Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৮-২০১৮

প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবা বোকামি

রবিউল ইসলাম


প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবা বোকামি

নড়াইল, ২৮ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হলেও ভোটের মাঠে নবীন মাশরাফি বিন মর্তুজা। রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও সবাই যখন প্রচারণায় ব্যস্ত তখনও ছিলেন মূল কর্তব্য খেলার মাঠে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মিশনে।

সে মিশন শেষ করেই প্রচারণায় নেমেছেন। শেষ ক’দিনে চষে বেড়িয়েছেন নিজের নির্বাচনি এলাকা। এলাকাবাসী ভোটার ও ভক্তদের সান্নিধ্যে তুমুল উত্তেজনাকর সময় পার করার মধ্যেই নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হওয়ার দুদিন আগে বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন তিনি। বলেন রাজনীতির মাঠের পরিস্থিতি, নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা।

প্রতিবেদক: রাজনীতির ময়দান কেমন লাগছে?
মাশরাফি: এক সপ্তাহের মতো এসেছি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় কিভাবে দৌড়াতে হচ্ছে এটাতো আপনারাই দেখছেন। প্রতিদিন ২০/২৫টা করে পথসভা করছি। এর বাইরে প্রতিদিন মিটিং করতে হচ্ছে নানা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে। সত্যি কথা বলতে ফিল করার সুযোগ পাচ্ছি না!

প্রতিবেদক: কি মনে হচ্ছে, ২২ গজ কঠিন নাকি রাজনীতির মাঠ কঠিন?
মাশরাফি: ক্রিকেট মাঠে টেস্ট হলে ৪০ কিংবা ৪৫ ঘণ্টায়,  ওয়ানডে হলে ৮ ঘণ্টায় এবং টি-টোয়েন্টি হলে ৩ ঘণ্টায় রেজাল্ট হয়ে যায়। কিন্তু, রাজনীতির মাঠে ফলাফল কি এতো সহজে আসে? আমি এসেছি খুব বেশিদিন হয়নি। সময় স্বল্পতা না থাকলে আরও বেশি সময় নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া যেত। তাহলে হয়তো বোঝা যেত রাজনীতির মাঠ কঠিন কিনা? এজন্য এখনই পরিষ্কার কিছু বলতে পারছি না। সময়ের সাথে সাথে আরও কিছু বোঝা যাবে। তবে এখানে বৃহৎ আকারে কাজ করার সুযোগ আছে।

প্রতিবেদক: কোন কাজটিকে সবচেয়ে কঠিন মনে হচ্ছে?
মাশরাফি: রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলতে পারছি না এখনও! এখনও খেলাধুলা করি, কথা বলতে গেলে ওই টোনই চলে আসে। যদিও আমি এখন রাজনৈতিক কোনও বক্তব্য দিতে চাইও না। নড়াইলে মুরব্বি যারা আছেন, তাদের সামনে এমনি কথা বলতে আমার একটু অস্বস্তি লাগে। তাদের কাছে বলেছি, কোনও ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার। তারা আমাকে অভয় দিয়েছেন।

প্রতিবেদক: পথসভার অভিজ্ঞতা কেমন?
মাশরাফি: অবশ্যই ভালো লাগছে। নড়াইলের মানুষ আমার পাশে সব সময়ই ছিল। এমন অনেক হয়েছে, ইনজুরিতে পড়ে বাসায় শুয়ে আছি, নড়াইলের দূর-দূরান্ত থেকে অনেক অপরিচিত লোক আমাকে দেখতে এসেছে। ২০০১ সালের ইনজুরিতে আমি ১৪ মাস দলের বাইরে ছিলাম। প্রায় ৬ মাস আমি বেডে শুয়েছিলাম। ওই সময়টাতে আমি নড়াইলবাসীর অনেক সমর্থন কিংবা সাপোর্ট যাই বলুন না কেন সবটুকুই পেয়েছি।

এইসব কারণে নড়াইলবাসীর জন্য আমার হৃদয়ে বাড়তি একটা অনুভূতিতো আছেই। এখনতো আরও কাছাকাছি তাদের সঙ্গে মেশার সুযোগ হচ্ছে। যারা এতোদিন টিভিতে দেখেছে, এরাও এখন রাস্তায় বের হয়ে এসেছে আমাকে দেখতে। সবার স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসাতো আছেই। এমন অভিজ্ঞতা অসাধারণ।

প্রতিবেদক: গত চারদিন আপনার সংসদীয় আসন চষে বেড়ালেন। কোনও বিশেষ মুহূ্র্তের কথা বলবেন?
মাশরাফি: কোনও মুহুর্তকেই ছোট করার কোনও সুযোগ নেই। বিভিন্ন জায়গায় অনেকে অনেকের ঐতিহ্য মেনে আমাকে বরণ করেছে, সেগুলো খুব ভালো লেগেছে। তারা যা করেছে, এর জন্য আমি তাদেরকে একটি পয়সাও দেইনি। উনারা যারা এভাবে খরচ করে আমাদের বরণ করেছেন, প্রত্যেকেই তাদের কষ্টের টাকা আমার পেছনে ব্যয় করেছেন। আমাকে ভালোবাসেন বলেই করেছেন। সুযোগ পেলে তাদের ভালোবাসার প্রতিদান অবশ্যই দেবো।

প্রতিবেদক: অনেক তারকাই নির্বাচন করছে,আপনিও তেমনই একজন। ব্যাপারটি কিভাবে দেখেন?
মাশরাফি: এটা আসলে বোঝা যাবে, ৩০ ডিসেম্বর! তবে এই মুহুর্তের কথা বলতে পারি, আমি সকলের ভালোবাসায় আপ্লুত। গত চারদিনে দেখেছি রান্না-বান্না বাদ দিয়ে ঘরের নারীরা এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা কেউ পিঠা, কেউ পানি, কেউ মিষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এই ব্যাপারগুলো আমাকে মনের ভেতর সাহস যোগাচ্ছে। বাংলাদেশকে একটা সেক্টর থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছি, ক্রিকেট। এখন আরও বড় সেক্টর আসছে। ওই জায়গা থেকে যারা পছন্দ করে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে আছে। যদি সুযোগ পাই নড়াইলবাসীর সেবা করার, তখন কিছুটা হলেও এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করার চেষ্টা করবো।

প্রতিবেদক: ভোটের ফল নিয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী?
মাশরাফি: আমি কখনোই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হই না। ক্রিকেটে কখনও হইনি বলেই হয়তো এখানেও এই অভ্যাসটা রয়ে গেছে। রাজনীতির মাঠে নিশ্চিত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।  আমি ধারণা করছি, ভোটের মাঠে আমাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কেননা প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবা বোকামি। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে জিততে পছন্দ করি। দেখা যাক ৩০ তারিখে কী ঘটে।

প্রতিবেদক: খেলোয়াড় মাশরাফি থেকে রাজনীতিবিদ মাশরাফি; নিজের ভেতর কতটা পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন?
মাশরাফি: এখনও আমার ক্রিকেটার সত্ত্বার পরিবর্তন হয়নি। খেলাটা যতদিন না ছাড়ি ততোদিনতো আমার ক্রিকেটার পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে না। আগে বলেছি, জীবন দিয়ে খেলেছি, সামনে তাই করবো। আমি এমন একটা বয়সে দাঁড়িয়ে আছি, ছোট খাটো একটা ইনজুরি আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দেবে। আর এটাতো পুরো আলাদা একটা সেক্টর, যেখানে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমি মনে করি দুটো জায়গাতেই আমি শক্ত অবস্থানে আছি।

প্রতিবেদক: রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে কিভাবে দেখছেন?
মাশরাফি: আমি আমার প্রতিপক্ষকে সম্মান করি। আমি ক্রীড়াবিদ বলেই হয়তো এভাবে ভাবতে পারছি। কেননা ক্রীড়াবিদদের ভেতরে প্রতিপক্ষকে সম্মান করার একটা প্রবণতা থাকে। তবে অন্য সেক্টরে যে নেই তা নয়। তবে ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব খানিকটা বেশি। আমার মধ্যে প্রতিহিংসা কোনোভাবেই নেই। আমার বিপক্ষে কেউ কিছু করলেও আমি রিভেন্স (প্রতিশোধ) নেওয়া পছন্দ করি না। উনার (ফরিদুজ্জামান ফরহাদ) সঙ্গে তো আমার ব্যক্তিগত লেনদেন নেই। এছাড়া সামনা সামনি কোনদিন কথাও হয়নি। তো প্রশ্নই উঠে না, কাদা ছোড়াছুড়ি করার। এখন উনি নিজে কিছু বললে বলতে পারেন, এটা উনার ব্যাপার। আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল, আমি বলেছি এ ব্যাপারে প্রমাণ দিতে পারলে আমি সবরকম সহযোগিতা করবো। আমি সবাইকে বলেছি প্রতিপক্ষকে সম্মান দিয়ে নিজেদের কাজগুলো করার জন্য।

প্রতিবেদক: সিন্ডিকেটের কারণেই নড়াইলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এমন অভিযোগ করেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে ভেবেছেন কিনা?
মাশরাফি: নতুন কোন কিছু এখনও আমি খোঁজার চেষ্টা করিনি। সবাইকে বলেছি দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে। এতোটুকু মেসেজ আমি সবাইকে দিয়েছি। আশা করি সবাই সেভাবেই কাজ করবে। আমি কোনও সিন্ডিকেট নিয়ে আসিনি। এখানে সরলভাবে এসেছি, আশা করি সবাই সরলভাবে দেখবে। এই মেসেজটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

প্রতিবেদক: মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সভা করলেন। তাদের ব্যাপারে আপনার ভাবনা কি?
মাশরাফি: শুধু নড়াইল কেন, পুরো বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সম্মান করি। আজ উনাদের সঙ্গে একটা মিটিং ছিল। উনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। উনাদের সম্পৃক্ততা খুবই প্রয়োজন। উনারাই বিনা স্বার্থে এদেশকে স্বাধীন করেছেন। আমরা তরুণ প্রজন্ম এভাবে হেঁটে বেড়াচ্ছি, স্বাধীনভাবে কথা বলছি, খেলাধুলা করছি, খাওয়া-দাওয়া করছি, এখানে কোনও বাধা নিষেধ নেই। এটা একমাত্র উনাদের কারণে। আজ (বুধবার) নড়াইলের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বসেছিলাম। কাল (বৃহস্পতিবার) লোহাগড়া থানার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বসবো। উনাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, উনারা বেশি কিছুই চান না। উনারা সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান। এ সম্মানটুকু উনারা যেন পান। আমিও বলেছি শুধু নির্বাচনের জন্য না, নির্বাচনের বাইরেও আমার যতটুকু সম্ভব ঠিক ততোটুকু উনাদের জন্য করবো।

প্রতিবেদক: নতুন ভোটারদের জন্য আপনার বক্তব্য কি?
মাশরাফি: প্রত্যেকের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে, তাদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা আছে। তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। আপনাদের কাছে আমার যদি গ্রহণযোগ্যতা থাকে তাহলে আমাকে ভোট দেবেন। আমি নিশ্চিত তরুণ প্রজন্ম অবশ্যই স্বাধীনতার পক্ষে থাকবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/০৮:১৪/২৮ ডিসেম্বর

নড়াইল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে