Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-০৫-২০১৯

জোটে যাচ্ছে না তৃণমূল, সাফ জানালেন কেষ্টা

জোটে যাচ্ছে না তৃণমূল, সাফ জানালেন কেষ্টা

কলকাতা, ০৫ জানুয়ারি- “কংগ্রেসের লোকজন নেই। তাই তারা সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। তোমরা যাচ্ছ যাও। তোমরা হাত মেলাও। আমরা যাব না”। শনিবার রামপুরহাটের জনসভায় কেন্দ্র বিরোধী মহাজোট নিয়ে এমনই মন্তব্য করেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

গত বিধানসভা নির্বাচনে কয়েকটি বুথে পরাজয় নিয়ে দলীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেননি দলের জেলা সভাপতি। বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক ও শহর মিলে ৬৩ বুথে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। তবে আমি জানি ওই বুথগুলি এখন পুনরুদ্ধার হয়ে গিয়েছে”।

এরপরেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, “কেউ কেউ সিপিএমের সঙ্গে মিশে যেতে চাইছে। তোমাদের লোকজন নেই। এক সময় আমরাও কংগ্রেসে ছিলাম। ওদের অত্যাচারে কত মা বিধাবা হয়েছে। কত মানুষ পরিবারের স্বজনকে হারিয়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। তাই ওদের সঙ্গে তোমরা হাত মেলাচ্ছ মেলাও। আমরা হাত মেলাব না”।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মিথ্যাবাদী বলে কটাক্ষ করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন করছেন। আর বিজেপি রাম রাম করছে। ওই দলের নাম মুখে আনতে ঘৃণা হয়। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বেকারদের চাকরি দেবে। প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে। সবই ভাঁওতা। ওই দল কৃষক, দিনমজুর, বেকার যুবকদের ঠকিয়েছে। ওই দল বহুরূপীর দল না যাত্রার দল তা জানি না”।

এরপরেই তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে পাঁচন প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মঞ্চে তখন রামপুরহাট কলেজের বাংলার প্রাক্তন অধ্যাপক, কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রত বলেন, “বুথ থেকে দূরে পাঁচনের বাড়িতে সোজা করে দিন। মাজা, কোমরে যেখানে খুশি মারুন। ভয় পাবেন না। আশিসদা সহজসরল লোক। উনাকে কেউ ফোন করবেন না। আমাকে ফোন করবেন”। এই মন্তব্য শুনে আশিসবাবুর তরফ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি৷

এদিন অনুব্রত পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “রাম মন্দিরের কোনও প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকের বাড়িতে রাম মন্দির রয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা রামের না স্মরণ করি”।

অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “অসম কি কারও বাপের জায়গা? ২৫ লক্ষ হিন্দু ও ১৫ লক্ষ মুসলিমকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে। আমরা তো এ রাজ্য থেকে কাউকে তাড়িয়ে দেওয়া কথা বলছি না। এখানে তো সব রাজ্যের মানুষ বসবাস করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের জন্য কাজ করেন। ভারতকে আলো দেখাতে পারে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষক, শ্রমিক, বেকারদের প্রতীক”।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নের কয়েকদিন আশিসবাবুকে রামপুরহাট শহরের মধ্যে দেখা যায়নি। ফোনেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে পাঁচনের রাজনীতিকে তিনি কি সমর্থন করেন? তা জানা যাবে আগামী দিন।

১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা উপলক্ষে জেলার প্রতিটি ব্লকে সভা করছেন অনুব্রত মণ্ডল। এদিন রামপুরহাট হাইস্কুল মাঠে সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি রানা সিং প্রমুখ। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাত বছরে সরকারের উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য রাখেন অনুব্রত মণ্ডল৷

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে