Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ , ১ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৯-২০১৩

রমজানে ভোটে আপত্তি, কাঠগড়ায় তৃণমূল

বিতনু চট্টোপাধ্যায়, দীপক ঘোষ, সমিত সেনগুপ্ত



	রমজানে ভোটে আপত্তি, কাঠগড়ায় তৃণমূল

কলকাতা, ২৯ জুন- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পঞ্চায়েত-জট কেটেছে৷কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চায়েত-জট কাটার পর দিনই রমজান বিতর্ক৷  রমজান মাসে ভোটের দিন পড়ায় নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে৷ ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক৷ শুক্রবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির পাণ্ডুয়ার সমাবেশ থেকে দাবি করেন, সরকার চায়নি রমজান মাসে ভোট করাতে৷ এর জন্য তিনি কমিশন ও বিরোধীদের দায়ী করেন৷ আর শনিবার তাঁর দলের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রমজানের সময় ভোটের দিন বদলের আর্জি জানিয়ে দল কিংবা সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা তাঁরা ভাবছেন৷ কমিশনের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়ে দেওয়ার পরে ভোটের দিন বদলের বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া বা পুনর্বিবেচনা করার অধিকার ও সুযোগ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নেই৷ তবে আইনি পথে যাওয়ার স্বাধীনতা সবার আছে৷ রমজান মাসে ভোট হলে সংখ্যালঘু ভোট কর্মীদের কী অসুবিধা হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে মীরা পাণ্ডে বলেন, রমজান মাসে সরকারি কাজকর্মও তো চলে? তৃণমূলের দাবি, তারা এবং রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই চেয়েছে রমজান মাসের আগে ভোট শেষ করাতে৷ কিন্তু এখন কী আর রমজান মাসের আগে ভোট সম্ভব? দলের সর্বভারতীয় নেতা মুকুল রায়ের দাবি, ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে৷ ৯ জুলাইয়ের মধ্যেই ভোট শেষ করা সম্ভব৷ 

রমজানে মাসে ভোটের দিন পড়ার জন্য বিরোধীরা সিপিএম ও কংগ্রেস অবশ্য সরকারকেই দায়ী করছে৷ বিজেপি অবশ্য রমজান মাসে ভোট করানোর মধ্যে কোনও অসুবিধা দেখছে না৷ শনিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের দিন বদলের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ভাবনাচিন্তার প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে বিরোধীরা৷ 
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, সংখ্যালঘুদের মন পেতেই রমজান মাসে ভোটে আপত্তি তৃণমূলের৷ গত কয়েকটি ভোটেই দেখা গিয়েছে, গ্রামের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে৷ রমজান মাসে ভোটের ফলে সেই সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ ক্ষুব্ধ হতে পারেন৷ সেই ক্ষোভকেই শাসক দলের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিরোধীরা৷ সেই লক্ষ্যেই সিপিএম-কংগ্রেসে, রমজান মাসে ভোটের জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করছে৷ এই পরিস্থিতিতে, আসরে নামতে হয়েছে তৃণমূলকেও৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে বিরোধী ও কমিশনকে দায়ী করেছেন৷ অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, ভোটের দিন বদলের জন্য তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছেন৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল, সব দলই আসলে সংখ্যালঘুদের মন পেতে চাইছে৷
 
এদিকে রমজান মাসে ভোট হলে সংখ্যালঘু মানুষের অসুবিধা হবে, শাসক দলের এই দাবি ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে৷ কেননা, তথ্য পরিসংখ্যান বলছে, কমিশন কিন্তু বর্ষা, রমজান, রথ, সবকিছুর আগেই ভোটপর্ব সেরে ফেলতে চেয়েছিল৷ কিন্তু, তখন বাধ সেধেছে রাজ্য সরকারই৷ কলকাতা হাইকোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পয়লা অক্টোবর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি এস ঘোষ পঞ্চায়েত দফতরের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানান, তারা ৪, ৮, ১২, ১৫ মে চার দফায় ভোট করতে চান৷ ফল ঘোষণা ১৯ মে৷ কিন্তু, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পঞ্চায়েত দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি জবাবি চিঠিতে জানিয়ে দেন, তাঁরা ফেব্রুয়ারি মাসে এক দফায় ভোট করতে চান৷ গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ফের পঞ্চায়েতসচিবকে চিঠি দেয় কমিশন৷ কিন্তু, সেবারও ভোটে আপত্তি তোলে রাজ্য সরকারই৷ 
অথচ সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর শাসক দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, পাঁচ দফার ভোটে তাদের কোনও আপত্তি নেই৷ কিন্তু, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে পাঁচ দফার ভোটে যদি আপত্তি না-ই থাকে, তাহলে কমিশন যখন বিবেচকের মতো বর্ষা, রমজান, সব কিছুর আগে ভোট সেরে ফেলতে চেয়ে বারবার চিঠি দিয়েছিল, তখন রাজ্য কেন আপত্তি তুলেছিল? 
 

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে