Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৩-২০১৩

শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার লন্ডন আসছেন

সৈয়দ আনাস পাশা



	শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার লন্ডন আসছেন

লন্ডন, ৩ জুলাই- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন আসছেন। বৃহস্পতিবার লন্ডন সময় বিকাল ২.৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৭.৫০) বিমানের বিজি ০১৫ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন হিথরো বিমান বন্দরে এসে পৌঁছাবেন। ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। বেলারুস যাওয়ার পথে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর এই যাত্রাবিরতি ব্যক্তিগত হলেও ব্রিটিশ ফরেন সেক্রেটারি উইলিয়াম হেগসহ হাউস অব লর্ডস ও হাউস অব কমন্সের কয়েকজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করবেন বলে জানা গেছে।

৫ দিনের এই লন্ডন সফরকালে সেন্ট্রাল লন্ডনের হোটেল হিল্টন পার্ক লেইনে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ছয়টায় ব্রিটিশ ফরেন সেক্রেটারি উইলয়াম হেগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল স্যুটে সাক্ষাত করবেন। সাক্ষাতে ব্রিটেন-বাংলাদেশ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। 
 
এছাড়া শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯.১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল স্যুটে ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে মিলিত হবেন ব্রিটিশ হাউস অব লর্ডস ও হাউস অব কমন্সের কয়েকজন সদস্য। ব্রিটিশ রাজনীতিকরা এসময় বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করতে পারেন। ঐদিনই বিকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত লন্ডন অভিবাসী আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতের কর্মসূচী রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। 
 
৬ ও ৭ জুলাই শনি ও রবিবার শারীরিক চেকআপসহ একান্ত পারিবারিকভাবে সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। ৭ জুলাই, রবিবার বোনের মেয়ে শেখ রেহানা কন্যা কাউন্সিল টিউলিপ সিদ্দিকীর বিয়ে পরবর্তী রিসিপশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। উল্লেখ্য, শেখ রেহানা কন্যা কাউন্সিলার টিউলিপ সিদ্দিকী সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। টিউলিপের বর ক্রিস একজন ব্রিটিশ সরকারী কর্মকর্তা। পড়াশোনা করেছেন ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে। 
 
৮ জুলাই, সোমবার বিকাল ৩টায় বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে বেলারুসের উদ্দেশ্যে লন্ডন ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বেলারুস সফরের মূল উদ্দেশ্য কাস্টমস ইউনিয়নে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বাড়াতেও সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাংলাদেশ-বেলারুশের যৌথ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
 
এদিকে গতবছর বেলারুশে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ কৃষি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও বেলারুশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। বেলারুশে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের মাধ্যমে কাজাখিস্তান ও রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশ করতে পারবে।
 
প্রসঙ্গত, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের এ তিনটি দেশ ২০১০ সালে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও বেলারুশের সমন্বয়ে কাস্টমস ইউনিয়ন নামে একটি ইকোনমিক কাউন্সিল গঠিত করে। এ কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত দেশ তিনটির মধ্যে অর্থনৈতিক অখণ্ডতা রয়েছে এবং কোনো শুল্ক সীমানা নেই। দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিতে বেলারুশে বাংলাদেশের সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার হবে। প্রক্রিয়াটিকে বেগবান করতেই প্রধানমন্ত্রীর বেলারুশ সফর।
 
এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল ভি মিয়াসানিকোভিচ বাংলাদেশ সফরে আসেন।
 
সে সময় উল্লিখিত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিসমূহ যথাক্রমে— বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সুরক্ষা, দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিবিদদের ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ, বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড ও বেলারুশের সেন্টার ফর অ্যাক্রিডিটেশনের মধ্যে সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহযোগিতা বিনিময়, দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস) ও বেলারুশ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যে সহযোগিতা।
 
মিয়াসানিকোভিচের বাংলাদেশ সফরকালীন দুই দেশের মধ্যে আইনগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, ঢাকা ও মিনস্কের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন, সামুদ্রিক প্রাণিসম্পদ রফতানির ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ও বেলারুশের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
 
ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইর কাছে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ কামনা করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, সিরামিক এবং
রফতানিযোগ্য অন্যান্য পণ্য আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বেলারুশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
 
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও বেলারুশের সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কেন্দ্রিক। বেলারুশ বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলন, ঔষধ শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বেলারুশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তাগিদ দিবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব তৈরি করবে।
 
সূত্র জানায়, দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশে কারিগরি ও তথ্য প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে বেলারুস। এছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকা এবং মিনস্কে দূতাবাস খোলার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। 
 
বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থিত  দূতাবাসের মাধ্যমে বেলারুশ-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্ষা করে।
 
চলতি অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভারসাম্য বিবেচনায় বেলারুশ এগিয়ে। বেলারুশ থেকে পটাশ সার, ট্রাক্টর, এক্স-রে যন্ত্রপাতি ও সিনথেটিক ফাইবার আমদানি করা হয়। আর রফতানি করা হয় পোশাক, তামাক, কাঁচামাল, পাট ও পাটজাত পণ্য।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে