Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৭-২০১৩

চোখের আলোয় দেখেছিলাম চোখের বাহিরে ...

মোস্তফা জামাল জাহেদী



	চোখের আলোয় দেখেছিলাম চোখের বাহিরে ...
সদ্য সমাপ্ত ৪টি সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ৪-০ ব্যাবধানে অকল্পনীয় হারের পর আমার মতই   মর্মাহত কর্মীদের ক্ষুভ ও আক্ষেপ মিশানো অনেক লেখা পত্র-পত্রিকা সহ অধুনা ফেইস-বুক মাধ্যমে পড়েছি।  কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুঃখ-ক্ষুভ মিশানো মন্তব্য করে আমি নিজেও শান্তনা  খুঁজেছি। কালের নিয়মেই আস্তে আস্তে এসব কিছুই ফিকে হয়ে আসবে। তাহলে এ বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াবার পথ কি ? “দিল্লি দূর অস্ত” বলে শুধুই সময় ক্ষেপণ, নাকি খেলার রাজা ফুটবলের মতই অর্ধবিরতির পর নতুন ছকে খেলে শিরোপা উদ্ধারে নামা। 
বর্তমান বিশ্বের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলোকে আবেগ বর্জিত ভাবেই চিহ্নিত করতে হবে। এই নিবিন্ধে  বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গতি-প্রকৃতির প্রতি কিঞ্চিত আলোক ফেলে বর্তমান প্রেক্ষাপটকে বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের করনীয় বিষয়গুলি নির্ধারন করার ক্ষুদ্র চেষ্টা করবো।       
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলিকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালেই তার রাজনৈতিক   গুরু হুসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দির নেতৃত্বে ভারতীয় মুসলমানদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মোহম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক মুসলিম লীগের দ্বি-জাতি তত্তের ভিত্তিতে  পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের প্রথম প্রধান মন্ত্রী জনাব লিয়াকত আলী খানের সময় থেকেই কায়েদ-ই-আজম জিন্নাহ সাহেবের ভাষায় “পোকায় খাওয়া পাকিস্তান” নামক পুর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের জমিদার সুলভ আচরণ শুরু হয়, যার প্রথম ধাক্কাটি লাগে বাঙ্গালীর মুখের ভাষার উপর। মোহমুক্তি ঘটে বাঙ্গালীর। মাওলানা ভাষানী ও সোহরাওয়ার্দির হাত ধরে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রামের আন্দোলন। সে আন্দোলন প্রকৃতপক্ষে দ্বি-জাতি তত্তের মূল উপাধান মুসলিম আদর্শের বিরুদ্ধে ছিলো  না, সে আন্দোলন ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার  জন্যও ছিলো না।  সে  আন্দোলন ছিলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার। সে আন্দোলন ছিলো পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক  বাঙ্গালীদের  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে। সে কারনেই হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে, যুদ্ধ করেছে। 
নুরুল আমিনের নেতৃত্বে পাকিস্তানের পদলেহী কিছু মুসলীমলীগ নেতা কর্তৃক শান্তি কমিটি গঠন আর  গোলাম আজমের মত কিছু  কুলাঙ্গারের নেতৃত্বে জামাত-ই-ইসলাম এর রাজাকার, আল-বদর ছাড়া অনেক পাকিস্তান পন্থী  বাঙ্গালী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব (বিশেষ করে মুসলিম লীগের) সেদিন  ব্যাক্তিগতভাবে মুক্তিসেনার বিরুদ্ধে অস্র ধারণ করেনি, সে কথা ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বীকার করতে হবে। তাদের মূল ভীতি ছিলো, যে আন্দোলন, সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিভীষিকা পেরিয়ে মুসলমানদের নিজস্ব আভাস ভূমি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হয়েছে, তা ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থনে বাঙ্গালীর অধিকার প্রতিষ্ঠার নাম করে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত না আবার ভারতেই ঢুকে যায়। মুসলিম লীগের সেসব নেতাদের তৎকালীন সমাজে সম্মানজনক অবস্থান ছিলো, ছিলো নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীও। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও নির্যাতনের বিরোদ্ধে জনজোয়ারে তারা ছিলেন  কোণঠাসা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অতি  উৎসাহী অদূরদর্শী কিছু রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তি বাহিনীর কিছু অপরিনামদর্শী সদস্য  চিহ্নিত রাজাকার, আল-বদর ও শান্তি কমিটির লোকদের সাথে তাদেরকেও  চরমভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করেন। যার ফলশ্রুতিতে স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর  সরকার গ্রাম গঞ্জের সমাজের এই এলিট শ্রেণীর  বিশাল একটা গোষ্ঠির সমর্থন পাননি, যা সদ্য স্বাধীন দেশে আইন  শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে সরকারের শক্তিশালী ভিত প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন ছিলো। 
যে কোনো সসশ্র বিপ্লবে বিজয়ের পর অবশ্যম্ভাবীভাবে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলির মধ্যে শুরু হয় আধিপত্য বিস্তারের লাড়াই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয় নাই। স্বাধীনতা লাভের পর একতাবদ্ধভাবে জাতির পূনর্গঠনের জন্য যেখানে  জাতীয় সরকার গঠন করা প্রয়োজন ছিলো সেখানে আওয়ামীলীগের একক সরকার গঠনের ফলে মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য নিমিষেই বিলীন হয়ে যায়।  ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নকশাল আন্দোলনের ঢেউ লাগে বাংলাদেশেও। তার সাথে যোগ হয় মাওলানা ভাসানীর আশির্বাদ পুষ্ট বামপন্থি দলের সহযোগে জাসদের গন আন্দোলন। রক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি  সামাল দিয়ে ঐক্য গড়তে শেখ মুজিব বাকশাল গঠন করেন। বেছে নেন ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি। একদিকে ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যাবহার নিষিদ্ধ করে সংবিধান প্রণয়ন ও অন্যদিকে অবাধে ভারতীয় পণ্য আমদানি, বাঙ্গালী সংস্কৃতির নামে ভারতীয় চলচিত্রের প্রদর্শন ও বিশেষ করে ভারতীয় কণ্ঠশিল্পীদের অবাধ বিচরণ,  ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার নাম করে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধী পাকিস্তান পন্থীদের পায়ের তলায় মাটি ফিরিয়ে দেয়। তারা বলার সযোগ পায় যে, বাংলাদেশের ক্ষণস্থায়ী স্বাধীনতা হিন্দু সংস্কৃতির ভারতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাঙ্গালী সংস্কৃতির বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতা সম্পর্কে দুএকটি কথা বলার প্রয়োজন মনে করছি। পাল ও সেন বংশীয় বৌদ্ধ ও হিন্দু রাজ বংশের রাজত্বের আবহমানকাল থেকেই বাঙ্গালী সংস্কৃতি বলতে বুঝাতো হিন্দু রাজা, জমিদার ও সামন্ত গুষ্ঠি কর্তৃক বিভিন্ন উপলক্ষে নাচ,গান, যাত্রা, পালাগান, মেলা ইত্যাদি আয়োজনকে যার আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন হিন্দু জমিদারগণ। ফলশ্রুতিতে এসব সংস্কৃতিতে হিন্দু ধর্মীয়  আবহ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রভাব বিস্তার ও বিকাশ লাভ করে। সেখানে নিম্ন বর্ণের হিন্দু ও মূলত নিম্ন বর্নের হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত অশিক্ষিত মুসলমানদের কোনো জায়গা  ছিলো না। তারা পুর্ব পুরুষের সংস্কৃতি মনে করে একই সাথে কির্তন ও ওয়াজ শুনা, দুর্গাপুজা, হোলি খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি ঈদে  সিন্নি ও গরু খাওয়ার মাঝে পার্থক্য করতে যেত না।  এই পার্থ্যক্য না করা মূলত ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য নয়, অজ্ঞতার জন্য যা তাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ারও তেমন কেউ ছিলো না। অনেক বিদ্ধিজীবী এই  প্রবণতাকে সমর্থন দিতে বলে থাকেন, এ অঞ্চলে ইসলামের বিকাশ ঘটেছে সুফিবাদের হাত ধরে যা এই সংস্কৃতিক মিলনকে সমর্থন করে। কিন্তু অধীকংশ ইসলামী চিন্তাবিদই এব্যাপারে দ্বিমত পোষণ  করেন। তাদের অনেকের ধারনা সম্পূর্ন রাজনৈতিক কারণে সম্রাট আঁকবর কর্তৃক প্রবর্তিত “দ্বীন- ই- ইলাহি” নামক জগাখিচুড়ী মতবাদের কুপ্রভাবও এক্ষেত্রে অনেকটা দায়ী।          
যাই হউক প্রসঙ্গে ফিরে আসি, দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় বাহিনীকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে নিরঙ্কোষ করার পাশাপাশি সীমান্ত চিহ্নিতকরণ চুক্তি  করলেও মুসলিমলীগ ও  অন্যান্য ধর্মীয় দলগুলির সরকার বিরোধী অপপ্রচারের সাথে যোগ হয়  জাসদসহ অন্যান্য বামপন্থী দল কর্তৃক বঙ্গবন্ধু সরকারের অযোগ্যতা, দূর্নীতি ও  লোটপাটের তথাকথিত অভিযোগে গণআন্দোলন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুসলিম বিশ্ব ও জনগণের আস্থা অর্জনের  জন্য ভারতের অনুরোধ উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু ইসলামিক দেশ সমূহের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের করাচীতে অনুষ্ঠিত ও আই সি সম্মেলনে ছুটে গেলেন  ঠিকই কিন্তু ভারতের নিকটও অমোঘ একটি বার্তা পৌঁছে  গেলো যে “ মুক্তিযুদ্ধকালীন বাম ঘরানার   প্রধান মন্ত্রী  তাজউদ্দীন আহম্মদ  যতটা হাতের মুঠোয় ছিলেন,  শেখ মুজিব  ততটাই বাইরে। বাংলাদেশের  স্বার্থ আদায়ে সে পাক্কা সেয়ানা”। তাই বিপথগামী কিছু সন্যের হাতে রহস্যময় কারণে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে  নিহত হলে বামপন্থী ও ইসলামী দল সমূহের অপপ্রচারের  কারণে  দেশের ভিতরে যেমন বড় কোনো প্রতিক্রিয়া হয় নি ঠিক তেমনিভাবে ভারতও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।  পরবর্তিতে নানা নাটকীয়তায় জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তখন গ্রাম গঞ্জের ঐসব এলিট শ্রেণীর সমর্থন পুষ্ট  ইসলামিক দলগুলির পাশাপাশি  জাসদসহ বাম রাজনীতিকগণও  একাট্টা হয়ে সমর্থন দেন। 
উপরের জানা ইতিহাসটিকে নতুন করে উল্লেখ করলাম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকারের রাজনৈতিক আদর্শের গতি-প্রকৃতি ও অবস্থাদৃষ্টে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠি থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণ অনুসন্ধানে সহায়তা করবে এই বিশ্বাসে।   
৯১ এর নির্বাচনে বিজয়ী বি এন পি সরকারের দূর্নীতি ও অব্যাবস্থাপনায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশের সরকার পরিচালনার ভার ৯৬ এ জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হাতে অর্পন করে। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, বৈদিশিক বাণিজ্যে সফলতা, পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পার্ব্যত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তিসহ ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি তিন বিঘা করিডোরে যাতায়াত সুবিধা, স্থল সীমানা চিহ্নিতকরণে সমঝোতা করেন। তার পাশাপাশি শেখ হাসিনার বড় সাফল্য ছিলো গঙ্গার পানি বণ্টনে ত্রিশ বছর মেয়াদি চুক্তি সম্পাদন যা পূর্ববর্তী প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সরকারের সময় ভারত সফরে গিয়ে উত্থাপন করার সাহসই পাননি যদিও ফিরে এসে মুখ রক্ষার্থে বলেছিলেন  “আমি ভুলেই গেছি”। এতকিছু সফলতার পড়ও যুক্তরাষ্ট্র কতৃক উত্তোলিত গ্যাস ভারতে রপ্তানি করার জন্য প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের দাবীকে, “বাংলাদেশের জনগণের একমাত্র প্রাকৃতিক   সম্পদ জনগণের কল্যাণের জন্য রেখে দেওয়ার আন্তরিক দায়িত্ববোধ থেকে”, শেখ হাসিনা  নাকচ করে দেন। বাংলাদেশের রাজনীতির পাশা তখন থেকেই উল্টে যেতে শুরু করে। কাদের পরামর্শে বি এন পি, জামাত-ই-ইসলাম এর সাথে জোট গঠন করে তা বুঝতে কারো  অসিবিধা হয় না। ২০০১ এর নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের ন্যাক্কারজনক উলঙ্গ  সমর্থনের কারণে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণা দূরে থাক ক্ষেত্র বিশেষে নিজ ঘরে ঘুমাইতেও পারে নাই। 
নির্বাচনের পর পাল্টা ব্যাবস্থা হিসাবে জামাত বিরোধী ইসলামিক দলগুলিকে সঙ্গে  নিয়ে জোট গঠনে প্রয়াসী হন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যা ছিলো অত্যন্ত সুদূর প্রসারি ও দূরদর্শি চিন্তা। কিন্তু শেখ মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর অভিলাষী বাম নেতৃবৃন্দ যারা মুজিবের মৃত্যুর পর আওয়ামীলীগের ঘাড়ে চড়ে বসে, তারা ধর্ম নিরপেক্ষতার নাম করে প্রবল আপত্তি তোলেন।  সাথে জোটে জনসমর্থনহীন  উচ্ছিষ্ট বাম রাজনৈতিক দল সমূহ। এই বাম রাজনীতিকদের বাঘারাম্ভরপূর্ন অতিকথন ও তথাকথিত বাঙ্গালী সংস্কৃতির ধারক নামের তাদের সাংস্কৃতিক কর্মীদের বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে যায় যে তারা জামাত-শিবিরকে চিত্রায়িত করতে যেয়ে কুকুরের মাথায় দাড়ি-টুপি পড়িয়ে সমস্ত ধর্মপ্রান মুসলমানদেরকে আওয়ামীলীগের বিরোদ্ধে একাট্টা করে তুলে। যার ফলাফল দেশের  উন্নয়নে যুগান্তকারী কাজ করার পরও ২০০১ এর নির্বাচনে ভরাডুবিই শুধু নয় শেখ হাসিনাকে ইসলামের শত্রু আখ্যায়িত করে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চালানো হয় ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা অথচ তিনি নিজে সহ আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতা কর্মী অত্যন্ত পরহেজগার।
নির্বাচনের রাজনীতিতে “এক্স ফ্যাক্টর” বলে একটা কথা আছে যাকে সহজ ভাষায় “হুজুগ” বলে। সত্য  বা  মিথ্যাকে অতি নাটকীয়তার সাথে প্রচারের মাধ্যমে এ হুজুগ সৃষ্টি হয় যা প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মপদ্ধতি দ্বারা মোকাবেলা করা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেমন “নীল চোখের খাটি জার্মান রক্তের জাতীয়তাবাদ” যার হুজুগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার হয়ে উঠেন জার্মানীর অভিসংবাধিত নেতা। ধর্মীয় রূপকথার চরিত্র রামের জম্নভুমি অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ তৈরী হয়েছে “সীতার রান্না ঘরের উপর” এই হুজুগে বাবরি মসজিদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া। এইসব এক্স ফ্যাক্টরকে প্রচলিত রাজনীতি দ্বারা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। ২০০৮ এর নির্বাচনেও এক্স ফ্যাক্টর হিসাবে হাওয়া ভবন ও তারেক জিয়া গং কর্তৃক নজির বিহীন দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী রাজনীতির চরম উত্থানে নির্যাতিত জনগণের সামনে সেনাসমর্থিত সরকার কর্তৃক এসব দূর্নীতি ও সন্ত্রাসের কাহিনী  মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করার পাশাপাশি এদের গ্রেফতার  প্রভাব ফেলে। ফলে ২৬২ আসনে বিশাল বিজয়ে যারা ভোট দিয়েছিলো তারা সবাই নিশ্চিতভাবেই  আওয়ামীলীগ করত না। চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে এবার যে  ধ্বস নামা হার হেরেছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী তা মোটেও এই সংকেত দেয় না যে ভোটার সব বি এন পি-জামাতের সমর্থক হয়ে গেছে। এখানেও এক্স ফ্যাক্টর হিসাবে ছিলো বাম নেতৃত্বে শাপলা চত্বরে আয়োজিত সমাবেশ থেকে রাজাকারের ফাঁসির দাবীর পাশাপাশি জামাত-ই-ইসলাম সহ ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, রাসুল(সঃ)কে অবমাননা করে কথিত ফেইস-বুক ব্লগের কারণে আস্তিক-নাস্তিকের বিভক্তের রাজনীতি, ৫ই মে এর হেফাজত দমনের কৌশল ও গ্রামে গঞ্জে জামাত-হেফাজত কর্মী কর্তৃক বিশ্বাসযোগ্যভাবে ভোটারদের নিকট মোল্লা আলেম নিধনের মিথ্যা অপপ্রচার। সাথে যোগ হয়েছে জাতীয় পার্টির ডিগবাজি যা অনেকটা অবধারিত ছিলো গত পাঁচ বৎসরে আওয়ামীলীগ কর্তৃক তাদের প্রতি অবহেলার কারণে।  
মায়ানমারের সাথে সমুদ্র বিরোধে সম্মানজনক বিশাল বিজয়ের পর ভবিষ্যৎ আঁচ করতে পেরে ভারতের সাথে সমুদ্র বিরোধ দ্বিপক্ষীয়ভাবে মীমাংসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তিস্তা চুক্তিকে পাশ  কাটিয়ে হটকারীতার আশ্রয় নিয়ে চাপ দিয়ে ট্রানজিট চুক্তি করার চেষ্টাকে দৃঢ়তার সাথে   প্রতিহত করার পাশাপাশি সীমান্ত চুক্তিতে বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নের শর্তে ভারতকে চুক্তি  সম্পাদনে বাধ্য করা, তিনবিঘা করিডোরে চব্বিশ ঘণ্টা যাতায়াতের চুক্তি করা, তিস্তা চুক্তির  সম্মানজনক সমাধানে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করার পাশাপাশি টিপাই মুখ বাধের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান ভারতকে বঙ্গবন্ধুর কথাই আবার নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা বুঝতে পাড়ে   “ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বাপের মতই দেশের স্বার্থ রক্ষার হিসাবে বড় পাক্কা”। 
বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে অনেক রাজনীতিবোদ্ধাই মনে করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে মূলত বামপন্থী নেতৃত্বে শাহ্ বাগের আন্দোলেনের সৃষ্টি ও জামাত-ই-ইসলামের পাশাপাশি ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করনের দাবী, ভারত কর্তৃক এ আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন, তিস্তা নিয়ে  বিরোধের মূল ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নাগরিকদের সমাবেশে যোগ  দিয়ে উদ্দেশ্যমূলক সংহতি  প্রকাশ,  বিতর্কিত ব্লগের সূত্র ধরে আস্তিক-নাস্তিক ইস্যু সৃষ্টি  করে হেফাজতের ব্যানারে ইসলামী দল সমূহের সরকার বিরোধী কঠোর অবস্থান এবং অধুনা পশ্চিমবঙ্গের “আনন্দ বাজার” পত্রিকায় আওয়ামীলীগ  সরকার বরোধী প্রচারের মাধ্যমে সংখ্যালগু ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা, শেখ হাসিনাকে ৭৫ পূর্ববর্তী নিরাপত্তাহীনতার অবস্থানে নিয়ে গেছে। অনেক কৌশলী চিন্তাবিধ মনে করেন  যার  খেলোয়াড় সম্ভবত ডঃ ইউনুছ ইস্যুতে শেখ  হাসিনার প্রতি বিরাগভাজন একটি পরাশক্তির পাশা পাশি বাংলাদেশে তাবেদার সরকার দেখতে চাওয়া পার্শবর্তী আপাত বন্ধুবেশী একটি দেশ। কারণ বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ সরকার ও শেখ হাসিনা ছাড়া খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বি এন পি সরকার ও এরশাদের স্বৈরাচারী সরকার একটি মাত্র উদাহরণও দিতে পারবে না যে তাদের আমলে ভারতের কাছ থেকে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ তারা আদায় করতে পেরেছে বা ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত ও পানি বণ্টন   সমস্যার কোনো  একটির কার্যকর সমাধান করতে পেরেছে।                       
আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ যদি সরকারে না আসে তবে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের যে ভয়াবহ অবস্থার  সৃষ্টি হবে তা কম বেশী সকলেই অনুমান করতে পারেন। আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদেরকেই শুধু হত্যা করা হবে তা-ই নয় জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর ২১শে আগস্টের চেয়েও ভয়াবহ  হামলা করে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হবে এরকম আশংকা অনেকেই করছেন। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টে  বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে ন্যুনতম জনপ্রতিক্রিয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়ে ছিলো এবারও সে রকম  একটি পরিবেশ সৃষ্টির আবহ দেখে সে আশংকাই দৃঢ়মূল হচ্ছে। আল্লাহ্ না করুক যদি এমনটি ঘটে তবে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা বি এন পি – জামাত-হেফাজত গ্রুপ আপাত লাভবান হলেও বাংলাদেশ হারাবে “দেশের স্বার্থ রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর মতই হিসাবে পাক্কা আর এক দেশনেত্রীকে”।      
কিন্তু এত যোগান্তকারি উন্নয়নের পরও ২৬২ সিটে বিজয়ী আওয়ামীলীগের কেন আজ এই হাল আর কিভাবেই বা আগামী ছয় মাসে তা কাটিয়ে উঠে বিজয় ধরে রেখে পার্টির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করবেন তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন আছে। আমার ব্যাক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তারই কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করছি যা হয়ত আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে এই আশায়। 
১।  বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থের দাপট শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই।  তিনিই প্রথম অর্থ ছড়িয়ে অন্য দল ভেঙ্গে সুবিধাবাদীদের নিয়ে দল গড়ে রাজনীতিকে প্রথম কলোষিত করেন। পরবর্তিতে তার পথ ধরে রাজনীতিকে অর্থ বানানোর হাতিয়ার হিসাবে প্রতিস্থাপন করেন স্বৈরাচারী এরশাদ। বি এন পি এর পাশাপাশি আওয়ামীলীগও কিন্তু এ ধারা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেনি। কমিটি গঠন থেকে শুরু করে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া অর্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। যার ফলে পার্টি ও সরকারে প্রাধান্য পায় দূর্নীতিবাজ আমলা ও ব্যাবসায়ী। কোটি কোটি টাকা লগ্নিকরে এম.পি, মন্ত্রী হয়ে তারা লগ্নিকৃত টাকা শতগুণে উসুল করবেন এটাই স্বাভাবিক। পার্টির ভালোমন্দ দেখা তাদের কাজ না। তারা যেহেতু কর্মী থেকে ধাপে ধাপে নেতা হন নাই তাই কর্মীদের মূল্যায়নেরও তাদের  দরকার নাই। তারা তাদের নিজস্ব একটি বলয় তৈরী করে অর্থ রোজগারে ব্যাস্ত থাকেন। তারা মনে করেন সময়ে টাকাই আবার  কথা বলবে। তৃনমূলের বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের এটাই বড় কারণ। এ অবস্থা নিরসনে দলের প্রতিটি পর্যায়ে কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে কমিটি গঠন করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতিতে মনোনয়ন প্রার্থীকে ইউনিয়ন পর্যায়ে পার্টি কর্মীদের মাঝে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে আসতে হবে। যিনি অধিকাংশ ইউনিয়নে জয়ী হবেন তিনিই সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন।  তবেই কর্মীদের মূল্যায়ন ও কর্মী থেকে নেতা হওয়ার পথ প্রসস্থ হবে। 
২। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সংবিধান ও আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবী। অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক রেখেই ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটির পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক। কারণ এই শব্দটি ভুল ব্যাখ্যার কারনেই হউক আর ভাবার্থগত দিক থেকেই হউক ধর্মহীন কম্যুনিস্ট মতবাদের সমার্থক হয়ে গেছে। ফলে আওয়ামীলীগের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সাথে বামপন্থী রাজনৈতিক দলসমূহের জোট গঠন এই দলটিকে ইসলাম ধর্ম বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করার হীন প্রচেষ্টা দিনকে দিনকে হালে পানি পেয়ে যাচ্ছে। অথচ ইসলাম ধর্ম শিক্ষা ও প্রসারে এই দলটির অবদানই সবচেয়ে বেশী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া হেফাজতে ইসলাম নামের সাংগঠনিক ব্যানারে কউমী মাদ্রাসা ভিত্তিক বিশাল জনগোষ্ঠীর সমাবেশ যেভাবে আওয়ামীলীগকে ইসলাম বিদ্ধেষী হিসাবে উপস্থাপন করেছে তা মোকাবেলা করতে গিয়ে বামপন্থিদের পরামর্শে যতই তাদেরকে সমাজের পশ্চদপদ ধর্মান্ধ বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হউক না কেন ভোটের রাজনীতিতে তারা বিশাল ফ্যাক্টর। গত ৪২ বৎসরের অমনোযোগিতা ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার হয়ে তারা বেড়ে উঠেছে আওয়ামীবিদ্ধেষী হয়ে, যা এখন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারনে নিয়ামক শক্তি হিসাবে আবির্ভুত হয়েছে।
 বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূলত দুটি ধারা, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসাবে  আওয়ামীলীগপন্থী ও আওয়ামীলীগ  বিরোধী। সে হিসাবে আগামী নির্বাচনে হেফাজতে ইসলাম বি এন পি-জামাত জোটে যোগ দিয়ে বিশাল মাথা ব্যাথার কারণ হবে। এ অবস্থার উত্তরণে আওয়ামীলীগের উচিৎ হবে দলের অসাম্প্রদায়িকতার নীতি ঠিক রেখে মদিনা সনদের আলোকে “হিন্দু,বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও মুসলিমসহ সকল  স্বীকৃত ধর্ম পালনে স্বাধীনতা” নীতি প্রতিস্থাপন করে এ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির রাজনীতি দূর করে জামাত বিরোধী ইসলামী দলগুলির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা।   
৩। সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে জামাত কর্তৃক মিথ্যা প্রচার করে নিরীহ মুসলমানদেরকে ধ্বংসাত্মক কাজে উৎসাহিত করা ও জামাত-হেফাজত কর্তৃক মতিঝিলে ব্যাপক ধ্বংস যজ্ঞ ও পবিত্র কোরান শরিফ পোড়ানোর পরও সরকার যে ধৈর্য্য সহকারে প্রাণহানি না ঘটিয়ে   তাদেরকে ঢাকা থেকে বিদায় করেছে তা প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু তারা দুই-তিন হাজার আলেম ওলামা মারা গেছে  বলে  সারাদেশে মিথ্যা প্রচার করছে, যা সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাওয়ার মতই বিশ্বাস করার  লোকেরও  কিন্তু অভাব নাই। এই অপপ্রচারের মোকাবেলায় আওয়ামীলীগের উচিৎ ছিলো বি এন পি – জামাত বিরোধী আলেম সমাজকে প্রতিটি গ্রামে গঞ্জে পাল্টা প্রচারে মাঠে নামানো। কিন্তু আওয়ামীলীগ রাজনীতিবিদদের দ্বারা এই এক্স ফ্যাক্টর নামক হুজুগ  মোকাবেলা করতে গিয়ে নির্বাচনে ভরাডুবি করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামীলীগকে বামপন্থীদের বলয় থেকে বেড়িয়ে এসে বি এন পি – জামাত বিরোধী ইসলামী দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ জোট গঠন করে ঐসব অপপ্রচারের বিরোদ্ধে হাক্কানি আলেমদেরকে মাঠে নামাইতে হবে।   
৪। গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে প্রায় আশি লক্ষ পরিবার জড়িত। প্রতিটি পরিবারে দুইটি করে ভোট  ধরলেও  দের কোটিরও বেশী ভোটার এর সাথে জড়িত। ডঃ ইউনুছ বিতর্কের কারণে একটি পরাশক্তির  বিরাগভাজনের পাশাপাশি সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙ্গে ১৯ টুকরা করা হবে বলে যে অসময়োযোগী ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা হচ্ছে তার মারাত্মক বিরূপ প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে বাধ্য। কারণ এখানে শুধু গ্রামীণ ব্যাংকই নয় অন্যান্য বৃহৎ এন জি ও গুলিও তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্নে এক যুগে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। হেফাজত কার্ডের পাশাপাশি এন জি ও কার্ড যোগ  হলে আওয়ামীলীগের কোন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই হালে পানি পাবে না। ইতিমধ্যেই ডঃ ইউনুছকে ফুলের তোড়া পাঠিয়ে হেফাজতের পাশাপাশি এন জি ও কার্ডটিও বি এন পি করতলগত করেছে বলেই মনে হয়। ইংরেজিতে একটি কথা আছে If you can not convince someone then make confused. আওয়ামীলীগের উচিৎ হবে গ্রামীণ ব্যাংকের উপর কোনো প্রকার হস্থক্ষেপ করা হবে না তা প্রতিটি গ্রামে গঞ্জে ব্যাপক ভাবে প্রচার করে এসব তৃনমূল ভোটারের একটা অংশকে নিজের পক্ষে ধরে  রাখা।  
৫। মূলত ডঃ ইউনুছ ইস্যুকে কেন্দ্র করেই একটি পরাশক্তির তল্পিবাহক বিশ্বব্যাংক সুনিদৃষ্ট প্রমান উপস্থাপন ছাড়াই কারও ডাইরীতে শুধু কিছু নাম লিখা থাকার অজুহাতে দূর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন  বন্ধ করে দেয়। অথচ বিশ্বব্যাংক নিজেই দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিয়ম বর্হিভুতভাবে একটি চীনা কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সাথে এই  অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সম্পূর্ন নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু করবেন ঘোষণা দিলে সারা জাতি একতাবদ্ধ হয়ে বুক ফুলিয়ে পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু কি কারণে নেত্রী নতজানু হয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে পদ থেকে সরালেন আর নপুংশুক দূর্নীতি দমন কমিশন প্রথমে দূর্নীতির প্রমান নাই বললেও বিশ্বব্যাংকের ধমক খেয়ে বললেন কিছুটা গন্ধ পাচ্ছি তা আল্লাহই ভালো জানেন। বিশ্বব্যাংক তাদের চূড়ান্ত রিপোর্টেও  ঐ কয়টি নামসহ   ডাইরীর ছেড়া পাতা ছাড়া কিছুই দিতে পারে নাই। পরাশক্তি কোনো প্রভুকে খুশি করতে গিয়ে  শেখ হাসিনার সরকারকে হেয়  করার জন্য বিশ্বব্যাংক নিজেই যে এ নামের খেলা খেলে নাই তারই বা প্রমান কি।  শেষ পর্যন্ত  শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংক কে না বললেন ঠিকই তবে নিজের ও দেশের নাক কেটে ছাড়লেন। অথচ বিশ্বব্যাংক যে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিত তা বাংলাদেশী প্রবাসীদের পাঠানো মাত্র ২৮ দিনের রেমিটেন্সের সমান যার জোগান দেওয়া বাংলাদেশের জন্য কোন ব্যাপারই না। শুধু প্রয়োজন নেতৃত্বের দৃঢ়তা। বিশ্বব্যাংক  আমাদের বিশাল বাজেটেরও মাত্র ১.৩%  সহায়তা দেয় যার পুরোটাই চলে যায় তাদের ঋণের সুদ পরিশোধে। শেখ হাসিনার উচিৎ হবে দ্বিধা  ধন্ধের মাথা ঝাঁকুনিতে কর্মীদের হতাশ ও দ্বিধা গ্রস্থ না করে নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতুর কাজ সারম্ভরে  উদ্ভোধন করা।  
৫। ব্রিটিশ ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনে ছাত্র  ও পেশাজীবী রাজনীতি এসব আন্দোলনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে, কারণ সমাজের অপরাপর অংশ ছিলো  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অশিক্ষিত ও অসচেতন। ঢাকা থেকে কোনো লোক গ্রামের বাড়িতে গেলে লোকজন ভিড় করত ও ঢাকার খোজ খবর জানতে চাইতো, তাদের কি করনীয় জিজ্ঞাসা করত। বর্তমানে শিক্ষা ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গ্রামের একজন চা বিক্রেতাও অনেক ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতিবিদের চেয়ে বেশী সচেতন। জিয়াউর রহমান ও এরশাদের হাত ধরে ছাত্র  রাজনীতি এতটাই পুতিগন্ধময় হয়েছে যে সাধারণ মানুষ এদেরকে সন্ত্রাসী ছাড়া কিছুই ভাবে  না। দলীয় জার্সি গায়ে দিয়ে তারা অবাধে সন্ত্রাস, লোটপাট আর চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। মুল দলেও এদের কদর সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করে উঠে আসা রাজনীতি ব্যাবসায়ী হাইব্রিড নেতাদের মাধ্যেই সীমাবদ্ধ। এরাই সরকারের, সে আউয়ামীলীগ/বি এন  পি যে দলেরই হউক, সমস্ত ভালো কাজের সুনামকে ধূলিস্যাত করে দিচ্ছে। পাশা পাশি দলীয় পেশাজীবী সংগঠনগুলিও বর্তমানে অযোগ্যদের লীলাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এসব অযোগ্য দলীয়  পেশাজীবীদের দাপটে পেশার মান যে শুধু তলানিতে ঠেকেছে তা-ই নয়, যোগ্য লোকেরাও অপমান আর অবহেলা সয়ে সয়ে   পেশার প্রতি ভীতশ্রদ্ধ। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিকে সর্ণালী যুগে প্রবেশের ডাক দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইস্তেহারে “ছাত্র ও পেশাজীবী  রাজনীতি নিষিদ্ধকরণে নির্বাচন কমিশন আইনে পরিবর্তন” আনার ঘোষণা দিবেন আশা করি। এতে করে হাতে গোনা ক্যাডার সর্বস্ব  কিছু কর্মী অসন্তুষ্ট হলেও আওয়ামীলীগের পক্ষে সাধারণ ছাত্র সমাজ ও পেশাজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সারা পড়বে বলেই মনে করি।  
৬। সরকার প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষে উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি করেছেন কিন্তু মানষিকতা রয়ে গেছে কেন্দ্রীয়। এম পি দের হস্তক্ষেপের কারণে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান – এম পি দন্দ, “সময় এলে পরস্পরকে দেখে নিব”, এমন পর্যায়ে চলে গেছে যা  শুধু প্রার্থী বদল করে সামাল দেওয়া অসম্ভব। এবারের নির্বাচনে এই দন্দ আওয়ামীলীগকেই বেশী  ক্ষতিগ্রস্থ করবে। আওয়ামীলীগের উচিৎ হবে নির্বাচনের পূর্বেই আইন সংশোধন করে উপজেলা প্রশাসনে এম পি দের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ন বন্ধ করা। এতে সবচেয়ে বড় লাভ যা হবে তা হলো- সংসদ নির্বাচনে ক্যাডার ভিত্তিক লোটেরা নেতাদের আগ্রহ কমে গিয়ে সংসদ পরিণত হবে গুনী রাজনীতিবিদদের ক্লাবে। একই ভাবে বিশেষ উদ্দেশ্যে স্বৈরাচার ও লোচ্চা  এরশাদ  প্রবর্তিত ত্রিশটি মনোনীত মহিলা আসন বন্ধ করে সরাসরি নির্বাচনের ব্যাবস্থা করা উচিৎ। এতে করে মহিলারা পুরুষের করুণার পাত্রী হয়ে নয় নিজস্ব যোগ্যতায় নির্বাচিত হয়ে নিজের এবং সমস্ত নারী জাতির মুখকে উজ্জ্বল করবে।    
৭। সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের পাছায় মনে করেছিলাম একটাই ছেঁদা যা শাহবাগ আন্দোলনের ফলে মেরামত হয়েছে (বিচারের রায়ে সংক্ষুব্ধ উভয় পক্ষ আপিল করতে পারবে)। এখন দেখছি একের পর এক অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার ছিদ্র বের হয়ে আসছে। ৬০দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির আইন করলেও এখন শুনছি তা বাধ্যতামূলক নয়। বিচার শেষ হলেও রায় ঘোষণার কোনো সময়সীমা নাই। ফলে তা বিচারকদের রহস্যজনক ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। গোদের উপর বিষ ফোড়ার মত আসামীর নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারিত নাই।  বর্তমানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এই সুযোগটি গ্রহণ করে অপ্রাসঙ্গিকভাবে তার বক্তব্য দীর্ঘ করে চলেছেন আর তাচ্ছল্যভরে বলছেন, “ব্রিটিশ -ভারতে মাওলানা মোহাম্মদ আলী একটানা ২ মাস ২৪ দিন সাক্ষ্য দিলেও আমি আগামী ২৫শে অক্টোবর পর্যন্ত (সরকারের শেষ দিন) সময় নিব না”। যুদ্ধাপরাধী বিচারের এই লেজে গোবরে অবস্থা দ্রুত আইন পরিবর্তন করে মেরমত করা না হলে  মুক্তিযুদ্ধের  সপক্ষের যে লক্ষ জনতা মাঠে নেমেছিলো তারাই কিন্তু বুমেরাং হয়ে সরকারকে পাল্টা জবাব দিবে। সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে যদি এই বিচার সময়মত শেষ না হয়, আর যদি ক্ষমতায় বি এন পি – জামাত জোট ফিরে আসে তবে এসব যুদ্ধাপরাধী বীর দর্পে বের হয়ে আসবে। এতদিন যারা  তাদেরকে রাজাকার গালি দিয়ে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শানিত করতেন তারা তখন এ গালির জবাবে জামাত-শিবিরের হাতে ৭১ মন ওজনের একটি চড় খাবে বলেই বিশ্বাস। আর এর জন্য  দায়ী করবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে । যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক বিলম্ভ ও ৪টি সিটি নির্বাচনে  পরাজয়ে হতাশ লক্ষ কর্মীকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গে জাগ্রত করতে পারে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায়ের দ্রুত কার্যকর করা। আশা করি নেত্রী সেদিকেই মনোনিবেশ করবেন। 
৮। হতাশ নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করার লক্ষে সারা দেশে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন সমূহের কমিটি নির্বাচন করা উচিৎ। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মন্ত্রী-এম পি দের প্রতি তৃনমূল কর্মীরা যেভাবে ক্ষুব্ধ সেখানে তাদের কারো পকেট কমিটি বা লোক দেখানো পকেট কাউন্সিলর দ্বারা নির্বাচিত কমিটি আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরী করবে। সে ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবর্তক আওয়ামীলীগকে ডিজিটাল ব্যাবস্থার আশ্রয় নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে কর্মীদের ডাটা-বেইজ তৈরী করে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সকল পর্যায়ের কমিটি গঠন করতে হবে। তা অন্তত প্রথম সারির কয়েকটি পদের জন্য হলেও। এতে করে যেমন যোগ্য কর্মী নেতৃত্বে আসবে তেমনি সবার সামনেই নেতৃত্বের সমান সুযোগ অবারিত হবে কোন নেতার ক্যাডার ভিত্তিক লাজুরবৃত্তি না করেই। এতে করে বেশ কয়েকটি সুফল পাওয়া যাবে। যেমন কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক নির্বাচনী কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে, কর্মীদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও একে অপরকে মূল্যায়ন বৃদ্ধি পাবে, হটাৎ করে নতুন কেউ এসে নেতা হয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে, কর্মীরা সবসময়ই নেতা কর্তৃক মূল্যায়িত হবে।    
৯। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এত সংগ্রাম হলো তার সুফল কুফল আমরা ইতিমধ্যেই দেখলাম। আসলে এই সরকার ব্যাবস্থা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমাদের রাজনীতিবিদগন কতটা অযোগ্য, যে তারা নিজেরা একটি সুষ্ঠ নির্বাচন করারও যোগ্যতা রাখে না। ঘটনাটা এরকম দাঁড়ায় যে কিছু সংখ্যক যোগ্য লোক এসে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে একদল অযোগ্য রাজনীতিবিদদের হাতেই আবার দেশের ভার দিয়ে যায়। জনগণ সেটা মানবে  কেন? জনগনতো যোগ্যদের হাতেই দেশের ভার দেখতে চায়। কাজেই এ ব্যাবস্থা থেকে বেড়িয়ে এসে রাজনীতিবিদদেরকেই যোগ্যতার সাক্ষর রাখতে হবে। এখন পর্যন্ত  কোনো দলের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার মত পরিবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৈরি হয় নাই বলেই অনেকে মনে করেন, যার জন্য আওয়ামীলীগ চাপ দিচ্ছে। অনেকেই পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, আগামী   নির্বাচনে বি এন পি সরকার গঠন করলে তাদের অধীনে    আওয়ামীলীগ কি পরবর্তি নির্বাচনে যাবে? সম্ভবত না। তখন কি জনগকে আবারও আন্দোলন করতে  হবে? কেন? দেশ ও জনগণের জন্য কি আর কোনো গুরুত্বপূর্ন কাজ নাই? কাজেই এবারই একটা মীমাংসায় আসতে হবে, আর তা হতে পারে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী  সরকারী ও বিরোধী দল থেকে  সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যাক্তির অধীনে অন্তরবর্তী সরকার গঠন। আওয়ামীলীগ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা ও সম্মান অর্জন করবেন বলেই বিশ্বাস করি।  
 
১০। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”। মুক্তির সংগ্রাম বলে তিনি বুঝিয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তিকে। করন অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া কোনো জাতি প্রকৃত স্বাধীন হয় না। পূর্ববর্তী বি এন পি সরকারের অর্থমন্ত্রী  জনাব সাইফুর রহমান মুক্তবাণিজ্যের নামে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ উম্মুক্ত করে দিয়ে গেছেন। সেই সাথে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের বাধাহীন সম্প্রচারের ব্যাবস্থা করে ভারতীয় সংস্কৃতিই শুধু  নয় বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা সৃষ্টিরও পথ করে দিয়ে গেছেন। অথচ ভারত সরকার  ঠিকই শুল্ক ও  অশুল্ক বাধার সৃষ্টি করে তার দেশে বাংলাদেশী পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশী  টিভি  চ্যানেলগুলিকে ভারতে অনুপ্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা ও সংস্কৃতিকে ঠেকিয়ে রেখেছে। আওয়ামীলীগ সরকারকেই বারবার বি এন পি সরকারের সৃষ্ট এসব জঙ্গাল দূর  করতে হয়। এবারও আওয়ামীলীগ সরকার ভারতের বাজারে প্রায় ৪০০ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধীকার আদায়  করেছেন। কিন্তু বি এন পি বরাবরের মতই আওয়ামীলীগকে ভারতের দালাল বলে মূর্খের রাজনীতি করে দেশের জনগণকে ধোঁকা দিয়ে চলেছে।   
একটি জাতির যখন অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরাজয় ঘটে তখন তার ভূখন্ডগত স্বাধীনতার কোনো মর্যাদা থাকে না। ভারতীয় টিভি মিডিয়ার অবাধ সম্প্রচারের ফলে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে ভারতীয় ধর্মাশ্রয়ী সংস্কৃতির রূপ পরিগ্রহ করছে যা হয়ত আগামী এক যুগের মধ্যেই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে গ্রাস করবে। যেসব জ্ঞানপাপী সংস্কৃতিকে অবাধ প্রবাহ বলে মনে করেন তাদের বলতে চাই, এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কুপ্রভাব নিয়ে আগামী এক যুগের মধ্যেই বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের বিশাল এক তরুণ ভোটার শ্রেণী গড়ে উঠবে যারা হবে সংস্কৃতিকভাবে ভারিতীয় মানসিকতার। এসব  তরুণ  ভোটারকে ব্যাবহার করে ভারত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকারকে ভারতের অনুকূলে নীতি গ্রহণে বাধ্য করবে না তার নিশ্চয়তা কি। আওয়ামীলীগ সরকারকেই বরাবরের মত বি এন পি কর্তৃক সৃষ্ট এই জঙ্গালকেও সরাতে হবে। লালন করতে হবে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মূল্যবোধের অনুভূতি মিশ্রিত খাটি বাংলাদেশী বাঙ্গালী সংস্কৃতির যা আমাদেরকে সারা বিশ্বে সতন্ত্র সংস্কৃতিক জাতিগোষ্টি হিসাবে পরিচয় দিবে।     
তাই সকল বিভ্রান্তির রাজনীতির উর্ধে উঠে দেশপ্রেমিক জনগণকে আরেকবার ৭১ এর বীর জনতার মতই একতাবদ্ধ হয়ে সমস্ত আন্তর্জাতিক কূটচাল ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধুর মতই আপোষহীন, দেশের স্বার্থ  রক্ষার হিসাবে ষোলআনা পাক্কা শেখ হাসিনাকে জয়ী করে, বাংলাদেশকে হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।   
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখকঃ  মোঃ মোস্তফা জামাল জাহেদী (হিসাববিদ ও রাজনীতিক)
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া। E-mail:- [email protected] 

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে