপারেশনর পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরত আসার পর এগুলো কার্যকর করা হবে।
 
আমরা আস্তে আস্তে উঠে আসি। নিচের দিঘির পাড় থেকে একটা উচুঁ টিলা বেয়ে উঠতে হয়। এই টিলা বাওয়া নিয়েও কত রসিকতা করেছেন তিনি। একবার দখিন হাওয়ায় তাঁর সাথে দেখা করতে এলেন এভারেস্ট জয়ী এম. এ. মুহিত। আমাদের সাথেও অনেক কাচ্চা-বাচ্চা-তরুণ খুব আগ্রহ নিয়ে এভারেস্টের উপরে ওঠার কৌশল শিখতে চাইলো মুহিতের কাছে। এক তরুণকে কাছে ডেকে বললেন— যাও, তুমি আগে নুহাশপল্লীর টিলাটা জয় করে আসো, তারপর এভারেস্টের খোঁজে যেয়ো। 
 
আমরা সেই এভারেস্ট জয় করে উপরে সমতলে উঠে আসি। সেখানে বিরাট মাঠ। পাশ দিয়ে ইট বিছানো হাঁটাপথ আছে। সেই পথে না গিয়ে মাঠের দিকে হাঁটতে থাকি। মাঠ পার হয়ে উপরের সীমানা প্রাচীরের কাছে কতগুলো লিচুগাছ। গাছগুলোর নিচে গাছের গোড়াকে কেন্দ্রকরে ঘোরানো প্লাটফর্ম। নুহাশপল্লীর ম্যানেজার বুলবুল বলেছিলেন, মারা গেলে যেন এখানে তাকে কবর দেয়া হয়। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো কথাবার্তা বলি না। মহিলারা প্রায় সবাই ঘরের দিকে চলে যান। আমরা চারজন পুরুষ [হুমায়ূন, মাজহার, কমল আর আমি] এখানে কিছুক্ষণ বসি। নানা রকম কথা বার্তা বলি। আড্ডার সব কথা কি মনে থাকে! এক সময় শেষ রাতের দিকে আমরা ভেতরের ঘরে গিয়ে ঘুমাই।

স্মরণ

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে