Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-১৬-২০১৮

মির্জা ফখরুলের বিপক্ষে আ'লীগের ১৬ প্রার্থী

মির্জা ফখরুলের বিপক্ষে আ'লীগের ১৬ প্রার্থী

ঠাকুরগাঁও, ১৬ নভেম্বর- একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই গরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ।

ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়ন,ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড। যদিও আওয়ামী লীগের দাবি তাদের মাঠ ইতিমধ্যে সাজানো হয়েছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়বেন নির্বাচনের মাঠে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি'র একমাত্র প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, প্রয়াত এমপি প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও সাবেক জেলা গর্ভনর ফজলুল করিমের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, সাবেক যুবলীগের সভাপতি,বর্তমান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিমাংশু দত্তের সুযোগ্য ছেলে অরুণাংশু দত্ত টিটো, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রনাথ রায়, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি তাহমিনা আক্তার মোল্লা, সাবেক প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান খোকন,সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম,জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা তুলি,জেলা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জামান দুলাল ও রেজওয়ানা বন্যা।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড চূড়ান্ত করবেন প্রার্থিতা। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এই প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনয়ন প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন কেউ বিদ্রোহ করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

তবে ঠাকুরগাঁও-১, আসন নিয়ে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দলীয় কমান্ড শক্ত না হওয়ায় ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগের ১৩ জন প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।

অপরদিকে বিএনপি'র রয়েছেন একজন প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিপক্ষে বিএনপি থেকে কেউ কেনেননি নমিনেশন। খুব স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যায় ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির চেইন অফ কমান্ড অনেক শক্ত। এই আসনে বিএনপি মনে করেন দীর্ঘদিনের নিপীড়ন,নির্যাতন,মামলা,হামলার কারণে তাদের দলীয় ইমেজ অনেক বেড়ে গেছে।

তাই এই আসনে মির্জা ফখরুল অনেক সহজেই জিততে পারবেন।অপরদিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল অনেক নেতাকর্মী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি কে নতুন ভাবে প্রার্থী নির্বাচন করতে নারাজ। এক্ষেত্রে এই আসনে বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকেই। নতুন প্রার্থীদের মধ্যে যারা রয়েছে তাদের অন্যতম নেতা-কর্মীদের ভরসা সাদেক কুরাইশী।

তিনি ইতোপূর্বে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানালেও নমিনেশন পেপার সংগ্রহ করেছেন। সে ক্ষেত্রে নতুন চমক আসতে পারে এই আসনে। অপরদিকে ঠাকুরগাঁও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থার আরেক জায়গা অরুণাংশু দত্ত টিটো। তিনি নিজ যোগ্যতায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বিগত নব্বই দশকের পর হতে তিনি যুবলীগ এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কান্ডারী হিসেবে জেলা শহরে খুব পরিচিত নাম। সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগে তার অবদান নিতান্তই কম নয়।

এছাড়া উপজেলা নির্বাচনে দলীয় ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি হেরে যান। কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে মনোনয়ন দিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।নতুন প্রার্থীদের আরেকজন সাবেক এমপি খাদেমুল ইসলাম এর সুযোগ্য পুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাহেদুল ইসলাম সাহেদ। তিনি ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল ও জাতিসংঘ মিশনের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় হাইকমান্ড তাকে প্রার্থী ঘোষণা করলে তিনি নির্বাচনে জিতবেন বলে আশা করেন।

এদিকে ঠাকুরগাঁও আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন,বর্তমান এমপি আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করেছেন যা দৃশ্যমান। কিন্তু তিনি জায়গা করে নিতে পারেননি দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে। তারই ফলস্বরূপ তিনি এই আসনে বিতর্কিত হয়ে আছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন তিনি একজন ধানের ব্যবসায়ী থেকে রাতারাতি রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন। ১৯৯৬ সালে খাদেমুল ইসলাম এমপি মারা যাওয়ার পর নেতৃত্ব সংকটে তিনি এই আসনে উপনির্বাচন করে এমপি হন। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি।

ঠাকুরগাঁও আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবারো এমপি নির্বাচিত হন। এমপি হবার পর দায়িত্ব পালন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় সুযোগ পাওয়ার পরও সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগিয়েছেন শুধুমাত্র তার আখের গোছাতে। তারই ফলশ্রুতিতে দলের একটা বড় অংশ বিদ্রোহ করলে অসম্ভব কিছু মনে হতোনা। সৌভাগ্যবশত আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করায় অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না তার বিরুদ্ধে। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতো তাহলে প্রকাশ্যেই তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচারণ করতো নেতাকর্মীরা এমনি ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

এ ছাড়া প্রতিটা ক্ষেত্রেই তিনি খুঁজেছেন শুধুই টাকা। নিয়োগ বাণিজ্যও করেছেন ব্যাপক। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে শেষ করেছেন নিয়োগ প্রক্রিয়া। যুবলীগসহ অনেকেই সে সময় বেঁকে বসেছিলেন তার বিরুদ্ধে।তাছাড়া অভিযোগ আছে উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে অসহযোগিতা,গোপনে বিএনপির সাথে আতাতের ফলস্বরূপ হেরেছে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন দীর্ঘ সময় মন্ত্রী থাকা,আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরেও কেন আওয়ামীলীগ থেকে ১৩ জন নমিনেশন পেপার কেনে। এখানে চেন অব কমান্ড যে অতি নড়বড়ে তা স্পষ্টতই বোঝা যায়।

তাই নেতাকর্মীরা মনে করেন মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে এই আসনে জেতা অনেক কঠিন। কারণ মির্জা ফখরুল একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ। ব্যক্তি ইমেজও তার ব্যাপক। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে এই আসনে চান নেতৃত্ব পরিবর্তনের। কারণ বয়সের ভারে রমেশ চন্দ্র সেন স্টেজে ওঠানামা আর উদ্বোধন এর বাইরে তেমন কোন কাজ করতে পারেন না।

অপরদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবর্তমানে এই আসনে বিএনপি'র কোনো শক্তিশালী নেতা নেই। মির্জা ফখরুলের পরে বিএনপি এই আসনে যে নেতৃত্ব সংকটে পড়বে তা স্পষ্টতই বোঝা যায়। তারই প্রেক্ষিতে এই আসনে এখনই আওয়ামী লীগের তৈরী হওয়ার সময়। এই বার হয়তো না পারলে পরবর্তীতে শক্ত অবস্থানে থাকবেন আওয়ামীলীগের বর্তমানে তৈরি ভবিষ্যৎ কান্ডারী।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির একমাত্র ক্যান্ডিডেট রেজাউর রাজি রাজি স্বপন চৌধুরী। তিনি মনে করেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচনের টানাপোড়নে মহাজোট থেকে তিনি নমিনেশন পাবেন এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি এ আসনে জিততে পারবেন। তবে যেটাই হোক রাজনীতিতে শেষ কথা বলে যে কোন কথা নেই সেটা সবাই জানে।

রাজনীতিবিদরা মনে করেন নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘটে যেতে পারে ভিন্ন কিছু,উল্টে যেতে পারে সব হিসাব-নিকাশ। মির্জা ফখরুল এর বিপরীতে আওয়ামীলীগের যে প্রার্থী হবেন সে যে ছেড়ে কথা বলবেন না তা স্পষ্ট। তাছাড়া আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা অনেক বিচক্ষণ মানুষ।তাই ভোটের হিসাব নিকাশে তিনি যে ভুল করবেন না প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তা সবাই ইতিমধ্যে বুঝে উঠেছে। অনেকের ধারণা তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নতুন কিছু চমক উপহার দিবেন।এই আসনে নিয়ে আসবেন তরুণ নেতৃত্ব।

তথ্যসূত্র: বিডি২৪লাইভ
আরএস/ ১৬ নভেম্বর

ঠাকুরগাঁও

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে