Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯ , ৪ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-২৬-২০১৮

নেত্রকোণায় হামলা-গ্রেপ্তারে বিঘ্নিত নির্বাচনী প্রচার

লাভলু পাল চৌধুরী


নেত্রকোণায় হামলা-গ্রেপ্তারে বিঘ্নিত নির্বাচনী প্রচার

নেত্রকোনা, ২৬ ডিসেম্বর- ময়মনসিংহ বিভাগের এই জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রচার চালালেও একটিতে দলের প্রার্থীরা অনেকটাই বসে। আর যে চারটিতে বিএনপির ভোট প্রার্থনা আছে, তার একটিতে পুরোদমে মাঠে নামেনি তারা।

পাঁচটি নির্বাচনী এলাকাতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে একাধিকবার হামলা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় মামলা হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আর এ কারণে গ্রেপ্তার এড়াতে ভোটের প্রচারে কম তারা।

প্রতিটি আসনে জয়-পরাজয় নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। কী হলে কে জিতবে, কোন এলাকার পরিস্থিতি কেমন- বাজারে বা মানুষের জটলায় আলোচনার বিষয়বস্তু এসবই।

নেত্রকোনা-১

সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি এবং ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জেতে আওয়ামী লীগ। শেষবারে নৌকা নিয়ে মোশতাক আহমেদ রুহী পান এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৯ ভোট। ধানের শীষে কায়সার কামাল পান ৮৫ হাজার ৩০৭ ভোট।

এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী পাল্টে মানু মজুমদারকে প্রতীক দিলেও বিএনপি আস্থা রেখেছে কামালের ওপরই।

মানু জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের অন্যতম। বর্তমান সাংসদ ছবি বিশ্বাসের ভগ্নিপতি।

২০০৮ সালে জয়ী মোশতাক আহমদ রুহী ২০১৪ সালের মতো এবারও মনোনয়ন না পেয়ে হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে এলাকায় প্রচারে নেই তার।

আওয়ামী লীগের পুরোটাই আছে মানুর পক্ষে। তারা ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির কায়সার কামাল অনেকটাই বসে।

প্রচার শুরুর পরপর ১০ ডিসেম্বর দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের একটি ক্যাম্পে হামলা হয়। আহত হয় দলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় মামলা হয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হয়েছে সাত থেকে আটজন।

দুই দিন পর কলমাকান্দায় ককটেল হামলা হয় আওয়ামী লীগের একটি নির্বাচনী সভায়। আহত হন তিনজন। এই ঘটনাতেও মামলা হয় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

এই দুই ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা আর প্রকাশ্যে আসছেন না। কর্মিশূন্য কায়সার কামাল কলমাকান্দায় চার ঘণ্টার অবস্থান ধর্মঘট করেন। পরে করেন সংবাদ সম্মেলন। বলেন, তাকে মাঠে নামার সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না।

নেত্রকোনা-২

সদর ও বারহাট্টা আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপি জিতলেও পরের প্রতিটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ জিতেছে বড় ব্যবধানে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আশরাফ আলী খান এক লাখ ৫৪ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে বিএনপির আশরাফ উদ্দিন খানকে হারান ৭৯ হাজার ৬০৫ ভোটে। এবারও নৌকা পেয়েছেন আশরাফ। তবে বিএনপি দিয়েছে নতুন মুখ। ধানের শীষ পেয়েছেন অর্থোপেডিক চিকিৎসক আনোয়ারুল হক। তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

সোমবার সদর উপজেলার পাঁচকাহনিয়ায় গণসংযোগ চলার সময় আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত হন ছাত্রলীগের এক কর্মী। পুলিশ বিএনপির ১৪ জনকে আটক ও ১৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করে।

পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থী বলেন, তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, বের হতে দিচ্ছে না।

তবে গত তিন দিন ধরে বিএনপির প্রার্থী ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। বলেন, ‘একটি জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। তবে প্রচার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও উদ্দীপনামূলক কথা শুনে সাহস জাগে।’

আশরাফ আলী খান গত ১০ বছরে এলাকায় উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি জয়ের ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী।

নেত্রকোনা-৩

কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের আওয়ামী লীগ দিয়েছে নতুন মুখ, নৌকা পেয়েছেন অসীম কুমার উকিল। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক।

বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মঞ্জরুল কাদের কোরাইশীর কাছে হারেন বড় ব্যবধানে। সে সময় নৌকায় পড়ে এক লাখ ৩১ হাজার ১৮৭ ভোট। ধানের শীষ পায় ৮৬ হাজার ৭৬ ভোট।

প্রচার শুরুর দিন আটপাড়ায় হয় আওয়ামী লীগের মিছিলে পেট্রল বোমা হামলা হয়, আহত হয় সাত জন। প্রতিবাদে রাতে কেন্দুয়ায় আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে ইট পাটকেল ছোড়া হয়। পরে বিএনপির প্রার্থী করেন ২৭ রাউন্ড গুলি। আর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ১২টি মামলায় আসামি হয় এক হাজার ২৫০ আসামি, গ্রেপ্তার হন ৮৩ জন।

২২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা হিলালী বলেন, ‘বিগত দিতে যা ঘটনা ঘটেছে, তা ভুলে যেতে চাই। সামনের যে কয়টা দিন আছে, আমাকে যেন প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হয়।’

শুরুর দিকে নিজেকে গুটিয়ে রাখলেও বিএনপির প্রার্থী গত তিন দিন ধরে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।

নেত্রকোনা-৪

মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরি আসনে একাধিক ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। আর মামলা হয়েছে বিএনপির বিরুদ্ধে।

প্রচার শুরুর তিন দিনের মাথায় মদন পৌর শহরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় বাবরপুত্র লাবিব ইবনে জামানসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

গত সোমবার সন্ধ্যায় মদন পৌর শহরে বাজার এলাকায় আবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জটলায় হামলা হয়, আহত হয় তিনজন। পুলিশ আটক করে ১৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে।

গতকালও বালালি এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর হয়। পরে বিজিবি যায় এলাকায়।

তবে এর মধ্যেই দুই প্রধান প্রার্থী আওয়ামী লীগের রেবেকা মমিন এবং বিএনপির তাহমিনা জামান আছেন পুরোদমে প্রচারে।

তাহমিনা দুই মামলায় মৃত্যুদ- পাওয়া বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী। অন্যদিকে রেবেকা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী আব্দুল মমিনের স্ত্রী। ষাটের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন।

হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকায় ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জেতেন বাবর। আর ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জেতে আওয়ামী লীগ।

নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন না পেয়ে কারাগারে থেকেই স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেন বাবর। আওয়ামী লীগের রেবেকা মমিনের কাছে হারেন ১৪ হাজার ৮৯৮ ভোটে। সে বছর ধানের শীষের প্রাথী সৈয়দ আতাউল হক পান তিন হাজার ৫২ ভোট।

নেত্রকোনা-৫

পূর্বধলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দুই পক্ষই পুরোদমে প্রচারে আছে। যদিও গত রবিবার একটি সহিংসতার ঘটনায় আছে উত্তেজনা। সেদিন ঘাগড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর করা হয়।

এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল। তিনি ২০০৮ সাল থেকেই ওই আসনের সংসদ সদস্য। অন্যদিকে বিএনপিতে নতুন মুখ আবু তাহের তালুকদার।

২০০৮ সালে এই আসনে বেলাল এক লাখ নয় হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে বিএনপির মোহাম্মদ আলীকে হারান ৮০ হাজার ৪৮৫ ভোটে।

তথ্যসূত্র: ঢাকাটাইমস২৪
এমইউ/০৯:৩৫/২৬ ডিসেম্বর

নেত্রকোনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে