Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৪-২০১৯

বাবলু শপথ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি

বাবলু শপথ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি

বগুড়া, ০৪ জানুয়ারি- বিএনপির সমর্থন নিয়ে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রেজাউল করিম বাবলু। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ বর্জন করলেও তিনি শপথ নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে গিয়ে শপথ নেন গুলবাগী নামে পরিচিত এ নবনির্বাচিত সাংসদ। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি এভাবে শপথ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-৭ আসনে সবসময়ই বিএনপির শক্ত অবস্থান ছিল। সেখানে আগের সব নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করেছেন। প্রতিবারই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। পরে উপনির্বাচনেও সেখানে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজ এলাকা নোয়াখালী-৫ আসনে পরাজিত হন। তখন খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৭ আসনে তাকে বিএনপি প্রার্থী করা হয়। তখন তিনিও বিপুল ভোটে জয়ী হন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেনি বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী হন খালেদা জিয়া। তবে দুর্নীতির মামলায় তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিকল্প হিসেবে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টনকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ না ছাড়ার অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে প্রার্থিতা ফিরে পান মোরশেদ মিল্টন। তবে ফেরদৌস আরা খান নামে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই রিটের ভিত্তিতে ২৫ ডিসেম্বর আবারও তার মনোনয়ন বাতিল করেন আদালত।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে দলীয় প্রার্থী না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ে স্থানীয় বিএনপি। তবে আসনটিতে আওয়ামী লীগ বা মহাজোট প্রার্থীকে ঠেকাতে বিএনপির সমমনা বিকল্প প্রার্থীর খোঁজ করেন তারা।

বিএনপি নেতারা জানান, দলীয় প্রার্থী না থাকার সুযোগ নেওয়ার জন্য রেজাউল করিম বাবলু বিএনপির সমর্থন পেতে দলের স্থানীয় ও উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের কাছে ধরনা দিতে থাকেন। তবে কেউ তার প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহী ছিলেন না। আর কাউকে না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ২৮ ডিসেম্বর তাকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দল। এজন্য তার কাছ থেকে বিএনপির সদস্য ফরমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তিনিও বিএনপির একজন সদস্য ও প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার অঙ্গীকার করেন।

বিএনপির সমর্থন পাওয়ার পরই কপাল খুলে যায় উপজেলা নির্বাচনে মাত্র ১৭ ভোট পাওয়া বাবলুর। আসনটিতে বিএনপির অবস্থান জানানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। ফলে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় দেড় লাখ বেশি ভোট পান বাবলু। এ নির্বাচনে তিনি পান এক লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৬৫ হাজার ২৯২ ভোট। আর মহজোট সমর্থিত জাপা প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলতাব আলী পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ৫৪ ভোট।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির সমর্থনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর রেজাউল করিম বাবলু দলটির নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলতে থাকেন। এর মধ্যে গত ২ জানুয়ারি দৈনিক করতোয়ায় এক বিবৃতিতে রেজাউল করিম বাবলু বলেন, 'আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী, আমি কোনো দলের নই। আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তবে কোন দল এবং কেন তার স্বাক্ষর জাল করেছে বিবৃতিতে তা উল্লেখ করেননি তিনি। এর পরও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপির অন্য সাংসদরা শপথ না নিলেও রেজাউল করিম বাবলু অনেকটা চুপিসারে শপথ নেন। তার শপথ নেওয়ার খবরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিল্টন বলেন, আমরা বাবলুর কাছে এটা আশা করিনি। আমরা ব্যথিত হয়েছি। আমরা তাকে শপথ নিতে নিষেধ করিনি। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। আমরা বিষয়টি দলের উচ্চ ফোরামে জানাব।

সূত্র: সমকাল

আর/০৮:১৪/০৪ জানুয়ারি

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে