Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (31 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৩-২০১৩

আবারও সাকা চৌধুরীর আস্ফালন


	আবারও সাকা চৌধুরীর আস্ফালন

 

ঢাকা, ৩ জুলাই- মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার পক্ষে সাফাই সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ করেছেন। বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের লড়াইয়ে বিশ্বাসীদের পক্ষে নিজের অবস্থান আবারও ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপক্ষেতার ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া হতাশাগ্রস্ত কমিউনিস্টরা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বিপক্ষের শক্তিতে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন।’
 
তার দীর্ঘ জবানবন্দিতে প্রসিকিউশনের আপত্তির জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। আমাকে বলতে দিবেন না?’
 
এ সময় প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, ‘অপরাধ করলে তো ফাঁসির কাঠগড়ায় দাড়াতেই হবে।’
 
তখন সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ‘ইনশআল্লাহ ভবিষ্যতে আপনারাও যে ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন না সে নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি না।’
 
জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করে প্রসিকিউশন। জেরায় প্রসিকিউটরের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। যা বলি জেনে-বুঝে এবং অর্থপূর্ণতাসহ বলি।’
 
জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল মামলার কার্যক্রম বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।
 
জবানবন্দি চলাকালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার আইনজীবীদের সঙ্গে প্রসিকিউটররা বারবার বিতর্কে জড়ান।
 
সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল রাউজানের কুন্ডেশ্বরীতে আমার উপস্থিতির মিথ্যা গুজবের জন্মদাতাকে চিহ্নিত করতে এ ট্রাইব্যুনাল আমাকে সুযোগ দিয়েছে। প্রসিকিউশনের একজন সাক্ষী ওই দিন আমার কুন্ডেশ্বরীতে উপস্থিত থাকার কথা বলেছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন তিনি তা শুনেছেন ভারত থেকে ফিরে আসার পর। এ দাবি মিথ্যায় প্রতিপন্ন হয় এই কারণে যে, নতুন চন্দ্র সিংয়ের ছেলে সত্যরঞ্জন সিং ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আমার মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রস্তাবক ছিলেন।’
 
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল আমি বাংলাদেশ থেকে ১২শ’মাইল দূরে ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ কল্পকাহিনী, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যা তৈরি করেছে। রাউজানে তিনটি নির্বাচনে আমি পরীক্ষা দিয়েছি। প্রতিবারই আমি আমার প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছি। এ অভিযোগের প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেননি যে, তিনি আমাকে অতীতে দেখেছেন।’সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এসব বক্তব্যে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।
 
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে আমাকে এ বিচারের মুখোমুখী করা হয়েছে। এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ব্যাপকমাত্রার গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ ভূমির এক সন্তান হিসেবে এবং যেহেতু আমি ভারত থেকে আসা উদ্বাস্তু নই তাই সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে বিভক্ত সীমানায় সৃষ্ট বাংলাদেশের প্রতি আমার প্রেম এবং আনুগত্য শর্তহীন। অর্থনৈতিক এবং বস্তুগত সুবিধা দিয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকি। আমি এটা বিশ্বাস করি যে, উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথের কারণে আমরা ৩০ লাখ শহীদের নাম গোপন রেখেছি। আমাদের সশস্র বাহিনীর শহীদদের নাম ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গেটে টানানো আছে। এটা দুঃখজনক যে, ৪২ বছরে আমরা ৩০ লাখ শহীদের নাম চিহ্নিত করে তাদের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। তবে এটা সুখের বিষয় যে, আমার বিরুদ্ধে ফর্মালচার্জে কিছু নতুন শহীদের নাম উন্মোচিত হয়েছে, ৪২ বছরে যাদের কথা বলা হয়নি। এদের বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের।’
 
জবানবন্দিতে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ‘১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং শত্রু সম্পত্তি অধ্যাদেশ জারির পর বহু হিন্দু পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। নতুনচন্দ্র সিং ছাড়া চার্জে উল্লেখিত মৃত ব্যক্তিদের কারও নামই ‘৭০ সালের ভোটার তালিকা অথবা কোনো ভূমি রেকর্ডে ছিল না।’
 
ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ কথা এ কারণে বলছি, নিহত হয়েছেন বলে এমন অনেকের কথা বলা হয়েছে যারা ‘৭১ সালে বাংলাদেশেই ছিলেন না। উনসত্তরপাড়ার ঘটনা নিয়ে ১৯৭২ সালে মামলা হয়েছিল। যে মামলায় আমাকে আসামি করা হয়নি, এটা স্বীকার করে যে, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে আমি বাংলাদেশে ছিলাম না। মধ্যগরিয়া, বণিকপাড়া এবং সুলতানপুরের ঘটনায় কোনো থানায় কোনো মামলা হয়নি, আবারও এটা স্বীকার করে যে, ১৯৭১ সালের এপ্রিলে আমি বাংলাদেশে ছিলাম না।’
 
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়নের স্পন্সর হচ্ছেন ধর্মনিরপেক্ষতার ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া কিছু হতাশ সমাজতন্ত্র প্রেমিক। তারা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষের শক্তিতে বিভক্ত করতে চান। এ অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই মুসলিম উম্মাহর নেতাদের নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ অপচেষ্টার শিকার হিসেবে আমি এ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়েছি। বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের এই বিভক্তির সময়ে আমি প্রতিনিধিত্ব করি হুমকির মুখে থাকা বিশ্বাসীদের এবং আমি নিজেও বিশ্বাসী। এজন্য আমি অবিশ্বাসীদের টার্গেট হয়েছি, যারা প্রথাগতভাবেই আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।’
 
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আবারও বলছি, ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আমি বাংলাদেশে ছিলাম না।’
 
জবানবন্দি শেষে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম জেরা শুরু করেন। কয়েকমিনিট জেরার পরই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে রোববার পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়। পরে আদালত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে