Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩০ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০১-২০১৩

খাবারে ভেজাল দিলে ৭ বছর কারাদণ্ড


	খাবারে ভেজাল দিলে ৭ বছর কারাদণ্ড

ঢাকা, ১ জুলাই- খাবারে ভেজাল দিলে ৭ বছর কারাদণ্ড এই বিধানসহ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর খসড়ায় সোমবার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই অপরাধে ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

একই অপরাধ আবার করলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকছে আইনে।
 
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ আইন অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
এছাড়া বৈঠকে 'মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও এর ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি) আইন ২০১৩'-এর খসড়ারও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা সাংবাদিকদের বলেন, "নিরাপদ খাদ্য আইনের খসড়ায় কিছু পর্যবেক্ষণসহ এটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইনটি এখন আইন মন্ত্রণালয়য়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। পরে আবার এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।"
 
তবে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর নীতিগত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পরে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিলে সচিব টেলিফোনে সমকালের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই বলেও জানান তিনি।
সচিব বলেন, 'পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স' নামে ১৯৫৯ সালের একটি আইন ছিল। এটাকে রহিত ও যুগোপযোগী করে এ আইন করা হচ্ছে। একটি স্বতন্ত্র সংস্থার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ'।
 
এটি একা কাজ করবে না, এটি হবে বর্তমানে খাদ্যের মান বজায় রাখার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের সমন্বিত একটি সংস্থা।
 
এ সংস্থাকে সহায়তা দেওয়ার জন্য 'জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা উপদেষ্টা পরিষদ' গঠন করা হবে। এর সভাপতি হবেন খাদ্যমন্ত্রী। এ পরিষদকে পরামর্শ দেয়ার জন্যও আলাদা একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সমন্বয়ে কমিটি করা হবে।
বাংলাদেশে ভেজালবিরোধী কিছু আইন থাকলেও তা মানার কোনো বালাই নেই। যে যেমন পারে খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বার বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তাই সরকার কঠোর এই আইন প্রণয়ন করছে।
 
এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি উপদেষ্টা কমিটি থাকবে। কমিটির সভাপতি থাকবেন পদাধিকারবলে খাদ্যমন্ত্রী। এই কমিটিতে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান।
 
এই আইনে অপরাধীরা ফৌজদারি দণ্ডবিধির অধীনে বিচারযোগ্য হবে। এ লক্ষ্যে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত প্রতিষ্ঠা করা হবে।
 
একজন প্রথম শ্রেণীর বিচারক বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গঠিত হবে। তিনি এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটনের জন্য দোষী ব্যক্তিদের নির্ধারিত দণ্ড আরোপ করবেন।
 
এই আইনে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ অনুসারে বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে। যে কোনো ব্যক্তি এই আইনে অপরাধীর বিরদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
 
দণ্ড কোনো ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্যে মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বা জীবনহানিকর কোনো রাসায়নিক (যেমন ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, সোডিয়াম সাইক্লামেট) বা ভারী ধাতু বা কীটনাশক (যেমন ডিডিটিপিসিবি তেল ইত্যাদি) অথবা খাদ্যদ্রব্যকে রঙিন ও স্বাদ-গন্ধযুক্ত করার জন্য বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহার বা বিক্রি করলে সে ব্যক্তি প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব সাত বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। এই অপরাধ পুনরায় সংঘটনের জন্য ১৪ বছর কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা কারাদণ্ড ও জরিমানা (উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে) আরোপ করার বিধান রাখা হয়েছে।
 
কোনো ব্যক্তি আইন বা বিধির অধীনে র্নিধারিত প্রমিত মানের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো পদার্থ (খাদ্য সংযোজন দ্রব্য বা প্রক্রিয়া-সহায়ক, দূষণকারী, প্রকৃতিক বিষাক্ত পদার্থ, কীটনাশক, ওষুধের বা অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ এবং বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা খাদ্য, ব্যবহারিক, স্বত্বাধিকারী খাদ্য ইত্যাদি) খাদ্যদ্রব্যে মিশ্রণ করলে তাকে অনূর্ধ্ব সাত বছর কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। তবে একই অপরাধ ফের সংঘটিত করলে অনূর্ধ্ব ১৪ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।
ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারীকে অনূর্ধ্ব সাত বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকছে এই আইনে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটনের জন্য ১৪ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকছে।
 
মেয়াদউত্তীর্ণ কোনো খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করলে অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান থাকছে এই আইনে।
কোনো খাদ্য সরবরাহকালে বিক্রেতা বা হোটেল রেস্তোরাঁ-ভোজনস্থলে পরিবেশনসেবা প্রদানকারী দায়িত্বহীনতা, অবহেলা বা অসতর্কতার কারণে খাদ্যগ্রহীতার স্বাস্থ্যহানি ঘটার অপরাধে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
 
একই অপরাধ ফের সংঘটিত করলে সেক্ষেত্রে এর দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রয়েছে।
 
রোগাক্রান্ত বা মৃত পশুপাখির মাংস বা খাওয়ার অনুপযোগী মাছ-মাংস দিয়ে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, বিক্রি, বা বিক্রির প্রস্তাব করলে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান থাকছে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত করলে এই অপরাধের দ্বিগুণ পরিমাণ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য উৎপাদন ও বিপণন করা যাবে তবে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।"
 
প্রচার না হলে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য ক্রয় বা ব্যবহারে মা বা পরিবার নিরুৎসাহিত হবে এজন্য আইনে এ বিধান রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া শিশুর বিকল্প খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং এ সংক্রান্ত সরঞ্জাম আমদানি করা যাবে না বলেও আইনে বিধান রাখা হয়েছে।
 
বিদ্যমান ১৯৮৪ সালের অর্ডিন্যান্স রহিত করে এ আইন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বিচার ও শাস্তির আওতা বাড়ানো হয়েছে। আগে অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তি শাস্তির আওতায় ছিল। নতুন আইনে প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
 
আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তির মেয়াদ দুই বছর থেকে বৃদ্ধি করে তিন বছর করা হয়েছে। জরিমানার হার ৫ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ৫ লাখ করা হয়েছে।
 
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে তার শাস্তির মেয়াদ দ্বিগুণ করার বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিচার হবে বলে জানান তিনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে