Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৮-২০১১

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামী দুই বছর

ফকির ইলিয়াস


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামী দুই বছর
বাংলাদেশের রাজনীতির আগামী দুই বছর কেমন হবে, তা নিয়ে একটি জল্পনা সর্বত্র। কেউ শঙ্কার ধ্বনি শুনছেন। আর কেউ উন্নয়নের জোয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জানিয়ে দিয়েছেন-২০১২ সাল হবে আন্দোলনের বছর। তার এই আন্দোলনের ডাকে কতটা সফলতা আসবে, প্রশ্ন আসছে তা নিয়েও। কারণ বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস প্রমাণ করে, আন্দোলন করে কোন নির্বাচিত সরকারকেই ক্ষমতা থেকে নামানো যায়নি। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ প্রায় একদশকের জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফসল।
আগামী দুই বছর বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে প্রক্রিয়া চলছে তার বাস্তবায়নে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সরকারের কোন কোন শীর্ষ মহলের মতে, ২০১২ সালের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হবে এবং ২০১৩ সালে রায় কার্যকর করা হবে।
কথা হচ্ছে, ২০১৪ সালে যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়ে যায় তবে এসব রায় বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কারণ জামায়াত-বিএনপি জোটের সামনে একটিই পথ খোলা-সরকারের পরিবর্তন সাধন করা। বিষয়টি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা অনুধাবন করতে পারছেন বলেই আমার ধারণা।
যদি তারা তা অনুধাবন করতে পারেন, তবে তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য জনগণের আস্থা বজায় রাখার অনুকূলে তারা কি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছেন? প্রশ্নটি সঙ্গত কারণেই আসছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সম্প্রতি মিডিয়ায় খুব স্পষ্ট বলেছেন, মহাজোটের উচিত ব্যর্থ মন্ত্রীদের সরিয়ে দিয়ে যোগ্য ও কর্মঠ ব্যক্তিদের মন্ত্রিত্বের পদে বসানো। তিনি বলেছেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে আগামী দুই বছর মন্ত্রী হিসেবে কাজের সুযোগ দেয়া খুব জরুরি।
বর্তমান সরকার নানা কারণে মন্ত্রীদের সরাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্যতম কারণ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কোন কোন মন্ত্রীর একান্ত আনুগত্য। হ্যাঁ, তা হতেই পারে। কিন্তু একান্তই যদি কোন মন্ত্রী অকর্মণ্য হন, দুর্নীতিগ্রস্ত হন তারপরও তাকে সরানো হবে না? এটা তো কোন সভ্য রাষ্ট্রের রীতি-রেওয়াজ হতে পারে না।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা শ্রী সুনীল শুভরায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সমাবেশে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় পার্টি একাই করবে। তিনশ' আসনে প্রার্থী দেবে। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের ওয়াদা রক্ষা করেনি। কথা ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করা হবে; কয়েকজন মন্ত্রী নেয়া হবে জাতীয় পার্টি থেকে। আওয়ামী লীগ কোন কথাই রাখেনি।
বলার অপেক্ষা রাখে না, গেল সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনেক উঠতি নেতাই এমপি হওয়ার সুযোগ পান। কেউ কেউ মন্ত্রীও হয়েছেন। মহাজোটের অন্যতম দল আওয়ামী লীগের কারও কারও 'ধরাকে সরা জ্ঞান' করার এটাই অন্যতম কারণ। অথচ তরুণ প্রজন্ম একটি বিশাল পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই মহাজোটকে এমন একক সমর্থন দিয়েছিল। এর বদলে এখন আমরা দেখছি, আওয়ামী লীগের কোন কোন এমপি-মন্ত্রীর দুর্নীতি-পেশিতন্ত্রের তথ্য-প্রমাণসহ জাতীয় দৈনিকগুলোতে ম্যারাথন রিপোর্ট ছাপা হচ্ছে। একশ্রেণীর ত্রাসের রাজত্বে নিহত হয়েছেন আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা নরসিংদীর মেয়র লোকমান হোসেন। তড়িঘড়ি করে গ্রেফতার করা হয়েছে এ এলাকারই বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকনকে। শেষ পর্যন্ত মামলায় তার নামই এজাহারভুক্ত করেননি লোকমানের পরিবার। সত্যি কী সেলুকাস! উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর এমন ন্যক্কারজনক প্রচেষ্টা করবে মহাজোট সরকার। আর জনগণ তা মেনে নেবে? প্রধানমন্ত্রী কী মহাপ্রলয়ের ধ্বনি শোনছেন না?
খায়রুল কবির খোকন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন; অন্যদিকে লোকমানের প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারি বাহিনী- এটা কেমন নৈরাজ্যের শাসন? এই স্বেচ্ছাচারিতার ফল কী হতে পারে, তা অতীতে আমরা দেখেছি। 'ব্রুট মেজরিটি' পাওয়ার অর্থ এ-ই নয়, এমপি-মন্ত্রীরা রাষ্ট্রে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবেন। একটি 'হাওয়া ভবনের' অস্তিত্ব ভাঙতে এই জাতিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এখন যদি আবার দেশে সেই মিনি সিন্ডিকেট তৈরি হয়, তাহলে ওয়ান/ইলেভেন কেন এসেছিল তা কী রাজনীতিকরা ভুলে যাবেন? আমরা জানি বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়াতে জানে। ক্ষমতার গরমে অন্ধ হয়ে যারা অতীতকে ভুলে যাচ্ছেন, তারা মহাভুল করছেন।
বাংলাদেশের আগামী দুই বছরে প্রধান বিরোধীদল আন্দোলনমুখী থাকবে, সন্দেহ নেই। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না, এটাও নিশ্চিত। এক্ষেত্রে বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার শেষ মুহূর্তে আবার সংবিধান সংশোধন করে কিছু নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পুনর্বহাল করতে পারে বলেও আমি অনুমান করছি। বর্তমান বিএনপির একাংশকে ভেঙে একটি 'নতুন বিএনপি' তৈরি করে ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতিতে নির্বাচনের চেষ্টাও চালাতে পারে বর্তমান সরকার এবং তা সফল না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ বিএনপি মানেই খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব- এমন একটি শ্লোগান- সাইনকে সহসাই ঢেকে দেয়া যাবে না।
সরকারের উচিত হবে, আগামী দুই বছর প্রজ্ঞা এবং কর্মযজ্ঞের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। কারণ দলীয় কোন্দলেই হোক আর নাশকতা-নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যই হোক, গুপ্তহত্যা দেশে প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। কুমিল্লা এবং ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু নব্যধনিক ও উঠতি রাজনীতিকদের মহড়া জনজীবন বিপন্ন করে তোলতে পারে।
আমরা দেখছি, আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সরকারের 'মাউথ স্পিকার' হিসেবে নানা কথা প্রায়ই বলেন। তাদের এসব কথাবার্তা 'চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স' করার জন্য আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায় থেকে বলানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মনে রাখা দরকার সরকারের শীর্ষ পদবি এবং রাষ্ট্রপ্রধানকে সবসময় ঘিরে রাখে একটি চাটুকার বলয়- যারা কখনই রাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থা সরকারপ্রধানকে জানতে দেয় না।
আমি বলছি না, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী মিডিয়ানির্ভর হবেন কিংবা মিডিয়ার সব রিপোর্ট ফলো করে ব্যবস্থা নেবেন। তবে এটা খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি, একটি মিডিয়া কিন্তু জেনে, বুঝে, তল্লাশি করে সাক্ষী-প্রমাণ নিয়েই রিপোর্ট করে। সরকারের পছন্দ হোক বা না হোক, তা খতিয়ে দেখতে তো দোষের কিছু নেই। কারণ সরকার এবং মিডিয়া দু'পক্ষই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার প্রতিজ্ঞা বারবার করেন।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সন্ত্রাস, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ, সংঘবদ্ধ জঙ্গিদের উত্থান প্রভৃতি বিষয়গুলো আগামী দুই বছরে সরকারের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই শুধু মুখে নয়, বাস্তবে সরকারকে কঠোরতম হতে হবে নিয়ন্ত্রণ রক্ষায়। মনে রাখতে হবে, দেশের মানুষের শান্তি রক্ষাই হতে হবে সর্বপ্রথম প্রায়োরিটি।
নিউইয়র্ক

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে