Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.6/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৭-২০১৩

নাগরিকত্ব এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য উপযুক্ত কিন্তু উপেক্ষিত কিছু দেশ


	নাগরিকত্ব এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য উপযুক্ত কিন্তু উপেক্ষিত কিছু দেশ

অনেকেই উন্নত জীবনব্যবস্থার জন্য দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে চান প্রবাসে। যুক্ত্ররাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্ত্ররাজ্যের পাশাপাশি জীবনযাপনের দারুন সব সুবিধা উপভোগের জন্য আরও কিছু দেশে অভিবাসনের চিন্তা করে দেখতে পারেন। প্রয়োজনীয় ফান্ড থাকলে এসব দেশ অনায়াসেই আপনাকে তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করবে। এমনই কিছু দেশের বিশদ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

সেইন্ট কিটস এ্যান্ড নেভিস ক্যারিবিয় অঞ্চলের দুটি দেশে টাকার বিনিময়ে সহজেই নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া ১০০% বৈধ এবং এর জন্য সময়ও লাগে খুব কম। সেইন্ট কিটস এ্যান্ড নেভিসের দ্বীপপুঞ্জ আমেরিকা অধ্যুষিত সবচেয়ে ছোট এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাকৃতিক বৈচিত্রের পাশাপাশি এখানে রয়েছে জীবনযাপনের জন্য অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। এখানে ব্যক্তিগত আয়ের উপর কোন কর প্রযোজ্য হয় না। তাছাড়া এর নাগরিকেরা ভিসা ছাড়াই পাশ্ববর্তী আরও ১৩০ টি প্রদেশে অনায়াসেই যাতায়াত করতে পারবেন।
১৯৮৪ সালে চালু হওয়া এই অভিবাসন নীতি এখনও পর্যন্ত অভিবাসন সংক্রান্ত বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো আইনের একটি। দেশটির চিনি শিল্পের (Sugar Industry Diversification Foundation) উপর থেকে নির্ভরতা কমাতে কমপক্ষে ২৫০,০০০ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমেই আপনি এর নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। এই বিনিয়োগের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০০,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একমাত্র ইরান বাদে বিশ্বের অন্য সব দেশের নাগরিকই এই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০১১ সালে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসে হামলা চালানোর পর থেকেই ইরানের নাগরিকদের উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। 

ডমিনিকা। আপনার যদি অত বেশি পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগের সামর্থ্য না থাকে সেক্ষেত্রে ডমিনিকা আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। অনেকেই এই দেশকে ডমিনিকান রিপাবলিক এর সাথে গুলিয়ে ফেলেন। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৭৩,০০০ এবং এখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের নীতি ১৯৯৩ সাল থেকে প্রচলিত। এতে চারটি ভিন্ন প্যাকেজ বেছে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। কেবলমাত্র একজনের নাগরিকত্বের জন্য ডমিনিকার জাতীয় ব্যাংকে কমপক্ষে ১০০,০০০ ডলার সমপরিমাণ অর্থ জমা দেখাতে হয়। চারজনের একটি পরিবারের জন্য বিনিয়োগের এই পরিমাণ হয়ে যাবে দ্বিগুণ। আবেদনকারীদেরকে অবশ্যই সৎচ রিত্রের অধিকারী হতে হবে, অন্তত সাধারণ পর্যায়ে ইংরেজীর দক্ষতা থাকতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আবেদনকারীদের কমপক্ষে ৮ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। এই দেশের নাগরিকত্ব পেলে আপনি ৮৫ টি দেশে ভিসা-ফ্রি অনুপ্রবেশের জন্য বিবেচিত হবেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০০ টি পরিবার এই স্কীমের সুবিধা নিয়ে দেশটির বৈধ নাগরিক হয়েছেন।

 
এন্টিগা এবং বারবুডা। এখনও পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে খুব শীঘ্রই দেশটি উপরেল্লিখিত দুটি দেশের মত অভিবাসন ব্যবস্থার প্রচলন করতে যাচ্ছে। নানা ঝুট-ঝামেলার পর অবশেষে এই বছরের মার্চ মাসে দেশটির সংসদে অভিবাসনের এই নতুন আইনটি পাস হয়। সেইন্ট কিটস এ্যান্ড নেভিসের মতই, সর্বনিম্ন ২৫০,০০০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৪০০,০০০ ডলার সমপরিমাণের অর্থ বিনিয়োগ করে এই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। 
তাছাড়া সরকার অনুমোদিত কোন বৈধ ব্যবসা খাতে ১.৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগও রয়েছে এই দেশে। এর সাথে অতিরিক্ত ৫০,০০০ ডলার এ্যাপ্লিকেশন ফি এবং ৭,৫০০ ডলার প্রসেসিং ফি দিতে হবে। দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে আপনি প্রায় ১২০ টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পাবেন। এই দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা এবং কানাডা অন্যতম। 
 
অস্ট্রিয়া। সমগ্র ইউরোপে অস্ট্রিয়াই একমাত্র দেশ যেখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা নেয়া সম্ভব। অস্ট্রিয়া সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেই একজন ব্যক্তি সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভের জন্য বিবেচিত হবেন। এর রাজধানী ভিয়েনা জীবনাযাপনের সেরা মানের জন্য জগৎ জুড়ে বিখ্যাত। তবে এই দেশের নাগরিকদেরকে ব্যক্তিগত আয়ের উপর প্রায় ৫০% হারে কর প্রদান করতে হয়। একটি অস্ট্রিয়ান পাসপোর্ট আপনার জন্য অনেকগুলো দেশের দরজা উন্মুক্ত করে দিতে পারে। শেনজেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে ইউরোপের সবচেয়ে উন্নত ২৬ টি দেশসহ সমগ্র বিশ্বের ১৬০ টি দেশে অস্ট্রিয়ার নাগরিকদের অবাধে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা অন্যতম।

হংকং। কেবলমাত্র অর্থ বিনিয়োগ করা এই দেশের নাগরিকত্ব লাভের জন্য যথেষ্ট নয়। হংকং এর নাগরিক হতে হলে বিনিয়োগের পাশাপাশি আপনাকে কিছু সময়ের জন্য এই দেশে বসবাস করতে হবে। তবে এর নাগরিকদেরকে ১৫% হারে যে ‘চাইনিজ টেরিটরি ট্যাক্স’ প্রদান করতে হয়, তা এই দেশে বসবাসের অন্যতম একটি অসুবিধা বলে বিবেচিত। হংকং এর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট এনট্রান্ট স্কীম এর নীতি অনুসারে, ১.৩ মিলিয়ন ডলার সমপরিমান অর্থ বিনিয়োগ করার পরে আবেনকারী সেই দেশে বসবাসের অনুমতি পাবেন।

এর ফলে আপনি নামমাত্র মূল্যে এদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিরা হংকং সরকারের কাছ থেকে অর্থ সাহায্যও পেয়ে থাকেন। ২০১১ সাল থেকে এই নতুন অভিবাসন আইন চালু হবার পর থেকে হংকং সরকার প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ এর স্থায়ী বাসিন্দাদেরকে ফেরত দিয়েছে।
আকর্ষণীয় পর্যটন সুবিধা ও লোকেশন সহ হংকং এর রয়েছে বেশ সুস্থিত একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা এর নগরিকদের জন্য জীবনাযাত্রার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে। এখনো পর্যন্ত প্রায় ১৮,০০০ ব্যক্তি বিনিয়োগের মাধ্যমে হংকং-এ পাকাপোক্তভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়ছেন। নাগরিকত্ব লাভের জন্য তাদেরকে প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর মাত্র একবার হংকং ঘুরে আসতে হবে। 
 
সিঙ্গাপুর। ইসিএ ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি ২০১২ সালে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণচঞ্চল দেশের খেতাব পেয়েছে। হংকং এর মতই, সিঙ্গাপুরে ব্যক্তিগত আয়ের উপর করের হার তুলনামূলকভাবে কম। তবে এই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া অন্যান্য দেশগুলোর মত সহজ নয়। আবেদনকারীদেরকে অবশ্যই সিঙ্গাপুরে ব্যবসা-বিনিয়োগের কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিবছর ব্যবসা খাত থেকে সর্বনিম্ন ৪০ মিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিয়ন ডলার আয়ের হিসাব দেখাতে হবে। তবে আগ্রহী ব্যক্তিরা সিঙ্গাপুর সরকারের গ্লোবাল ইনভেস্টর প্রোগ্রামের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা লাভের জন্য আবেদন করতে পারেন। এজন্য আপনাকে নির্দিষ্ট খাতে কমপক্ষে ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। এই খাতগুলোর মধ্যে ন্যানোটেকনলজী, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য শক্তি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে সিঙ্গাপুরের স্থায়ী পুরুষ বাসিন্দাদের জন্য ঐ দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করা বাধ্যতামূলক।
এসব নানা কারণেই মূলত বিগত বছরগুলোতে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব লাভের আবেদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
 
অস্ট্রেলিয়া। আপনার যদি বেশ মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করার ক্ষমতা থাকে তবে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অস্ট্রেলিয়া হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।নভেম্বর ২০১২ সালে চালু হওয়া নতুন অভিবাসন আইন অনুসারে, দেশটির নাগরিকত্ব লাভের জন্য বিবেচিত হতে হলে একজন ব্যক্তিকে কমপক্ষে ৪.৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের প্রায় তিন মাস পর ইনভেস্টর বা বিনিয়োগকারী হিসেবে ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। 
যাদের এই ইনভেস্টর ভিসা রয়েছে তারা চার বছর পর অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ বছরের মে মাস থেকে চালু হওয়া এই প্রোগ্রামের আওতায় এখনও পর্যন্ত ১৭০ টি আবেদন জমা পড়েছে। যদি এই সবগুলো আবেদনই গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ লাভে সমর্থ হবে। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকরা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে পৃথিবীর ১৬০ টি দেশে ভিসা ছাড়াই অনুপ্রবেশের সুবিধা পাবেন। তবে এই দেশে ব্যক্তিগত আয়ের উপর আরোপিত করের হার অনেক বেশি, প্রায় ৪৫%। তাছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ দুটি শহর সিডনি এবং মেলবোর্ন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় প্রথম পাঁচের মধ্যে রয়েছে। (সৌজনে্য ঃ হলিউড বাংলা)
 

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে